NikahLife

NikahLife Best Bangladeshi Online Matrimony Platform

28/08/2026

ধরেন, কোনো মেয়ে পরকীয়া করে ধরা খাইছে কিংবা বিয়ের আগের আকাম কুকাম বিয়ের পরে লিক হইছে। এরপর সেই ছেলে কোনো গ্রুপে পরামর্শ চেয়ে হেল্প পোস্ট দিলো। সেখানে বাঙ্গু নারীরা যা যা কমেন্ট করবে তা আমি আগেভাগেই লিখে দিচ্ছি। কোন অপশন বাদ গেলে জানাবেন, অ্যাড করে দিবো-

১. মাফ করে দেন, ক্ষমা মহৎ গুণ।

২. আল্লাহ মাফ করে দেন, আপনি পারবেন না?

৩. আপনার মনমানসিকতা নিচু, এমন মানসিকতা নিয়ে বিয়ে করেন কেন?

৪. প্রকৃত পুরুষ নারীর অতীত দেখে না।

৫. ভার্জিনিটি না দেখে তার ব্যবহার দেখুন।

৬. যে যেমন, তার জীবনসঙ্গীও তেমন। আপনিও নিশ্চয়ই সেরকম, এই জন্যই এমন বউ পেয়েছেন!

৭. তালাক দেওয়ার পরামর্শ কেউ দিলে, শুনবেন না। তালাক দিলে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠে। এটি নিকৃষ্ট হালাল।

৮. ডিভোর্স সমাধান না, তাকে সুযোগ দিন একটা।

৯. ভার্জিন বিয়ে করে কি আজীবন ভার্জিন রাখবেন?

১০. আপনি এখনই তাকে সম্মান করতে পারছেন না, সন্দেহ করছেন। আপনি কেমন স্বামী? মেয়েটার জীবনটাই ধ্বংস করছেন।

১১. হ্যাঁ, মেয়েরা খারাপ, আর ছেলেরা সব ওলি-আউলিয়া? আপনাদের মতো কোনো এক প্রতারক পুরুষের থেকেই সে প্রতারিত হয়েছে।

১২. ডিভোর্স দিয়েন না। আপনার বোন হলে কি করতেন?

১৩. ডিভোর্স দিলে পরের জন যে ভালো হবে, সেই গ্যারান্টি আছে?

১৪. এত কিছু জানেন কিন্তু অতীত প্রকাশ করা হারাম এটা জানেন না?

১৫. সবারই টুকটাক অতীত থাকে। বর্তমান দেখুন।

১৬. বিয়ের আগে খোঁজ নেননি? নাকি সুন্দরী দেখে পাগল হয়ে গিয়েছিলেন?

১৭. বিয়ের আগে সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দেন, আর বিয়ের পরে চরিত্র দেখে ডিভোর্স দেন — মানে ফাজলামি?

১৮. সব ছেলেই বলে সে নাকি ভালো, তাহলে মেয়েরা প্রেম করেটা কার সাথে?

১৯. অতীত ভুলে স্ত্রীকে বেশি বেশি ভালোবাসা দিন।

২০. আপনাদের ভার্জিনিটি নিয়ে এত প্যারা হলে, গর্ভাবস্থায় থেকেই মেয়ে বের হওয়ার সাথে সাথেই তাকে বিয়ে করে ফেলবেন।

২১. আপনিও তো এমন কিছু করতে পারতেন, তাই মেনে নেন।

২২. স্ত্রীকে ভালোবাসলে এভাবে পাবলিকলি পোস্ট দিয়ে স্ত্রীকে ছোট করতে পারতেন না।

২৩. তাকে ভালোবাসুন। তার এক্সরা তাকে পেয়ে হারিয়েছে, আপনি পেয়ে জিতেছেন।

২৪. খুশি হোন, কারণ উনি এক্সপেরিয়েন্সড — যা আপনার দাম্পত্য জীবন সুখী করবে।

২৫. আপনার স্ত্রীর যদি অতীত থেকে থাকে, তবে আপনার গর্ব করা উচিৎ। কারণ আপনি প্রকৃত জয়ী। একটা মেয়ের জীবনে কতজন আসে, কিন্তু শেষ বিজয়ী কে? আপনি শেষ বিজয়ী।

২৬. নিশ্চয় আপনি আপনার স্ত্রীকে সময় দিতেন না। নইলে সে পরকীয়ায় জড়াবে কেন? সমস্যা আপনার।

২৭. বাঙ্গু বেডা। ঘরে বউ সামলাতে পারে না। ফেসবুকে আসছে বউয়ের নামে আজাইরা কথা ছড়াইতে!

২৮. নারীরা কখন এমন করে আমরা জানি। আগে নিজের চিকিৎসা করেন ব্রো।

২৯. নিশ্চয় তাকে মেন্টাল সাপোর্ট দেন না, সময় দেন না, তাই এমন ভুলটা করলো। শুনেন, নারীরা খালি টাকাই চায় না। একটু কেয়ার, একটু যত্ন, একটু সময় দিলেই নারীরা খুশি। অন্যকে জাজ করার আগে নিজের দিকে তাকান।

৩০. Sinners judging sinners for sinning differently.

৩১. A Real Man is he who doesn't care about past and protect his wife's Amanah.

৩২. ওই বয়সে মানুষ একটা ভুল করতেই পারে। সেও ভুল করছে। মানছি আপনারও হয়তো খারাপ লাগতেছে। কিন্তু সংসার যেহেতু করতেছেন, সবকিছু মেনে নিয়ে সুন্দরভাবে নতুন করে শুরু করুন।

৩৩. অশিক্ষিত জাত। এই যুগেও এই লাইফলেসরা অতীত নিয়ে কান্নাকাটি করে। আমার হাসবেন্ড কিংবা আমার - কখনো তো এসব মাথায়ই আসবে না। ওইটা ওর তখনকার লাইফ। থ্যাংক গড ফর মাই প্রাউড হাব্বি।

৩৪. আপনি ছেলেদের ব্যাপারেও বলেন না কেন?


আর একই কাজ ছেলে করলে? "আপু, এক্ষুণি ডিভোর্স দেন। আর যাওয়ার আগে তার লিঙ্গটাও কেটে দিয়েন।"

Copied from: Nafis Shahriar

28/08/2026

উলামায়ে কেরাম লিখেছেন,
বিয়ে করলে কোনো দরিদ্র নারীকে বিয়ে করবে,ধনী নারীকে বিয়ে করবে না। কারণ যে ব্যক্তি ধনী নারীকে বিয়ে করবে, সে পাঁচটি আপদে পতিত হবে-

১) মোহর বেশি দিতে হবে।

২) রুখসতী বিলম্বে হবে এবং টালবাহানা হতে থাকবে। কারণ, তার যৌতুক ও আসবাবপত্রের তৈরি শেষ হবে না।

৩) তাকে দিয়ে কোনো খেদমত করানো অসম্ভব হয়ে যাবে।

৪) বেশি খরচপাতি চাইবে।

৫) তালাক দিতে চাইলেও সম্পদের লোভ তালাক দিতে দেবে না।

♦️বলা হয়ে থাকে যে,
চার বিষয়ে স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর নিম্নস্তরের হওয়া উচিত, অন্যথায় স্ত্রীর চোখে স্বামী হেয় হয়ে থাকবেঃ-

১) বয়স।

২) শারীরিক দৈর্ঘ্য।

৩) সম্পদ।

৪) বংশ-মর্যাদা।

♦️আর চারটি বিষয়ে স্ত্রী স্বামী থেকে উচ্চস্তরের হতে হবেঃ-

১) সৌন্দর্য।

২) আদব-আখলাক।

৩) তাকওয়া।

৪) চরিত্র।

কালেক্টেড।

28/08/2026

ইসলামে মেয়ের বাবার ওপর মেয়ের বিয়ের খরচ বহন করা ফরজ বা ওয়াজিব নয়। বরং বিয়ের মৌলিক আর্থিক দায়িত্ব মূলত বরের ওপর।

▪️ ১. মেয়ের বাবার দায়িত্ব কী?

মেয়ের বাবা তার সামর্থ্য অনুযায়ী মেয়েকে বিয়ের জন্য সহযোগিতা করতে পারেন—যেমন পোশাক, কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস বা অনুষ্ঠানে খরচ করা। কিন্তু এগুলো শরিয়ত নির্ধারিত বাধ্যতামূলক দায়িত্ব নয়।

অর্থাৎ, সমাজে প্রচলিত “মেয়ের বাবাকেই বিয়ের অনুষ্ঠান, খাবার, সাজসজ্জা, অতিথি ইত্যাদির সব খরচ দিতে হবে”- এমন কোনো ইসলামী বিধান নেই।

▪️২. মোহর কে দেবে?

মোহর সম্পূর্ণভাবে বরের দায়িত্ব।

আল্লাহ বলেন:
“তোমরা নারীদের তাদের মোহর স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রদান করো।”
-সূরা আন-নিসা, আয়াত-৪

সুতরাং মেয়ের বাবা মেয়ের পক্ষ থেকে মোহর দেওয়ার দায়িত্বে নেই।

▪️৩. বিয়ের ওয়ালিমা কার দায়িত্ব?

রাসূল ﷺ আবদুর রহমান ইবন আওফ (রা.)-কে বলেছিলেন:

“ওয়ালিমা করো, যদিও একটি ছাগল দিয়ে হয়।”
—সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম

ফিকহের আলোচনায় ওয়ালিমা মূলত বরের পক্ষের সুন্নাহ হিসেবে বিবেচিত। তাই মেয়ের পরিবারকে বড় অনুষ্ঠান করে বিপুল অর্থ খরচ করতেই হবে- এমন বিধান নেই।

▪️৪. মেয়ের বাবা খরচ করলে কি সমস্যা?

না। নিজের ইচ্ছায়, সামর্থ্যের মধ্যে এবং অপচয় ছাড়া খরচ করলে তা জায়েয।
সমস্যা হয় যখন-

👉মেয়ের বাবার ওপর সামাজিকভাবে খরচ চাপিয়ে দেওয়া হয়;

👉ঋণ করে অনুষ্ঠান করতে হয়;
যৌতুক দাবি করা হয়;

👉“মান-সম্মান” রক্ষার জন্য অপ্রয়োজনীয় লাখ লাখ টাকা খরচ করা হয়;

👉মেয়ের পরিবারকে খাবার, আসবাব, গাড়ি, ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদি দিতে বাধ্য করা হয়।

এসব ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ের আবশ্যিক অংশ নয়।

▪️৫. একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য

মেয়ের বাবার খরচ করা ≠ যৌতুক

যদি বাবা নিজের মেয়েকে ভালোবেসে স্বেচ্ছায় কিছু উপহার দেন, সেটা হাদিয়া/উপহার হতে পারে। কিন্তু বরপক্ষের দাবি, চাপ বা শর্তের কারণে দিতে হলে বিষয়টি ভিন্ন এবং নিন্দনীয়। এমনকি আমি মনে করি 'মেয়ের বাবার খরচ করা মেয়েকে ভালোবাসার নিদর্শনইসলামে মেয়ের বাবার ওপর মেয়ের বিয়ের খরচ বহন করা ফরজ বা ওয়াজিব নয়। বরং বিয়ের মৌলিক আর্থিক দায়িত্ব মূলত বরের ওপর।

সংক্ষেপে,

মোহর বরের দায়িত্ব
বরের নিজের বিয়ের প্রয়োজনীয় খরচ বরের দায়িত্ব
ওয়ালিমা বরের পক্ষের সুন্নাহ
মেয়ের বাবার বিয়ের খরচ ফরজ/ওয়াজিব নয়
মেয়ের বাবা স্বেচ্ছায় সাহায্য করা জায়েয
যৌতুক দাবি করা জায়েয নয়
লোকদেখানো/অপচয় নিন্দনীয়/হারাম পর্যায়ে যেতে পারে

ইসলামী দৃষ্টিতে “মেয়ের বিয়ে, তাই মেয়ের বাবাকেই সব খরচ করতে হবে”- এই সামাজিক ধারণার কোনো শরিয়তসম্মত ভিত্তি নেই। বিয়ে হওয়া উচিত সহজ, সামর্থ্যনির্ভর এবং যৌতুক ও অযথা প্রতিযোগিতামুক্ত।

লেখা: এডমিন+চ্যাটজিপিটি

01/07/2026

বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, ক্ষণিকের আবেগ থেকে যে বিয়ে হয়, তার চেয়ে অ্যারেঞ্জড বিয়ে স্থায়ী আকর্ষণ সৃষ্টিতে অনেক বেশি সক্ষম।

পশ্চিমে আশংকাজনক ডিভোর্স রেট এবং নজিরবিহীন সিঙ্গেল প্যারেন্ট সমস্যার প্রেক্ষিতে গবেষকরা মনে করছেন, ভালোবাসার প্রতি পশ্চিমা চিন্তাধারা পুনর্মূল্যায়নের সময় এসেছে। হার্ভাড রিসার্চার প্রোফেসর Robert Epstein বিভিন্ন সমাজে অ্যারেঞ্জড বিয়ে (ভারত, পাকিস্তান, কট্টর ইহুদি) ৮ বছর স্টাডি করেছেন। শতাধিক দম্পতির ইন্টারভিউ নিয়েছেন। বিগত ৩০ বছরের রিসার্চের সাথে নিজের প্রাপ্ত তথ্য তুলনা করেছেন। তাঁর এই রিসার্চের আশ্চর্য ফল বেরিয়ে এসেছে। দেখা গেছে, প্রেমের বিয়েতে শুরুতে যে পরিমাণ ভালোবাসা ছিল, ১৮ মাসে গিয়ে হয়ে গেছে অর্ধেক। আর অ্যারেঞ্জড বিয়েতে ভালোবাসা সময়ের সাথে বাড়তে থাকে। প্রেমের বিয়ের শুরুর পয়েন্টে যে ভালোবাসা, ৫ বছরে গিয়ে তাকে অতিক্রম করে ফেলে অ্যারেঞ্জড বিয়ে (Gupta & Singh 1982)। [১] ১০ বছরে গিয়ে ভালোবাসা হয় দ্বিগুণ শক্ত। এর কারণ কি হতে পারে?

ড. এপস্টেইন মনে করেন, পশ্চিমারা তাদের রোমান্টিক জীবনকে সুযোগ বা ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়েছে; কোনটা ভালোবাসা আর কোনটা কামলালসা, তার পার্থক্য ভুলে গিয়েছে। অ-পশ্চিমা সমাজগুলো শুধু ক্ষণিকের ভালোলাগার চেয়ে আরও বেশি কিছু তালাশ করে বিয়ের ভিতর। তিনি বলেন: যেমন করে আমরা শিক্ষা-ক্যারিয়ার-মাসিক খরচের ব্যাপারে প্ল্যান করি, অদৃষ্টের হাতে ছেড়ে দিই না। ঠিক তেমনি প্রেম-ভালোবাসাকেও ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেয়া ঠিক নয়। আমি অ্যারেঞ্জড বিয়েকে প্রোমোট করছি না, তবে অ্যারেঞ্জড বিয়ে থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। অ্যারেঞ্জড বিয়েতে মূল ফোকাস থাকে ‘ম্যাচিং’ (মিলকরণ)। আর পশ্চিমে গুরুত্ব পায় শরীরী আকর্ষণ। lust এবং love-এর মাঝে পার্থক্য করতে পারতে হবে। শরীরী আকর্ষণ অন্যান্য বিষয়ে আমাদের অন্ধ করে দেয়। [২]

সম্পর্ক বিশারদ ও The Divorce Doctor বইয়ের লেখিকা Francine Kaye বলেন: অ্যারেঞ্জড বিয়ের ব্যাপারে অনেক কিছু বলার আছে। স্বামী-স্ত্রী একে সফল করার জন্য শুরু থেকেই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকে। আমি কট্টর ইহুদি সমাজে অ্যারেঞ্জড বিয়ে দেখেছি। মা-বাবারা খুব যত্নের সাথে পাত্র-পাত্রীর সঙ্গতি (compatibility) খোঁজেন, ভাগ্যের উপর ছেড়ে দেন না। পাত্র-পাত্রীর চরিত্র-বৈশিষ্ট্য, মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং জীবনের লক্ষ্য এগুলোর মাঝে সামঞ্জস্য বিধান করা হয়। অ্যারেঞ্জড বিয়ে সফল হয় মূলত বিয়ের ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের দরুন। আমাদের বিয়ে রোমান্স-কেন্দ্রিক, তাদের বিয়ে বাস্তব-বাদী ও প্রায়োগিক (more pragmatic)।
পক্ষান্তরে যারা ভালোবেসে বিয়ে করে, আবেগে অন্ধ হয়ে যায়। ফলে এইসব জরুরি পয়েন্টগুলো ওভারলুক করে যায়। যখন সম্পর্কে খারাপ সময় যায়, তারা জাস্ট একে রোমান্টিক স্বপ্নভঙ্গ হিসেবে দেখে।

[১] Robert Epstein, Mayuri Pandit, and Mansi Thakar, How Love Emerges in Arranged Marriages: Two Cross-cultural Studies, Journal of Comparative Family Studies 2013 44:3, 341-360
[২] PAUL BENTLEY (4 March 2011) Why an arranged marriage 'is more likely to develop into lasting love, DAILY MAIL

বই: হালাল প্রেম হারাম প্রেম
সন্দীপন প্রকাশনী

~ কাজিন ম্যারেজ ~বই: বিবাহপাঠআসলাফ প্রকাশনীমা-বাবার চাচাতো-ফুফাতো-মামাতো-খালাতো ভাই/বোনের ছেলে-মেয়েদের বিয়েকে (second ...
01/07/2026

~ কাজিন ম্যারেজ ~
বই: বিবাহপাঠ
আসলাফ প্রকাশনী

মা-বাবার চাচাতো-ফুফাতো-মামাতো-খালাতো ভাই/বোনের ছেলে-মেয়েদের বিয়েকে (second cousin) বলা হয় consanguineous marriage. এর ভিতরে আপন চাচাতো-ফুফাতো-মামাতো-খালাতো ভাইবোনের (first cousin) বিয়েও পড়ে। মানে ফার্স্ট ও সেকেণ্ড কাজিনের সাথে বিয়েকে Consanguineous marriage বা ‘নিকটাত্মীয়ের মাঝে বিয়ে’ বলা হয়।

কিছু বিশেষ জন্মগত অসুখ আছে (autosomal recessive disorders), যেগুলো এমন বাবা-মায়ের সন্তানদের হতে পারে। তবে এই রিস্ক এর পরিমাণ কেমন? যেমন ফার্স্ট কাজিন বিয়ের ক্ষেত্রে এসব অসুখের রিস্ক ১.৭% থেকে ২.৮% বেশি। মানে খুব বেশি না। আবার জন্মত্রুটির কোনো রিস্কই নাই, এমনও রিসার্চ এসেছে। মৃত শিশু জন্মের সম্ভাবনা ১.৭ গুণ বেশি। শিশুমৃত্যু স্বাভাবিকের চেয়ে ১.১% বেশি। [1] মানে খুব যে বেশি তা কিন্তু না।

মূলত এর কারণ হল একই পূর্বপুরুষে যদি কোনো ত্রুটি থাকে, তা জিনের মাধ্যমে মা-বাবা দুজনের কাছ থেকেই পেয়ে এই শিশুতে আবার শক্তিশালী হয়ে যায়, যেহেতু দাদা-নানা লেভেলে বা বাপ-মা’র দাদা-নানা লেভেলে গিয়ে জিন সেই একজনেরই। আরেক রিসার্চে এসেছে, সেকেন্ড কাজিনে যে রিস্ক, আর অনাত্মীয়দের বিয়েতে যে রিস্ক, একই রিস্ক, পার্থক্য নেই। [2]

তবে উচ্চরক্তচাপ, সিজোফ্রেনিয়া, হৃদরোগ, ডায়বেটিস, অটিজম, ক্যান্সার— এসব অসুখের সাথে পারিবারিক ইতিহাসের (familial predisposition) একটা সম্পর্ক আছে। ফলে নিকটাত্মীয় বিয়ের সাথে এগুলোরও একটা সম্পর্ক থাকতে পারে, যদিও এমন স্পষ্ট রিসার্চ এখনও অপ্রতুল। সুতরাং, ফার্স্ট কাজিন বিয়েতে সামান্য রিস্ক রয়েছে।

উমার রা. এর একটা আসার পাওয়া যায়: নিজ আত্মীয় স্বজনদের বিয়ে করো না। কারণ, এক্ষেত্রে দুর্বল সন্তানের জন্ম হয়।’ [আল মুগনি আন হামলিল আসফার লিল ইরাকি-২/৪২]

করলে যে অনেক বেশি সমস্যা, গবেষণা সেটাও বলে না। তবে সম্ভব হলে পরিহার করা উত্তম।

[1] Hamamy H. (2012). Consanguineous marriages : Preconception consultation in primary health care settings. Journal of community genetics, 3(3), 185–192

[2] Zlotogora, Joël, and Stavit A Shalev. “The consequences of consanguinity on the rates of malformations and major medical conditions at birth and in early childhood in in**ed populations.” American journal of medical genetics. Part A vol. 152A,8 (2010): 2023-8.

01/07/2026

Tanbir Hasan Bin AbdurRofiq ভায়ের পোস্ট
-------------------------------------------------------------------
বর্তমানে কিছু দীনদার ভাইদের ভেতর চিরকুমার থাকা একটা ফ্যান্টাসিতে পরিণত হয়েছে। ইল্‌মের ভালোবাসায় তাঁরা চিরকুমার থাকতে চান। এ ধরণের অনেক তালিকাও তৈরি হয়েছে যে, কোন কোন উলামারা বিবাহ করেননি। বাস্তবতা হলো, নবুওয়াত যুগের সূচনাকাল থেকে অধিকাংশ আলিম, নেককার ও বুযুর্গ ব্যক্তিরা বিবাহিতই ছিলেন, ইতিহাস এমনই বলে।

শুধু তাই নয় পুরুষদের মধ্যে একাধিক বিবাহ করা ছিলো খুবই মামুলি ব্যাপার, আল্লাহর দেয়া বিধান হিসেবে তা পালিত হতো। ইতিহাসের পাতা হতে বাস্তবে গুনে দেখলে দেখা যাবে যে, অবিবাহিত উলামাদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। শুধু বিবাহিতই নয়, একাধিক স্ত্রী ছিল এমন আলিমদের সংখ্যাও গুনে শেষ করার মতো নয়। বলতে পারেন, ভাই তালিকা দিন! আসলে একাধিক বিবাহ আমাদের সময়ে এসে, বিশেষ করে আমাদের উপমহাদেশে এসে যে রকম ট্যাবু হয়ে দাঁড়িয়েছে মুসলিমদের ইতিহাসে কোনো কালে এমনটা ছিল না, এমনকি আরব বিশ্বে এখনও ধূমধামের সহিতই একজন পুরুষের দু' চারটা বিয়ে হয়।

আসলে একাধিক বিবাহ রোজকার জিন্দেগীর আর দু' চারটা ঘটনার মতোই স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল; ফলে ইতিহাসে সেভাবে স্থান পায়নি। আর ইতিহাসের গ্রন্থগুলোতে আলিমদের ইল্‌মী প্রশংসাই জায়গা করে নিয়েছে বেশি। অনেকের তো স্ত্রী ছিল, না ছিল না তা সুস্পষ্টভাবে জানাই যায় না, তাই ইতিহাসের গ্রন্থগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে অনেক লম্বা ইখতিলাফের ফিরিস্তি। বিপরীতে বিবাহহীন থাকা ছিল এক তাজ্জব ব্যাপার; তাই যে উলামারা বিয়ে করেননি সে ঘটনাগুলো ইতিহাসের পাতায় খুব আগ্রহের সহিতই জায়গা করে নিয়েছে। তবুও সামান্য কিছু আলোচনা করার প্রয়াসী।

গোড়া থেকেই আসি। আমাদের সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মোট ১৩ জন স্ত্রী ছিলেন। একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৯ জন স্ত্রী ছিলেন। অবশ্য মহান আল্লাহ মু'মিনদের জন্য ৪টির বেশি স্ত্রী রাখা বৈধ করেননি, ২ জন, ৩ জন ও ৪ জন স্ত্রী ছিল এমন অনেক সাহাবীকেই আমরা পাবো। আবূ বাক্‌র, উমার, উসমান ও আলী রদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন সকলেরই একাধিক স্ত্রী ছিল। আশারায়ে মুবাশশারা থেকে শুরু করে ছোট-বড় সকল সাহাবীদের ভেতর কাদের কাদের একাধিক স্ত্রী ছিল তা গণনা শুরু করলে শেষ করা মুশকিল। এমনকি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ২ জন, ৩ জন বা ৪ জন স্ত্রী করে রেখে রেখে দেখা গেছে অনেকের মোট স্ত্রীর সংখ্যা ১০-১২ জনেও পৌছেছে।

নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
النِّكَاحُ مِنْ سُنَّتِي
''বিবাহ আমার সুন্নাতের অন্তর্ভূক্ত।''
[ইবনু মাজাহঃ ১৮৪৬; আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন]

প্রখ্যাত সাহাবী সাঈদ ইবনু জুবাইর রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
''আমাকে আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ''তুমি বিয়ে করেছো?''
আমি বললাম, ''না।''
তিনি বললেন, ''তাহলে বিয়ে করো, কেননা এ উম্মাহর সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তির অধীনে অধিক স্ত্রী ছিল।''
[বুখারীঃ ৫০৬৯]

প্রকৃত আলিম/ত্বলিবুল ইল্‌ম তো তাঁর কাছে থাকা ইল্‌মের উপর আমল করবে। ইল্‌ম আর আমলের সমন্বয়েই আলিম।

ইমাম নাসাঈ রহিমাহুল্লাহ। বিখ্যাত ৬টি হাদীস গ্রন্থের (কুতুবে সিত্তাহ) একটির রচয়িতা। তিনি ৪ জন স্ত্রীর অধিকারী ছিলেন। শুধু তাই নয়, কয়েকজন ক্রীতদাসীও তাঁর ছিল। এতদসত্ত্বেও তিনি ইল্‌ম-আমলে বেশ যত্নবানও ছিলেন, তিনি সাওমে দাঊদ বা একদিন পরপর সিয়াম রাখার আমল করতেন। তিনি ৮৯ বছর হায়াৎ পেয়েছিলেন। দামেশকে তিনি একবার ইল্‌মী খেদমতে সফর করলে তাঁর উপর আক্রমণ করা হয়, যার ফলে তিনি মারা যান।

ইমাম শাইখ নাসীরুদ্দীন আলবানী রহিমাহুল্লাহকে কে না চিনে! তিনি ছিলেন বর্তমান যুগে হাদীস শাস্ত্রে এক উজ্জল নক্ষত্র। বলা হয়, তিনি ১ লক্ষ হাদীসের হাফিয ছিলেন। হাজার হাজার হাদীসের রাবীদের নাম ছিল যার ঠোটের কিনারায়। তিনি গ্রন্থ অধ্যয়ন ও রচনায় পূর্ববর্তী অনেক আলিমের থেকেও অগ্রণী ছিলেন। খন্ডের সংখ্যার বিচারে প্রায় শত শত খন্ড গ্রন্থ রচনা করেছেন। জীবনের সূচনায় তিনি ঘড়ি মেরামতও করতেন আবার ইল্‌ম অর্জনও করতেন। মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও ছিলেন তিনি। মুসলিম বিশ্বের নোবেল প্রাইজ বলে খ্যাত বাদশাহ ফয়সাল এওয়ার্ডও লাভ করেন। এ মহান শাইখেরও ৪ জন স্ত্রী ছিল। তিনি ৮৮ বছর হায়াৎ পেয়েছিলেন।

ইমাম শাইখ ইবনু বায রহিমাহুল্লাহকে কে না চিনে। যিনি কিশোর বয়সেই অন্ধ হয়েও ইল্‌মে দীনের যে খেদমত করেছেন সে জন্য তিনি যুগের বিষ্ময় হয়ে থাকবেন। ১৬ বছর বয়সে তাঁর চোখে একটি গুরুতর সংক্রমণ হয় এবং ২০ বছর বয়সে তিনি পুরো অন্ধ হয়ে যান। প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন তিনি। যা শুনতেন তাই মুখস্থ হয়ে যেত। তাঁর সামনে কিতাবাদি পড়ে শোনানো হতো। এমনকি কোথাও সফরে যাওয়ার সময়ও গাড়িতে তাঁর পাশে বসে বই পড়ে শুনাতো হতো। সলাতে যাতায়াতের সময়ও একইভাবে পড়া শুনানো হতো।

শাইখ আবুল হাসান আলী নাদভী রহিমাহুল্লাহ যার সম্পর্কে বলেন,
''হক কথা বলার ক্ষেত্রে তিনি বেশ নির্ভীক ও স্পষ্টভাষী, তবে প্রাজ্ঞ ও বিচক্ষণ বলে সর্বমহলে তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বহু বছর ধরে তিনি দৃষ্টিহীনতার শিকার, কিন্তু তাঁর অন্তর্দৃষ্টি অতিশয় প্রখর।''

তিনি সৌদির গ্রেন্ড মুফতী ছিলেন, এছাড়াও ছিলেন মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। দু' চোখে কিছু না দেখলেও ৩০ খন্ডের ফাতওয়ার কিতাব আমাদের জন্য রেখে গেছেন। তাঁর আরেকটি ফাতওয়ার কিতাব ১৪ খন্ডে। সব মিলিয়ে প্রায় ষাটোর্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি বাদশাহ ফয়সাল এওয়ার্ডও লাভ করেন। তাঁরও স্ত্রী ছিল ৩/৪ জন। তিনি ৯০ বছর হায়াৎ পেয়েছিলেন।

অনেকে মনে করেন বিয়ে করলে জ্ঞানার্জনের স্রোতে বাঁধ পরে। কথাটা একেবারে অসত্য নয়। তবে এটাও সত্য যে, বিবাহে মনে প্রফুল্লতা আসে, মাথা ঠান্ডা থাকে এবং পড়াশোনায় মন বসে। শাইখ সলিহ আল-মুনাজ্জিদ তাঁর কোনো এক বইয়ে বিষয়টি সুন্দর করে তুলে ধরেছেন। একইভাবে দামেশকের শরীয়া কোর্টে প্রায় বিশ হাজারের মতো বৈবাহিক জটিলতা নিরসনকারী শাইখ আলী তানতাবী রহিমাহুল্লাহও ছাত্র জীবনে বিয়েকে বেশ প্রাধান্য দিয়েছেন। বিশেষত ফিতনাহর যুগে ভালো থাকতে পারলেও কিছু সময় যে অপ্রস্তুত আজেবাজে ভাবনায় চলে যাবে না তাঁর কী গ্যারান্টি!?

বিবাহের উসীলায় মানুষ দীর্ঘ হায়াতও লাভ করে। যা উক্ত শাইখদের জীবনের সঙ্গে মেলালেও স্পষ্ট হয়, যথাক্রমে ৮৯, ৮৮ ও ৯০ বছর হায়াৎ তাঁরা পেয়েছিলেন। যা আধুনিক বিজ্ঞান দ্বারাও প্রমাণিত। বিপরীতে অবিবাহিত অনেক উলামাদের জীবনিতে দেখবেন যে, তাঁরা ৪০/৪৫/৬০ বছর হায়াৎ পেয়েছিলেন। হায়াতের মালিক আল্লাহ। কিন্তু স্ত্রীর সঙ্গে সময় দিলেই আপনার সময় কমে যাচ্ছে এমনটা ভাবা কি সর্বাংশে সঠিক!? আল্লাহ অন্যদিক দিয়ে আপনার সময় বাড়িয়েও দিতে পারেন, তিনি চাইলে সময়ে বারকাহও ঢেলে দিতে পারেন।

কিছু সময় যদি স্ত্রীর সঙ্গে এদিক-ওদিক দিয়ে চলেও যায় তবুও তো তাঁরা দীর্ঘ হায়াৎ লাভ করেছেন। স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিদিন কতো ঘন্টা ব্যয় হয়, ১ ঘন্টা, সর্বোচ্চ ২ ঘন্টা। অর্থাৎ, তাঁরা অন্য অনেক আলিমদের তুলনায় দেড়গুন বা দ্বিগুন জীবন লাভ করেছেন। অবিবাহিত অনেক আলিমগণ তাঁদের থেকে অর্ধেক হায়াৎ লাভ করেছেন। কিন্তু বিপরীতে বিবাহিত শাইখগণ স্ত্রীকে দিনের অর্ধেক সময়ও তো দেননি; বড়জোর আধ ঘন্টা/এক ঘন্টা, এর কমও ব্যয় হয়। খাওয়া-দাওয়া তো সবারই করতে হয়, ঘুমাতে হয় সবারই; এ সময়টুকু তো স্ত্রীকেই দেওয়া যায়, বলা যায় প্রায় সবাই দেয়। তাহলে আর বাড়তি কতক্ষণ দিতে হয়!? স্ত্রীও যদি ইল্‌ম অর্জনে প্রয়াসী হয় তাহলে দুজন মিলেই ভাগজোগ করে ইল্‌ম অর্জন করা যায়। একে অপরকে কিতাব এগিয়ে দেয়া যায়। জানা-অজানা বিষয়গুলো শেয়ার করা যায়। আরো তো কতো উপকার হয়। আর শেষ বয়সে হাতের লাঠির প্রয়োজন তো আছেই!

উপরে আমরা ইমাম নাসাঈ রহিমাহুল্লাহকে নিয়ে আলোচনা করেছি। তিনি তাঁর সুনানে নাসাঈতে এ বিষয়ে বাব (অধ্যায়) বেঁধেছেন যে, ''ঐ বিবাহকারী ব্যক্তিকে আল্লাহর সহায়তা করা সম্পর্কিত অধ্যায় যে পবিত্রতা কামনা করে''। এ অধ্যায়ে তিনি হাদীস এনেছেন,
আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
''তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহর উপর দায়িত্ব হয়ে যায়।''
এ হাদীসের দ্বিতীয় ব্যক্তি হচ্ছে, وَالنَّاكِحُ الَّذِي يُرِيدُ الْعَفَافَ ''ঐ বিবাহকারী যে (বিয়ের মাধ্যমে) পবিত্রতা কামনা করে''।
[নাসাঈঃ ৩২১৮; আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন]

শেষ কথা হলো, মাখলুকাতের সর্বশ্রেষ্ট মাখলুক, মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহিত ছিলেন। বিবাহ নববী সুন্নাহ। ফিকহী পরিভাষায়, কখনো কখনো ওয়াজীব বা ফরয। উম্মাহর সোনালী যুগের মানুষেরাও বিবাহিত ছিলেন। অনেক উলামায়ে কেরাম ইল্‌মের ভালোবাসায়, নানা কারণে বিবাহ করেননি বা করতে পারেননি সকলকেই মহান আল্লাহ তাঁদের নিয়্যাত অনুযায়ী উত্তম কাজের উত্তম জাযা দান করুন। আল্লাহ উম্মাহর সকল আলিম, ইমাম ও শাইখদের কবরকে নূরান্বিত করুন, গুনাহখাতা মাফ করুন এবং জান্নাতের উচ্চ মাক্বাম দান করুন।

[লেখাটির উদ্দেশ্য আমার নিজের ও অন্য বিবাহিত ভাইদের প্রশান্তি। তাঁরাও ভাবুক আমাদের দ্বারাও অনেক কিছু হবে ইনশাআল্লাহ। আমাদের আদর্শ আছে, সালাফ আছে। আর উলামাদের সবাই যে অবিবাহিত ছিলেন এমন নয়, বিষয়টা খোলাসা করা। যারা ইল্‌মের ভালোবাসায় চিরকুমার থাকতে চান, থাকতে পারেন। কারো উপরে বিবাহ ফরয না হয়ে গেলে, সাধারণ মুবাহ পর্যায়েও যদি থাকে তার জন্য বিবাহ না করে থাকা বৈধ রয়েছে।]

এই আইন পাশ হয়ে গেলে কী ঘটবে আমি প্রেডিক্ট করছি। পুরুষরাও একটা সারভাইভাল মোডে চলে যাবে।১.পুরুষরা অনেক গ্যাপে বিয়ে করবে। ২...
01/07/2026

এই আইন পাশ হয়ে গেলে কী ঘটবে আমি প্রেডিক্ট করছি। পুরুষরাও একটা সারভাইভাল মোডে চলে যাবে।

১.
পুরুষরা অনেক গ্যাপে বিয়ে করবে। ২৫ বছরের ছেলে ১৬-১৮ এর উপরে উঠবে না। ৩০ বছরের ছেলে ২২ এর উপরে উঠবে না। কারণ অতি-ম্যাচিউর মেয়ে বিয়ে করা তারা ঠিক মনে করবে না। ছোটো মেয়ে বিয়ে করবে, যাতে ইমোশনাল এটাচমেন্ট বেশি তৈরি হয়, স্বামীর প্রতি আকর্ষণ বেশি থাকে। ইগোর চেয়ে এটাচমেন্ট বেশি হয়।

২.
মেয়েদের মোহরানা কমে যাবে। বেশি মোহর দিয়ে ছেলেরা আর বিয়ে করবে না। নিজের জন্য এস্কেপ রুট রাখবে। যাতে মিলনে অনাগ্রহী বউ তালাক দিয়ে ইজ্জত বাঁচানো যায়।

৩.
ইগোধারী মেয়েদের স্বামীদের পরকীয়া বেড়ে যবে। 'শ্রমিক'দের 'শ্রমের' বিপুল সম্ভাবনা দেখা দেবে। ঘরে রান্না না হলে রেস্টুরেন্টে খাবে।

আমার খেয়ালে, দু-চারজন পুরুষ ভুক্তভোগী হলেও, ব্যাপকাকারে ভুক্তভোগী হবে মেয়েরা। স্ত্রী হিসেবে নিজের উপযোগিতা (utility) হারাবে। বিশেষত ইগোধারী, নারীবাদ-প্রভাবিত মেয়েরা। এই আইনের বিরুদ্ধে আওয়াম মেয়েদের কঠোর অবস্থানে যাওয়া উচিত। নিজেদের স্বার্থেই যাওয়া উচিত। ১৯৭১ সালে আমেরিকার মেয়েরা যেভাবে নেমেছিল Equal Rights Act- এর বিরুদ্ধে।

গুটিকয়েক লেজকাটা ব্যর্থ শেয়ালিনী মিলে আর সব শেয়ালের লেজ কাটাতে উঠেপড়ে লেগেছে। নিজেরাও পরিবারে ব্যর্থ, এখন সকল নারীর ঘর ভাঙতে আইন বানাচ্ছে, পলিসি করছে।

লেখা: শামসুল আরেফিন শক্তি

বিয়ে: আবেগ নয়, সিদ্ধান্ত নিন হিকমাহর সাথে▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️বিয়ে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মানুষের অ...
01/06/2026

বিয়ে: আবেগ নয়, সিদ্ধান্ত নিন হিকমাহর সাথে
▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️

বিয়ে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মানুষের অস্তিত্ব, মানসিক প্রশান্তি, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—সবকিছুর সাথে জড়িয়ে আছে এই সম্পর্ক।

আল্লাহ বলেন:
“আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই জোড়া সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও।”
- সূরা রোম, আয়ার-২১

বিয়ে এমন এক বন্ধন, যা হয় খুলে দিতে পারে অপার সম্ভাবনার দ্বার, নয়তো ভুল সিদ্ধান্তের কারণে রুদ্ধ করে দিতে পারে জীবনের অনেক উচ্চাভিলাষ।

তাই বিয়ের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত ভেবেচিন্তে, আবেগকে সংযত করে, বাস্তবতার বিবেচনায়। স্রেফ সাময়িক আবেগ, সামাজিক চাপ, বা বাহ্যিক ইমপ্রেশনের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিলে আখেরে দুজন মানুষের জীবনই কঠিন হয়ে যেতে পারে।

তবে “কম্পেটিবিলিটি” মানে এই না যে সবকিছু শতভাগ মিলতেই হবে। পৃথিবীতে কোনো দুই মানুষ পুরোপুরি এক না। গুরুত্বপূর্ণ হলো- কোন বিষয়ে ছাড় দেয়া যাবে না, কোন বিষয়ে সময়ের সাথে মানিয়ে নেয়া সম্ভব, আর কোন বিষয়গুলো একেবারেই অপশনাল- বুঝা।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ কম্পেটিবিলিটি নিয়ে আলাপ করা যাক-

🌹১। দ্বীনি কম্পেটিবিলিটি:
এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
“তোমাদের কাছে এমন ব্যক্তি এলে যার দ্বীন ও চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, তবে তার সাথে বিবাহ দাও।”
-তিরমিযি

যদি একজন দ্বীনকে জীবনের কেন্দ্র মনে করে, আর আরেকজন একে শুধুই কালচারাল পরিচয় হিসেবে দেখে—তাহলে দীর্ঘমেয়াদে দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। হয়তো-একজন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, পর্দা, হালাল-হারাম বিষয়ে খুব সচেতন; আরেকজন এগুলোকে “অতিরিক্ত কঠোরতা” মনে করে। একজন সন্তানকে ইসলামিক পরিবেশে বড় করতে চায়; আরেকজন একে লিবারেল জীবনে অভ্যস্ত ভাবে।

🌹২। মানসিক ও ব্যক্তিত্বগত কম্পেটিবিলিটি:

দুইজনের personality পুরোপুরি এক হওয়া জরুরি না, কিন্তু emotional rhythm কিছুটা compatible হওয়া জরুরি।

যেমন-
একজন প্রতিটা বিষয় deeply analyze করে; আরেকজন সবকিছু “এত চিন্তা করার কী আছে?” বলে dismiss করে।একজন conflict discuss করে solve করতে চায়; আরেকজন চুপ থেকে avoid করে। একজন খুব expressive; আরেকজন emotionally unavailable।

এগুলো শুরুতে ছোট মনে হলেও পরে বড় frustration তৈরি করতে পারে।

🌹৩। শারীরিক আকর্ষণ ও সৌন্দর্যবোধ

এটা taboo topic না। ইসলামও এটাকে completely ignore করেনি।

রাসূল ﷺ সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীকে দেখে নিতে উৎসাহ দিয়েছেন, যাতে পরবর্তীতে সম্পর্ক দৃঢ় হয়।

তবে “ফর্সা-কালো”, “উচ্চতা”, “ওজন”—এসবকে absolute standard বানানো ঠিক না। Attraction subjective। যা একজনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, আরেকজনের কাছে নাও হতে পারে।

মূল বিষয় হলো-পারস্পরিক আকর্ষণ আছে কি না, একে অপরকে গ্রহণ করতে পারছে কি না, পরে resentment তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না ইত্যাদি। আবেগ আর তাড়াহুড়োপ্রবণ না হয়ে বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরি।

🌹৪। সামাজিক ও অর্থনৈতিক কম্পেটিবিলিটি:

দুই পরিবার একেবারে একই লেভেলের হতে হবে—এমন না। তবে lifestyle expectation খুব বেশি ভিন্ন হলে সমস্যা হতে পারে।

উদাহরণ-একজন অত্যন্ত luxurious lifestyle-এ অভ্যস্ত; আরেকজন খুব simple। একজনের পরিবার অত্যন্ত socially active; আরেকজন privacy prefer করে। একজনের কাছে financial stability খুব গুরুত্বপূর্ণ; আরেকজন financially irresponsible।

এখানে maturity এবং expectation clarity খুব জরুরি।

🌹৫। শিক্ষাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক কম্পেটিবিলিটি:

একাডেমিক পড়াশোনা এবং intellectual compatibility গুরুত্বপূর্ণ। একজন বই পড়ে, আলোচনা পছন্দ করে, নতুন কিছু শিখতে ভালোবাসে; আরেকজন এসবকে বিরক্তিকর মনে করে।একজন academic/career oriented; আরেকজন একদমই growth-minded না।

সমস্যা হয় যখন একজন আরেকজনকে mentally inferior ভাবতে শুরু করে। একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডে ডিফারেন্স অনেক বেশি হলে এমন ভাবার চান্স থেকে যায়। এজন্য ব্যাকগ্রাউন্ড একেবারেই বিপরীতমুখী, কিংবা অনেক কমবেশি না হওয়াই ভালো।

🌹৬। স্বপ্ন, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কম্পেটিবিলিটি:

বিয়ের আগে গুরুত্বপূর্ণ future questions নিয়ে কথা হওয়া দরকার। যেমন: কোথায় settle হতে চান? সন্তান বিষয়ে কী ভাবনা? স্ত্রী career pursue করবে কি না? বিদেশে settle হওয়ার ইচ্ছা আছে? কী ধরনের জীবন চান, simple না ambitious?

দুইজনের লক্ষ্য পুরোপুরি এক না হলেও direction খুব বেশি opposite হলে টানাপোড়েন তৈরি হয়।

🌹৭। রাজনৈতিক ও আদর্শিক কম্পেটিবিলিটি:
একজন মাদখালী, আরেকজন মানহাজী। একজন বিএনপি, আরেকজন জামায়াত। কিংবা একজন রাজনীতিবিদ, আরেকজন রাজনীতি-বিরাগী। একজন সরকার দল, আরেকজন বিরোধীদল। অবশ্য আমাদের দেশের যে রাজনীতি- চলেও যেতে পারে।

🌹৮। বয়সের কম্পেটিবিলিটি:

৩৫+ বছরের পাত্র/পাত্রীর সাথে ১৮ বছরের পাত্রী/পাত্র চলবে না। সাধারণত পাত্র পাত্রী থেকে ৫-১০ বছর বড় হওয়া ভালো। সমবয়সী না হওয়াই ভালো। শুধু বয়স না, emotional maturity-ও বিবেচনা করা জরুরি। বয়স কম্পেটিবল হওয়ার পরও বয়স অনুযায়ী ম্যাচুরিটি অনেক কমবেশি হয়ে গেলে সমস্যায় পড়া লাগতে পারে।

🌹৯। লাইফস্টাইল কম্পেটিবিলিটি

প্রতিদিনের জীবনযাপন surprisingly বড় ফ্যাক্টর।

ফর এক্সাম্পল- একজন introvert, quiet life পছন্দ করে; আরেকজন সারাক্ষণ social gathering চায়। একজন disciplined routine maintain করে; আরেকজন chaotic lifestyle-এ অভ্যস্ত। একজন খুব health conscious; আরেকজন completely careless। এগুলো প্রব্লেমেটিক

ছোট ছোট অভ্যাসও দীর্ঘমেয়াদে relationship satisfaction-এ impact ফেলে।

👉সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় -কোনো মানুষ perfect না।
বিয়ের উদ্দেশ্য perfect মানুষ খোঁজা না; বরং এমন একজনকে খোঁজা, যার সাথে imperfect হয়েও শান্তিতে থাকা যায়। আর মানুষ এভার ইভলভিং বিয়িং, শরীর, মন- সব দিক থেকেই। আজ যা দেখে বিয়ে করবেন, কাল তা না-ও থাকতে পারে। কিংবা আজ যেখানে গ্যাপ মনে হচ্ছে, সময় সেই গ্যাপ পূরণও করে দিতে পারে।

বিয়ে শুধু “ভালো লাগা” না, আবার শুধু “লজিক”ও না।
এটা simultaneously হৃদয়েরও সিদ্ধান্ত, মস্তিষ্কেরও সিদ্ধান্ত, এবং দ্বীনেরও সিদ্ধান্ত।

লেখা- এডমিন
সম্পাদনা- চ্যাটজিপিটি।

23/03/2026

শাওয়াল মাস গোয়িং।
মিসকিনরা ক্রায়িং😬

মিসকিনদের প্রশ্ন: 👉এই দোয়া কি আমরা করতে পারি❓
09/03/2026

মিসকিনদের প্রশ্ন:
👉এই দোয়া কি আমরা করতে পারি❓

Address

Sylhet
3100

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when NikahLife posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share