19/08/2026
২২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক ও মানবপাচারের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা: হেডমাঝি রফিককে সরাতে ইসলাম ও নুর জোহার চক্রের মোটা অঙ্কের টাকা ঢালার অভিযোগ
বিশেষ সংবাদদাতা:
কক্সবাজারের উখিয়ার ২২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ক্যাম্পজুড়ে মাদক কারবার এবং মানবপাচারের একছত্র প্রভাব বিস্তারে মরিয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় একটি কুখ্যাত অপরাধী চক্র। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কথিত ইসলাম ও নুর জোহার নেতৃত্বাধীন এই বাহিনী ক্যাম্পটিকে অপকর্মের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে। তবে তাদের এই অনৈতিক বাণিজ্যের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন ২২ নম্বর ক্যাম্পের হেডমাঝি রফিক। তাকে পদ থেকে সরাতে বা রুট থেকে দূর করতে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঢালছে চক্রটি।
ইসলাম ও নুর জোহা বাহিনীর কৌশল ও অপতৎপরতা
স্থানীয় ও ক্যাম্প সূত্রের খবর অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ২২ নম্বর ক্যাম্প এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে সক্রিয় রয়েছে ইসলাম ও নুর জোহার সশস্ত্র অনুসারীরা।
মাদক ও মানবপাচারের রুট বিস্তার: মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন সুবিধাজনক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ইয়াবা, আইস এবং অবৈধ মানবপাচারের বড় চালান নিয়ন্ত্রণের চক্রান্ত করছে তারা।
সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন: সাধারণ রোহিঙ্গাদের জিম্মি করে নিজেদের অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করছে এই গ্রুপটি। ক্যাম্পের পরিস্থিতি অশান্ত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়াই এদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
নতুন কৌশল গ্রহণ: সরাসরি সংঘাতের পাশাপাশি তারা প্রশাসনিক ও সামাজিকভাবে প্রভাব বিস্তার করতে কূটকৌশলের পথ বেছে নিয়েছে।
পথের কাঁটা হেডমাঝি রফিক
ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত হেডমাঝি রফিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় বর্তমানে তিনি চক্রটির প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।
অপকর্ম প্রতিরোধে ভূমিকা: রফিকের কড়া নজরদারি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার কারণে ইসলাম ও নুর জোহার গ্রুপের একাধিক মাদকের চালান ও পাচারের পরিকল্পনা ভণ্ডুল হয়ে যায়।
মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন: রফিককে তার দায়িত্ব থেকে সরাতে বা বিতর্কিত করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে বিপুল পরিমাণ টাকা ঢালছে সিন্ডিকেটটি।
জীবননাশের হুমকি: প্রভাব বিস্তার করতে না পেরে হেডমাঝি রফিক ও তার পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে সাধারণ রোহিঙ্গারা।
অপরাধী চক্রটির একের পর এক ষড়যন্ত্র ও পেশি শক্তির দাপটে ২২ নম্বর ক্যাম্পের সাধারণ আশ্রয়প্রার্থীরা চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিবাদ করলে বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিলে মারাত্মক পরিণতির মুখোমুখি হতে হয় বলে সাধারণ রোহিঙ্গারা মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন।
ক্যাম্পের শান্তি বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ দাবি করছেন সচেতন মহল।