01/09/2026
খুব সম্ভবত আপনি এই দেশে আবার একটা দুর্ভিক্ষ দেখাবেন ৭৪ এর মত।
জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসছেন, আর সার্ভ করতেছেন আমলাদের।
দেশের সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেন নাই।
দ্রব্যমূল্যের দাম কমাইতে পারেন নাই।
জ্বালানি খাত ঠিক করতে পারেন নাই।
আরও ক্ষমতায় এসে ৬ মাসে সবকিছুর দাম বাড়াইছেন একাধিকবার।
ব্রয়লার মুরগির দাম ১৯৫ টাকা, পোলাওয়ের চাল মাত্র ছয় মাসে প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে।
সাত-আট মাস ধরে কাঁচা সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
বিদ্যুৎ নাই, গ্যাস নাই, তেল নাই।
বিদেশী ঋণের বোঝা, ডলার সংকট এগুলো নিয়ে দেশ চালাচ্ছেন।
আর বসে বসে জনগণের পেটে লাথি মারতেছেন।
এর মধ্যেই অনুমোদন দিলেন নবম পে-স্কেলের।
সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা।
সরকারি আমলাদের বেতন বাড়িয়েছেন ১০০% এর বেশি।
এই পে-স্কেলের খবর শুনেই সিন্ডিকেট আবার বাজারে দ্রব্য মূল্যের দাম বাড়াবে।
রাজস্ব খাত থেকে সরকারি আমলাদের বেতন দিবেন নাকি আপনার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এসবের টাকা দিবেন?
আর রাজস্ব খাতে এতো টাকা আসবে কোত্থেকে?
দিনমজুর, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর বেসরকারি চাকরিজীবী আর সাধারণ মানুষের পকেট থেকে।
অথচ তাদের ইনকাম বাড়েনি এক টাকাও।
মানে একজন অষ্টম শ্রেণী পাশ করে ২০ গ্রেডের চাকরিতে জয়েন করবে ২০ হাজার টাকার বেতনে।
আর একজন গ্রেজুয়েশন শেষ করে প্রাইভেটে জয়েন করবে ১৫ হাজার টাকা বেতনে।
ফাইজলামি পাইছেন?
দেশের অর্থনীতি ঠিক নাই।
এর মাঝেই অর্থনীতিতে হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ বেতন বৃদ্ধি কখনোই বিনামূল্যে আসে না।
এর মূল্য শেষ পর্যন্ত জনগণকেই পরিশোধ করতে হবে।
দেশে সরকারি চাকরিজীবী কয়েক লাখ।
কিন্তু সাধারণ মানুষ কোটি কোটি।
বেতন বাড়াইছেন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর।
কিন্তু মূল্যস্ফীতির বোঝা পুরো জাতির মাথায় দিচ্ছেন।
এটাই সবচেয়ে বড় বৈষম্য।
সরকারি খাতের আয় ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াইছেন,
অথচ বেসরকারি খাতের মানুষের আয় একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।
এভাবে বৈষম্য বাড়তে থাকলে সামাজিক অস্থিরতা অনিবার্য।
দেশ এমনিতেই ঋণের ভারে পিঠ কুঁজো হয়ে গেছে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আরও ঋণ নিতে হবে।
দেশি ঋণ, বিদেশি ঋণ।
আর সেই ঋণের সুদ শোধ করবে কে?
আবারও সাধারণ মানুষ।
ভ্যাট দিয়ে, ট্যাক্স দিয়ে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম দিয়ে।
সরকারের রাজস্ব আয়ের বড় অংশ যদি শুধু বেতন-ভাতাতেই চলে যায়।
© Aminul Islam