Mr.Siam Sadik

Mr.Siam Sadik ✍️ Content Marketer & YouTube SEO Expert 🎯
🚀 Professional Facebook & YouTube Channel Creator📈

09/03/2026
একদা এক রাত্রে ফেরাউন গভীর নিদ্রায় অচেতন ছিল। এই অবস্থায় সে একটি স্বপ্ন দেখল l স্বপ্নটি ছিল এই যে, সামদেশের দিক থেকে এ...
07/11/2025

একদা এক রাত্রে ফেরাউন গভীর নিদ্রায় অচেতন ছিল। এই অবস্থায় সে একটি স্বপ্ন দেখল l স্বপ্নটি ছিল এই যে, সামদেশের দিক থেকে একটি জ্বলন্ত অগ্নিশিখা এসে মিশরে প্রবেশ করল, এবং যত ঘড়বাড়ি ছিল সবগুলিকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাড়খার করে দিল। ফেরাউন এই ভীতিকর স্বপ্নটি দেখে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়ল। পরদিন সে এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানার জন্য দেশের বড় বড় নজ্জুম ও স্বপ্ন বিশারদদেরকে তলব করল। সে তাদের কাছে সেই ভীতিকর স্বপ্নটির কথা বর্ণনা করল এবং এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাইল। তখন সেই স্বপ্ন বিশারদগণ তাকে বলল, এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা হলো এই যে, অচিরেই বনী ইসরাইল বংশে এমন একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করবে, যে ফেরাউনের সাম্রাজ্য ধ্বংস করে ফেলবে। আর দেশের সমগ্র লোক তার অনুগত হয়ে পড়বে। যার ফলে রাজ্য, সম্পদ ও নেয়ামত রাজি সমস্তই তার হাতে চলে যাবে। এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা শুনে ফেরাউন ভাবতে লাগলো, এর চেয়ে বিপদজনক অবস্থা আর কি হতে পারে? তাই সে তৎক্ষণাৎ অত্যন্ত বিচলিত হয়ে স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারদেরকে জিজ্ঞাসা করল,ছেলেটি কতদিনের মধ্যে জন্মগ্রহণ করবে? তারা জবাব দিল, এর সঠিক ব্যাখ্যা বলা অসম্ভব।

তবে কিছুদিনের মধ্যেই সে তার মাতৃগর্ভে স্থান লাভ করবে। এই কথা শোনা মাত্র ফেরাউন তার সারা রাজ্যে দুটি ঘোষণা জারি করে দিল। প্রথম ঘোষণাটি ছিল, আজ থেকে কোন বনী ইসরাইল তাদের স্ত্রীদের সাথে মিলিত হতে পারবে না। এবং দ্বিতীয় ঘোষণাটি ছিল এই যে, এখন থেকে বনী ইসরাইলের ঘরে যত পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করবে সকলকে হত্যা করা হবে। তার এই ঘোষণা রাজ্যের সর্বত্র প্রচার করে দেওয়া হলো, ফেরাউনের সৈন্যরা এভাবে বনী ইসরাইলদের পুত্র সন্তানদেরকে বছরের পর বছর হত্যা করতে থাকলো। তাফসীরে লিখিত আছে, বনী ইসরাইলের লোকেরাই ছিল কীর্তি তথা ফেরাউনের বংশীয় লোকদের চাকর বাকর। যখন তারা বনী ইসরাইলের নবজাতক সন্তানদেরকে হত্যা করতে লাগলো এবং বনী ইসরাইলের বৃদ্ধ ও বয়স্ক লোকেরা ইন্তেকাল করতে লাগলো।

তখন তারা ফেরাউনের কাছে গিয়ে বলল, ঝাহপানা আমরা যদি বনী ইসরাইলের শিশু সন্তানদেরকে এভাবে হত্যা করি, আর অপরদিকে তাদের বৃদ্ধ মানুষেরাও যদি এভাবে মৃত্যুবরণ করতে থাকে, তাহলে একদিন আমাদের কাজবাজ করার জন্য, আমরা কোনদিন চাকর বাকর ও কর্মচারী খুঁজে পাবো না। তখন আমাদের নিজেদের কাজ আমাদের নিজেদেরকেই করতে হবে। তাদের এই কথা শুনে ফেরাউন বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারল। অতঃপর সে ঘোষণা দিল এখন থেকে এক বছর বনী ইসরাইলের পুত্র সন্তানদেরকে জীবিত রাখা হবে, এবং এক বছর তাদেরকে হত্যা করা হবে। ফেরাউনের সৈন্যরা যেই বছর বনী ইসরাইলের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা করতো না, সেই বছর আল্লাহ তালা হযরত মুসা আলাইহিস সালামের ভাই, হারুন আলাইহিস সালামকে এই দুনিয়ায় প্রেরণ করলেন। এবং যেই বছর ফেরাউনের সৈন্যরা বনী ইসরাইলের সন্তানদেরকে হত্যা করত,সেই বছরেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে এই পৃথিবীর জমিনে প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

হযরত মুসা আলাইহিস সালামের পিতার নাম ছিল ইমরান। ইমরান ফেরাউনের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ছিল। সে সারারাত ফেরাউনের স্বয়ন কক্ষের দরজায় জাগ্রত থেকে প্রহরীর দায়িত্ব পালন করত। তার স্ত্রী তার বাড়িতে একাকি বসবাস করত। এজন্য ফেরাউনের সৈন্যরা ইমরানের বাড়িতে পাহারা দিতে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করতো না। ইমরান ইতিপূর্বে বেশ কিছুদিন ধরেই বাড়িতে তার স্ত্রীর কাছে যায়নি। কাজেই ইমরানের স্ত্রীর মনে, স্বামী সহবাসের ইচ্ছা প্রবল হয়ে দেখা দিল। সে একাকিনী সজ্যায়
সায়িত ছিল। এমত অবস্থায় সে তার স্বামীর ভালোবাসা পাওয়ার জন্য ছটফট করতে লাগল। এদিকে কিছুদিন পর্যন্ত ইমরানও তার স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকায়, সেদিন তার মনে স্ত্রী সহবাসের ইচ্ছা প্রবলভাবে দেখা দিল। কিন্তু তার করার কিছুই ছিল না। তার বাড়ি অত্যন্ত নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও তার বাড়িতে যাওয়ার কোন উপায় ছিল না। ওদিকে তার স্ত্রী স্বামীর ছোয়া পাওয়ার জন্য, অধীর হয়ে গভীর রাত্রে শয্যা ত্যাগ করে উঠে পড়ল, এবং সন্তর্পণে ফেরাউনের বাড়িতে গিয়ে তার স্বয়ন কক্ষের কাছে গিয়ে উপস্থিত হল। ইমরান তার স্ত্রী কে দেখে অবাক হয়ে গের এবং সে তার কাছে গেল, কাছে গিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি কক্ষে তার স্ত্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হলো । আর এর মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে, পিতার ওরশ থেকে মায়ের গর্ভে প্রেরণ করালেন। এর কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর , ফেরাউনের জ্যোতিষীরা আবার ফেরাউনকে এসে বলল, জাহাপানা আপনার সেই মহাদুশমন শিশু তার মাতৃগর্ভে স্থান লাভ করেছে। একথা শুনে ফেরাউন একেবারে কেঁপে উঠলো। সে বলল, কি বলে এরা? এত কঠোর সতর্কতা সত্ত্বেও এটা কিভাবে সম্ভব হলো?সে ক্রোধে প্রজ্জ্বলিত হয়ে ক্রুদ্ধ কন্ঠে বলল, এটা প্রহরীদের উদাসীনতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এরপর থেকে বনী ইসরাইলি মহিলাদের পেট পরীক্ষা করার জন্য ধাত্রী নিযুক্ত করল। তারা বনী ইসরাইলদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বনী ইসরাইলের গর্ভবতী মহিলাদের পেট পরীক্ষা করতো। যদি বনী ইসরাইলের মাঝে কোন গর্ভবতী মহিলার সন্ধান পেত, তখনই তারা ফেরাউনের সৈন্যদের কাছে এসে সেই মহিলার সংবাদ জানিয়ে দিত। আর তখনই সৈন্যরা সেই মহিলার বাচ্চা নষ্ট করে দিত। কিন্তু আল্লাহর কুদরতে ইমরানের স্ত্রীর অন্তঃসত্তা হওয়ার সংবাদ কেউ জানতে পারলো না। কেননা অন্যান্য গর্ভবতী মহিলাদের মত তার কোন বাহ্যিক নিদর্শন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রকাশ করলেন না। এমনকি সন্তান প্রসবের পূর্বদিন পর্যন্ত, তার উদরে সন্তান অবস্থানের কোন চিহ্নই ফুটে ওঠেনি।

🥰

এইভাবে ১০ মাস অতিবাহিত হল, যেই রাত্রে আল্লাহ পাক হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে এই দুনিয়ায় প্রেরণের ইচ্ছা করলেন,সেই রাতে হযরত মুসা আলাইহিস সালামের জননীর প্রসব বেদনা উঠলো। তিনি তার মেয়ে মরিয়ামকে ধাত্রী আনার জন্য তাদের পাশের বাড়িতে প্রেরণ করলেন। তাদের পাশের বাড়িতেই ফেরাউনের নিযুক্তকৃত একজন ধাত্রী থাকতো। যিনি বনী ইসরাইলি মহিলাদের পেট পরীক্ষা করে, ফেরাউনের সৈন্যদেরকে তাদের সংবাদ জানিয়ে দিত। কিন্তু সে ধাত্রীর সাথে হযরত মুসা আলাইহিস সালামের মায়ের বন্ধুত্ব ছিল। সেই ধাত্রী নিজেও জানত না যে, হযরত মুসা আলাইহিস সালামের মা গর্ভবতী ছিলেন। যখন সে তাদের গৃহে আসলো এবং জানতে পারলো যে, ইমরানের স্ত্রী সন্তান প্রসব করবে। তখন সে মনে মনে নিয়ত করল, এই সংবাদটি সে ফেরাউনের সৈন্যদেরকে জানিয়ে দিবে। কিন্তু যখন হযরত মুসা আলাইহিস সালামের জননী মুসা আলাইহিস সালামকে প্রসব করলেন, সেই ধাত্রী মুসা আলাইহিস সালামের চেহারার দিকে তাকিয়ে, মুসা আলাইহিস সালামের প্রতি তার এরূপ একটি মহব্বত আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সৃষ্টি করে দিলেন। যার দরুণ সেই মহিলাটি দুনিয়ার সমস্ত সম্পদের বিনিময়েও মূসা আলাইহিস সালামের খবর কাউকে জানানোর জন্য আর রাজি হলো না।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত মুসা আলাইহিস সালামের চোখের মাঝে এমন একটি জ্যোতি দান করেছিলেন, সেই জ্যোতি যে প্রত্যক্ষ করত সেই হযরত মুসা আলাইহিস সালামের মহব্বতে পড়ে যেত। সেই ধাত্রী যখন মূসা আলাইহিস সালামদের গৃহ থেকে চলে যেতে লাগলেন, তখন সে মূসা আলাইহিস সালামের জননীকে বলল, হে মুসার জননী, আমার ইচ্ছা ছিল আমি তোমার পুত্র সন্তানের কথা ফেরাউনের সৈন্যদেরকে গিয়ে জানিয়ে দিব।
কিন্তু তোমার পুত্রটিকে দেখার পরে,আমার মনে তোমার সন্তানের প্রতি এমন একটি মহব্বতের সৃষ্টি হয়েছে, যার দরুণ এখন যদি দুনিয়ার সমস্ত সম্পদও আমাকে দেওয়া হয় তারপরও আমি শিশুটির সংবাদ কারো কাছে বলবো না।

এই বলে ধাত্রী হযরত মুসা আলাইহিস সালামদের গৃহ থেকে বের হয়ে গেল। ওদিকে ফেরাউনের সৈন্যরা পাহারায় নিযুক্ত ছিল। তারা যখন উক্ত ধাত্রীকে মুসা আলাইহিস সালামদের গৃহ থেকে বের হতে দেখল, তখন তাদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হলো যে, এই ঘরে হয়তো কোন নবজাতকের জন্ম হয়েছে। তখন তারা গৃহের দরজায় গিয়ে করা নাড়লো। ফেরাউনের সৈন্যদের উপস্থিতির টের পেয়ে,হযরত মূসা
আলাইহিস সালামের জননী ভৃত সন্ত্রস্ত হরিণীর মত লাভ দিয়ে উঠলেন। তিনি এখন শিশুটিকে নিয়ে কি করবেন? তার জ্ঞান বুদ্ধির সম্পূর্ণরূপে লোভ পেয়ে গেল। ঘরের এক পাশেই ছিল একটি চুলা। তিনি হতবুদ্ধি হয়ে হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে সেই চুলায় রেখে, চুলার উপর একটি পানি ভর্তি পাতিল চাপিয়ে দিলেন। ইতিমধ্যে সৈন্যরা গৃহে ঢুকে পড়ল। তারা গৃহের ভিতর ঢুকে সর্বস্থলে তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখল,কিন্তু তারা কোথাও কোন কিছুই খুঁজে পেল না। অনেকক্ষণ এইভাবে খুজাখুজি করার পরে যখন তারা কোন কিছুই খুঁজে পেল না,

এরপর তিনি উনুনের কাছে গিয়ে তার উপর থেকে পাতিলটি অপসারণ করলেন। কিন্তু পাতিল নামিয়ে চুলার দিকে তাকিয়ে তিনি একটি অবিশ্বাস্য দৃশ্য অবলোকন করে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন। তিনি দেখলেন তার হৃদয়ের ধন নয়নের পুতুলি শিশু হযরত মূসা আলাইহিস সালাম দুই হাতে দুইটি শেপ ফল নিয়ে পা নাড়িয়ে নাড়িয়ে খেলা করতেছে। তিনি তখন তাকে দুই হাতে উঠিয়ে কোলে জড়িয়ে ধরে তার দুই গালে শত সহস্র চুম্বন করতে লাগলেন। আর দয়াময় আল্লাহর দরবারে লাখ লাখ কৃতজ্ঞতা

জ্ঞাপন করলেন। তিনি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে বললেন, হে আমার মাবুদ, তোমার মহিমা ও কুদরত অভাবনীয়। তোমার কৃপা ও করুণা অফুরন্ত। আজ যেভাবে তুমি আমার এই কলিজার টুকরাকে বাঁচিয়ে রাখলে, এইভাবে তুমি সদা সর্বদা তাকে সহস্র বিপদ ও শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করিও। অতঃপর তিনি শিশুটিকে কোলে নিয়ে ভাবতে লাগলেন, তার এই সন্তানটির জন্মগ্রহণের কথা এখনো কেউ জানতে পারেনি। কিন্তু এই সংবাদ আর কতদিন গোপন থাকবে? আজ হোক বা কাল হোক অবশ্যই এই সংবাদ একদিন না একদিন মানুষের কাছে প্রকাশিত হয়েই পড়বে। আর তখন আমি তাকে কিভাবে বাঁচিয়ে রাখবো? এই চিন্তায় তিনি অস্থির হয়ে পড়লেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত মুসা আলাইহিস সালামের জননীর অন্তর থেকে এই চিন্তা দূর করার জন্য একজন ফেরেশতার রূপী মানুষ তার কাছে প্রেরণ করে দিলেন। সেই মানুষরূপী ফেরেশতা এসে হযরত মুসা আলাইহিস সালামের জননীকে বলল, হে মুসার জননী, তুমি তোমার সন্তানকে নিয়ে কোনরূপ চিন্তা ও পেরেশানি করিও না। তুমি নিশ্চিন্তে তোমার সন্তানকে দুগ্ধ পান করাতে থাকো। আর যদি তুমি একান্তই অস্থির ও চিন্তিত হয়ে পড়ো, তবে শুনে রাখো একটি কাঠের সিন্দুক বানিয়ে তোমার পুত্রকে তার ভিতরে রেখে নীল নদের বক্ষে ভাসিয়ে দিও, আর সে ব্যাপারে তুমি কোনরূপ ভীত ও চিন্তিত হইবে না, কেননা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অবশ্যই তোমার সন্তানকে আবার তোমার কাছেই ফিরিয়ে দিবেন। আরো একটি কথা জেনে রাখো আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তোমার পুত্রকে একদিন, রাসূল হিসেবে পরিগণিত করবেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের তরফ থেকে এ সংবাদ পেয়ে তিনি অত্যন্ত নিশ্চিন্ত ও খুশি হলেন। মুসা আলাইহিস সালামের জন্মের পর তার জননী তাকে কতদিন তার কাছে রেখে দুগ্ধ পান করিয়েছিলেন,এ ব্যাপারে মুফাসসিরীন কেরামদের মতবিরোধ পরিলক্ষিত হয়। তাফসীরে কুরতুবীতে উল্লেখ রয়েছে, কেউ কেউ বলেন তার জননী তাকে এক মাস দুগ্ধ পান করিয়েছিলেন,

🥰
অতঃপর যখন মূসা আলাইহিস সালামের জননী তার সন্তানের জন্য ফেরাউনের সৈন্যদের ভয় করতে লাগলেন, তখন তিনি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশ মোতাবেক তাকে নীল নদে ভাসিয়ে দেওয়ার জন্য, একটি সিন্দুকের অন্বেষণে বের হয়ে পড়লেন। তাফসীরে কুর্তুবিতে লিখিত আছে, তিনি যেই লোকটির কাছ থেকে সিন্দুক নেওয়ার জন্য গিয়েছিলেন তার নাম ছিল হিস্কিল ইবনে সাবুরা। আর এই লোকটি ফেরাউনের আত্মীয় ছিল। মূসা আলাইহিস সালামের জননী যখন তার কাছ থেকে সিন্দুক নির্মাণ করতে চাইলেন, তখন সেই লোকটি বলল, তুমি এই সিন্দুক দিয়ে কি করবে? মুসা আলাইহিস সালামের মা তাকে বললেন, আমি আমার সন্তানকে এই সিন্দুকের মধ্যে রেখে নীল নদে ভাসিয়ে দিব। যেন ফেরাউনের সৈন্যরা আমার সন্তানকে হত্যা করতে না পারে। বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখিত আছে, মুসা আলাইহিস সালামের জননী মিথ্যা বলতে অপছন্দ করতেন, তাই তিনি সেই লোকটিকে মিথ্যা কথা না বলে, সত্য কথাই বলে দিয়েছিলেন। যখন লোকটি এই সংবাদ জানতে পারল তখন সে কালবিলম্ব না করে এই সংবাদটি ফেরাউনের সৈন্যদেরকে জানিয়ে দেওয়ার জন্য উদ্যত হলো। এই অভিপ্রায় নিয়ে এসে ফেরাউনের
সৈন্যদের কাছে উপস্থিত হলো এবং তাদেরকে এই সংবাদটি জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অপূর্ব মহিমায় সেই লোকটির বাকশক্তি লোভ পেয়ে গেল। সে সৈন্যদের সামনে গিয়ে কোন কথাই বলতে পারলো না। যখন তার বাকশক্তি লোভ পেয়ে গেল তখন সে সৈন্যদেরকে হাতের ইশারায় নবজাতক শিশুটির কথা বুঝাতে চাইল। কিন্তু সৈন্যরা তার কোন কথা বুঝতে না পেরে, তাকে তাদের কাছ থেকে বের করে দিল। সৈন্যদের কাছ থেকে বেরিয়ে এসেই লোকটি আবার বাকশক্তি ফিরে পেল। তখন সে আবার তাদের কাছে গিয়ে নবজাতক শিশুটির কথা জানানোর চেষ্টা করল। এবার আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার দৃষ্টিশক্তি এবং বাকশক্তি উভয়টিকেই বিলুপ্ত করে দিলেন। হাতের ইশারায় সে সৈন্যদেরকে আবার নবজাতক শিশুটির কথা বুঝাতে চাইল। সৈন্যরা তার কোন কথা বুঝতে না পেরে তাকে সেখান থেকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিল।

এরপরে লোকটি খোলা মাঠে এসে বুঝতে পারল, যেই শিশুটির কথা সে সৈন্যদেরকে জানিয়ে দেওয়ার চিন্তা করছে, সে হয়তো অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হবেন। তাই হয়তো সৃষ্টিকর্তা তার দৃষ্টিশক্তি এবং বাকশক্তি বিলুপ্ত করে দিয়েছেন। অতঃপর সে সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে লাগল এবং বলতে লাগল হে আমার সৃষ্টকর্তা যদি তুমি আমার দৃষ্টিশক্তি এবং বাকশক্তি ফিরিয়ে দাও তাহলে এই সন্তানের কথা আমি আর পৃথিবীর কাউকে জানাবো না, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার এই রূপ তওবা করার করণে তার দৃষ্টিশক্তি এবং বাকশক্তি ফিরিয়ে দিলেন। এরপর সে মুসা নবির মাকে কাঠের একটি বাক্স বানিয়ে দিলেন।

এদিকে হযরত মূসা আলাইহিস সালামের মাতা সিন্দুকটিতে মুসা নবি কে তুলে নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে তার কন্যা মরিয়মকে বললেন,সিন্দুকটি নদীর
স্রোতে যেদিকে ভেসে যাবে, তুমি নদীর তীর দিয়ে লক্ষ্য রাখতে রাখতে সেই দিকে ধীরে ধীরে চলতে থাকবে। কিন্তু তুমি যে সিন্দুকটির দিকে লক্ষ্য রাখছো তা যেন কোন প্রকারেই কেউ বুঝতে না পারে। তারপর সিন্দুকটি কোথায় ভেসে যায় এবং কত দূরে যায় সেই সংবাদ আমাকে এসে অবহিত করবে।

সিন্দুকটি নদীর স্রোতে ভেসে চলল, আর মরিয়ম তার মাতার উপদেশ মতো সিন্দুকটির প্রতি লক্ষ্য রেখে নদীর কিনারে কিনারে তার অনুসরণ করতে লাগল। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে ফেরাউনের গৃহে নিয়ে লালন-পালন করার এক সুমহান পরিকল্পনা
করেছিলেন।

এই কারণে তিনি হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে ফেরাউনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত পূর্বে থেকেই করে রেখেছিলেন। সেই সিন্দুকটি নীলনদে ভাসতে ভাসতে ফেরাউনের প্রাসাদে এসে উপস্থিত হল। এ সময় ভোর বেলা নদীর মুক্ত বায়ু সেবনের উদ্দেশে ফেরাউন ও তার স্ত্রী আছিয়া প্রমোদ উদ্যানের মাঝে বসা ছিল। তারা দেখল, নদী থেকে একটি বাক্স ভেসে এসে তাদের উদ্যানের খালের মধ্যে প্রবেশ করেছে। তখন কৌতূহল বসে আছিয়া এক দাসীকে ওটা তুলে আনার জন্য পাঠাল। দাসী

বাক্সটি লেক থেকে উঠানোর জন্য অনেক চেষ্টা করল কিন্তু সে কোন রকম উহা উত্তোলন করতে পারল না। অবশেষে আছিয়ার নিকট এসে বলল, ওটা একটা কাঠের বাক্স, ওটার মধ্যে বোধ হয় কিছু আছে। আমি খুব চেষ্টা করেও উপরে উঠাতে পারলাম না। তখন আছিয়া বাক্সের কাছে গিয়ে, নিজ হাতে বাক্সটি উপরে উঠিয়ে উপরের তক্তা খুলে ফেললেন, তখন দেখল একটি অপরূপ সুন্দর বালক কাপড় দ্বারা আবৃত অবস্থায় ঘুমিয়ে আছে। আছিয়া চন্দ্রের ন্যায় উজ্জ্বল চেহারার ছেলেটিকে দেখে মোহিত হলেন এবং আদর করে কোলে তুলে নিয়ে ফেরাউনের নিকট ছুটে এলেন। অতপর তিনি ফিরাউনকে বললেন, দেখুন মহারাজ! কত সুন্দর এ ছেলেটি। কে যেন ওকে বাক্স বন্দী করে পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছে। এমন উজ্জ্বল চেহারার ছেলে আমি জীবনে দেখিনি। আমাদের যখন কোন সন্তান নেই, তখন এ ছেলেটিকে আমরা পালক পুত্র হিসেবে লালন পালন করব।

ফেরাউন বলল, দেখ! এটা সেই ছেলে নাকি কে জানে, যে আমার রাজ্য বিধ্বস্ত করবে এবং আমাকে খোদায়ী দাবি থেকে বিচ্যুত করবে। অতএব এ ছেলেকে জীবিত রাখার অর্থ হবে শত্রু প্রতিপালন করে বড় করা। তুমি এ ভ্রান্ত লালসা থেকে বিরত হও এবং ছেলেটিকে জল্লাদের হাতে তুলে দাও। আছিয়া ফেরাউনের কথায় রাজী না হয়ে বেকে বসল। সে বলল, এ ছেলে আপনার ক্ষতি করবে তা আমার মনে হয় না। চেহারা দেখলেই তো অনেকটা অনুমান করা যায়। অতএব আপনি অনুমান করে এ সমস্ত বাজে কথা বলবেন না। আমি সন্তানহারা অতৃপ্ত জীবনের অধিকারীনী হতভাগা এক মহিলা। আমার বুকে কোন দিন সন্তান আসবে কিনা জানি না। অতএব এ ছেলেটিকে আমি মেরে ফেলতে দেব না। ওকে আমি বুকে জড়িয়ে মাতৃত্বের তৃপ্তি লাভ করব। আমি আপনার কোন বাধা মানব না। যদি কোন দিন এ ছেলে আপনার বিরোধিতা করে, সে দিন ওকে ঘরে আটক করে জল্লাদ দিয়ে আমি দু'খন্ড করে দেব। আপনার সে দিন আর কিছু বলতে হবে না। এ দায়িত্বটা আমার উপর ছেড়ে দিন। বিশেষ করে আমি জীবনে আপনার নিকট কিছুর আবদার করি নি। কোন কিছুর লোভে আকৃষ্ট হই নি। এমতাবস্থা আপনি আমার একটি মাত্র দাবি মেনে নিবেন না? তাহলে আপনি আমাকে ভালবাসেন তার প্রমাণ টা কি? ভালবাসার নামে কি শুধু প্রহসন করেছেন? মানুষ ভালবাসার ক্ষেত্রে নিজ জীবন বিসর্জন দিতে দ্বিধাবোধ করে না। আর আপনি আমার সামান্য একটা আবদার রক্ষা করবেন না?

🥰🥰

হযরত আসিয়ার এই ধরনের কাকুতি মিনুতিতে, শেষ পর্যন্ত ফেরাউন শিশুটিকে হত্যা করা থেকে বিরত থাকল। কিন্তু সে হযরত আসিয়াকে বলল, আসিয়া এই শিশুটি তোমার চক্ষুর শীতলতা হতে পারে কিন্তু সে আমার চক্ষুর শীতলতা নয়। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ফেরাউন যদি তখন বলতো এই শিশুটি আমারও চক্ষুর শীতলতা, তাহলে সে একদিন মূসা আলাইহিস সালামের প্রতি ঈমান আনতো। ওদিকে হযরত মুসা আলাইহিস সালামের বোন মারিয়াম নদীর কিনারে দাঁড়িয়ে ফেরাউন ও হযরত আসিয়া কর্তৃক সিন্দুকটি খোলার দৃশ্য দেখে তাড়াতাড়ি বাড়ি গিয়ে তার মাকে এই ঘটনা অবহিত করল। এই কথা শুনে মূসা আলাইহিস সালামের জননীর মনে কম্পন শুরু হয়ে গেল। তিনি প্রতি মুহূর্তে এই ভাবনায় অস্থির রইলেন। না জানি এখনই বুঝি তার প্রাণের পুত্রকে পাপিষ্ঠ ফেরাউন হত্যা করে ফেলে। অজানা এক বিপদ সংকায় তিনি একেবারে অধীর হয়ে পড়লেন। তিনি তখন তার মেয়েকে বললেন, তুমি শীঘ্রই গিয়ে দেখো সেখানে কি হচ্ছে, মাতার আদেশে মরিয়ম দ্রুত শাহী মহলে চলে আসলো শাহী মহলে তাদের পিতা কাজ করতো, কাজেই সেখানে পূর্ব থেকেই তাদের যাতায়াত ছিল। অতএব শাহী মহলে যেতে তাকে মোটেও বেগ পেতে হলো না। সে শাহী মহলে ঢুকে শিশুর ব্যাপারটি অতি সন্তর্পণে লক্ষ্য করতে লাগল, ফেরাউন শিশুটিকে দুধ পান করাবার জন্য ধাত্রীর অনুসন্ধানে লোক পাঠালো, লোকজন অনেকগুলি ধাত্রীকেই এনে হাজির করল। কিন্তু ধাত্রী আসলে হবে কি? আল্লাহ তাআালার ইচ্ছা ছিল অন্য কিছু। শিশু হযরত মুসা আলাইহিস সালাম কোন ধাত্রীর দুধই পান করছিল না। একে একে বহু ধাত্রী হযরত মুসাকে কোলে তুলে নিয়ে স্তন বোটা পান করাতে চেষ্টা করল। কিন্তু তিনি কারো দুধ মুখে তুললেন না। তখন ফেরাউন ও হযরত আসিয়া এক মহাসমস্যার সম্মুখীন হল। মূসা আলাইহিস সালামের বোনও দূরে দাঁড়িয়ে এই ঘটনা দেখছিল। সে তখন কাছে এসে বলল, আমার সন্ধানে একজন উত্তম ধাত্রী আছে। সে আপনাদের অনেক কল্যাণকামী হবে। আমার মনে হয় এই
শিশুটি তার দুগ্ধ পান করবে। আপনারা বললে আমি সেই ধাত্রীকে নিয়ে আসতে পারি। ফেরাউন তখন তাকে সেই ধাত্রী আনার জন্য আদেশ করল। তখন মরিয়ম তাড়াতাড়ি বাড়ি গিয়ে তার মাতার নিকট সব কথা খুলে বলল। অতঃপর মূসা আলাইহিস সালামের মাতা রাজমহলে উপস্থিত হল। রাজমহলে উপস্থিত হয়ে মুসা আলাইহিস সালামের মাতা তাকে কোলে তুলে নিয়ে পরম যত্ন ও স্নেহের সাথে শিয় স্তনবুটা ধরে মুসা আলাইহিস সালামের মুখে পুড়ে দিলেন। শিশু মুসার তৃপ্তির সাথে মায়ের দুগ্ধ পান করতে লাগলেন। এই দৃশ্য দেখে ফেরাউন ও হযরত আসিয়া এক বিরাট সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ করল। শিশু মুসা যে অন্য কোন ধাত্রীর দুধ পান না করে একমাত্র তার মায়ের দুধ পান করছেন, এতে প্রধানমন্ত্রী হামানের সন্দেহ হয়ে গেল। সে তখন মুসা আলাইহিস সালামের জননীকে জিজ্ঞাসা করল ওহে ধাত্রী সত্য কথা বলতো, এই শিশু কি তোমারই গর্ভজাত সন্তান কিনা? আমার তো মনে হয় এই শিশুটি তোমারই, নতুবা এত ধাত্রী এসে দুধ পান করানোর চেষ্টা করল কিন্তু কারো দুধ পান না করে, সে কেন তোমার দুধ পান করা শুরু করল? আর তোমার স্তনে দুধই বা আসলো কোথা থেকে? তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালামের জননী উত্তর দিল জনাব আমার একটি সন্তান রয়েছে আর সেই সন্তানটি ওই বছর জন্মগ্রহণ করেছে। যেই বছর আপনাদের সৈন্যরা বনী ইসরাইল সন্তানদেরকে হত্যা করেনি। আর এই শিশুটি আমার দুগ্ধ হয়তো এ কারণেই পান করছে, তার কারণ আমি সদা সর্বদা পাক পবিত্র থাকি, অপবিত্র অবস্থায় কোন সময় থাকি না। মূসা আলাইহিস সালামের মায়ের এই কথা শুনে হামান নিশ্চুপ হয়ে গেল।

অতঃপর ফেরাউন মুসা আলাইহিস সালামকে লালন পালন করার দায়িত্ব মুসা আলাইহিস সালামের মায়ের কাছেই দিল। তাফসীরে কুরতুবীতে লেখা আছে মুসা আলাইহিস সালামকে দুগ্ধপানের বিনিময়ে ফেরাউন প্রতিদিন তার মাকে, একটি করে স্বর্ণ মুদ্রা দিত।
হযরত মুছা (আঃ)- কে আল্লাহ তা'য়ালা নিজ মাতার দুগ্ধ পান করার সুযোগ করে দিলেন। হযরত মুছা (আঃ) অত্যন্ত আদর যত্নে প্রতিপালিত হতে লাগলেন। ধীরে ধীরে তিনি বড় হতে থাকেন। দুই বছর বয়সের সময় একদা ফেরাউন হযরত মুছা (আঃ)-কে কোলে তুলে আদর করছিল। বেশ কিছু সময় আদর করার পরে এক পর্যায়ে ফেরাউন মুছা (আঃ)-কে চুমো দিবার উদ্দেশ্যে যখন তার মুখ হযরত মুছা (আঃ)-এর মুখের কাছে নিল, তখন মুছা (আঃ) বাম হাতে তার দাড়ি ধরে ডান হাত দিয়ে তার গালে এক চড় লাগিয়ে দিলেন। ফেরাউন এ চড় খেয়ে আছিয়াকে ডেকে বলল, আমি কি তোমাকে পূর্ব হতে বলিনি যে, এ ছেলেটি কালক্রমে আমার রাজ্য ধ্বংসকারীদের অন্যতম ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। অতএব অচিরে ওকে মেরে ফেলা উচিত। আজকে সে আমার সাথে যে আচরণ করেছে তাতে আর আমার বুঝতে বাকি নেই। অতএব এ ছেলেকে প্রতিপালন করা যাবে না। ওকে আজকেই জল্লাদের নিকট হস্তান্তর কর। আছিয়া

ফেরাউনের কঠোর মন্তব্য শুনে কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। পরে বললেন, হে মহারাজ! আপনি এত বড় গুণী জ্ঞানী মানুষ, আপনার সমতুল্য মানুষ পৃথিবীতে বিরল। আপনি দেশের কয়েক কোটি মানুষের প্রভু! আপনার পক্ষে শিশু, বৃদ্ধ ও যুবকদের চরিত্র, স্বভাব, প্রকৃতি সম্বন্ধে অজ্ঞ থাকা সমীচীন নয়। আপনার মাঝে এক ভ্রান্তি এসে আপনাকে আড়ষ্ট করে ফেলেছে, এবং আপনার মধ্যের প্রতিভাকে বিমর্ষ করে দিয়েছে। যার জন্য এক অবুঝ শিশুর আচরণকে আপনি প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের কাজের সাথে মিলিয়ে বিচার করছেন। এটা আপনার এক মহা ভ্রান্তির নমুনা নয় কি? ফেরাউন আছিয়ার কথা শুনে খুব বিরক্ত হয়ে বলল, তুমি এ ছেলে সম্বন্ধে কি বলতে চাও? আছিয়া বলল, আমি বলতে চাই যে, এ শিশুর জ্ঞান বুদ্ধি হয়নি, হিত অহিত বুঝে না, তার আচরণকে উদ্দেশ্য করে তাকে শাস্তি প্রদান করা কোন ন্যায়পরায়ণ বাদশাহর কাজ নয়। ফেরাউন বলল, এ ছেলে যে অবুঝ তার প্রমাণ দাও। তখন আছিয়া একজন মন্ত্রীকে বললেন, আপনি এক পেয়ালায় আগুন আর এক পেয়ালায় স্বর্ণ মুদ্রা ভর্তি করে ছেলেটির নিকট নিয়ে আসুন। যদি সে বুঝমান হয় তবে সে স্বর্ণের পেয়ালা ধরবে, আর যদি অবুঝ হয় তবে আগুনের পেয়ালা ধরবে। মন্ত্রী তখন বাস্তবিক ছেলেটিকে পরীক্ষা করার জন্য এক পেয়ালা আগুন ও এক পেয়ালা স্বর্ণ মুদ্রা এনে, মুছা (আঃ)-এর হাতের নিকটে রেখে দিল। হযরত মুছা (আঃ) তখন আগুনের পেয়ালা হতে একটি জলন্ত অঙ্গার তুলে মুখে দিলেন। তখনি তাঁর মুখ পুড়ে গেল। সে চিৎকার করে উঠল। তখন নিকটস্থ সকলে হায় হায় করে উঠল। তাড়াতাড়ি একজনে মুছা (আঃ)-এর মুখের মধ্যে পথেকে প্রজ্জ্বলিত অঙ্গারটি বের করে নিল। এ অবস্থা দেখার পরে ফেরাউন আর কোন উচ্চ শব্দ না করে রাজ দরবারে চলে গেল, এবং তারাতারি চিকিৎসার ব্যবস্থা করল।

হযরত মুছা (আঃ) শিশুকালে আগুন মুখে পুরে দেয়ার পরিণামে প্রথম জীবনে কথা বলতে পারতেন না। পরবর্তী সময় যদিও কথা বলতে সক্ষম হয়েছিলেন তবে তার মধ্যে তোতলাপনা ছিল।
প্রিয় দর্শক, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের লীলা খেলা একটু চিন্তা করে দেখুন। যেই শত্রুর হাত থেকে নিজের সন্তানকে রক্ষা করার জন্য মুসা নবির মা এত কিছু করলেন,সেই শত্রুই এখন তার সন্তানের রক্ষাকর্তা হয়ে গেল। শুধু রক্ষাকর্তাই নয় বরং তার নিজের সন্তানকে লালনপালন করার জন্য শত্রুর হাত থেকে সে এখন অর্থ উপার্জন করছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অপার লীলা খেলার এর চাইতে বড় উদাহরণ আর কি বা হতে পারে?

প্রিয় বন্ধুরা পরবর্তী ভিডিওতে হযরত মুছা (আঃ)-এর বিবাহ ও যৌবনকালের সমস্ত কাহিনী তুরে ধরবো ইনশাআল্লাহ। আজকের ঘটনাটি কেমন লেগেছে এবং ২য় পর্ব দেখতে চান কিনা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

মুসা নবির সম্পূর্ন ঘটনা জানতে, আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন। দেখা হচ্ছে পরবর্তী ভিডিও তে, ততক্ষণ সবাই ভালো থাকুন আল্লাহাফেজ।

17/08/2025

(ভাবগম্ভীর ও আবেগময় কণ্ঠে):

মদিনার আকাশ যেন ভারি হয়ে ওঠে ছে ।আর আচতুর্দিকে ঘনিয়ে আসছে অন্ধকার।

চারিদিকে কুরাইশ, ইহুদী ও অন্যান্য গোত্রের বিশাল জোট।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ যেন বাতাসে ঝুলে থাকা একটি সূক্ষ্ম সুতোয় জীবন ধরে রেখেছেন।
এ যেন মাদানার অস্তিত্ব টিকে থাকার লড়াই

ইসলামের শত্রুরা এগিয়ে আসছে মদিনাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে।সংখ্যায় তারা ১০০০০হাজার আর মুসলমান রা?মাত্র তিন হাজার।

এ যেন নিছক আত্যহত্যার লড়াই।

কিন্তু মুসলমানদের লিডার নবী মোহাম্মদ সাঃ তিনি চিন্তিত নন।তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইতিহাস বদরে দেওয়ার।

শুরু হতে যাচ্ছে ইসলাসের ইতিহাসের এক অরণ্য অধ্যায়,,, খন্দকের যুদ্ধ,,, কিভাকে
১০
হাজার ইহুদিদের সাথে মাত্র ৩হাজার মুসলমান যুদ্ধ করে জয় লাভ করে ছিল।

চলুন ঢ়ুকে যাই সেই উত্তাল সময়ে,,

627 খ্রিস্টাব্দে খন্দকের যুদ্ধ চলাকালে কুরাইশ বাহিনীর এক দুর্ধর্শ যোদ্ধা, মুসলমানদের খনন করা খন্দক পার হয়ে এগিয়ে এলো এবং সে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলল, হে মুসলমানগণ যদি তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তার মায়ের দুধ পান করে থাকে তবে সে আমার সামনে আসুক। আর মনে রেখো আমার মুখোমুখি হওয়ার অর্থই হলো নিশ্চিত মৃত্যু।

আমর ইবনে আবিদ্দারের এই দাম্ভিক শুরে কথা
শুনেও, মুসলমানদের মধ্যে কেউই তার সঙ্গে মোকাবেলার জন্য সাহস দেখালো না তখন শেরে খোদা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু উঠে দাঁড়ালেন এবং নবীজির কাছে আরজ করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ দয়া করে আপনি আমাকে অনুমতি দিন। আমি এই কাফেরের মুখ চিরতরে বন্ধ করে দিয়ে আসি হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর বয়স তখন মাত্র 23 বছর ছিল। তখন আল্লাহর নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আলী তুমি কি জানো? তুমি যার মোকাবেলার জন্য যেতে চাইছো সে হলো আরবের অন্যতম শক্তিশালী যোদ্ধা তুমি এখনো তরুণ তার সঙ্গে যুদ্ধ করা সহজ হবে না সুতরাং বসে যাও

নবীজির এই কথা শুনে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু সংযত হলেন সকল মুসলমানরা তখন নীরবে দাঁড়িয়ে রইলো।

কিন্তু আমর ইবনে আবিদ্দার আবারো উচ্চস্বরে
উপহাস করে বলল, কোথায় তোমাদের সেই বীরত্ব। শুনেছি তোমরা শাহাদাত লাভের জন্য সর্বদাই উদগ্রীব থাকো তোমাদের আল্লাহ নাকি তোমাদের জন্য জান্নাত তৈরি করে রেখেছেন তবে কে আছে যে আমার তরবারির আঘাতে শহীদ হয়ে, সেই জান্নাতে যেতে চাও। এই বিদ্রুপ শুনে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু পুনরায় উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনি শুধুমাত্র আমাকে অনুমতি দিন আমি এই
কাফেরের মুখ চিরতরে বন্ধ করে দিয়ে আসি।

কিন্তু নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবারো বললেন হে আলী তুমি কি বুঝতে পারছো না সে এমন এক যোদ্ধা যে এক হাতে উটের লাগাম ধরে রাখে আর অন্য হাতে শত শত সৈন্যের মোকাবেলা করতে পারে।

সুতরাং তুমি বসে যাও নবীজির এই কথায় হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু আবারো বসে পড়লেন।

কিন্তু মুসলমানদের মধ্য থেকে কেউই
সাহস করে সামনে আসতে পারলো না তৃতীয়বার আমর ইবনে আবিদ্দার আবারো অজ্ঞতার সুরে বলল হে মোহাম্মদের অনুসারীরা তোমাদের অনেক দুঃসাহসের কথা আমি শুনেছি কিন্তু আজ তোমাদের অবস্থা দেখে আমার মনে হচ্ছে তোমরা সবাই কাপুরুষ।

কোথায় তোমাদের সেই সাহস?মৃত্যু ভয়েই কি তোমরা মাথা নিচু করে বসে থাকছো তোমরা কি কেউই আমার হাতে শহীদ হয়ে
তোমাদের রবের সেই জান্নাতে যেতে চাও না। এই কথা শুনে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু আবারো দাঁড়িয়ে গেলেন এবং দৃঢ় কন্ঠে বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ দয়া করে এবার আপনি আমাকে যাওয়ার অনুমতি দিন

আমি এই কাফেরকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেই এবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আলী আমি তোমাকে আল্লাহর নামে আমর
ইবনে আবিদারের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রেরণ করছি। তুমি যাও এবং তাকে দেখিয়ে দাও মুসলমানদের ঈমানের শক্তি কতটুকু।।

আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই অনুমতি পেয়ে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তার হাতে থাকা জুলফিকার তলোয়ারটি দৃঢ়ভাবে ধরে আমর ইবনে আবিদ্দারের সামনে এসে দাঁড়ালেন। আমরের ইবনে আবিদ্দারের সমগ্র দেহ ছিল লোহার বর্ণে আবৃত। কেবলমাত্র
তার দুটি চোখই দেখা যাচ্ছিল।

এক তরুণ যুবককে নিজের সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমর ইবনে আবিদ্দার অবাক হয়ে বলল, ওহে আলী তুমি আমার পিতার বন্ধুর পুত্র আমি চাই না তোমাকে নিজ হাতে হত্যা করতে। তাছাড়া তুমি তুমি এখনো যুবক।

সামান্য একজন যুবক হয়ে তুমি আমার মত যোদ্ধার মুখোমুখি হতে এসেছো তোমার সাহস দেখে তো আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি।।হে আলী যদি জীবন তোমার কাছে প্রিয়
হয়ে থাকে তবে এখনই তুমি ফিরে যাও।

আমি এখনো তোমাকে সুপরামর্শ দিচ্ছি। মায়ের সন্তান মায়ের কাছেই ফিরে যাও।

আমরের এই কথা শুনে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, ওহে আল্লাহ ও তার রাসূলের শত্রু তুমি কি জানো, যে তুমি কার সামনে দাঁড়িয়ে আছো?আমার মা আমাকে আদর করে ডাকতেন হায়দার আর স্বয়ং আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে
আসাদুল্লাহ বা আল্লাহর সিংহ উপাধি দিয়েছেন।।

তুমি মুসলমানদের বাহ্যিক শক্তি দেখে তাদের বিচার করছো কিন্তু আমাদের প্রকৃত শক্তি তো আমাদের ঈমানের মধ্যে রয়েছে,,,, যেহেতু তুমিও আমার পিতার বন্ধুর পুত্র তাই আমি আমার হাতে তোমার প্রাণ সংহার করতে চাই না।। তাই শেষবারের মতো তোমাকে একটি সুযোগ দিচ্ছি।। তোমার পথভ্রষ্ট কুফরি মতবাদ ত্যাগ করে ইসলামের ছায়াতলে
আশ্রয় গ্রহণ করো।।

আর তাহলে আমি তোমার জীবন ভিক্ষা দিব আমর ইবনে আবিদ্দার তখন বিদ্রুপের স্বরে বলল তোমার সাহস দেখে তো আমি অবাক হচ্ছি তুমি কি সত্যিই আমার মোকাবেলা করতে চাও এই বলে সে প্রচন্ড আক্রোশে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর উপর তরবারি চালিয়ে দিল।।।

যার ফলে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর ঢালটি দ্বিখন্ডিত হয়ে গেল এমনকি তার
বাহুতেও কিছু আঁচড় লাগলো,,, তবে তিনি দ্রুতই নিজেকে সামলে নিয়ে,, আমরের সেই আঘাতকে প্রতিহত করলেন এরপর তিনি উচ্চস্বরে আল্লাহু আকবার বলে জুলফিকার তলোয়ার দিয়ে আমরের উপর এমন এক প্রচন্ড আঘাত করলেন যা আমরের লোহার বর্ম ভেদ করে তার দেহকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত দুই ভাগে বিভক্ত করে দিল

মুহূর্তেই সেই কাফের ভবলিলা সাঙ্গ হলো,,,এবং তার মৃত্যু হয়ে গেল এরপর হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু আমরের লাশের উপর দাঁড়িয়ে বললেন তুই কিভাবে আমার সঙ্গে মোকাবেলা করবি আরে তুই তো পাথরের পূজারী আর আমি তো হলাম রব্বে কারিমের গোলাম। এভাবেই শেরে খোদা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তার অসাধারণ বীরত্বের প্রমাণ রেখে ইসলামের মর্যাদা ও গৌরবকে রক্ষাকরলেন

খাইবারের যুদ্ধের সময় কামুজ দুর্গ দীর্ঘ সময় ধরে মুসলমানরা জয় করতে সক্ষম হচ্ছিল না।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদেরকে সম্বোধন করে বললেন,,,আগামীকাল আমি এমন একজনের হাতে ইসলামের পতাকা তুলে দিব যার মাধ্যমে আল্লাহ এই দুর্গে বিজয় দান করবেন। সে ব্যক্তি, আল্লাহ ও তার রাসূলকে ভালোবাসেন আর আল্লাহ ও তার রাসূল তাকে ভালোবাসেন।

🇧🇩🥀
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই ঘোষণা শুনে সাহাবাগণ সারারাত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকলেন, কে সেই ভাগ্যবান ব্যক্তি যার হাতে বিজয়ের পতাকা উঠবে আগামিকাল সকালে। পরদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের মাঝে এসে জিজ্ঞেস করলেন,,, হে আমার সাহাবাগণ আলী কোথায়? আমি তাকে দেখতে পাচ্ছি না কেন? তখন সাহাবীরা উত্তর দিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ
আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর চখ উঠেছে তার চোখে গুরুতর ব্যথা। সে অসুস্থতার কারণে এখানে উপস্থিত হতে পারেনি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তাহলে তোমরা তাকে ডেকে নিয়ে আসো।

নবীজির এই আদেশ পেয়ে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তৎক্ষণাৎ সেখানে উপস্থিত হলেন তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের মোবারক লালা তার চোখে
লাগিয়ে দিলেন এবং মুহূর্তেই আলীর চোখের ব্যথা তো দূর হলোই বরং নবীজির পবিত্র লালা মোবারকের বরকতে হযরত আলীর দৃষ্টিশক্তি আগের চেয়ে আরো বেশি পরিষ্কার হয়ে গেল।।

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাতে ইসলামের পতাকা তুলে দিয়ে বললেন হে আলী এবার তুমি যাও নিশ্চয়ই আল্লাহ আজ তোমার হাতেই খাইবারের বিজয় দান করবেন।

তবে প্রথমেই তুমি তাদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান করবে, যদি তারা আল্লাহ ও তার রাসূলের দাওয়াতকে কবুল করে, তাহলে তুমি তাদের সাথে যুদ্ধ করবে না। কিন্তু যদি তারা তোমার দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজেদের কুফরি মতবাদের উপরেই অটল থাকে তাহলে তুমি তাদের সঙ্গে সংগ্রামে লিপ্ত হবে। আর মনে রেখো তোমার মাধ্যমে যদি একজন ব্যক্তিও সঠিক পথে ফিরে আসে, তবে সেটি
তোমার জন্য 100 লাল উট পাওয়ার চেয়েও অধিক কল্যাণকর হবে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে নির্দেশ পাওয়ার পরে, শেরে খোদা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কিছু সংখ্যক মুসলিম সৈন্যকে নিয়ে খাইবারের সেই কামুস দুর্গের সামনে উপস্থিত হলেন,, এই দুর্গটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে বহুদিন ধরে যারাই এই দূর্গ আক্রমণ করেছে কেউ এটি জয় করতে পারেনি।

দুর্গের অন্যতম
প্রধান নেতা ছিল মারহাব, যার বীরত্বের কাহিনী পুরো আরবের কিংবদন্তী হিসেবে প্রচলিত ছিল। মারহাব যখন দেখল মুসলিম বাহিনী আলীর নেতৃত্বে তার দুর্গের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে তখন সে যুদ্ধের পোশাক পড়ে অস্ত্রসজ্জিত হয়ে দুর্গ থেকে বের হয়ে এলো।

এরপর সে মুসলমানদেরকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলল হে মুসলমানেরা তোমাদের মাঝে এমন কোন সাহসী ব্যক্তি আছে কি? যে আমার
সাথে মোকাবেলা করার ক্ষমতা রাখে?যদি থাকে তবে সে আমার সামনে আসুক এবং পরীক্ষা করুক আমার তলোয়ারের ধার কতটুকু।

মারহাবের এই চ্যালেঞ্জ শুনে শেরে খোদা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু দৃঢ় কন্ঠে এগিয়ে এসে বললেন, হে আল্লাহ তার রাসূলের শত্রু, আমি তোমাকে পরাজিত করে জাহান্নামে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছি।

মারহাব তখন বিদ্রুপের সুরে বলল হে আলী খাইবারের
প্রতিটি মানুষ জানে আমার বীরত্বের কথা।

পুরো আরব জানে আমার তলোয়ার কতটা ধারালো। আমি তোমাকে পরামর্শ দিচ্ছি, যদি তোমার নিজের জীবন তোমার নিকট প্রিয় হয়, তবে এখনই ফিরে যাও। কারণ আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মানেই হলো নিজের মৃত্যুকে আহ্বান করা।

তখন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন হে মারহাব তুমি জেনে রেখো, আমার মা আমাকে হায়দার বলে ডাকতেন আমি এক দুর্দান্ত যোদ্ধা এবং
ইসলামের পতাকা উচিয়ে ধরতে জীবন দিতেও আমি প্রস্তুত রয়েছি। তুমি জেনে রেখো হে মারহাব, যার হৃদয়ে ঈমানের শক্তি রয়েছে, আল্লাহর প্রতি যার পরিপূর্ণ আস্থা রয়েছে, তার তলোয়ারের শক্তি কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না।

তাই আমি তোমাকে প্রথমেই ইসলামের দিকে আহ্বান করছি যদি তুমি আল্লাহ ও তার রাসূলের পথে আসো
তাহলে তুমি নিরাপদ থাকবে। হযরত আলীর এসব কথা শুনে মারহাব তখন রাগান্বিত হয়ে বলল আমি এখানে তোমার কোন আহ্বান শুনতে আসিনি আমি এখানে এসেছি যুদ্ধ করার জন্য, এসো হে আলী, আজ দেখা যাক কার অস্ত্রের জোর কত বেশি। এরপর শুরু হলো হযরত আলী ও মারহাবের মধ্যে ভয়াবহ দ্বন্দ্ব যুদ্ধ উভয়েই নিখুত দক্ষতায় তলোয়ার চালাচ্ছিলেন

কিন্তু এক
পর্যায়ে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু মারহাবের মাথায় প্রচন্ড জোরে এমন এক আঘাত করলেন যা তার লৌহবর্ম চিড়ে তার পুরো শরীর দুই ভাগ হয়ে গেল। আর সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো তার দম্ভের পতন ঘটলো। মারহাবের মৃত্যুতে খাইবারের ইয়াহুদিরা ভয় পেয়ে গেলেও তারা সহজে হার মানতে রাজি ছিল না। তাই তারা দুর্গের ভেতরে বসে না থেকে বাহিরে এসে মুসলমানদের সঙ্গে এক
তীব্র যুদ্ধ শুরু করল।

এই লড়াইয়ের এক পর্যায়ে শেরে খোদা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর হাতে থাকা ঢালটি ভেঙে গেল এবং তিনি সম্পূর্ণরূপে ঢালহীন হয়ে পড়লেন। কিন্তু এ অবস্থায়ও তিনি বিচলিত হলেন না তিনি আল্লাহর নাম নিয়ে খাইবারের সেই বিশাল গেটটিকে তার বাম হাতে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরলেন এবং প্রচন্ড জোরে একটি টান দিলেন, আর মুহূর্তের মধ্যে
সেই বিশাল দরজাটি খুলে হযরত আলীর হাতে উঠে এলো।

অতঃপর হযরত আলী শত্রুদের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য সেই গেটটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে লাগলেন এই গেটটি হাতে নিয়ে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এমন দুর্দান্ত প্রতিরোধ করলেন যে, মুসলিম বাহিনীর মনোবল বহুগুণ বেড়ে গেল ইয়াহুদীরা মুসলমানদের সামনে আর বেশিক্ষণ টিকতে পারলো না। একে একে তাদের দুর্গ পতনের
দিকে এগিয়ে এলো। অতঃপর যুদ্ধ শেষে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু সেই গেটটিকে দূরে একদিকে ছুড়ে ফেললেন সেই গেটটি এতটাই ভারী ছিল যে,

পরবর্তীতে 200 জন মানুষ একসঙ্গে চেষ্টা করেও সেই গেটটিকে তার জায়গা থেকে চুল পরিমাণ সরাতে সক্ষম হলো না এই দৃশ্য দেখে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু মুচকি মুচকি হাসছিলেন।

তিনি মনে মনে ভাবলেন যে এই গেটটি
আমি এক হাতে নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম!!০ এখন শত শত লোক মিলে সেটিকে নাড়াতেও পারছে না।

তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাম আলীর ভাবনা বুঝতে পারলেন এবং তিনি আলীকে ডেকে বললেন হে আলী, তুমি যুদ্ধের সময় এই গেটটিকে যে সহজেই ড়ব্যবহার করেছিলে এখন সেটিকে পুনরায় তার স্থান থেকে সরিয়ে দেখাও তো।

নবীজির নির্দেশ পেয়ে শেরে খোদা
হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু সেই গেটটিকে সরানোর জন্য প্রাণপন চেষ্টা করলেন কিন্তু কোনভাবেই তিনি তা নাড়াতেও পর্যন্ত পারছিলেন না।

বহুবার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হলেন তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ও আলী তুমি যদি কেয়ামত পর্যন্ত চেষ্টা করো তবুও তুমি এটিকে নাড়াতে পারবে না কারণ যুদ্ধের ময়দানে তুমি নিজের শক্তিতে নয় বরং
আল্লাহর উপর ভরসা করেছিলে।

যখন তুমি ঢালহীন হয়ে গিয়েছিলে তখন আল্লাহর ফেরেশতারা তোমাকে সাহায্য করেছিলেন যাতে তুমি খাইবারের এই গেটটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারো। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে আল্লাহর সেই বিশেষ সাহায্য তোমার কাছ থেকে চলে গিয়েছে। তাই তুমি এখন বহু চেষ্টা করেও সেই গেটটিকে চুল পরিমাণেও নাড়াতে পারলে
না

সুতরাং মনে রেখো হে আলী এটা নিয়ে কখনোই বিরত্ব করো না যুদ্ধের ময়দানে তুমি যা করেছো তার সব প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য।

রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই কথা শুনে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু নিজের ভুল বুঝতে পারলেন এবং বিনম্র চিত্তে আল্লাহর শোকর আদায় করলেন।।🇧🇩🇧🇩

একবার কোন এক যুদ্ধে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু
তা'আলা আনহুর পায়ে একটি তীরবিদ্ধ হয়েছিল। প্রচন্ড ব্যথার কারণে তিনি এতটাই কষ্ট পাচ্ছিলেন যে কেউ সেটিকে ছুতেও পারছিল না।

ফলে কেউই তীরটি বের করতে সক্ষম হচ্ছিল না।

সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুম এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে চলে গেলেন তারা নবীজির কাছে গিয়ে
বললেন,, ইয়া রাসূলাল্লাহ আলীর পায়ে একটি তীর বিদ্ধ হয়েছে কিন্তু ব্যথার কারণে তিনি কাউকেই সেটা স্পর্শ পর্যন্ত করতে দিচ্ছেন না।। তিনি যদি তীরটি স্পর্শ করতে না দেন তাহলে আমরা কিভাবে সেটি বের করব।।

রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন তোমরা এখন আলীর সাথে জোরপূর্বক কিছুই করো না।
যখন আযান হয়ে যাবে এবং আলী নামাজে দাঁড়িয়ে যাবে
তখন তার পা থেকে তোমরা তীরটি বের করে নিও রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই পরামর্শ অনুযায়ী সাহাবাগণ অপেক্ষা করতে লাগলেন

কিছুক্ষণ পর আযান হলো এবং হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন নামাজের গভীরতায় তিনি এতটাই মগ্ন হয়ে গেলেন যে আশেপাশের কোন কিছুই তার খেয়ালে ছিল না এই সুযোগে সাহাবীরা ধীরে ধীরে তার
পা থেকে তীরটি বের করে ফেললেন কিন্তু হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু আল্লাহর প্রেমে এতটাই নিমগ্ন ছিলেন যে, তিনি টেরই পেলেন না যে তার পা থেকে তীরটি বের করে নেওয়া হয়েছে।।

প্রিয় দর্শক এই ছিল সাহাবায়ে কেরামের নামাজের অবস্থা। আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রেমে তারা এতটাই নিমগ্ন থাকতেন যে দুনিয়ার সকল কষ্ট তাদের কাছে তুচ্ছ মনে হতো মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন
আমাদেরও নামাজে পূর্ণ একাগ্রতা অর্জনের তৌফিক দান করুন এবং সাহাবীদের আদর্শকে অনুসরণ করে নিজেদের জীবন গঠন করার তৌফিক দান করুন আমিন।।

Address

Gopalpur
Tangail
1990

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mr.Siam Sadik posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share