12/03/2026
বাংলাদেশের রাজনীতি, খেলাধুলা সহ সামগ্রিক ইতিহাসের সর্বকালের সবচেয়ে আন্ডাররেটেড ক্যারাক্টারকে শেষ জীবনে স্পিকার পদে মনোনীত করলেন তারেক রহমান। মেজর হাফিজউদ্দিন আহমেদের জীবনে আর চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই। এক জীবনে এমন কিছু নাই যে পাইলেন না।
একমাত্র জীবিত মুক্তিযোদ্ধা যাকে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব দেওয়ার সুপারিশ ওঠেছিলো। যশোর ক্যান্টনমেন্টের একমাত্র বাঙালি অফিসার যে বিদ্রোহ করেছিলো। কামালপুর যুদ্ধের ঐতিহাসিক রণাঙ্গনের যোদ্ধা। পুরো সিলেট দখল করেছেন জিয়াউর রহমানের অধীনে যুদ্ধ করে।
তিনি ফিফা স্বীকৃত বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাংলাদেশী ফুটবলার। ষাটের দশকে ছিলেন বাংলাদেশের দ্রুততম মানব। খেলোয়াড়ী জীবনে পাকিস্তান জাতীয় দলের নেতৃত্ব দেওয়া একমাত্র বাঙালি ফুটবলার ছিলেন।
ক্যারিয়ার শেষে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এশিয়ার শীর্ষ ফুটবল সংস্থা এএফসির ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। হয়েছেন ফিফার গুরুত্বপূর্ণ বডির সদস্য। ম্যারাডোনাসহ নানান বিতর্কিত ইস্যূতে ফিফাী তদন্ত সংস্থায় কাজ করেছেন।
তিনি সেনাবাহিনীর অন্যতম চৌকস অফিসার হিসেবে সারাজীবন কাটিয়ে রাজনীতিতে নেমেছিলেন জিয়াউর রহমানের ডাকে। ৯১ তে স্বতন্ত্র ইলেকশন করে এমপি হয়েছেন। এরপর বিএনপিতে এসেছেন। সাতবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। মন্ত্রী হয়েছেন কয়েকবার। এবারও হয়েছিলেন। তবে এবার নিলেন স্পিকারের দায়িত্ব।
সারাজীবন ছিলেন লাউড। কাউরে পরোয়া করে কথা বলতেন না। ওয়ান ইলেভেনে ছিলেন সংস্কারপন্থী। তবে কখনো বিএনপি ছেড়ে যান নাই। গত সতেরো বছর বিএনপির নেতৃত্বলর প্রচুর সমালোচনা করেছেন। তারেক রহমানকে যে তার নেতা হিসেবে মানেন না অনেক বার বলেছেন। সেই তারেক রহমানই পাঁচই আগষ্টের পর তাকে স্থায়ী কমিটির সদস্য বানান। এরপরও তিনি তারেক রহমান এরিয়ে চলতেন। কিন্তু আজ তারেক রহমান সেই লোককেই স্পিকার বানালো।
২৪ ইলেকশনের আগে সাকিব গিয়েছিলো তার বাসায়। নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করার জন্যে। তিনি তাতেও সায় দেন নাই। শেখ হাসিনা ডামি ইলেকশনের পর হুইলচেয়ারে প্রচন্ড অসুস্থ থাকা অবস্থায় তাকে কারাগারে পাঠায়। কিন্তু তিনি দমে যান নাই। তিনি সবসময় বলতেন, সারাজীবন বিএনপি করেছি, শেষ জীবনেও এটা করেই মরতে চাই। তারেক রহমানও তাকে তার এই লয়্যালিটির পুরষ্কার দিলো। সাতবারের অভিজ্ঞ পার্লামেন্টেরিয়ানকে স্পিকার হিসেবে নিযুক্ত করলেন। এক জীবনে যা যা পাওয়ার সবই পেলেন এই বীর বিক্রম।