Nasir Uddin Nas

  • Home
  • Nasir Uddin Nas

Nasir Uddin Nas Freelancer | Digital Marketing Specialist | IT Support Technician. A lifelong learner passionate about English, coding, video editing, books, & travel.

"রুটির মানচিত্রে"নির্জন দ্বীপের বাসিন্দা, উচ্চারণ করো-নিস্তব্ধতা ভেঙে মানুষের সঙ্গে যুক্ত হও,ঘুম ভাঙাও নিজের, জাগিয়ে তোল...
25/04/2026

"রুটির মানচিত্রে"

নির্জন দ্বীপের বাসিন্দা, উচ্চারণ করো-
নিস্তব্ধতা ভেঙে মানুষের সঙ্গে যুক্ত হও,
ঘুম ভাঙাও নিজের, জাগিয়ে তোলো চারপাশ।

বিনাশের ছায়া ঘনিয়ে আসে ধীরে,
মাঝির কণ্ঠে বাজে অদৃশ্য বিপদের পূর্বাভাস;
ঢেউগুলো যেন বিদ্রোহী, আছড়ে পড়ে ক্রমাগত,
হাওয়া ভারী হয়ে ওঠে অজানা আশঙ্কায়।

গাছের শাখায় কেঁপে ওঠে কুঠারের নিষ্ঠুর আঘাত,
হে অরণ্য, হে জলের সন্তান
তোমার নীরবতা ভাঙো, প্রতিধ্বনি তোলো বিস্তারে।

যদি ফিরে আসে বহিরাগত, দাউদাউ আগুনের দিনে,
তবে জেনে রেখো
এই হাওয়া আর তোমার অধিকার নয়;
তুমিই একদিন অদৃশ্য হয়ে গেছো সেই হাওয়ার ভেতর,
নিজের অস্তিত্ব বিলিয়ে।

_❐ নাসির উদ্দিন নাস
নাস কাব্যলেখ্য

"শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি" একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের গৌরব ও আত্মমর্যাদার দিন। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায়...
21/02/2026

"শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি"

একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের গৌরব ও আত্মমর্যাদার দিন। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় যাঁরা প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁদের ত্যাগ ইতিহাসে চিরঅমর। তাঁদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের ভাষার অধিকার।

UNESCO ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এ দিনের মর্যাদাকে বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠা করেছে। শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা প্রতিজ্ঞা করি মাতৃভাষার সম্মান রক্ষায় সদা সচেষ্ট থাকবো।

আয়োজনে: জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

"সাগরলতার নিস্তব্ধ দ্বীপে"নীল আকাশের অগোচরে দাঁড়িয়ে মনে হয়, এই পৃথিবী যেন এক বিশাল নীল ক্যানভাস, আর আমি তাতে এক বিন্দু ন...
09/10/2025

"সাগরলতার নিস্তব্ধ দ্বীপে"

নীল আকাশের অগোচরে দাঁড়িয়ে মনে হয়, এই পৃথিবী যেন এক বিশাল নীল ক্যানভাস, আর আমি তাতে এক বিন্দু নীরবতা। চারপাশে সাগরলতার অপরিসীম সবুজ, যেন প্রকৃতি নিজ হাতে আঁকেছে শান্তির মানচিত্র। বাতাসে লবণাক্ত সমুদ্রের হালকা সুবাস, নারকেল গাছের পাতায় সূর্যের আলো ছড়িয়ে যায় রঙের এক নরম সিম্ফনি হিসেবে। দূরে সাদা বালির চরে ঢেউ এসে মিশে যায়, আবার ফিরে যায় নিজের অজানা পথে যেন সময়ও এখানে থেমে গিয়ে বিশ্রাম নেয়।

সেন্টমার্টিন এই ছোট্ট দ্বীপে প্রকৃতি কথা বলে নিঃশব্দে। কোলাহল নেই, শুধু ঢেউয়ের কোমল স্পর্শে জীবন নিজেকে চিনতে শুরু করে। প্রতিটি শ্বাসে আসে মুক্তির স্বাদ, প্রতিটি মুহূর্তে হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা ক্লান্তি গলে যায় সূর্যের আলোর কোমলতায়।

সাগরলতা, সাদা বালু আর নীল সমুদ্রের মায়াবী মিলনে মানুষ খুঁজে পায় হারানো সত্তা। এখানে প্রকৃতি শুধু দৃশ্য নয়; এটি এক অনুভূতি এক গভীর সুর, যা শব্দের সীমা ছাড়িয়ে আত্মার ভেতর গেয়ে যায় নীরবভাবে।

এই দ্বীপে দাঁড়িয়ে অনুভব হয়, পৃথিবী যতই ব্যস্ত হোক, শান্তি এখনো বেঁচে আছে সেন্টমার্টিনের সবুজ সাগরলতা, অনন্ত নীল আকাশ এবং এক মানুষের নিঃশব্দ নিঃশ্বাসে।

_❐ নাসির উদ্দিন নাস
নাস বর্ণালেখ্য

#দৃশ্যপটের_অন্তর্জগৎ #নাস_বর্ণালেখ্য
- #নাসের_ছন্দে_নিরন্তর_বর্ণাভাষা।

নৈকট্য সংকল্প!

03/10/2025

"সম্পর্কের ভ্রম আর সত্য"

যে হৃদয়ে সম্পর্কের কোনো মর্যাদা নেই, সেখানে বন্ধনের নাম রাখা বৃথা। সম্পর্ক কখনো কেবল নাম দিয়ে টেকে না; এর ভিত্তি হলো পারস্পরিক মমতা, শ্রদ্ধা, আর একে অপরের প্রতি নীরব অথচ গভীর টান। যদি সেই টান একপাক্ষিক হয়, তবে সে বন্ধন ধীরে ধীরে পরিণত হয় নিঃশব্দ যন্ত্রণায়, যেখানে হাসি থাকে বাহিরে, অথচ ভেতরে জমে থাকে অনিঃশেষ শূন্যতা।

একজন যখন সম্পর্ককে খেলনার মতো ব্যবহার করে, আর অন্যজন তাকে বাঁচার অবলম্বন ভেবে আঁকড়ে ধরে, তখন আসলে জন্ম নেয় অসমতার দুঃখজনক এক দাসত্ব। এই দাসত্বের শিকল ভাঙা সহজ নয়, কারণ মানুষ প্রায়ই ভেবে বসে নামেই যদি সম্পর্ক থাকে, তবে হয়তো একদিন প্রাণও আসবে তাতে। কিন্তু প্রকৃতির নিয়মই ভিন্ন: যেখানে হৃদয় শুষ্ক, সেখানে ফুল ফোটে না; আর যেখানে টান নেই, সেখানে সম্পর্কের বৃক্ষ কেবলই শুকিয়ে যায়।

সত্যিকারের সম্পর্ক হলো আলোর মতো অদৃশ্য অথচ সর্বত্র ছড়ানো। এখানে ভাষা প্রয়োজন হয় না; সামান্য নীরবতাও হয়ে ওঠে হৃদয়ের অনুবাদ। যে সম্পর্কে টান আছে, সেখানে দূরত্ব কোনো বাধা নয়; যে সম্পর্কে টান নেই, সেখানে কাছাকাছিও নিছক মিথ্যে অভিনয়।

তাই প্রশ্ন একটাই যে মানুষের কাছে সম্পর্কের মূল্য নেই, তার সঙ্গে বন্ধনের নাম কী হবে? উত্তর স্পষ্ট: সেটি সম্পর্ক নয়, বরং ভ্রমের জাল, যা কেবল হৃদয়কে ক্লান্ত করে, আত্মাকে রক্তাক্ত করে। প্রকৃত সম্পর্কের আরেক নামই হলো পারস্পরিকতা; এর বাইরে যা কিছু আছে, তা কেবল ছদ্ম বন্ধন, মিথ্যে আশ্রয়, আর মরুভূমির মরীচিকা।

---

মন খারাপের অন্ধকারে হঠাৎ নরম এক মেঘ নেমে আসে মুমু, ছোট্ট বিড়ালটি। সে নীরব সহচর, মানুষের ভাষা জানে না, তবু হৃদয়ের গূঢ় ভাষা সহজে অনুধাবন করে। যখন মন গভীর দুঃখে ভরে ওঠে, মুমু আসে পাশে বসে, নিঃশব্দে সান্ত্বনা দেয়, যেমন একটি নরম আলোর কিরণ রাতের অন্ধকার ভেদ করে। মানুষের ভিড়ের মাঝে যেখানে বোঝাপড়ার অভাব, সেখানে মুমু হয়ে ওঠে জীবনের ক্ষুদ্র অথচ নিরব আশ্রয় এক নীরব, অদৃশ্য অথচ অন্তর্নিহিত সম্পর্কের পরিচয়।

_❐ নাসির উদ্দিন নাস
নাস বর্ণালেখ্য

#দৃশ্যপটের_অন্তর্জগৎ
🤍😺🐈

02/10/2025

"মুখোশ মানুষ"

মানুষের ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটি মুখই সত্যিকার মুখ নয় কেউ কেউ মুখের ওপর আরেকটি মুখ বসিয়ে রাখে। সেই মুখোশে মিশে থাকে ভদ্রতার আভা, হাসির ভান, মিথ্যে সমবেদনার চকচকে রঙ। অথচ ভেতরে তারা নিঃশব্দে কুটিলতা লালন করে, ঈর্ষা আর স্বার্থের ছুরি ধার দেয়।

মুখোশ মানুষদের চোখে কখনো মমতার জল থাকে না; থাকে শুধু হিসাব কষার অঙ্ক। তাদের কথায় স্নিগ্ধতার আড়ালে বিষ লুকিয়ে থাকে। হাসি দেয়, করতালি দেয়, প্রয়োজন ফুরোলেই ছুরি চালিয়ে দেয়।

এদের চিনতে হলে দূরত্ব দরকার, সময় দরকার। কারণ খুব কাছ থেকে দেখলে মুখোশ আর মুখের ভেদরেখা অস্পষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় আমরা ভেবেই বসি এই যে আপনজন, এই যে আশ্রয়, এতো আসলে কতটা সত্য?

মুখোশ মানুষ হলো ছদ্ম-আলোর ছায়া, যা মূহূর্তের জন্য ঝলমল করে, কিন্তু অন্তরালে জমিয়ে রাখে গাঢ় অন্ধকার।

_❐ নাসির উদ্দিন নাস
নাস বর্ণালেখ্য

"সেন্টমার্টিনের জেটি ঘাট: এক টুকরো শান্তির অভয়ারণ্য"নীল আকাশের ছায়া মিশে থাকা, স্বচ্ছ সবুজাভ নীল সাগরের বুকের উপর জেটি ...
20/09/2025

"সেন্টমার্টিনের জেটি ঘাট: এক টুকরো শান্তির অভয়ারণ্য"

নীল আকাশের ছায়া মিশে থাকা, স্বচ্ছ সবুজাভ নীল সাগরের বুকের উপর জেটি ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকলে মনে হয়, সময় নিজেই একটু থমকে গেছে। সকাল হোক বা বিকেল, ঢেউয়ের মৃদু শব্দ আর দূরে ভেসে চলা নৌকার দৃশ্য এক অনন্য প্রশান্তি ছড়িয়ে দেয় মনকে। ব্যস্ত শহরের কোলাহল, ক্লান্তি আর দুশ্চিন্তা যেন এখানে এসে মিলিয়ে যায়।

জেটির পাশে পাড়ে ছোট ছোট শিশুদের খেলা, তাদের খুশি-উল্লাস আর নির্ভার হাসি চারপাশকে ভরিয়ে দেয় আনন্দ আর শান্তিতে। সাগরের নীলাভ আবহে মানুষ আর প্রকৃতি যেন এক রূপে বাঁধা একটি জীবন্ত, নিরব সঙ্গীতের মতো।

জেটির প্রান্তে দাঁড়িয়ে দূরের আকাশ ও সাগরের মিলনরেখা চোখে পড়লে মনে হয় পৃথিবীর সব সৌন্দর্য এখানে এসে মিলিত হয়েছে। সূর্যাস্তের সময় জেটি ঘাট যেন এক স্বপ্নময় রূপ ধারণ করে; আকাশ লাল, সোনালি ও কমলা রঙে রাঙানো, আর সমুদ্র সেই রঙের প্রতিফলন ছড়িয়ে দেয় পানি জুড়ে।

সেন্টমার্টিন শুধু একটি দ্বীপ নয়; এটি এক টুকরো শান্তির আশ্রয়। এখানে বসে নিজেকে খুঁজে পাওয়া যায়, হৃদয়ের কথা শোনা যায়, এবং প্রকৃতির নীরব সুরে হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ মেলে। জেটি ঘাটে দাঁড়িয়ে এই অভিজ্ঞতা গ্রহণ করলে বোঝা যায় কেন মানুষ জীবনের ভিড়ে মাঝে মাঝে প্রকৃতির কাছে ফিরে যেতে চায়।

_❐ নাসির উদ্দিন নাস
নাস বর্ণালেখ্য

#দৃশ্যপটের_অন্তর্জগৎ #নাস_বর্ণালেখ্য
- #নাসের_ছন্দে_নিরন্তর_বর্ণাভাষা।

নৈকট্য সংকল্প!

"লেখক আর লেখা : এক অনন্ত ভুল বোঝাবুঝি"মানুষের একটা স্বভাবজাত অভ্যাস আছে। তারা লেখক আর লেখাকে একসাথে মিশিয়ে ফেলে। কোনো কব...
10/09/2025

"লেখক আর লেখা : এক অনন্ত ভুল বোঝাবুঝি"

মানুষের একটা স্বভাবজাত অভ্যাস আছে। তারা লেখক আর লেখাকে একসাথে মিশিয়ে ফেলে। কোনো কবিতায় যদি কান্নার গন্ধ থাকে, পাঠক ধরে নেয় কবি নিশ্চয়ই কেঁদেছেন। কোনো উপন্যাসে নায়ক প্রেমে ব্যর্থ হলে বলা হয় আহা, লেখকের প্রেমও বুঝি ভেঙে গেছে। অথচ সত্যিটা ভিন্ন। লেখক সবসময় নিজের গল্প লেখেন না; তিনি লেখেন গল্পের গল্প, মানুষের গল্প, কখনোবা সম্পূর্ণ কল্পনার গল্প।

ভুল বোঝাবুঝির কিছু দৃশ্য

একটা ছোট উদাহরণ দিই। কেউ ফেসবুকে লিখল “আজ মনটা অদ্ভুত খালি খালি লাগছে।” সাথে সাথে তার বন্ধুরা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠবে। কেউ ইনবক্সে জিজ্ঞেস করবে, “মন খারাপ কেন?” আবার কেউ ধরে নেবে “নিশ্চয়ই প্রেমে ঝামেলা চলছে।” অথচ বাস্তবে হতে পারে, সে কোথাও একটি লাইন পড়ে মুগ্ধ হয়ে সেটা ক্যাপশন বানিয়েছে। কিংবা পাশের বাড়ির ছেলেটাকে একা বসে থাকতে দেখে মাথায় এসেছে কথাটা। তার জীবনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্কই নেই।

আবার ধরুন, একজন তরুণী লিখল
“ভালোবাসা মানে প্রতীক্ষা,
ভালোবাসা মানে দীর্ঘশ্বাস।”

পড়েই পাঠকেরা বলবে “আহা, মেয়েটা প্রেমে ব্যর্থ।” অথচ মেয়েটিকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, হয়তো হেসে বলবে “না, আমার এক বন্ধু প্রেমে কষ্ট পেয়েছে, তার কথা ভেবেই লিখেছি।”

এই ভুল বোঝাবুঝি কেবল পাঠকের নয়, অনেক সময় পরিবারের ভেতরেও ঘটে। কোনো লেখক যদি উপন্যাসে দাম্পত্য কলহের দৃশ্য আঁকেন, আত্মীয়স্বজন সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন তুলবেন “তোমাদের বাসায় কি সবসময় এমন হয়?” লেখক যদি স্ত্রীকে নিয়ে গল্প লেখেন, সবাই ধরে নেবে চরিত্রটা তার স্ত্রীরই প্রতিচ্ছবি। অথচ লেখক তো মানুষের জীবনের হাজারো গল্প শুনে থাকেন, দেখেন, কল্পনা করেন। সেই সবকিছু মিলিয়েই দাঁড়িয়ে যায় একটি চরিত্র, যাকে পাঠকেরা লেখকের ছায়া ভেবে ভুল করেন।

চিত্রশিল্পী বনাম লেখক

ভাবুন তো, একজন চিত্রশিল্পী নদীর ছবি আঁকলেন। ছবিতে দুঃখ আছে, একাকিত্ব আছে, ভোরের আলো ফুটে উঠেছে। কেউ কি তখন তাকে জিজ্ঞেস করে “আপনার জীবনে কি এমন নদী আছে?” না। কিন্তু লেখকের ক্ষেত্রে সবাই ভাবে, তিনি যা লিখেছেন, সেটাই তাঁর জীবনের হুবহু প্রতিচ্ছবি।

বৃষ্টির গল্প

ধরুন, একজন লেখক বৃষ্টি নিয়ে গল্প লিখলেন। সেই গল্পে হয়তো থাকবে বৃষ্টিভেজা রাস্তায় হেঁটে যাওয়া এক তরুণীর কথা, কিংবা বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধের নিঃসঙ্গতা। পাঠক ধরে নেবে “আচ্ছা, লেখক নিশ্চয়ই বৃষ্টিভেজা রাস্তায় কোনো প্রেমের স্মৃতি খুঁজেছেন।” অথচ বাস্তবতা হলো, লেখক হয়তো সেদিন একফোঁটাও ভিজেননি। তিনি শুধু দূর থেকে মানুষকে দেখে ভেবেছেন, বৃষ্টির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কেমন হতে পারে।

আবার যদি কোনো চরিত্র মৃত্যুর ভয়ে কাঁপে, পাঠক ধরে নেবে লেখকের জীবনে নিশ্চয়ই কোনো ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। অথচ লেখক হয়তো কেবল হাসপাতালের সামনে বসে মানুষদের মুখভঙ্গি লক্ষ্য করেছিলেন, আর সেই থেকে জন্ম নিয়েছে চরিত্রের ভয়।

লেখক বনাম লেখা

সত্যিটা হলো লেখক আর লেখা আলাদা সত্তা। লেখক এক রকমের কারিগর। তিনি চারপাশের ঘটনা, অন্যের অভিজ্ঞতা, নিজের কল্পনা সবকিছু মিলিয়ে গল্প তৈরি করেন। তাঁর লেখা চরিত্ররা হাসে, কাঁদে, প্রেমে পড়ে, ভেঙে যায় কিন্তু তাদের জীবন সবসময় লেখকের জীবন নয়। তারা আলাদা, স্বাধীন, নিজেদের অস্তিত্বে টিকে থাকে।

তবু পাঠকেরা লেখকের ভেতরে লেখাকে, আর লেখার ভেতরে লেখককে খুঁজে ফেরে। কেন? কারণ পাঠক গল্পকে নিজের জীবনের সঙ্গে মেলাতে ভালোবাসে। গল্পে যে কষ্টের কথা লেখা আছে, পাঠক ভাবে এটাই লেখকের কষ্ট। গল্পে যে প্রেম, পাঠক ভাবে এটাই লেখকের প্রেম।

হয়তো এটাই সাহিত্যর সবচেয়ে বড় জাদু যা লেখক লিখেছেন, তা পাঠকের কাছে হয়ে ওঠে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মতো। লেখক চরিত্রকে পাঠকের হাতে তুলে দেন, আর পাঠক সেই চরিত্রে নিজের ছায়া খুঁজে পায়।

শেষ কথা

একজন লেখক আসলে আলোকচিত্রীর মতো। তিনি চারপাশ থেকে ছবি তোলেন, কিন্তু ছবির ভেতরে সবসময় তাঁকে দেখা যায় না। তিনি চরিত্র গড়েন, অনুভূতিকে আঁকেন, কিন্তু প্রতিটি অনুভূতি তাঁর নিজের নয়।

তবু পাঠক ভুল করে ভাবেন চরিত্রই লেখক, লেখকই চরিত্র। অথচ লেখক তখন দূরে বসে নিরীহ ভঙ্গিতে হাসেন
“আমি তো শুধু গল্প বলেছি, তোমরা কেন আমাকে সেই গল্পে খুঁজে বেড়াচ্ছ?”

_❐ নাসির উদ্দিন নাস
নাস বর্ণালেখ্য

#দৃশ্যপটের_অন্তর্জগৎ #নাস_বর্ণালেখ্য
- #নাসের_ছন্দে_নিরন্তর_বর্ণাভাষা।

নৈকট্য সংকল্প!

05/09/2025

বাবারা কেন হাজার বছর বাঁচে না! 💔🥺

যেন তারা থাকলে পৃথিবীটা আরও নিরাপদ হতো,
সন্তানদের কাঁধে বোঝা নয় অটুট সাহস থাকতো।
বাবার ছায়া মানেই শান্তি, আশ্রয় আর ভরসার নাম।

তবুও নিয়তির কঠিন সত্য হলো
বাবারাও একদিন চলে যান, রেখে যান শূন্যতা আর অশেষ স্মৃতি।
তাদের ভালোবাসা সময়ের সীমা মানে না,
হাজার বছর না বাঁচলেও সন্তানের হৃদয়ে তারা বেঁচে থাকেন চিরকাল।

_❐ নাসির উদ্দিন নাস
নাস বর্ণালেখ্য

#দৃশ্যপটের_অন্তর্জগৎ #নাস_বর্ণালেখ্য
- #নাসের_ছন্দে_নিরন্তর_বর্ণাভাষা।

"মানুষের মন আর সমুদ্র"বিকেলের আকাশ আজ অন্যরকম সূর্যের আলো যেন সোনালি রেশমি পর্দার মতো সমুদ্রের পৃষ্ঠে নেমে এসেছে। দূরের ...
04/09/2025

"মানুষের মন আর সমুদ্র"

বিকেলের আকাশ আজ অন্যরকম সূর্যের আলো যেন সোনালি রেশমি পর্দার মতো সমুদ্রের পৃষ্ঠে নেমে এসেছে। দূরের ঢেউয়ের গর্জন শোনায় শক্তিশালী, কিন্তু কাছে এলে বোঝা যায় এটা শুধু শব্দ নয়, এক ধরনের গানের মতো, যা কেবল মন দিয়ে শোনা যায়।

আমি বালির ওপর বসে আছি। চারপাশে শুধু বাতাস, আকাশ আর জল। কোনো কোলাহল নেই, কোনো ব্যস্ত শহরের তাড়াহুড়া নেই। কেবল সমুদ্রের গভীর নিশ্বাস। আর এই নীরবতার মাঝেও আছে অস্থিরতা যা চোখে ধরা পড়ে না, কেবল অনুভব করা যায়।

মনে হয় মানুষও ঠিক এমন। বাইরে থেকে সবাইকে সহজ, শান্ত, হাসিখুশি মনে হয়। কারও চোখে হাসি, কারও ঠোঁটে রসিকতা। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে অগণিত না-পাওয়ার বেদনা, অভিমান আর ক্লান্তি।
একজন অফিসের সহকর্মীর হাসি যেন অন্যদের আনন্দের কারণ, অথচ সে ঘরে এসে কাঁদে।
একজন বন্ধু সব সময় রসিকতা ছড়ায়, অথচ মনে মনে নিজের হারানো স্বপ্নের ব্যথা চাপা রাখে।
এমন অনেক ছোট ছোট গল্প, যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। মানুষ দিনের আলোয় মুখোশ পরে ঘুরে বেড়ায়, যেন সবাইকে বলতে চায় “আমি ভালো আছি।” কিন্তু সেই মুখোশের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে সত্যি।

রাত নামলে মানুষ একা হয়। শহরের আলো নিভে যায়, চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে আসে। তখন মানুষ নিজের সঙ্গে লড়াই করে চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু মুছে ফেলে, বুকের ভেতর চাপা থাকা অভিমান গিলে নেয়। বাইরের পৃথিবী শুধু দিনের হাসিটুকুই দেখে। রাতের নীরবতায় লুকিয়ে থাকে অগণিত গল্প, অচেনা ব্যথা।

আমি সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে ভাবি জীবনও ঢেউয়ের মতো। আসে, ভাঙে, আবার ফিরে যায়। সুখ ভেঙে যায়, দুঃখও ভেঙে যায়, কিন্তু দুটোই আসে নতুন রূপে। সমুদ্র যেমন কখনো শান্ত, কখনো উত্তাল, মানুষের মনও তেমন কখনো নীরব, কখনো ঝড়ো।
মনে পড়ে শিশুকাল, যখন ছোট ছোট ঢেউয়ে কূলের বালিতে পা ভিজত, আনন্দ ভেসে যেত হৃদয়ে। এখন বড় হয়ে সেই ঢেউ যেমন শান্ত মনে হয়, তেমনি মানুষও তার ব্যথার ঢেউ গোপন রাখে।

হাওয়াটা জোরে বইছে। মনে হচ্ছে সমুদ্র ফিসফিস করে কিছু বলছে
“মানুষকে বোঝা সহজ নয়। যেমন আমাকে শুধু চোখে দেখে বোঝা যায় না, তেমনি মানুষের মনও শুধু হাসি দেখে বোঝা যায় না। গভীরে নামতে হয়। আর সেই গভীরে নামার সাহস সবার থাকে না।”

আমি দীর্ঘক্ষণ নীরবে বসে থাকি। ঢেউয়ের গর্জন শুনি, বাতাসের গন্ধ নিই, আকাশের রঙ দেখি। মনে হয় সমুদ্রটা যেন আয়না তার ভেতর আমি নিজেকেই দেখতে পাই। হাসিমুখটি যার ভেতরে লুকিয়ে আছে অগণিত না বলা গল্প, চাপা থাকা অনুভূতি।

হয়তো এজন্যই বলা যায়
“মানুষের মন আর সমুদ্র এই দুইয়ের গভীরতা বোঝার জন্য শুধু চোখ নয়, দরকার হৃদয়ের কান। যে শুনতে পারে, সেই-ই সত্যি বোঝে। যে গভীরে নামার সাহস রাখে, সেই-ই রহস্য দেখতে পায়।”

_❐ নাসির উদ্দিন নাস
নাস বর্ণালেখ্য

#দৃশ্যপটের_অন্তর্জগৎ #নাস_বর্ণালেখ্য
- #নাসের_ছন্দে_নিরন্তর_বর্ণাভাষা।

নৈকট্য সংকল্প!🌊🏝️

Address


Telephone

+8801643821016

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nasir Uddin Nas posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Nasir Uddin Nas:

Shortcuts

  • Want your business to be the top-listed Media Company?

Share