30/05/2026
ছোটবেলার ঈদ আর এখনকার ঈদ—দুটোর মাঝে যেন শুধু সময়ের না, অনুভূতিরও একটা বিশাল ফাঁক তৈরি হয়েছে। সেই ফাঁকটা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু হৃদয়ে ঠিকই ধরা পড়ে।
একসময় ঈদের চাঁদ দেখার আগের রাতটাই ছিল সবচেয়ে উত্তেজনার। বাড়ির উঠোনে ছোট ছোট পায়ের দৌড়, নতুন পাঞ্জাবির গন্ধ, আর মায়ের হাতের সেমাই রান্নার অপেক্ষা—সবকিছু মিলিয়ে মনে হতো, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দিনটা বুঝি কালই আসছে। ঘুম আসত না, কারণ মাথার ভেতর শুধু নতুন জামা, সালামি আর বন্ধুদের সাথে ঈদের সকালে দেখা হওয়ার চিন্তা।
ঈদের দিন সকালে ফজরের নামাজের পরই যেন পুরো গ্রামটা জেগে উঠত। সবাই একসাথে হাঁটতে হাঁটতে ঈদগাহে যেত। পথে দেখা হতো পরিচিত-অপরিচিত সবার সাথে, কিন্তু কারও মধ্যে কোনো দূরত্ব থাকত না। ঈদের সালাম ছিল আন্তরিক, হাসিটা ছিল সত্যি। সালামির টাকা গোনা নয়, বরং কয়টা পেলাম সেই আনন্দটাই ছিল বড়।
কিন্তু সময় বদলেছে।
এখন ঈদ আসে অনেকটা নীরবে। চাঁদ দেখার আগের সেই উত্তেজনা আর আগের মতো নেই। ফোনে নোটিফিকেশন আসে “ঈদ মোবারক”, কিন্তু সেই ডাকের মধ্যে আগের মতো উষ্ণতা খুঁজে পাওয়া যায় না। অনেকেই এখন ঈদের দিন ঘুম থেকে ওঠে দেরিতে, কেউ কেউ আবার ব্যস্ত থাকে ছবির ক্যাপশন আর স্ট্যাটাস সাজাতে।
ঈদের জামা এখন আর শুধু নতুন হওয়ার আনন্দ নয়—এটা অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখানোর একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে যেখানে মানুষ মুখোমুখি দেখা করত, এখন সেখানে “রিপ্লাই” আর “ইমোজি” দিয়ে সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়।
সবচেয়ে কষ্টের পরিবর্তনটা হলো—মানুষ এখন আগের মতো একসাথে হাসে না। ঈদের সকালে যে পাড়া-প্রতিবেশীর বাড়িতে দৌড়ে যাওয়া ছিল, সেটা এখন অনেকের জীবনে শুধু স্মৃতি। ব্যস্ততা, শহুরে জীবন আর দূরত্ব সেই সহজ আনন্দগুলোকে ধীরে ধীরে মুছে দিয়েছে।
তবুও ঈদ থেমে থাকে না। ক্যালেন্ডারে ঠিকই আসে, কিন্তু আমাদের ভেতরের শিশুটাকে আর আগের মতো জাগাতে পারে না।
তবুও কোথাও না কোথাও, কোনো এক নিঃশব্দ মুহূর্তে—পুরনো সেই ঈদের হাসি, সেই উঠোন, সেই সেমাইয়ের গন্ধ আবার ঠিকই মনে পড়ে যায়। আর তখন মনে হয়, বদলেছে শুধু সময় না, বদলেছি আমরাও।
🖊️ শাহরিয়ার তামীম