19/08/2015
জহির রায়হানের জন্মদিবস আজ। ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি তার ভাই বুদ্ধিজীবী শহিদুল্লাহ কায়সারের খোঁজে বেরিয়ে তিনি নিজেই নিখোঁজ হয়ে যান।
কেউ কেউ মনে করেন, “জহির রায়হান এই স্বাধীন বাংলার প্রথম মানুষ যিনি আওয়ামী লীগের মুখোশ উন্মোচন করার কথা বলার পরই 'গায়েব' হয়ে যান।”
এই অভিযোগের পেছনে তাঁদের যুক্তি, ‘জহির বেঁচে থাকা অবস্থায় সর্বশেষ প্রেসক্লাবে দাঁড়িয়ে এক বক্তব্যে বলেছিলেন¬, যারা এখন বড় বড় কথা বলেন, নিজেদের বড় বড় নেতা মনে করেন, তাদের কীর্তি কাহিনী, কলকাতায় কে কী করেছিলেন, তার ডকুমেন্ট আমার কাছে রয়েছে। তাদের মুখোশ আমি খুলে দেবো।’
সর্বশেষ, সাংবাদিক প্রবীর শিকদার-এর ঘটনাটি দেখার পর; জহির রায়হানের অন্তর্ধান নিয়ে অভিযোগটিকে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।.................................................................
একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, লেখক ও চিত্রনাট্যকার জহির রায়হানের চলচ্চিত্রযাত্রা শুরু হয় জাগো হুয়া সাবেরা (১৯৫৯),এদেশ তোমার আমার (১৯৫৯) এবং যে নদী মরুপথে (১৯৬১) চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে। পরিচালক হিসেবে প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসেনি’ (১৯৬১)। সমগ্র পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নির্মিত প্রথম রঙ্গীন চলচ্চিত্র ‘সংগম’ (১৯৬৪) এবং প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র ‘বাহানা’ (১৯৬৫) জহির রায়হানের চিত্রনাট্য, প্রযোজনা এবং পরিচালনায় নির্মিত।
ইংরেজী, বাংলা, উর্দু, রুশ এই চারটি ভাষায় ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ (১৯৭০) নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় কাজটা শেষ করতে পারেননি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি চারটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন- স্টপ জেনোসাইড, বার্থ অব আ নেশন / এ স্টেট ইজ বর্ন, চিলড্রেন অব বাংলাদেশ এবং সারেন্ডার।
স্বাধীনতার ঠিক আগমুহূর্তে পাকিস্তানী আর্মির এদেশীয় দোসর আল বদর বাহিনী কর্তৃক অপহৃতহন জহির রায়হানের ভাই বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সার। ১৯৭১ সালের ১৬-ই ডিসেম্বর পাকিস্তানীরা আত্মসমর্পন করলেও করেনি মিরপুরের সশস্র বিহারীরা। তাই, তাদের নিরস্ত্র করতে ৩০শে জানুয়ারি ১৯৭২ সালে অভিযান চালায় পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর একটি দল। এই দলের সাথে জহির রায়হান যুক্ত হন আল বদর কর্তৃক অপহৃততার ভাই বুদ্ধিজীবী শহিদুল্লাহ কায়সারের খোঁজে। সেখান থেকে তিনি আর ফিরে আসেননি।
জন্মদিনে তাঁর একটি লেখার অংশবিশেষ প্রকাশ করা হলঃ
‘বছরে কতদিন?
তিনশ’ পয়ষট্টি দিন।
তিনশ’ পয়ষট্টি দিনে কটা শহীদ দিবস?
দুশো বিরানব্বইটা।
বাকি থাকে ক’টা?
তিয়াত্তরটা।
তিয়াত্তরটা আর বাকি রেখে কি হবে?
ওগুলোও ভরে ফেলো।
আগুন জ্বালো।
আবার আগুন জ্বালো।
পুরো দেশটায় আগুন জ্বালিয়ে দাও।
সাতকোটি লোক আছে।
তাঁর মধ্যে না হয় তিনকোটি মারা যাবে।
বাকি চারকোটি সুখে থাকুক। শান্তিতে থাকুক।
পুরো বছরটাকে শহীদ দিবস পালন করুক ওরা!’
(রচনাকালঃ ফেব্রুয়ারী, ১৯৭১)