21/05/2026
রামিসা যেন এই দেশের শেষ রামিসা হয়।
মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৬।
সকাল সাড়ে দশটা।
ঢাকার ব্যস্ত শহর তখনও নিজের ছন্দে চলছিল। কেউ অফিসে, কেউ স্কুলে, কেউ রান্নাঘরে। ঠিক সেই সময়, পল্লবীর একটি বাসায় নিভে যায় আট বছরের ছোট্ট একটি জীবনের আলো।
রামিসা আক্তার।
দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
সকালে বড় বোনকে এগিয়ে দিতে গিয়েছিল। মা রান্নাঘরে ছিলেন। বাবা কর্মস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতিতে। একটি সাধারণ পরিবারের একেবারে সাধারণ সকাল। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সকাল পরিণত হয় এক দুঃস্বপ্নে।
একজন মা দরজার বাইরে পড়ে থাকা নিজের সন্তানের একটি জুতা দেখেছিলেন।
মাত্র একটি জুতা।
তারপর দরজায় কড়া নাড়া। কোনো সাড়া নেই।
একটি অস্বাভাবিক নীরবতা।
যে নীরবতার ভাষা একজন মা পৃথিবীর সবার আগে বুঝতে পারেন।
পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর যা পাওয়া গেছে, তা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়। এটি আমাদের সমাজের বিবেকহীনতার নগ্ন চিত্র। একটি নিষ্পাপ শিশুকে এমন নির্মমতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, যা লিখতেও হাত কেঁপে ওঠে।
আমরা আবারও কিছুদিন ক্ষোভ দেখাবো, কিছু স্ট্যাটাস দেবো, কিছু হ্যাশট্যাগ লিখবো, তারপর ধীরে ধীরে সব ভুলে যাবো?
না। এবার ভুলে যাওয়া চলবে না।
কারণ প্রতিটি ঘরে একটি রামিসা আছে।
আপনার মেয়ে।
আমার মেয়ে।
আমাদের ছোট বোন।
আমাদের ভাগ্নি।
আমাদের ভবিষ্যৎ।
আজ বাবা-মায়েরা সন্তানকে মাদরাসায় পাঠাতে ভয় পান। স্কুলে পাঠাতে ভয় পান। পাশের বাসায় খেলতে দিতে ভয় পান। এমনকি নিজের বাসার পাশের দরজার মানুষটিকেও বিশ্বাস করতে ভয় পান। এ কেমন সমাজ আমরা তৈরি করেছি?
আইন আছে।
ধারা আছে।
ঘোষণা আছে।
কিন্তু বিচার কোথায়?
শিশু ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিটি মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
ফাস্ট ট্র্যাক ট্রাইব্যুনাল বাধ্যতামূলক করতে হবে।
প্রতিটি থানায় শিশু সুরক্ষা ডেস্ক থাকতে হবে।
প্রতিটি স্কুলে শিশু নিরাপত্তা শিক্ষা চালু করতে হবে।
প্রতিটি নতুন ভাড়াটিয়ার বাধ্যতামূলক পুলিশ ভেরিফিকেশন নিশ্চিত করতে হবে।
এগুলো কোনো বিলাসিতা নয়।
এগুলো একটি সভ্য রাষ্ট্রের ন্যূনতম দায়িত্ব।
ছোট্ট রামিসার জন্য দোয়া করি।
আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন।
তার বাবা-মাকে এই অসহনীয় শোক বহন করার শক্তি দিন।
আর এই নিষ্পাপ শিশুটির রক্ত যেন আমাদের ঘুমিয়ে থাকা বিবেককে সত্যিই জাগিয়ে তোলে।
কাল আবার সকাল হবে।
আবার কোনো মা সন্তানের চুল আঁচড়ে স্কুলের জন্য তৈরি করবেন।
আবার কোনো বাবা সন্তানের কপালে চুমু খেয়ে কাজে বের হবেন।
সেই সকালগুলো নিরাপদ হোক।
সেই শিশুগুলো বেঁচে থাকুক।
আর আমরা সবাই একসাথে বলতে পারি—
রামিসা যেন এই দেশের শেষ রামিসা হয়।
#রামিসার_জন্য_বিচার_চাই
#শিশু_নিরাপত্তা_চাই