30/01/2026
আন্ডারগ্রাজুয়েট থিসিসের আগেই পিএইচডির অফার পেলেন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এর শিক্ষার্থী। তিনি 100% tuition fee waiver, 100% health insurance coverage, and a monthly Graduate Research Assistant (GRA) stipend সহ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ PhD প্রোগ্রাম এর জন্য সিলেক্টেড হয়েছেন।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ২০১৯/২০ সেশনের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মায়াজ উদ্দিন গাজীর একাডেমিক যাত্রা ছিল পরিকল্পিত, কিন্তু তার পিএইচডি পথচলার গতি ছিল অনেকটাই অপ্রত্যাশিত ও দ্রুতগতির।
২০২৫ সালের ২২ জুলাই ছিল তার থিসিস ডিফেন্সের নির্ধারিত সময়। কিন্তু তারও আগেই, জুন মাসের মধ্যেই, মাত্র নয়টি ইমেইল পাঠিয়ে তিনি দুটি পিএইচডি ইন্টারভিউয়ের সুযোগ পান। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—দুটিতেই প্রফেসরদের কাছ থেকে আসে পজিটিভ সাড়া। থিসিস তখনও শেষ হয়নি, কিন্তু তার গবেষণা প্রোফাইল ও কাজের গভীরতাই আগ্রহ তৈরি করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
সব দিক বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের University of Miami–কে নিজের চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে বেছে নেন। এটি একটি R1 ক্যাটাগরির রিসার্চ ইউনিভার্সিটি—যেখানে গবেষণার সুযোগ ও অবকাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যেই প্রফেসরের অধীনে তিনি কাজ করতে যাচ্ছেন, তিনি একই সঙ্গে ডিপার্টমেন্টের ডিপার্টমেন্ট চেয়ার ও হেড। পাশাপাশি বিল্ডিং ও কনস্ট্রাকশন রিসার্চে তিনি বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ১ শতাংশ গবেষকের একজন—Elsevier এবং Stanford University–এর যৌথ র্যাংকিং অনুযায়ী।
স্বল্প সময়ের প্রস্তুতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করতে হয়েছে মায়াজকে। মাত্র ২০ দিনের প্রস্তুতিতে আইএলটিএস পরীক্ষায় তিনি অর্জন করেন ৬.৫ ওভারঅল ব্যান্ড (লিসেনিং ৭.৫, রিডিং ৭, রাইটিং ৬, স্পিকিং ৬)। সাধারণত প্রয়োজনীয় GRE পরীক্ষাটি তার ক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ ওয়েভ করে দেয়—যা তার একাডেমিক ও গবেষণা প্রোফাইলের শক্তিরই প্রতিফলন।
University of Miami সাধারণত পিএইচডি শিক্ষার্থী নেয় ফল সেমিস্টারে। তবে তার প্রফেসরের আগ্রহ ও সহযোগিতার কারণে মায়াজ স্প্রিং সেমিস্টারেই পিএইচডি শুরু করার সুযোগ পান—যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই বিরল একটি সুবিধা।
গবেষণার দিক থেকেও তার প্রোফাইল ছিল শক্তিশালী। কংক্রিটভিত্তিক গবেষণায় তার রয়েছে মোট ১৪টি কনফারেন্স পেপার। পাশাপাশি প্রকাশিত হয়েছে ৩টি জার্নাল আর্টিকেল—যার মধ্যে একটি কিউ১ জার্নালে এবং দুটি কিউ৩ জার্নালে। এই গবেষণাগুলোই তাকে গ্লোবাল রিসার্চ কমিউনিটিতে দৃশ্যমান করে তোলে।
মায়াজ উদ্দিন গাজীর গল্পটি দেখায়—সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত, সীমিত প্রস্তুতিতেও আত্মবিশ্বাস এবং গবেষণার প্রতি ধারাবাহিক মনোযোগ থাকলে বাংলাদেশের পাবলিক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকেও বিশ্বের শীর্ষ R1 রিসার্চ ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি যাত্রা সম্ভব। এটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং ভবিষ্যৎ গবেষক হতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এক বাস্তব অনুপ্রেরণা।