22/08/2025
কয়েক বছর ধরে গরু চুরির সঙ্গে জড়িত আব্দুল জলিল । তার বিরুদ্ধে গরু চুরি ও পাথর ব্যাবসায় প্রতারণা, নারী দিয়ে ব্লাকমেই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, সাংবাদিকতার পরিচয়, মাদক ব্যবসা, সীমান্তে চোরাকারবারীদের সাথে তার সক্ষতা সহ নানান অপকর্মের সাথে লিপ্ত ছিলো সদ্য বহিষ্কৃত যুবদল কর্মি আব্দুল জলিল । পঞ্চগড়, রাজবাড়ী গাজিপুর সহ নরসিংদী, ঢাকার শ্যামপুর মডেল থানা, উত্তর বাড্ডা, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রতারণার মামলাও রয়েছে জলিলের বিরুদ্ধে। কিন্তু পেশা ছাড়েনি এখোনো। ২০২০ সালে পঞ্চগড়ে গরু চোরের মামলায় ১৮ দিন জেলে থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে ফের নতুন উদ্যম নিয়ে শুরু করে চুরি ও প্রতারনা ব্যবসা । তার দির্ঘদিন চলাফেরা আওয়ামীলীগের সাথে, রাজনৈতিক পরিচয় সকলের জনা সে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মি। গরু চুরি মামলার আসামি হওয়ার পর আওয়ামীলীগ তাকে দল থেকে বের করে দেয়। এবং আওয়ামীলীগের অনেকেই তার সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে। এর পর হটাৎ সে নিজেকে যুবদলের তেঁতুলিয়া উপজেলা শাখার দেবনগড় ইউনিয়নের নেতা পরিচয় দিয়ে আসছে। এমন ঘটনায় হতবাক বিএনপি সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মিরা।
এই ভয়ঙ্কর আব্দুল জলিল তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়নের মাঝগ্রাম এলাকার ছহির উদ্দিন ( ওরফে ) সরাফত আলীর ছেলে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে জানা গেছে,
তার বিরুদ্ধে পঞ্চগড়ে গরু চুরি ও নরসিংদী বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জলিল ও তার বাবাকে আসামি করে আইটিসি ধারায় প্রতারণা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানাগেছে। অপরদিকে ঢাকার শ্যামপুর মডেল থানা, ডি.এম.পিতে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আর্তসাৎ করার অভিযোগ দায়ের করেছেন আরেক ভুক্তভোগী। একই সাথে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেয়ায় আব্দল জলিলকে আসামি করে জিডি মূলে অভিযোগ দায়ের করেছে আরেক ভুক্তভোগী। এর মাঝে গত ২০২০ সালে পঞ্চগড় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি গরু চুরির মামলা দায়ের হয়। মামলার এজাহারে সুত্রে জানা যায়, গরু চুরি করে জবাই করে খাওয়ার অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করে জেল হজতে প্রেরন করলে ১৮ দিন জেল হাজত বাস করেন আব্দুল জলিল। একাধীক তথ্য পাওয়ার পর অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, জামান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তার বিরুদ্ধে অর্থ আর্তসাৎ করার অভিযোগ দায়ের করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানে বিরিয়ে আসে আরো অনেক কিছু। একই সাথে ঢাকার বসুন্ধরা রিভার ভিউ এলাকার পাথর ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলামের পচাশি হাজার টাকা, ঢাকার উত্তর বাড্ডা এলাকার মের্সাস আইলেট প্লাস এর সত্তাধিকারী ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের নব্বই হাজার টাকা, গাজিপুর ও ঢাকার পাথর ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান, উত্তম খান, শানভি আহম্মেদ, এম এ শাকুল ও মান্না হীরা এবং রন্জিৎ শর্মা সহ অনেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা চালিয়ে আসছে। ভুক্তভোগী অনেকেই পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতা নিয়ে তার বাড়িতে অভিযান চালালেও কখনো তাকে পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির যুবদল নেতা পরিচয়ে চুরি ও প্রতারণার পাশাপাশী নারী দেহ ব্যবসায়ীদেন নিয়ে এলাকার মানুষদের লোভে ফেলে ফাঁদ তৈরী করে। একসময় মানুষজনকে আটক করে বিবস্ত্র অবস্থায় ভিডিও ধারন করে তা প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ভুক্ত ভোগীরা লোক লজ্জার ভয়ে কেউ কখনো প্রতিবাদ করেনি। আর এসব কর্মকান্ডে একটি গ্যাং তৈরি করেছে। এদিকে আব্দুল জলিল নিজেকে বিএনপি'র নেতা পরিচয় দিয়ে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নায়ন অগ্রযাত্রর বিরুদ্ধে প্রায় সময় ফেসবুকে লাইভে এসে সমালোচনা করছে।
#পঞ্চগড় #তেতুলিয়া #দেপনগড়