26/08/2026
পরিবারের একটা মানুষ যখন হাসপাতালে তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করে শুধুমাত্র তারাই জানে তাদের পরিবারের উপর দিয়ে কী যায়।
আজ গুণে গুণে ৮ দিন "হালু" হসপিটালে। আমাদের সাথেই থাকেন নানু। আমাদের পরিবারের অন্যতম ব্যক্তি নানী-শাশুড়ী। আমাদের "হালু বিবি" 😔
১৯ আগস্ট ২০২৬, রাত প্রায় ৪টা। হঠাৎ ডায়াপার লিক হয়ে নানুর প্রচণ্ড ব্লিডিং শুরু হয়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ভো্রেই অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। একদিন পর যখন শরীরের আরও অবনতি হয় এবং ব্লিডিং থামার নাম নেই, এক পর্যায়ে উপায় না পেয়ে ICU-তে মোট পাঁচদিন রাখা হয়। তখনও শরীর থেকে বিশ্রীরকমের রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। রিপোর্টে ধরা পড়ে Hepatitis C (C-virus)। ডাক্তার আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন, উনার জন্য আর কোনো চিকিৎসা নেই। সবাইকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে বলেছেন। এখন আমাদের একমাত্র ভরসা—আল্লাহ। বর্তমানে প্রবাস থেকে আগত নানুর সন্তানদের সবার সিদ্ধান্তে ও বন্ড সই দিয়ে কেবিনে আনা হয়েছে। সামনের দিনগুলো সবাই যেনো উনাকে কাছে পায়। যে হালু এই কাঠফাটা রোদেও বলত শীত করে; সেই হালু ICU-তে টানা পাঁচটা দিন হিম-শীতল ঠান্ডায় কাটিয়েছেন। যে নানু একটা মুহূর্ত একা থাকলে পাগলপ্রায়, আজ তিনি জানেনই না কোথায় আছেন। লুকিয়ে চুরি করে পানি খাওয়া নানুর এখন ৮দিন ধরে পানি খাওয়া নেই। উনার শরীর এ যাবৎ ৫০০+ Dialysis সহ্য করে আসছে। তাও একটা অকেজো কিডনি নিয়ে। ২০০৮ সালে উনার আরেকটা কিডনি ভুল চিকিৎসায় কেটে ফেলা হয়েছিলো। এই এক কিডনি নিয়েই এ জীবন কাটিয়েছেন। গত সাড়ে তিনটা বছর ধরে, রোজ নিয়ম করে আমার শাশুড়ী সপ্তাহে তিনদিন ঘুমিয়ে না ঘুমিয়ে নানুকে নিয়ে হসপিটাল যেতেন Dialysis-এর জন্য! এক মুহূর্তের জন্য নানু উনার মেয়েকে আড়াল করতে চাইতেনই না, কেউ না কেউ সামনে থাকতেই হবে উনার। আর আজ? কেবিনে হাত-পা ছুড়াছুড়ি করছেন! না জানি কত্তটা যন্ত্রণা এই শরীরের উপর দিয়ে যাচ্ছে।আমরা জানি না সামনে আর কতটা সময় আছে। শুধু এটুকুই চাই আল্লাহ যেন উনার কষ্টটা কমিয়ে দেন। উনাকে শান্তি দেন এবং উনার জন্য যা কল্যাণকর, সেটাই করেন।
সবাই আমার নানী-শাশুড়ির জন্য একটু দোয়া করবেন।
আল্লাহ যেন উনার সব কষ্ট সহজ করে দেন।
আমিন।