22/11/2025
ভূ-তাত্ত্বিক গঠনের কারণে—ভূমিকম্পের জন্য সিলেটকে দেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইতিহাস বলছে, ১৮৯৭ সালের ১২ জুন ডাউকি ফল্ট থেকেই উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্পে— সেদিন বৃহত্তর সিলেটের বিশাল এলাকা মুহূর্তেই পরিণত হয়েছিল ধ্বংসস্তূপে। সেদিনের সেই ভূমিকম্প সিলেটবাসীর কাছে আজও ‘সবচেয়ে বড় ভইছাল’ হিসেবে পরিচিত।
এরপরও বিভিন্ন সময়ে ডাউকি ফল্ট থেকে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে, যদিও বড় ধরনের ক্ষতি আর হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি মোটেও আশ্বস্ত হওয়ার মতো নয়। কারণ ফল্টটি এখনো পুরোপুরি সক্রিয়—এবং বারবারই বড় ধরণের ভূমিকম্প ও সম্ভাব্য দুর্যোগের সতর্ক সংকেত দিচ্ছে।
শুক্রবার সকাল ঠিক ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে দেশের বিভিন্ন স্থানে হঠাৎই শুরু হয় ভয়াবহ কাঁপুনি। কয়েক সেকেন্ডের ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মাঝে। রাজধানী ঢাকা-সিলেটসহ বড় বড় শহরে মানুষজন দৌড়ে বের হয়ে আসে ঘরের বাহিরে। নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় উৎপত্তি হওয়া এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭।
খবর পাওয়া গেছে, এই কম্পনে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। আহত হয়েছেন প্রায় কয়েক শ’ মানুষ। তবে সিলেটে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এ ধরনের মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পই বড় ঝুঁকির আগাম সংকেত। তাদের ভাষ্য, সাধারণত কোনো অঞ্চলে শত থেকে দেড়শ বছরে একবার বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি তৈরি হয়। আর আমাদের আশপাশে সর্বশেষ বড় ভূমিকম্পটি হয়েছিল প্রায় একশ বছর আগে। ফলে নতুন করে বড় ধরনের কম্পনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তারা আরও সতর্ক করে বলেন, ঢাকায় যে কম্পন অনুভূত হয়েছে—তা যদি সিলেটে ঘটতো, তবে নগরের বহু পুরনো ভবন মুহূর্তেই ধ্বংসস্তুপে পরিণত হতো।