17/03/2025
#সফলতার_গল্প : ০২
অর্ণব মিত্র
শিক্ষার্থী, ইন্সটিটিউট অব ফরেস্ট্রি এ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
এসএসসি ব্যাচ-২০১৭
সাপলেজা মডেল হাইস্কুলের এসএসসি ২০১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী আমি। স্কুলজীবনের প্রথম দুটি ধাপ (পিইসি, জেএসসি ) কৃতিত্বের সাথে পার হবার পর কিছুটা ধাক্কা আসে এসএসসি'র ফলাফলে। অনেকের ভালো ফলাফলের মাঝে আমার ফলাফলের চেহারা তখন অতি দরিদ্র (৪.৬৪ )। এতে অবশ্য আমার মন খারাপ ছিলোনা তেমন, তবে যে আনন্দটুকু পাওয়ার কথা ছিলো তা পাইনি।
আমি প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে না পারলেও, আমার পরিবার আমাকে উৎসাহিত করেছে। বিশেষ করে আমার মা, যিনি আমার সকল শুভ কর্মের অনুপ্রেরণা। আমার সব সময়ই মনে হয়, পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, মা পাশে থাকলে পৃথিবীর সমস্ত কিছুই অনুকূলে থাকে৷
এরপর আসলো কলেজ ভর্তির অধ্যায়। রেজাল্ট খুব বেশি ভালো না হওয়ার কারনে, মানুষ চেনে, এমন কোনো কলেজে ভর্তির সুযোগ আমার হয়নি। আমি ভর্তি হয়েছিলাম সরকারি বরিশাল কলেজে৷ কেটে গেলো দুটি বছর৷ এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলাম৷ এবারও প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হলাম (৪.৯২)।
ফলাফল যাই হোক, আমি আমার সামর্থ্য সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে আমার মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি যা আগেও বলেছি৷ মা, আমাকে প্রায়ই বলে, "মানুষের জীবন যেকোনো ভাবে কেটেই যায়৷ তাই পেতেই হবে, না পেলে সব শেষ। এমন কোনে ব্যাপার নেই। শুধু চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। বাকিটা ঈশ্বর যেমন চান।" আমার মায়ের আশ্রয় আমাকে সব সময় চিন্তামুক্ত থাকতে সাহায্য করেছে।
এরপর এলো ভর্তি পরীক্ষার অধ্যায়৷ এখানের তুমুল প্রতিযোগিতার কথা সবারই জানা৷ তবু, ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় আমি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলাম। এর মধ্য থেকে আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিয়েছিলাম ভর্তির জন্য।
আমি এখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আছি। আগামীদিনে ভালো কিছু করার আশা রেখে শেষ করছি। প্রার্থনায় রাখবেন আমাকে।