Md Mahbobur Rahman

Md Mahbobur Rahman Whatever you are

জাতির মহান বিজয় দিবস নাকি বাল দিবস। মি. পিনাকি আর মি. ইলিয়াস এগুলো কি শুরু করছে?দেশের অস্তিত্বের প্রশ্নই হুমকির মুখে ফেল...
10/12/2025

জাতির মহান বিজয় দিবস নাকি বাল দিবস।
মি. পিনাকি আর মি. ইলিয়াস এগুলো কি শুরু করছে?
দেশের অস্তিত্বের প্রশ্নই হুমকির মুখে ফেলে দিতে চাইছে। বলতে গেলে শেষে তারা এমন ন্যারেটিভ দিতে চায় যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিলো দেশদ্রোহীতা আর সেই অপরাধের দায়ে বঙ্গবন্ধু সহ দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের মরণোত্তর ফাসি দিতে হবে।

উনারা যা শুরু করেছেন তার প্রতিদানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের থেকে সৃজনশীল কর্মসূচি প্রত্যাশা করছি।

পিনাকী ও ইলিয়াস সাহেবের প্রতিকী মুখে জুতা মারার কর্মসূচির আয়োজন করা যেতে পারে।
কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটে তাদের ছবি পদদলিত করা যেতে পারে।
দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়েই এটা করা উচিত।

(আমি ব্যাক্তিগতভাবে এসব পছন্দ করিনা, তবে তারা যা শুরু করছে এটা স্পষ্টত দেশের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত)
শাবিপ্রবি সহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থীদের প্রতি দৃঢ় আহবান জানাচ্ছি।

27/10/2025

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি

“এক মুক্তিযোদ্ধার শেষ নিশ্বাস”১৯৭১ সালের জুলাই মাস। কুমিল্লার এক গ্রামের ধানক্ষেতে লুকিয়ে আছে কয়েকজন তরুণ মুক্তিযোদ্ধা...
25/10/2025

“এক মুক্তিযোদ্ধার শেষ নিশ্বাস”

১৯৭১ সালের জুলাই মাস। কুমিল্লার এক গ্রামের ধানক্ষেতে লুকিয়ে আছে কয়েকজন তরুণ মুক্তিযোদ্ধা। চারদিকে শত্রুর টহল, আকাশে হেলিকপ্টারের শব্দ, মাটিতে বুটের আওয়াজ। সেই তরুণদের একজন, নাম রফিক, বয়স তখন মাত্র ২২। চোখে আগুন, মনে স্বাধীনতার স্বপ্ন।

হঠাৎ পাকিস্তানি সেনারা ঘিরে ফেলে এলাকা। গুলির পর গুলি ছুটে যায়। রফিকের বুক বিদীর্ণ হয়ে যায় এক মুহূর্তে। তবু তিনি পড়ে যাননি— শেষ শক্তিটুকু দিয়ে গুলি চালাতে থাকেন, যেন মৃত্যু নয়, মুক্তিই তাঁর শেষ কামনা।

রক্তে ভিজে যায় মাটিটা। পাশে থাকা আরেক মুক্তিযোদ্ধা তাকে ধরে বলল,
— “রফিক ভাই, আপনি বাঁচবেন…”
রফিক হেসে বলল,
— “আমি তো বেঁচেই আছি… এই মাটির মাঝে, এই পতাকার লাল অংশে।”

তার চোখ ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে আসে। শেষ নিঃশ্বাসে শুধু বলল—
“মা, আমি আমার দেশকে মুক্ত করে গেলাম।”

আজ সেই মাঠে আর গুলির শব্দ নেই, কিন্তু বাতাসে এখনো ভেসে বেড়ায় রফিকের শেষ কথাগুলো।
এই মাটির প্রতিটি দানা তাঁর রক্তে রাঙা।

কোথাও একবার পড়েছিলাম, সৈয়দ মুজতবা আলীকে কোনো এক আসরে ম"দ খেতে দেখে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন—আপনি যে ম"দ খাচ্ছেন, এটা ...
20/09/2025

কোথাও একবার পড়েছিলাম, সৈয়দ মুজতবা আলীকে কোনো এক আসরে ম"দ খেতে দেখে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন—আপনি যে ম"দ খাচ্ছেন, এটা দেখে তরুণ সমাজ কী শিখবে?

উত্তরে সৈয়দ মুজতবা আলী ম"দের গ্লাসে চুমুক দিয়ে বলেছিলেন, 'তোমার তরুণ সমাজকে বলে দিও—ম"দ খাওয়ার আগে আমি পৃথিবীর ২৩ টি ভাষা রপ্ত করেছি।'

উনাকে নিয়ে আরেক মজার ঘটনা আছে!

সৈয়দ মুজতবা আলী তখন বেশ বিখ্যাত লেখক। প্রতিদিনই তাঁর দর্শন লাভ করতে ভক্তরা বাসায় এসে হাজির হয়। একদিন এক ভক্ত মুজতবা আলীর কাছে জানতে চাইলেন, তিনি কোন বই কী অবস্থায় লিখেছেন। মুজতবা আলী যতই এড়িয়ে যেতে চান, ততই তিনি নাছোড়বান্দা। শেষে মুজতবা আলী সরাসরি উত্তর না দিয়ে বললেন, 'দেখো, সুইস মনস্তত্ত্ববিদ কার্ল গুসতাফ জাং একদা তাঁর ডায়েরিতে লিখে রেখেছিলেন, কিছু লোক আমাকে জিজ্ঞেস করে, আমি কীভাবে লিখি। এ ব্যাপারে আমাকে একটা কথা বলতেই হয়, কেউ চাইলে তাকে আমরা আমাদের সন্তানগুলো দেখাতে পারি, কিন্তু সন্তানগুলো উৎপাদনের পদ্ধতি দেখাতে পারি না।'

এমনই হাস্যরসে পরিপূর্ণ ছিল এই মানুষটি।

তাঁর লেখা 'দেশে বিদেশে' - শবনম পড়ে আমি মুগ্ধ হয়ে কাবুল-কান্দাহারে হারিয়েছি প্রতিবার। ভ্রমণ কাহিনী কতটা আনন্দদায়ক হতে পারে তা এ বই না পড়লে বুঝতে পারতাম না। শবনম আমার কাছে মনে হয় তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি ❤️

তার কৃতকর্মের স্মরণে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নামকরণ করা হয়েছে সৈয়দ মুজতবা আলী হল।

"-তোমার মধ্যে বিষ নেই,, তাই তুমি অত্যন্ত দূর্বল।" সাপ ইঁদুরকে ফিসফিস করে বললো।"-যার মধ্যে যতো বিষ রয়েছে,, পৃথিবীতে সে তত...
17/09/2025

"-তোমার মধ্যে বিষ নেই,, তাই তুমি অত্যন্ত দূর্বল।"
সাপ ইঁদুরকে ফিসফিস করে বললো।

"-যার মধ্যে যতো বিষ রয়েছে,, পৃথিবীতে সে ততো সম্মান পেয়ে থাকে।"

"-বিষ থাকলে,, তবেই ক্ষমতা দখল করতে পারবে। মনে রেখো,, তোমার বিষ তোমার জন্য অমৃত স্বরূপ।"

ইঁদুর মনোযোগ সহকারে শুনে চলেছে।

-"তোমার মধ্যে বিষ থাকতে হবে। তবেই তুমি সম্মান পাবে। তবেই তোমাকে সকলে ভয় করবে।"

সাপ মোহময়ী সুরে বলে চলেছে।

বিষয়টি ইঁদুর অনুধাবন করে,, সে বুঝতে পারে,, বিষ নাহলে জীবন অপূর্ণ।

-"তাহলে আমার কি করা উচিত ?"
নিরীহ ইঁদুর প্রশ্ন করে।

-"একেবারে সহজ উপায়.....তোমার অন্তরে বিষ তৈরী করতে হবে।"

- "সে নাহয় হলো। কিন্তু,, নিজের ভিতরে বিষ তৈরী করবো কিভাবে?"

ইঁদুর অতি-উৎসাহী হয়ে পড়ে। যেভাবেই হোক বিষ তৈরী করতে হবে।

-"তুমি চাইলে আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি!"
সাপ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

-" কিভাবে ?"

-" তুমি চাইলে আমার কাছ হতে বিষ নিতে পারো।আমি তোমাকে বিষ দিতে প্রস্তত।"

শক্তি-ক্ষমতা-সম্মানের জন্য লালায়িত ইঁদুর তৎক্ষণাৎ রাজী হয়ে পড়ে। সাপ ইঁদুরের সম্মতি দেখে মনে মনে হেসে ওঠে।

এরপর ইঁদুরের সম্মতিক্রমে তার শরীরে সাপ নিজের বিষ ছড়িয়ে দেয়। রক্তের সঙ্গে মিশ্রিত বিষ,, ইঁদুরের শিরায় শিরায় ছড়িয়ে পড়ে। যন্ত্রণায় সে কাতরাতে থাকে। তার পুরো শরীর বিষের কারনে নীল হয়ে পড়ে। ইঁদুর চিরতরে শান্ত হয়ে গেলো।

ইঁদুরের ডেডবডি মুখে নিয়ে সাপ জনসভার দিকে এগিয়ে চলে। সেখানে হাজার হাজার সাপ অপেক্ষা করে চলেছে। সকলে মিলে সাপকে হর্ষ-উল্লাসে স্বাগত জানাতে থাকে।

ইঁদুরের ডেডবডি দেখে সমস্ত সাপ আনন্দিত,, সম্মিলিত ভাবে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে পড়েছে সাপেদের শ্লোগানে।

সভা শুরু হলো।

-" বন্ধুগণ ,, আমার প্রিয় বন্ধুগণ ।"
সমস্ত সাপ মনোযোগ সহকারে শুনে চলেছে।। চারিদিক নিস্তব্ধ,, কোথাও কোনো শোরগোল নেই।

-"বন্ধুরা ,, আমি যেভাবে আপনাদের কাছে কথা দিয়েছি,, ঠিক সেভাবেই নিজের কার্য সম্পন্ন করেছি।"

ইঁদুরের ডেডবডি সকলের উদ্দেশ্যে দেখিয়ে বলে - "দেখুন,, রেজাল্ট আপনাদের সামনে। কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না।"

সমস্ত সাপ ফোঁস ফোঁস করে তাকে সমর্থন জানিয়ে দিলো।

সাপ বলতে থাকে - "বন্ধুরা ,, আমরা আগে থেকেই অনেক বদনাম হয়ে রয়েছি। নতুন করে আর বদনামের ভাগীদার হতে চাইছি না। দেখুন বন্ধুরা ,, আমি এই কাজ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করেছি।"

-- "আমার উপরে কেউ দোষারোপ করতে পারবে না। কারণ,, ইঁদুর নিজেই আমার কাছে বিষ চেয়েছে,, আমি তার চাহিদা পুরণ করে দিয়েছি।"

একথা বলে সাপ নিজের লকলকে জিভ বের করে নানারকম অঙ্গভঙ্গি করতে থাকে।

সমস্ত সাপ দীর্ঘক্ষণ ধরে ফোঁস ফোঁস শব্দে তাকে সম্মতি জানিয়ে চলে।

-"বন্ধুরা ,, প্রথমে লক্ষ্যবস্তুর হৃদয় বিষাক্ত করে তুলতে হবে।"

- "সেই বিষ ধীরে ধীরে মস্তিষ্কে পৌঁছে যাবে। মস্তিষ্ক হতে শিরায় শিরায় বিষ ছড়িয়ে পড়বে। সে অস্থির হয়ে উঠবে।"

সমস্ত সাপের দল মনোযোগ সহকারে শুনে চলেছে।

- "আমরা স্বপ্ন এবং ভয়,, দুটো হাতিয়ার একসাথে প্রয়োগ করে যাবো। "ভালো দিনের স্বপ্ন দেখাতে হবে,, সঙ্গে সঙ্গে " ভয়ঙ্কর বিপদের " ভয় দেখিয়ে যেতে হবে।"

-"বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নন-ইস্যু গুলো,, ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে হবে। যাতে তারা আসল ইস্যু হতে মুখ ফিরিয়ে রাখতে পারে।"

সাপ নিজের মুখে ইঁদুরের ডেডবডি তুলে নিয়ে বলে - "দেখুন,, কিভাবে স্বেচ্ছায় সে আমাদের রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নিয়েছে। কিভাবে সে নিজের শরীর নীল করে ফেলেছে।"

সমস্ত সাপ ইঁদুরের নীল রঙের মৃতদেহ দেখে উৎফুল্ল হয়ে পড়ে। তারা নিজেদের মধ্যে অজানা এক রোমাঞ্চ অনুভব করতে থাকে।

সাপ বলে চলেছে - "বিষ ভরতে থাকুন। বিষাক্ত করে দিন সমস্ত শরীর। কিন্তু,, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে,, উপদেশের ছলে,, শান্তির পক্রিয়ার মাধ্যমে। ধীরে ধীরে,, একটু একটু করে বিষ ভরে দিন......"

-" দেখবেন,, উপদেশ উন্মাদনা হয়ে উঠবে। এভাবেই আমাদের নিজের নিজের দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। দেখবেন,, গোটা দেশ সর্পময় হয়ে উঠেছে। সেদিন অত্যন্ত সন্নিকটে,, যেদিন দেশের মধ্যে কেবলমাত্র সাপ ছাড়া অন্য কিছু থাকবে না।"

এক বৃদ্ধ সাপ উত্তেজিত হয়ে ফোঁস ফোঁস করে বলে - "বুঝেছি,, আমাদের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে গণতন্ত্র-কে খতম করে,, সাপের রাজ্য সাপত্ব কায়েম করতে হবে।"

-'মুরুব্বী ঠিক বলেছেন। আমিও ঠিক এটাই বোঝাতে চাইছি।"
সাপ সম্মতির সুরে মাথা নেড়ে বলে।

দ্বিমত পোষণকারী এক যুবক সাপ উঠে বললো - "দেখুন,, ইঁদুর মায়াজালে ফেঁসে গেছে,, কিন্তু,, সকলে এভাবে ফেঁসে যাবে তার গ্যারান্টি কোথায় ??"

-"ভেরী গুড কোয়েশ্চন।।"
একথা বলে সাপ বেশ কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে পড়ে।

এরপর মাথা ঝাঁকিয়ে বলে - "যতক্ষণ নিজেদের মধ্যে আধিপত্যবাদের অনুভূতি বিরাজমান থাকবে,, ততক্ষণ কোনো সমস্যা হবে বলে মনে করছি না। বর্তমান সময় আমাদের জন্য এক গোল্ডেন-পিরিয়ড। বর্তমান সময়ে সবাই একে অপরের উপর আধিপত্য কায়েম করতে চাইছে।। আমাদের সুযোগ কাজে লাগিয়ে,, এগিয়ে যেতে হবে।"

এই কথা শুনে সমস্ত সাপের মধ্যে খুশীর লহর বয়ে গেলো।

-"বন্ধুগণ ,, কেবলমাত্র গর্ব বিক্রি করতে হবে। শ্রেষ্ঠত্বের স্বপ্ন দেখিয়ে যেতে হবে। শ্রেষ্ঠ হওয়ার স্বপ্ন তাদের ধ্বংস করে দেবে। একদিন সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাদের প্রথম টার্গেট হলো ইঁদুর। আপাতত ইঁদুর শেষ করতে হবে। আমরা ছুঁচো,, নেউল,, বেঁজী,, গোসাপ,, ব্যাঙ,, বিচ্ছু,, সকলকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাব। প্রথম টার্গেট শেষ হলে দ্বিতীয়,, তারপর তৃতীয়,, চতুর্থ,, পঞ্চম,, এভাবে সকলকে শেষ করে দেবো।"

চারিদিকে হর্ষধ্বনিতে উত্তাল গোটা সর্পসভা। সবাই সাপের নামে ধন্য ধন্য করে চলেছে।

সাপের স্বপ্ন,, সর্পরাজ্য গঠন করা। যে রাজ্যে বিষহীন ছোটজাতের সাপের কোনো জায়গা থাকবে না। কেবলমাত্র বেশকিছু বিষধর সাপ নিজেদের রাজত্ব,, নিজেদের প্রভুত্ব কায়েম রেখে যাবে। যেখানে অন্য কারো জায়গা থাকবে না।

সর্বসম্মতিক্রমে সাপেদের নেতা নির্বাচিত হয়ে গেলো। বড়ো ফুলের মালা পরে,, ইঁদুর মারা বুদ্ধিমান সাপ বলে ওঠে -
"বন্ধুগণ, পথ দেখিয়ে দিলাম,, আর বসে থাকা চলবে না। এখনই কাজে লেগে যেতে হবে।গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে,, গণতন্ত্র হত্যা করার কাজ।

#𝑪𝒐𝒍𝒍𝒆𝒄𝒕𝒆𝒅

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন একবারই আসে। তাই শেখো, হাসো, আনন্দ করো, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নাও, আর সামনে এগিয়ে যাও। সবাই একসাথো কা...
13/09/2025

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন একবারই আসে। তাই শেখো, হাসো, আনন্দ করো, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নাও, আর সামনে এগিয়ে যাও।
সবাই একসাথো কাজ করবো, আর একসাথে সুন্দর স্মৃতি গড়ে তুলবো

~ মোঃ মাহবুবুর রহমান

নিজের জনপ্রিয়তা বুঝতে পেরে কাজী নজরুল ইসলাম ভাবলেন, এবার তিনি নির্বাচনে অংশ নিবেন! নির্বাচনটি ছিলো কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক ...
18/08/2025

নিজের জনপ্রিয়তা বুঝতে পেরে কাজী নজরুল ইসলাম ভাবলেন, এবার তিনি নির্বাচনে অংশ নিবেন!


নির্বাচনটি ছিলো কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের নির্বাচন। এর আগে তিনি বিভিন্ন প্রার্থীর হয়ে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন। জনসভায় গান গেয়ে, কবিতা আবৃত্তি করে প্রার্থীর পক্ষে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন।
নজরুল লক্ষ্য করেন, তিনি যখন স্টেজে উঠেন, তখন সবাই তার জন্য তালি দেয়, উচ্ছ্বসিত হয়। প্রার্থীর জন্যও মানুষ এতোটা আগ্রহ দেখায় না, যতোটা দেখায় তার জন্য।

এটা ভেবে তার মনে হলো তিনি তো প্রার্থীদের চেয়েও জনপ্রিয়! আর কতো এভাবে অন্যের হয়ে ভোট চাইবেন? তিনি নিজেই দাঁড়িয়ে গেলেন।

সমগ্র ঢাকা বিভাগে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিলো দুটো। দুই আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন পাঁচজন। পাঁচজনের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত দুজন হবেন নির্বাচিত।

পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনই ছিলেন বড়ো বড়ো জমিদার। বরিশালের জমিদার ইসলাইল হোসেন চৌধুরী, ময়মনসিংহের জমিদার আব্দুল হালিম গজনভি এবং ঢাকার নবাব পরিবারের খাজা আবদুল করিম। বাকি দুজন হলেন- মফিজউদ্দিন আহমদ ও কাজী নজরুল ইসলাম।

নির্বাচনে লড়াই করার জন্য নজরুলের পকেটে ছিলো বিধানচন্দ্র রায়ের দেয়া মাত্র ৩০০ টাকা। অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাকি তিনজন জমিদার!

এখানে, নজরুলের সেই সময়কার আর্থিক অবস্থা উল্লেখ করলে 'দুখু মিয়ার' তৎকালীন পকেটের অবস্থা বুঝতে সুবিধা হবে।

নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কয়েক মাস পূর্বে তার দ্বিতীয় পুত্রের জন্ম হয়। পুত্রের জন্ম সংবাদ পেয়ে নজরুল তার প্রকাশক বজ্রবিহারী বর্মণকে চিঠি লিখে ২৫ টাকা পাঠাতে বলেন। তিনি জানিয়ে দেন, টাকাটা তার খুব দরকার, ধার করে হলেও যেনো টাকা পাঠানো হয়।

অভাব-অনটনের সেই সময় লিখেন তার বিখ্যাত কবিতা 'দারিদ্র‍্য'। কবিতার শেষাংশে কবি উল্লেখ করেন তার অভুক্ত পুত্রের ক্ষুধার জ্বালা। কবির ভাষায়:

"সহসা চমকি’ উঠি! হায় মোর শিশু
জাগিয়া কাঁদিছ ঘরে, খাওনি ক’ কিছু
কালি হ’তে সারাদিন তাপস নিষ্ঠুর,
কাঁদ’ মোর ঘরে নিত্য তুমি ক্ষুধাতুর!
পারি নাই বাছা মোর, হে প্রিয় আমার,
দুই বিন্দু দুগ্ধ দিতে!-মোর অধিকার
আনন্দের নাহি নাহি! দারিদ্র্য অসহ
পুত্র হ’য়ে জায়া হয়ে কাঁদে অহরহ
আমার দুয়ার ধরি! কে বাজাবে বাঁশি?
কোথা পাব আনন্দিত সুন্দরের হাসি?"

এর ঠিক কয়েক মাস পর কবি নির্বাচনের ক্যান্ডিডেট! তৎকালীন সময়ে সবাই ভোটার হতে পারতো না। মোটামুটি স্বচ্ছল ব্যক্তিরাই ভোটার হতে পারতেন। কারণ, ভোটার হবার জন্য নূন্যতম বাৎসরিক কর দিতে হতো। নজরুল সেই সময়ে যাদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন, তাদের বেশিরভাগই ভোটার ছিলেন না।

সমগ্র ঢাকা বিভাগে মোট ভোটার ছিলো মাত্র ১৮,১১৬ (আঠারো হাজার একশো ষোলো) জন।

কাজী নজরুল ইসলামের দরকার ভোট। স্পেসিফিকলি বললে মুসলিমদের ভোট। অথচ 'বিদ্রোহী' কবিতা সহ আরো কয়েকটি কবিতা, গানের জন্য তিনি মুসলিম সমাজে সমালোচিত। অনেকেই তাকে 'কাফের' ফতোয়া দিয়েছেন।

'লেখক নজরুল' পাবলিক সেন্টিমেন্টকে তোয়াক্কা না করলেও এবার 'প্রার্থী নজরুল' পাবলিক সেন্টিমেন্টকে গুরুত্ব দেন। তিনি চলে যান ফরিদপুরের নামকরা পীর বাদশাহ মিয়ার কাছে। বাদশাহ মিয়াকে অনুরোধ করেন তার পক্ষে যেনো একটি ফতোয়া লিখে দেন, যাতে মানুষ তাকে ভোট দেয়।

পহেলা নভেম্বর বাদশাহ মিয়া একটি কাগজে কাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে ফতোয়া লিখে দেন- ভোটাররা যেনো কাজী নজরুল ইসলামকে ভোট দেয়!

কাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচারণায় সঙ্গ দেন পল্লীকবি জসীমউদদীন। বাংলা সাহিত্যের দুই শ্রেষ্ঠ কবি নামলেন নির্বাচনী প্রচারণায়। কাজী নজরুল ইসলাম জসীমউদদীনকে বুঝালেন, "ঢাকায় আমি শতকরা ৯৯ ভাগ ভোট পাবো, ফরিদপুরে তোমার এলাকায় কয়েকটা ভোট পেলেই কেল্লা ফতে; আমি জিতে যাবো!"

দুই কবি মানুষের বাড়ি বাড়ি যেতেন নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে। মানুষ চা অফার করতো। আর নজরুলের নীতি ছিলো- "চায়ে কোনো 'না' নেই।" নির্বাচনী প্রচারণায় কাজী নজরুল ইসলাম একদিন ৭২ কাপ চা খান!

জনসমর্থন আদায়ে দুজন ফরিদপুরের তমিজউদদীন খানের বাড়ি যান। সেখানে একজন বলে উঠলো, আপনি তো 'কাফের', আপনাকে ভোট দেবো কেনো? তখন নজরুল একটা একটা করে তার কবিতাগুলো আবৃত্তি করেন। যখনই 'মোহররম' কবিতাটি আবৃত্তি করেন, তখন সেই অভিযোগকারী কেঁদে দেয়!

নির্বাচনের দিন জসীমউদদীন নজরুলকে একটি কৌশল বলেন- "আপনি একটি ভোটকেন্দ্রে বসে থাকুন। মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবার সময় আপনাকে দেখতে পাবে। আপনার কথা মনে পড়বে, আপনাকে ভোট দেবে।"

নজরুল কবির কথামতো ঠিকই ভোটকেন্দ্রে বসে পড়লেন।

যেই কবি আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেছিলেন ঢাকায় ৯৯ ভাগ ভোট পাবেন, নির্বাচনের ফলাফল দেখে সেই কবির চোখ কপালে উঠে।

নির্বাচনের ফলাফল ছিলো:
১. ইসমাইল হোসেন খান চৌধুরী ৬০৬১ ভোট পেয়ে বিজয়ী।
২. আব্দুল হালিম গজনভি ৫৭৬৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী।
৩. আব্দুল করিম ২০৪৩ ভোট পেয়ে পরাজিত।
৪. কাজী নজরুল ইসলাম ১০৬২ ভোট পেয়ে জামানত বাজেয়াপ্ত।
৫. মৌলভী মফিজউদ্দীন আহমদ ৫২০ ভোট পেয়ে জামানত বাজেয়াপ্ত।

আকাশচুম্বী জনপ্রিয় কবির নির্বাচনে জয়ী হওয়া যে আকাশকুসুম চিন্তা ছিলো, সেটা বুঝতে কাজী নজরুল ইসলামকে একবার নির্বাচন করতে হয়। এরপর নজরুল দ্বিতীয়বার আর এই ভুল করেননি। তবে, নজরুলের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন বাংলার আরেক কবি নির্মলেন্দু গুণ।

১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্মলেন্দু গুণ আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চান। আওয়ামিলীগ থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিশেবে নেত্রকোণা-বারহাট্টা আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তার নির্বাচনী প্রতীক ছিলো বেশ বিচিত্র- কুমির। সাক্ষাৎকারে তাকে জিজ্ঞেস করা হয় তিনি কেনো কুমির প্রতীক নেন? এটার পেছনে কি কবির কোনো উদ্দেশ্য আছে?

নির্মলেন্দু গুণ জানান- "আমি নিজে অত্যন্ত নিরীহ মানুষ। তার উপর স্বতন্ত্র প্রার্থী। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা আমাকে করুণার দৃষ্টিতে দেখুক এমন কোনো নিরীহ প্রতীক বেছে নেয়াটা বোকামী হবে ভেবেই আমি এই প্রতীক বেছে নিয়েছি। আপনারা সবাই জানেন যে কুমির সমীহ আদায় করার মতো প্রাণী। জলের রাজা এবং প্রয়োজনে স্থলেও উঠে আসতে পারে। সুতরাং...।"

কাজী নজরুল ইসলাম তার নির্বাচনের সময় পাশে পেয়েছিলেন বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তী কবি জসীমউদদীনকে। তেমনি নির্মলেন্দু গুণও নির্বাচনের সময় পাশে পান বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তী কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে। দুজনই ছিলেন একই এলাকার। নির্মলেন্দু গুণের নির্বাচনের জামানতের টাকা দেন হুমায়ূন আহমেদ।

কাজী নজরুল ইসলামের মতো নির্মলেন্দু গুণও নির্বাচনে পরাজিত হোন, এমনকি জামানত হারান। নির্মলেন্দু গুণ ভোট পান ১২৪৯ টি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সম্ভবত কোনো বিখ্যাত কবি কোনো নির্বাচনে জিতেননি। তবে, রাষ্ট্রপ্রধান হবার পর কবি হবার ঘটনা আছে!

জেনারেল এরশাদ ৯ বছর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন। সেই সময় প্রতিদিন পত্রিকার প্রথম পাতার তার লেখা কবিতা প্রকাশিত হতো। এমন কবিভাগ্য পৃথিবীর ইতিহাসে অন্য কোনো কবির (!) ছিলো কি-না বলা মুশকিল!

------

|| রাজনীতির মাঠে কাজী নজরুল ||
- আরিফুল ইসলাম
১৮ ডিসেম্বর ২০২১

True fact.Concerning issue ig
12/08/2025

True fact.
Concerning issue ig

বিস্তারিত কমেন্টে—

দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা..নটর ডেম কলেজের তিনশো এক নাম্বার রুমে ক্লাস নিচ্ছেন রসায়নের বিভাগীয় প্রধান সঞ্জিত কুমার গুহ স্যার।...
09/08/2025

দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা..
নটর ডেম কলেজের তিনশো এক নাম্বার রুমে ক্লাস নিচ্ছেন রসায়নের বিভাগীয় প্রধান সঞ্জিত কুমার গুহ স্যার।
আমরা সবাই 'অমনোযোগ' দিয়ে ক্লাস করছি। কাল ডিসেম্বরের ষোলো তারিখ। কলেজ বন্ধ, এই আনন্দে মনোযোগ ধরে রাখতে পারছি না।
গুহ স্যার ক্লাসের এক পর্যায়ে বললেন, “আমি জানি, তোমরা অনেক খুশিতে আছো। তাহলে আসো, তোমাদের একটা গল্প শোনাই। একাত্তরের যু|দ্ধে তো অনেক নারী ধ|র্ষিত হয়েছিলেন, তাই না?
আমার খুব কাছের এক নারীকে পাকিস্তানি সেনা ধ|র্ষ|ণ করে। ধর্ষণের পরের দিন মেয়েটা ফাঁ|সি দিয়ে আ|ত্ম| হত্যা করে ফেললেন।
তোমরা জানতে চাও, মেয়েটা আমার কী হন? ঐ মেয়েটা আমার বোন, আমার নিজের বোন। এইজন্যই ডিসেম্বরের ষোলো তারিখ আমাদের পরিবার কখনোই সেভাবে উদযাপন করেনি। তোমাদের জন্য এই দিনটা আনন্দের হলেও আমাদের জন্য প্রচণ্ড কষ্টের। আমার বোনটা খুব সুন্দরী ছিলেন দেখতে। এমন অপূর্ব মেয়ে আমি আজ পর্যন্ত দেখিনি।”
হঠাৎ করে চুপ হয়ে যাওয়া ক্লাসের সামনে স্যার মুচকি হেসে বললেন, "বাদ দাও এইসব কথা। এই যে লাস্ট বেঞ্চ মিডলম্যান, দাঁড়াও। বলো, সোডিয়াম ক্লোরাইডের কেপি কেসি’র মান কত? কুইক।"

28/07/2025

১/১ এ থাকতে সিনিয়রদের সাথে দেখা হলে কথা বলতে বলায়, আমাকে সিনিয়রদের দালাল ট্যাগ দেয়া ব্যাচমেটটাও আজকে বলছে জুনিয়ররা অনেক বেয়াদব, দেখা হলে সালাম দেয় না.....

দুনিয়াটা আসলেই গোল 💔

28/07/2025

আহা নজরুল!

এত দরদ, এত আবেগ দিয়ে আর কেই-বা লিখতে পারে; বলতে পারে কেউ?

প্রিয় Momrose Mahmud ভাইয়ের গায়কীর তো কোনো তুলনাই নেই। হৃদয়ে দাগ কেটে গেছে এই সুর। অসাধারণ!

আহ! আমার প্রিয় মাইলস্টোন কলেজের দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতেই মাইলস্টোন স্কুল চোখে পড়ত। ফুলের মতো ছোট ছোট বাচ্চারা সে...
21/07/2025

আহ! আমার প্রিয় মাইলস্টোন কলেজের দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতেই মাইলস্টোন স্কুল চোখে পড়ত। ফুলের মতো ছোট ছোট বাচ্চারা সেখানে পড়ালেখা করত। তারা হয়তো শিখছে Aeroplane অর্থ বিমান। অথচ সেই বিমান দুর্ঘটনায় তাদের জীবনকে এভাবে কেড়ে নিবে, আহত করবে। এমনটা হয়তো তারা কখনো চিন্তাও করে নি। এই মুহূর্তে দোয়া করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
হে আল্লাহ,আপনি সর্বশক্তিমান, আপনি হেফাজত করুন 🤲

Address

Sylhet

Opening Hours

Monday 05:47 - 20:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Friday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Md Mahbobur Rahman posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Md Mahbobur Rahman:

Share