23/08/2026
# # # ৬০ লাখ বাংলাদেশি নাগরিকের সিভি ডার্ক ওয়েবে বিক্রির দাবি, হ্যাকারদের হাতে ব্যক্তিগত তথ্য!
বাংলাদেশের প্রায় **৬০ লাখ বা ৬ মিলিয়ন নাগরিকের জীবনবৃত্তান্ত (CV)** ডার্ক ওয়েবে বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে—এমন একটি গুরুতর দাবি সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। *দ্য ডেইলি স্টার*ও আজ এ বিষয়ে **“Hackers claim 6 million Bangladeshi CVs for sale on dark web”** শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ([The Daily Star][1])
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি হ্যাকারগোষ্ঠী **Madroxx** দাবি করেছে যে, বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের বিপুলসংখ্যক CV তাদের হাতে এসেছে। এসব তথ্য ডার্ক ওয়েবে নিলামে তোলা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। হ্যাকারদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় **৬ মিলিয়ন বাংলাদেশি নাগরিকের CV** এই ডেটার মধ্যে রয়েছে এবং পুরো ডেটাসেটের মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় **১,০০০ মার্কিন ডলার**।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব CV বাংলাদেশি ক্যারিয়ার প্ল্যাটফর্ম **Bdjobs**-এর ডেটাবেজ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে হ্যাকাররা দাবি করেছে।
CV-তে সাধারণত একজন চাকরিপ্রার্থীর **নাম, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মঅভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য** থাকতে পারে। ফলে এত বড় পরিমাণ তথ্য অপরাধীদের হাতে গেলে তা পরিচয় জালিয়াতি, প্রতারণা, ফিশিং, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব এবং অন্যান্য সাইবার অপরাধে অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—**হ্যাকারদের দাবি মানেই তথ্য ফাঁসের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হয়ে গেছে, এমন নয়।** এ ধরনের ডার্ক-ওয়েব দাবির ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে ডেটার সত্যতা, উৎস এবং প্রকৃত পরিমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস ও অবৈধভাবে বিক্রির ঘটনা নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়েও চুরি হওয়া নাগরিক তথ্য ও পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য অপরাধীদের হাতে যাওয়ার বিষয়ে তদন্ত ও উদ্বেগের খবর এসেছে। ([bdnews24.com][2])
# # # সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্কতা
যদি আপনার CV কোনো অনলাইন চাকরির প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষিত থাকে, তাহলে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে—
* অপরিচিত চাকরির ই-মেইল বা মেসেজের লিংকে ক্লিক করবেন না।
* একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করলে পরিবর্তন করুন।
* গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে **Two-Factor Authentication (2FA)** চালু করুন।
* ফোনে আসা OTP, পাসওয়ার্ড বা ব্যক্তিগত তথ্য কাউকে দেবেন না।
* আপনার নামে কেউ চাকরি, ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা অন্য কোনো পরিচয়ে যোগাযোগ করছে কি না, সেদিকে নজর রাখুন।