07/06/2026
২২ বছরের মেয়ের সাথে ৪৫ বছরের ডক্টরেট বরের বিয়ে—আমাদের সমাজের চু*ল*কা*নিটা ঠিক কোন জায়গায়? 🤔
দীপ্তি চৌধুরীর কাছে ড. মুশতাক ছিলেন তাঁর 'চাইল্ডহুড ক্রাশ'। আর কেনই বা হবেন না? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর গোল্ড মেডেলিস্ট, কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে অক্সফোর্ড থেকে পিএইচডি করা একজন মানুষ! ক্যারিয়ার আর গবেষণার পেছনেই যাঁর জীবনের সিংহভাগ সময় কেটেছে। স্বভাবতই এই ধরণের অন্তর্মুখী ও পড়ুয়া মানুষরা চট করে সম্পর্কে জড়ান না।
দীপ্তির বহুদিনের মুগ্ধতা এবং আগ্রহের পর, অবশেষে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে অত্যন্ত ঘটা করে তাঁদের বিয়ে হয়েছে। হ্যাঁ, তাঁদের মধ্যে বয়সের একটা বড় ব্যবধান আছে—দীপ্তির বয়স ২২-২৩, আর ড. মুশতাকের ৪৪-৪৫। আর এই বয়স দেখেই একদল মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় জাজমেন্টের দোকান খুলে বসেছে!
অথচ বিয়ের ছবিগুলোর দিকে তাকালে বোঝা যায়, দীপ্তিকে মিডিয়ার পর্দায় কখনো এতটা প্রাণবন্ত আর সুখী দেখায়নি। ভালোবাসার এক অদ্ভুত মায়া লেগে আছে ছবিগুলোয়।
তাহসান আর রোজার বিয়েটাও তো দেখেছেন। সেখানে রোজা ছিলেন অত্যন্ত আধুনিক ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী, আর তাহসান ছিলেন নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া একজন মানুষ। স্বভাবতই সেই বন্ধন টেকেনি। কিন্তু মুশতাক-দীপ্তির রসায়নটা ভিন্ন। এখানে মেধা, শ্রদ্ধা আর নির্ভরতার একটা মেলবন্ধন স্পষ্ট।🖤
আসলে আমাদের সমাজের সমস্যা হলো, আমরা 'বিয়ে' শব্দটা শুনলেই শুধু শারীরিক সম্পর্কের মাপকাঠিতে সবকিছু মাপতে বসি। আমরা ভুলে যাই, বিয়ে মানে কেবল দুটো শরীরের মিলন নয়; বিয়ে হলো দুটো আত্মার প্রেম, মায়া, মমতা আর আজীবন পাশে থাকার এক পবিত্র প্রতিজ্ঞা।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা বৈবাহিক সম্পর্কের এই আত্মিক শান্তি ও মায়ার কথা কত সুন্দর করে বলেছেন:
"আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।" — [সূরা আর-রূম, আয়াত: ২১]
তাহলে যে সম্পর্কটা তৈরিই হয় শান্তি, দয়া আর ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে, সেটাকে নিয়ে এত কদর্য মন্তব্য করার মানসিকতা আমাদের আসে কোত্থেকে? হুম??? একটা পবিত্র বন্ধনকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে আসলে নিজের ভেতরের কুৎসিত রূপ আর পারিবারিক শিক্ষার অভাবটাকেই জাহির করা হয়, অন্য কিছু নয়। 🤷♀️