17/08/2015
রাজন হত্যা মামলা: চার্জশিটের ওপর শুনানী ২৪
আগস্ট
সিলেটের সংবাদ :
সিলেট শহরতলীর কুমারগাঁওয়ে শিশু শেখ
সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার চার্জশিটের
ওপর শুনানীর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী
২৪ আগস্ট। সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
বেগম ফারহানা ইয়াসমিন সোমবার এ তারিখ ধার্য
করেন বলে কোর্টের জি আর (জেনারেল
রেজিস্ট্রার) ফরিদ উদ্দিন জানিয়েছেন।শিশু শেখ
সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে নির্যাতন-হত্যা
এবং ইন্টারনেটে তার ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায়
১৬ আগস্ট রোববার সন্ধ্যায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে
চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর গোয়েন্দা
পুলিশের (ডিবি) ইন্সপেক্টর সুরঞ্জিত তালুকদার
সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
চার্জশিট দাখিল করেন। রাজন হত্যার এক মাস ৮
দিনের মাথায় দাখিল করা হয় এ চার্জশিট। এতে
সৌদিআরবে আটক কামরুল ইসলামকে প্রধান
আসামী করা হয়েছে।চার পৃষ্ঠার এ চার্জশিটে মোট
৩৮ জনকে স্বাক্ষী করা হয়েছে।
চার্জশিটে অভিযুক্তরা হচ্ছে-জালালাবাদ থানার
কুমারগাঁও এলাকার শেখপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল
মালেকের পুত্র মুহিত আলম (৩২), তার ভাই
কামরুল ইসলাম (২৪), শামীম আলম (২০), পাভেল
ইসলাম (১৮), আলী হায়দার ওরফে আলী
(৩৪),চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়না (৪৫),
জালালাবাদ থানার টুকেরবাজার ইউনিয়নের পূর্ব
জাঙ্গাইল গ্রামের মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের
পুত্র ভিডিওচিত্র ধারণকারী নূর আহমদ ওরফে নুর
মিয়া (২০), দুলাল আহমদ (৩০), আয়াজ আলী
(৪৫), তাজ উদ্দিন বাদল (২৮), ফিরোজ মিয়া
(৫০), আছমত আলী (৪২) ও রুহুল আমিন (২৫)।
তাজ উদ্দিন বাদল ও রুহুল আমিন ছাড়া বাকি ১০
জন এ ঘটনায় আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির
১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী
দিয়েছে।
সিলেটে মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ
পুলিশ-কমিশনার (মিডিয়া) রহমত উল্যাহ জানান,
সৌদি পুলিশের হাতে আটক প্রধান আসামী
কামরুল ইসলামকে ওয়ারেন্ট অব অ্যারেস্ট
(গ্রেফতারী পরোয়ানা) দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে
ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
পাশাপাশি তার অপর দুই সহোদর শামীম ও
পাভেলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে
তাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া এবং মালামাল ক্রোকের
বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
কামরুলের ক্ষেত্রেও চাওয়া হয়েছে একই নির্দেশনা
(হুলিয়া ও মালামাল ক্রোক)।
গত ৮ জুলাই বুধবার সকালে ‘চোর’ সন্দেহে
নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় ১৩ বছরের শিশু
রাজনকে। নির্যাতনকারীরাই শিশুটিকে পেটানোর
ভিডিও ধারণ করে এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়।
২৮ মিনিটের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগে
মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি
হয়। কুমারগাঁও এলাকার একটি গ্যারেজে ওই
হত্যাকান্ডের পর ওই দিন বেলা পৌনে ২টার দিকে
একটি মাইক্রোবাসে তুলে রাজনের লাশ নিয়ে
যাওয়ার সময় মুহিত আলমকে ধরে পুলিশে দেয়
স্থানীয় লোকজন।
অভিযোগ রয়েছে-জালালাবাদ থানা পুলিশ এ সময়
মামলার অন্যতম আসামী সৌদি আরব প্রবাসী
কামরুল ইসলামকেও আটক করে। উৎকোচের
বিনিময়ে পুলিশ তাকে সৌদি পালিয়ে যেতে
সহযোগিতা করে বলে অভিযোগ-রাজনের বাবা
শেখ আজিজুর রহমানের। অবশ্য ১৩ জুলাই
সৌদি প্রবাসীরা কামরুল ইসলামকে আটক করতে
সক্ষম হন। সৌদির সাথে বাংলাদেশের বন্দী
বিনিময় চুক্তি না থাকায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা
যাচ্ছে না। তবে, সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশী
কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্টও জারি
করেছে।
এ ঘটনায় রাজনের পিতা আজিজুর রহমান থানায়
মামলা দিতে গেলে এস আই আমিনুল তাকে
‘গলাধাক্কা’ দিয়ে বের করে দেন বলেও অভিযোগ
তার। এমনকি এ ঘটনায় আজিজুর থানায় একটি
অভিযোগ দিলেও প্রথমে সেটি গ্রহণ করেনি
পুলিশ। পত্র-পত্রিকায় দায়িত্বে অবহেলা ও
গাফিলতির রিপোর্ট প্রকাশিত হলে পুলিশের
পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এম
রোকন উদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি
তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গত ২৩
জুলাই এ ঘটনায় ৮৪৮ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত
রিপোর্ট দাখিল করে। এ রিপোর্টের প্রেক্ষিতে
পুলিশ সদর দফতর জালালাবাদ থানার ওসি
(তদন্ত) আলমগীর হোসেন এবং সিলেট
মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসান
এসআই আমিনুল ইসলাম ও জাকির হোসেনকে
চাকুরী থেকে সাসপেন্ড করেন।
৮ জুলাই রাতে জালালাবাদ থানার এস আই
আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে এ ঘটনায় থানায় একটি
হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মুহিত আলম,
তার ভাই কামরুল ইসলাম (২৪), তাদের সহযোগী
আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও চৌকিদার
ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়নাকে (৪৫) আসামী করা
হয়। পরে রাজনের বাবা এ ঘটনায় থানায় আরেকটি
এজাহার দেন। অবশ্য, পুলিশ রাজনের বাবার
এজাহারটি অতিরিক্ত এজাহার হিসাবে গ্রহণ
করেছে। প্রথমে জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত)
আলমগীর হোসেন মামলাটি তদন্ত করেন। গত ১৬
জুলাই মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে
হস্তান্তর হয়। ডিবি’র ইন্সপেক্টর সুরঞ্জিত
তালুকদার মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান। দীর্ঘ
প্রায় এক মাস তদন্ত শেষে তিনি আদালতে
মামলার চার্জশিট দাখিল করেন।
তদন্তের সময় পুলিশ-শিশু রাজনকে নির্যাতনের
২৮ মিনিটের ভিডিও চিত্রটি উদ্ধার করতে সক্ষম
হয়। আসামী নূর মিয়ার কাছ থেকে ২৮ মিনিটের
আরেকটি ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করা হয়।নিহত
সামিউল আলম রাজনের বাড়ি সিলেট সদর
উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী
গ্রামে। রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান
পেশায় একজন মাক্রোবাস চালক। তার দুই ছেলের
মধ্যে রাজন বড়। অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করা
সামিউল আলম রাজন সবজি বিক্রি করত।