16/09/2023
ছোট গল্প _কেনো আজও মনে পড়ে
16-9-2023
●●●●●●●●●●
না বলা কথা ,না বলা স্মৃতি ধীরে ধীরে মনে পড়ে যায়।
এইতো সেইদিন কলেজ পড়ুয়া মেয়েটা ভার্সিটিতে পা রাখলো।
**মেহেরুন্নেসা **নামটা প্রথম বার বলতেই সবার দৃষ্টি কেড়ে নেয়।যদিও পড়াশোনা করতে খুব একটা মন চায় না।বাবা মার কড়া নির্দেশ !!ভালো ভাবে পড়াশোনা করে ভালো একটা জব করতে হবে।মেহেরুন্নেসা খুব শান্ত, আবার মাঝে মাঝে অনেকটাই চটপটে।নিতান্তই আগের
যুগের মতোই সাজ সজ্জা, তবে যাই বলা হুক এযুগের ছেলেরা এক দেখাতেই পছন্দ করবে।💐💐💐💐
মেহেরুন্নেসা খুব সুন্দর একটা স্মৃতি মনে পড়ে যায়।
বাড়ির দক্ষিণ ভিটাই ঘর, সেই ঘরের দক্ষিণ পাশে জানালার পাশে মাথা ঠেকিয়ে স্মৃতি গুলো মনে পড়ে গেলো।ভার্সিটিতে যাবার পথের পাশে একটি ছেলে তার বাবার সাথে সবজী বিক্রি করতো।মেহেরুন্নেসা প্রায় সময় সবজী কিনত।আমাকে দেখে অনেকটাই লজ্জা পেতো।আমাকে একদিন বলে আপা আপনার মুখের হাসিটা খুব সুন্দর।আমি কথাটা শুনে হেসে দিলাম।ছেলেটি মাথা নিচু করে ছিলো।তার মনে হয়তো আমার জন্য কিছু একটা অনুভূতি জন্ম হয়েছিলো।যা আমি বুঝার চেষ্টা করি নি।ছেলেটি পড়াশোনার পাশাপাশি বাবাকে সাহায্য করতো।আর কোনোদিন আমাকে কিছু বলে নি।💐💐💐
ছেলে মেয়েরা সব বাবা মার অনেক আদরের হয়।মেহেরুন্নেসা সবার থেকে ব্যতিক্রম নয়।বাবা কোথাও গেলে অপেক্ষায় থাকে হাতে করে কিছু একটা খাওয়ার জিনিস আনবে।কোনো দিন যদি ভুল করে কিছু না নিয়ে আসত, মুখ ভার করে বসে থাকতো।বাবা খুব চেষ্টা চালিয়ে যেত,আর বুঝানোর চেষ্টা করতো।অনেক সময় হাতে টাকা থাকে না।কিংবা কাজের চাপে আনতে ভুলে যাই।👌👌
বিবাহিত জীবনের আজ সাত বছর পূর্ণ হলো।দেখতে দেখতে কখন যে এতগুলো বছর চলে গেলো টেরই পেলাম না।চোখ বন্ধ করতেই আগের সব স্মৃতি মনে পড়ে যায়।এদিকে বাবার একটা সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা কেটে ফেলা হয়।মেহেরুন্নেসার বিয়ে দেয় সামান্য মাইনে পাই এমন এক ছেলের সাথে।পার্ট টাইম হিসেবে একটা লাইব্রেরি তে কাজ করে।সেখানে কিছু টাকা পাই।বাকি সময় বন্ধুদের সাথে সময় কাটায়।সংসার কিভাবে চলবে তার কোনো চিন্তা নেই।প্রথম দিকে সংসার টা ভালোই কাটছিলো।দিন যাচ্ছে সময়টা একই গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।মেহেরুন্নেসা পড়াশোনা চালিয়ে যায়।বাবা মা অনেকটাই সাহায্য করে।যদিও তাদের সংসার টা ভালো যাচ্ছে না।এদিকে মেহেরুন্নেসা বেবি কনসেপ্ট করে।তুবও স্বামীর কোনো চিন্তা হচ্ছে না।কিভাবে সংসার চলবে।সে আগের মতোই বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়।😢😢
একটা মেয়ের ব্যাক্তিগত ভাবে অনেক কিছুই লাগে।যা তার স্বামী কখনোই পূরণ করার চেষ্টা করে না,বা কখনো কি লাগবে কিনা জিজ্ঞাসা করে না।আর করবেই বা কিভাবে তার কাছে বাড়তি কোনো টাকায় তো নেই।মেহেরুন্নেসা মনে মনে খুব কষ্ট পেতো।কখনোই মুখ ফুটে স্বামীকে বলতো না।মেহেরুন্নেসা হতাশায় পড়ে যায়।এখন তার একটা ছেলে আছে।ছেলের মুখের দিকে তাকালে মুখটা অমুলিন হয়ে যায়।মার কাছে ছেলেটাকে রেখে বাসায় বাসায় টিউশনি করার।কি ভাবে সংসার টা টিকিয়ে রাখবে সব সময় সেই চিন্তা করে।প্রায় সময় আমাকে রিকশায় যেতে হয় টিউশনি করার জন্য।কিন্তু ছেলেটি আর সেই জায়গায় বসে না।হয়তো আমাকে আর মনে নেই।কিন্তু আমার কেনো এখনো ওই জায়গায় গেলে মনে পড়ে যায়।কেনো আজও মনে পড়ে?