14/12/2025
গতকাল রাতে ঢাকায় ফিরছিলাম। রাত তখন ১১টা আর বাস তখন সায়েদাবাদ থেকে ফকিরাপুলের দিকে যাচ্ছে। আমি তখন হিসেব করছিলাম কোথায় নামলে বাসায় যেতে বেশি সুবিধা হবে। সায়েদাবাদ বা ফকিরাপুল যেখানেই নামি না কেনো আমার বাসা পর্যন্ত একই দূরত্ব মনে হচ্ছিলো। পরে ঠিক করলাম শেষ স্টপেজ- ফকিরাপুলেই নেমে যাবো।
বাসের কন্ট্রাক্টর এসে আমাকে দুইবার জিজ্ঞেস করলেন কোথায় নামবো। তারপর আবার আমার পাশের সিটে বসা একজন ভদ্রলোককেও জিজ্ঞেস করলেন তিনি কোথায় নামবেন। তারপর তিনি সামনে চলে গেলেন। এরপর কন্ট্রাক্টর কিছু সময় পর আবার আসলেন। পাশের সিটের লোকটাকে বললেন তিনি এখানেই নামবেন কিনা। ভদ্রলোক উত্তর দিলেন- না, মামা। সামনে মোড়ে নামবো।
পাশের সিটে বসা অচেনা সেই ভদ্রলোক তখন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন- আমি কি ফকিরাপুলে নেমে ঢাকার ভিতরের দিকেই যাবো কিনা। আমি বললাম হ্যাঁ, তেজগাঁও যাবো। তিনি বললেন- তিনি রাজারবাগ নামবেন। আর আমি যেহেতু তেজগাঁও যাবো, তো আমার জন্য রাজারবাগ/ফকিরাপুল একই কথা। আমি চাইলে এখানেও (রাজারবাগ) তার সাথে নেমে যেতে পারি। আমার তখন মনে হলো- হ্যাঁ, নেমে যেতেই পারি। বাসে বসেও ভালো লাগছিলো না। আবার মনে হলো লোকটা এতো কনসার্ন কেনো!
যাই হোক ভাবতে ভাবতে উঠে একটু দাড়াঁলাম। এরপর পিছে তাকিয়ে খেয়াল করলাম- বাসে একদমই আর কেউ নেই। হঠাৎ করেই আমার বুকের ভিতর কিছুটা ভয় কাজ করলো। সব সময় বাসে কজন থাকছে, নামছে এটা স্বভাবতই আমি খেয়াল রাখি। আজ কেনো জানিনা অন্য মনষ্ক ছিলাম৷ তখন বুঝলাম পাশের সিটে বসা লোকটা কেনো আমাকে এই স্টপেজেই নেমে যেতে বলছেন। এরপর সেই ভদ্রলোকের সাথেই আমি বাস থেকে নেমে গেলাম। নেমেই তিনি তার পথে আর আমি আমার পথে।
কিন্তু, আমি তখন পুরো ঘটনাটা আবার ভেবে মনে মনে খুব কৃতজ্ঞতা অনুভব করলাম। এখনকার যেই পরিস্থিতি আপনি কাকে বিশ্বাস করবেন আর কাকে বিশ্বাস করবেন না, সেটা একটা বিশাল বিষয়। আর বাসে একা থাকাটাও যে একদমই নিরাপদ না, সেটাও আমরা কম বেশি সবাই জানি। হয়তো কিছুই হতো না আমি পরের স্টপেজে একা নামলে। আবার কিছু হতেও পারতো।
তবে এটা ভেবে ভালো লাগে যে, কিছু মানুষ সত্যি আপনার ভালো চায়। কিছু পুরুষ মানুষ সত্যিই চমৎকার। তারা আপনাকে হাতে পায়ে শিকল বাঁধবে না, প্রশ্ন করবেন না আপনি রাতে একা কেনো বের হইসেন। কারন, সে জানে ও মানে। তবে এটাও নিশ্চিত করবে আপনি যাতে নিরাপদ থাকেন। 💕