29/10/2025
একজন ইলিয়াস কাঞ্চন — যিনি নিজের বেদনাকে জাতির দায়িত্বে রূপ দিয়েছেন
স্ত্রীকে হারানোর পর ছোট্ট দুই সন্তান — জয় ও ইমাকে বুকের কাছে আগলে রেখেছিলেন তিনি।
একদিকে জীবনের শোক, অন্যদিকে দায়িত্বের পাহাড়।
কিন্তু ইলিয়াস কাঞ্চন শুধু মা–হারা দুটি সন্তানের অভিভাবক হয়ে থেমে থাকেননি —
তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন এই দেশের প্রতিটি সন্তানের জন্য,
যেন আর কোনো সন্তান তার সন্তানের মতো মায়ের কোলে চিরদিনের জন্য হারিয়ে না যায় সড়ক দুর্ঘটনায়।
সেই মর্মবেদনা থেকেই শুরু হয় এক ঐতিহাসিক আন্দোলন —
‘নিরাপদ সড়ক চাই’,
যা আজ দেশের মানুষকে সচেতনতার আলোয় জাগিয়েছে।
চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নায়ক থেকে তিনি হয়ে ওঠেন মানবতার সৈনিক।
সুপারহিট নায়ক হয়েও ত্যাগ করেছেন ক্যারিয়ারের জৌলুস,
কারণ তাঁর কাছে জনপ্রিয়তার চেয়ে মানুষের জীবন ছিল মূল্যবান।
বছরের পর বছর রাজপথে থেকেছেন —
অসংখ্য হুমকি, অপমান, কটূ কথা, ট্রল — কিছুই তাঁকে থামাতে পারেনি।
৩২ বছর ধরে তিনি একা এক “ওয়ান ম্যান আর্মি”,
যিনি দেশের প্রতিটি জীবনের নিরাপত্তার জন্য লড়ে যাচ্ছেন অক্লান্তভাবে।
ফোরলেন সড়ক, হাইওয়ে পুলিশ, একমুখী যান চলাচল,
ডিভাইডার, নিরাপদ সড়ক দিবস —
এসব অর্জনের পেছনে রয়েছে একজন ইলিয়াস কাঞ্চনের ঘাম, শ্রম আর অদম্য সাহস।
নিজেদের মাটিতে ইলিয়াস কাঞ্চনের অর্ধেক জীবনের সন্ধান পেলেও
বলিউড হলিউড একের পর এক দুর্দান্ত অটোবায়োগ্রাফিক মুভি
তৈরি করে হইচই ফেলে দিত।
তবুও তিনি কিছু চান না —
না পুরস্কার, না প্রশংসা, না সম্মান।
তিনি শুধু চান, এই দেশের প্রতিটি মানুষ যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরে যেতে পারে।
আজ তিনি অসুস্থ,
তবু তাঁর চিন্তা এখনো দেশের মানুষ,
দেশের সন্তানদের নিয়ে।
চলুন আমরা সবাই মিলে এই মহান মানুষটির জন্য দোয়া করি —
👉 আল্লাহ যেন তাঁকে দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু দান করেন,
যেন তিনি আবারও রাজপথে দাঁড়িয়ে বলতে পারেন—
“আমি আছি, নিরাপদ সড়কের জন্য।” 🌿