13/02/2026
জমিয়তের একটি অংশকে ৪ আসন দিয়ে এবং অপর অংশকে স্বতন্ত্র প্রতীক ধরিয়ে দিয়ে বাকি ২৯৫ আসনে জামায়াতকে ট্যাকল দিতে বিএনপির পক্ষে জমিয়তকে মাঠে নামাতে পারা ছিল বিএনপির সফল নির্বাচনী টেকনিক। একই সঙ্গে জমিয়তি হুজুরদের উস্কানির মাধ্যমে চরমোনাইকে ১১ দলীয় জোট থেকে বের করে আনতে পারা ছিল আরেক বড় সফলতা। এ দুটি দল জায়ামাতের বিরুদ্ধে বিএনপির ধর্মীয় দিকটি নিজ দায়িত্বে ভালোভাবে সামলে নিয়েছে। যা বিএনপির ভূমিধস জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। আবার বিনিময়ে বিএনপিকে কোনোকিছু ত্যাগ করতে হয়নি। জমিয়তের একজনকেও তারা জিতিয়ে আনেনি। চাইলে পারত। ওসব আসনে বিএনপি বিদ্রোহী বা জামায়াত/এনসিপি জিতেছে। অন্য দিকে জামায়াতবিরোধী অবস্থান নিয়ে বিএনপি তিনশ আসনে সুবিধা পাওয়ার বিনিময়ে চরমোনাই পীরের জন্যও বিএনপিকে কোনো কিছু ত্যাগ করতে হয়নি। বিএনপি কোথাও চরমোনাই পীরের সম্মানে আসন খালি রাখেনি। বরং বিএনপির কাছে ফয়জুল করীম সাহেব অনেক ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। এ ছাড়া বিএনপি হেফাজত আমীরের মতো বিএনপিপন্থী বা জামায়াতবিরোধী আলেমদের দারুণভাবে কাজে লাগাতে পেরেছে। উক্ত তিন গ্রুপকে জামায়াত জোট চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বাগে আনতে পারেনি। ফলে তাদের অনুসারীরা বিএনপির পক্ষে ফ্রীতে নেমে পড়েছে। রিক্সা মার্কায় ভোট দিলেও জাহান্নামে যাবে বলে ফতোয়া দিয়েছে জমিয়ত। ফলে বিএনপির অর্জন ১০০ এ ১০০। আর এসব হুজুরদের অর্জন শূন্য। আবার ক্ষমতায় থাকালীন বিএনপি কোনো অপকর্ম করলে বা জুলুম করলে এর দায়ও এসব জোটের হুজুরগোষ্ঠীকে নিতে হবে। ফলে তাদের ক্ষতি ১০০/১০০। একেই বলে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা।
আসলে হুজুররাই হুজুরের প্রধান প্রতিপক্ষ। সেখানে জালেমরা তো জিতবেই।।