25/07/2026
Hi!
আমি ফাহাদ। আর আজকের দিনটা আমার জীবনে সবচেয়ে বেশি রিয়েলাইজেশানের দিন গুলোর মধ্যে একটা। জ্বী গত কিছুদিন ধরে আমি খুব বিব্রতকর অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। অনেক লোক অনেক ধরনের কথা বলছিলো আমার সমন্ধে। যা আমার ব্যক্তিগত এবং সামাজিক দুই জীবনেই প্রভাব ফেলেছে খুব সম্ভব অনেক অংশেই।
কখনো কখনো খুব ছোট জিনিস গুলোই আপনার ভুল ভেঙে দিতে সক্ষম হয় আবার কখনো কখনো হাজার বড় বড় কারণও আপনার ভুল ভাঙতে পারঙ্গম হয়ে ওঠে না।
আমি আজ কিছু কাজে এক হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সত্যি বলতে হাসপাতাল এমন একটি জায়গা যেখানে গিয়ে মানুষের আহাজারি আর সুখ দুটো এক সাথে উপলব্ধি করা যায়।
এজন্য আমার হাসপাতাল অনেক ভালো লাগে ঠিক কতটা তা বলে বোঝাতে পারবো না।
যাইহোক আমি কথা বলতে বলতে আবার কূল ছাড়া নায়ের মতো অন্য দিকে চলে যাচ্ছি মনে হয়।
হাসপাতালে আমার প্রয়োজনীয় কাজ গুলো শেষ করে আমি আমার বন্ধুর জন্য গেটে অপেক্ষা করছি হাতে একটা চায়ের কাপ আমার।
গেট দিয়ে হাওয়ার বেগে একটা সিএনজি ঢুকলো হাসপাতালে অসুস্থ রোগী নিয়ে।
কিছুক্ষণ পর দেখলাম একটা ছেলে প্রচন্ড চিন্তায় ছটফট করছে। ঠিক যতটা চিন্তা আপনার কোনো কাছের লোক খুব অসুস্থ হলে আপনি করবেন ততটা।
বিশ্বাস করবেন না তাও তার দুশ্চিন্তা দেখে আমার যে কত চিন্তা হচ্ছিলো বলে বোঝাতে পারবো না। তার পরনের কাপড়ের বর্ণনা দেই তাহলে বুঝবেন কেনো বলছি। তার পরণে একটা জিন্স প্যান্ট যেটা হাটুর কাছে ছিড়ে গেছে রক্ত পড়ছে হাঁটু থেকে। হাতের কুনুই টা ফেটেছে। মাথায় তার চোট। দেখে মনে হচ্ছিলো সে নিজে এক্সিডেন্ট করে এসেছে।
খানিকক্ষণ পর আমার বন্ধু এলো।
আমি তাকে বললাম এই রোগীটার বিষয়ে।
সে আমাকে বললো রোগী মানসিক ভাবে বিকার গ্রস্ত আর সেই ছেলেটা তার স্বামী। স্বামীর সাথে হালকা মনমালিন্য হওয়ায় সে হাতের শিরা কেটেছে।
ছেলেটা যে কি ভীষণ যন্ত্রণা নিয়ে তার সাথে আসা আরেকজন লোককে বলছিলো সে মস্ত বড় অপরাধ করে ফেলেছে সে কিচ্ছু বোঝা পাচ্ছে না সে তাকে ছাড়া বাঁচবে না।
খুব আজব ভাবেই জানতে ইচ্ছে হইলো কি করসিলো ছেলেটা আমি আর ফরহাদ আগায় গেলাম জিজ্ঞেস করলাম কি সমস্যা হইছিলো ছেলেটার সাথে আসা লোকটা বললো, সকাল বেলা বাসা থেকো কাজে যাবার সময় সে তার প্রিয়শীকে একটু উচু গলায় ধমক দিয়েছিলো আর ফোন ধরে নি। বিকেলে তার বাসার লোক কল করে খবর দেয় রুমের দরজা বন্ধ। দরজা ভেঙে তারা দেখে হাতের শিরা কেটে তার প্রয়শি পড়ে আছে।
নার্স এর থেকে জানতে পারলাম তিন ব্যাগ ০+ রক্ত লাগতো যার মধ্যে এক ব্যাগ আমার ছিলো আমি সত্যিই ভাগ্যবান একটা অমায়িক ভালোবাসার অংশ হতে পারলাম।
ছেলেটার মতো ভালোবাসতে হবে! অন্যথায় ভালোবাসা বৃথা।
আমার হাতে চায়ের কাপটা তখনও ধরা যখন আমি এসব ভাবছি । সন্ধ্যা ৭:৩০ বাজে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে। কিন্তু মনটা কেনো জানি বলতেছে, ' রাতুল তুই কি আদেও তোর জীবন এর মানুষ গুলোকে নিয়ে এতোটা সিরিয়াস? তোর জীবনের মানুষদেরকে তো তুই প্রতি নিয়ত কত কত ভাবে আঘাত করিস। বুঝে না বুঝে তুই তো কখনো তাদের চাওয়া পাওয়া নিয়ে এতো ভাবিস না। সে হোক তোর মা-বাবা-বোন বা অন্য কেউ যাকে তুই মুখে বলিস ভলোবাসিস বা স্নেহ করিস। তারা তো তোকে বোঝায় তোর কথায় হয়তো মাজে মাঝে মন তাদের বিষন্ন হয় তবে তারা কখনো তোকে ছেড়ে যায় না। তারা তোকে ভালোবাসে বলে। '
I AM SORRY!
বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছি!