The Mark

The Mark The anatomy of mystery

দ্য গ্রেট মাইগ্রেশনপ্রকৃতির সবচেয়ে বড় এবং রোমাঞ্চকর রোড ট্রিপ নিয়ে বিজ্ঞান ভিত্তিক বিস্তারিত আলোচনা পড়তে ও জানতে ভিজিট ক...
26/06/2026

দ্য গ্রেট মাইগ্রেশন

প্রকৃতির সবচেয়ে বড় এবং রোমাঞ্চকর রোড ট্রিপ নিয়ে বিজ্ঞান ভিত্তিক বিস্তারিত আলোচনা পড়তে ও জানতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট https://themark12.vercel.app/ ; অথবা সরাসরি পড়ুন https://themark12.vercel.app/articles?article=7e47e865-b44d-4aac-9d21-d91b43455bbd এই লিংক থেকে

The Anatomy of an Invisible Occupation: আধুনিক নব্য-উপনিবেশবাদইতিহাসের পাতা ওল্টালে আমরা এক শতাব্দী আগের যে রূপ দেখতে পা...
20/06/2026

The Anatomy of an Invisible Occupation: আধুনিক নব্য-উপনিবেশবাদ

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে আমরা এক শতাব্দী আগের যে রূপ দেখতে পাই—যেখানে কামান, যুদ্ধজাহাজ আর বুটের নিচে পিষ্ট হতো কোনো স্বাধীন ভূখণ্ড—আজকের বাস্তবতা তার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন, অথচ এক অদ্ভুত সমান্তরালে চলমান। ঊনবিংশ বা বিংশ শতাব্দীর সেই দৃশ্যমান সাম্রাজ্যবাদ আজ হারিয়ে যায়নি, বরং তা এক অত্যন্ত পরিশীলিত, সুক্ষ্ম এবং অদৃশ্য রূপ ধারণ করেছে। বন্দুকের নল কিংবা দৃশ্যমান কাঁটাতারের সীমানা আজ আর কোনো জাতিকে পরাধীন করার জন্য অপরিহার্য নয়; কারণ আধুনিক যুগে সাম্রাজ্য বিস্তারের কৌশল বদলে গেছে। আজ দেশের মানচিত্র অপরিবর্তিত রেখে, সার্বভৌমত্বের রঙিন খোলসটা অক্ষুণ্ণ রেখেই একটা আস্ত সমাজ ও রাষ্ট্রকে পর্দার আড়াল থেকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

এই আধুনিক বুদ্ধিবৃত্তিক এবং অর্থনৈতিক দাসত্বের নামই হলো নব্য-উপনিবেশবাদ (Neo-Colonialism)। এই শব্দটির জনক এবং ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট কোয়ামে নক্রুমা (Kwame Nkrumah) তার বিখ্যাত বইয়ে লিখেছিলেন:

> **“নব্য-উপনিবেশবাদের মূল কথা হলো—যে রাষ্ট্র এর শিকার হচ্ছে, তাত্ত্বিকভাবে সেটি স্বাধীন এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমস্ত খোলস তার আছে। কিন্তু বাস্তবে তার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক নীতি নির্দেশিত হয় বাহিরের কোনো পরাশক্তি দ্বারা।”**

মানুষের তৈরি এই কৃত্রিম গোলকধাঁধার নিচে চাপা পড়ে থাকা সত্যকে উন্মোচন করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য, কারণ আমরা বিশ্বাস করি—*“সত্য কেবল আকাশে নেই, সত্য আছে শোষিতের দীর্ঘশ্বাসেও।”* আজ আমরা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি শোষিত মানুষের সেই দীর্ঘশ্বাসের মনস্তাত্ত্বিক ও কাঠামোগত কারণগুলো অনুসন্ধান করব, যা আধুনিক পুঁজিবাদ এবং ইসলামী দর্শনের গভীর সংযোগস্থল থেকে উৎসারিত।

নব্য-উপনিবেশবাদের প্রথম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী জালটি বোনা হয় ‘অর্থনৈতিক ঋণের’ সুতো দিয়ে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF), বিশ্বব্যাংক (World Bank) কিংবা প্রথম বিশ্বের পরাশক্তিগুলো যখন কোনো উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশকে বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক সাহায্য বা ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের প্রস্তাব দেয়, তখন বাহ্যিকভাবে তাকে মানবিকতা মনে হতে পারে। কিন্তু এই সহায়তার আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক দীর্ঘমেয়াদী শৃঙ্খল। ঋণের শর্ত হিসেবে এমন সব কাঠামোগত সংস্কার (Structural Adjustment) চাপিয়ে দেওয়া হয়, যা একটি দেশের অভ্যন্তরীণ কর ব্যবস্থা, মুদ্রা নীতি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর থেকে স্বকীয় নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয়। কিস্তি আর সুদের এই চক্রবৃদ্ধি হারের ফাঁদে পড়ে একটি দেশ নিজের অজান্তেই তার সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারায়।

ইসলাম আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগেই এই সুক্ষ্ম পদ্ধতিগত শোষণের মূলোৎপাটন করেছে। পবিত্র কুরআনে 'রিবা' বা সুদকে যে চরমতম অবাধ্যতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, তার মূল কারণ এটি সমাজ বা রাষ্ট্রকে সাম্য থেকে বিচ্যুত করে এক চিরস্থায়ী দাসত্বের দিকে ঠেলে দেয়। যেখানে সম্পদ কেবল এক শ্রেণীর হাতে পুঞ্জীভূত হতে থাকে, যা মানবতাকে বন্দী করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আল-কুরআনে সম্পদের এই অসম বন্টন ও পুঁজিপতিদের আধিপত্যের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন:

> **“যাতে সম্পদ তোমাদের মধ্যকার কেবল ধনীদের মধ্যেই পুঞ্জীভূত না হয়।”** — *[সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৭]*

এই আধুনিক সুদী আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা ঠিক এই শোষণের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। তারা তৃতীয় বিশ্বের প্রান্তিক মানুষের ঘাম ঝরানো শ্রম আর প্রাকৃতিক সম্পদ শুষে নিয়ে গুটিকয়েক পশ্চিমা বহুজাতিক কর্পোরেশনের কোষাগার ভারী করছে। ঋণের এই মনস্তাত্ত্বিক ও কাঠামোগত পরাধীনতা কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিয়মিত একটি দুআ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়। তিনি এই উম্মাহকে সতর্ক করতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন:

> **“হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি ঋণের বোঝা এবং মানুষের আধিপত্য (পরাধীনতা) থেকে।”** — *[সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ২৮৯৩]*

ঋণ এবং মানুষের আধিপত্যকে এই হাদিসে একসাথে উল্লেখ করার গভীর অর্থ এটাই যে—যে জাতি বা সমাজ ঋণের ফাঁদে পড়ে, প্রকারান্তরে তারা অন্য মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক আধিপত্যের নিচে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।

কিন্তু কেবল অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করাই নব্য-উপনিবেশবাদের শেষ লক্ষ্য নয়। একটি জাতিকে দীর্ঘকাল পরাধীন রাখতে হলে তার নিজস্ব চিন্তা, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ এবং সর্বোপরি ধর্মীয় চেতনাকে ভেতর থেকে উপড়ে ফেলতে হয়। এখানেই কাজ করে সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ (Cultural Imperialism)। বিখ্যাত ফিলিস্তিনি-আমেরিকান চিন্তাবিদ ও অধ্যাপক এডওয়ার্ড সাঈদ (Edward Said) তার Culture and Imperialism গ্রন্থে দেখিয়েছেন, কীভাবে সাম্রাজ্যবাদ কেবল সামরিক বা রাজনৈতিক শক্তির মাধ্যমে নয়, বরং সাহিত্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং জ্ঞান উৎপাদনের মাধ্যমেও নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। আজ সেই সাংস্কৃতিক প্রভাব নতুন রূপে প্রকাশ পাচ্ছে বৈশ্বিক বিনোদন শিল্প, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পপ কালচার এবং অ্যালগরিদম-নিয়ন্ত্রিত তথ্যপ্রবাহের মাধ্যমে।

অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে মানুষের অবচেতন মনে এমন এক জীবনদর্শন ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে যা চরম বস্তুবাদ (Materialism) ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদকে (Individualism) প্রমোট করে। এই আধুনিক সংস্কৃতির মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে এক ধরণের 'ভোগবাদী পশু' (Consumerist Animal)-তে রূপান্তর করা। জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য যখন হয়ে দাঁড়ায় কর্পোরেট ব্র্যান্ডের পণ্য ভোগ করা, কামনাবাসনা পূরণ এবং অবিরাম বিনোদনের সাগরে ডুবে থাকা, তখন সেই সমাজের ভেতর থেকে যেকোনো অন্যায় বা জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর স্পৃহা হারিয়ে যায়। জার্মান দার্শনিক হার্বার্ট মার্কুস (Herbert Marcuse) এবং ফরাসি সমাজতাত্ত্বিক গাই ডেবোর (Guy Debord)-এর বিশ্লেষণেও দেখা যায় যে, অবিরাম ভোগবাদ, বিনোদন এবং দৃশ্যমান প্রদর্শনের সংস্কৃতি অনেক সময় মানুষকে বাস্তব সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে। ফলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিবর্তে মানুষ ক্রমশ ভোগ ও বিনোদনের চক্রে আবদ্ধ হয়ে পড়ে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বহু বছর আগেই এক গভীর ভবিষ্যৎবাণীতে উম্মাহকে এই সাংস্কৃতিক অন্ধ অনুকরণের মনস্তাত্ত্বিক দাসত্ব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন:

> **“তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের চালচলন হুবহু অনুকরণ করবে, এমনকি তারা যদি কোনো সাপের গর্তে (বিভ্রান্তিতে) প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে।”** — *[সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ৩৪৫৬]*

আজকের আধুনিক বিশ্ব ঠিক এই অন্ধত্বেরই সাক্ষী। আমরা আধুনিকতা এবং প্রগতির নামে পশ্চিমাদের তৈরি করা সেই আদর্শিক সাপের গর্তেই পা দিচ্ছি, যা আমাদের নিজস্ব আধ্যাত্মিক অস্তিত্বকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আল্লাহ তা'আলা মানুষের এই প্রবৃত্তির দাসত্ব নিয়ে কুরআনে বলেন:

> **“তুমি কি তাকে দেখছ না, যে তার নিজের কামনা-বাসনাকে ইলাহ (উপাস্য) বানিয়ে নিয়েছে?”** — *[সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৪৩]*

আধুনিক সেকুলার ও লিবারেল সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো এটি মানুষকে স্রষ্টার দাসত্ব থেকে মুক্ত করার নামে নিজের জৈবিক নফসের দাসে পরিণত করে। আর একটি নফসের গোলাম জাতিকে নব্য-উপনিবেশবাদীদের জন্য নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে সহজ।

এই শোষণের চাকা সচল রাখতে নব্য-উপনিবেশবাদীরা আরেকটি বড় মনস্তাত্ত্বিক অস্ত্র ব্যবহার করে—শত্রুকে আদর্শিকভাবে অপরাধী সাব্যস্ত করা। বিগত কয়েক দশক ধরে পশ্চিমা মিডিয়া এবং বিভিন্ন থিংক-ট্যাংক বিশ্বজুড়ে ইসলামোফোবিয়ার এক বিশাল ন্যারেটিভ তৈরি করেছে। বিখ্যাত মার্কিন ভাষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক নোয়াম চমস্কি (Noam Chomsky) তার 'Manufacturing Consent' তত্ত্বে দেখিয়েছেন, কীভাবে কর্পোরেট মিডিয়া প্রোপাগান্ডা তৈরি করে সাধারণ মানুষের অবচেতন মনকে বড় বড় যুদ্ধ ও শোষণের পক্ষে সায় দিতে বাধ্য করে।

মুসলিম বিশ্বের খনিজ ও খোদাইকৃত প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য যে অমানবিক সামরিক aggression বা আগ্রাসন চালানো হয়েছে (যেমন ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া বা সিরিয়ায়), সেগুলোকে বিশ্ববাসীর চোখে বৈধতা দিতেই ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ বা ‘War on Terror’-এর নাটক সাজানো হয়েছিল। মিডিয়ার হাইপার-রিয়েলিটি তৈরি করে তারা বিশ্ববাসীকে বিশ্বাস করিয়েছে যে তারা সেখানে ‘গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মানবাধিকার’ প্রতিষ্ঠা করতে গেছে, অথচ বাস্তবতায় তারা রেখে গেছে কেবল ধ্বংসস্তূপ আর শোষিতের দীর্ঘশ্বাস। নিজেদের এজেন্ডাকে শান্তি ও সংশোধনের আবরণে ঢেকে রাখা এই ধরণের জালিমদের প্রকৃত চরিত্র উন্মোচন করে আল্লাহ তা'আলা কুরআনে বলেন:

> **“আর যখন তাদের বলা হয়, পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না, তারা বলে, আমরা তো কেবল সংশোধনকারী (শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী)! জেনে রেখো, তারাই মূলত বিপর্যয় সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা বোঝে না।”** — *[সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১১-১২]*

নব্য-উপনিবেশবাদের এই সুক্ষ্ম ও অদৃশ্য জাল থেকে মুক্তির কোনো সহজ বা সস্তা পথ নেই। এর জন্য প্রথম প্রয়োজন একটি "বুদ্ধিবৃত্তিক ও আদর্শিক পুনর্জাগরণ"। যতদিন পর্যন্ত আমরা পশ্চিমাদের তৈরি করা অর্থনৈতিক মডেল কিংবা তাদের জীবনব্যবস্থাকে মানব সভ্যতার সর্বোচ্চ শিখর মনে করব, ততদিন এই দাসত্বের শিকল ভাঙা সম্ভব নয়।

মুক্তির একমাত্র পথ হলো আমাদের আবার আল-কুরআন এবং আল-হাদিসের সেই শাশ্বত, ইনসাফপূর্ণ ঐশী মডেলে ফিরে যাওয়া, যা মানুষকে মানুষের তৈরি সমস্ত গোলামি থেকে মুক্ত করে একমাত্র মহাবিশ্বের রবের দাসত্বে ফিরিয়ে আনে। নিজেদের সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা রক্ষা, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন এবং সত্যকে চেনার গভীর প্রজ্ঞা তৈরি করার মাধ্যমেই কেবল এই আধুনিক মায়ার দেয়াল ভাঙা সম্ভব। আসুন, অন্ধত্বের পর্দা সরিয়ে সত্যের মুখোমুখি হই, কারণ সত্যের আলো ছাড়া এই অদৃশ্য শিকল কখনো ভাঙা যায় না।

~MD. MUSTARIN RIHAB

পেট্রোডলার: একটি সভ্যতাগত পঙ্গুত্ব এবং আমাদের মনস্তাত্ত্বিক দাসত্ব১৯৭১ সাল। বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি নীরব কিন্তু দীর্ঘস্থায...
09/06/2026

পেট্রোডলার: একটি সভ্যতাগত পঙ্গুত্ব এবং আমাদের মনস্তাত্ত্বিক দাসত্ব

১৯৭১ সাল। বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি নীরব কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী দাসত্বের অধ্যায় শুরু হয়, যার নাম ‘পেট্রোডলার সিস্টেম’। মার্কিন ডলারের সাথে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যকে বেঁধে দেওয়ার এই চতুর চুক্তি কেবল কোনো অর্থনৈতিক কৌশল ছিল না; এটি ছিল সভ্যতার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার একটি দীর্ঘমেয়াদী মাস্টারপ্ল্যান।

ফলাফল কী দাঁড়িয়েছে? তেল বা খনিজ সম্পদ মুসলিম দেশগুলোর মাটিতে থাকলেও, তার চাবিকাঠি রয়ে গেছে পশ্চিমা পুঁজিবাদী (Capitalism) কাঠামোর ব্যাংকিং সার্ভারে। আমরা কেবল সম্পদের স্তূপের ওপর বসে থাকা একদল অসচেতন ভোক্তায় পরিণত হয়েছি, যাদের অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হয় দূরবর্তী কোনো পরাশক্তির ইশারায়।

সংকটটি কেবল অর্থনীতির নয়, সংকটটি অস্তিত্বের।

আলজেরীয় প্রখ্যাত চিন্তাবিদ মালেক বিন নবী (Malek Bennabi) এই অবস্থাকে একটি নিখুঁত শব্দে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন— "Civilizational Stagnation" বা সভ্যতাগত স্থবিরতা।

এর গভীরতম অর্থ হলো, আমরা যখন আমাদের খনিজ সম্পদ বা বাজারকে অন্যের হাতে তুলে দিই, তখন অবচেতনভাবেই আমরা নিজেদের চিন্তা, সংস্কৃতি এবং নিজস্ব সভ্যতার ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলি। পুঁজিবাদ আমাদের মনস্তত্ত্বকে এমনভাবে সাজিয়েছে যেখানে ধর্মকে কেবল ব্যক্তিগত জীবনের এক টুকরো আচার-অনুষ্ঠানে বন্দি করে রাখা হয়েছে, আর আমাদের সামগ্রিক জীবনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে মুক্তবাজারের অন্ধ লোভের কাছে।

অথচ ইসলাম কোনো কাল্পনিক ইউটোপিয়া নয়; এটি একটি জীবন্ত ও নীতিভিত্তিক অর্থনৈতিক অবয়ব। ইসলামে ব্যবসা ও ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত, কিন্তু সেখানে সম্পদ কোনো একক শ্রেণির হাতে জমাট বাঁধার সুযোগ নেই। ইসলাম বাজারকে স্বীকার করে, তবে বাজার যেন মানুষের নৈতিকতা, আধ্যাত্মিকতা এবং আত্মপরিচয়কে গিলে না খায়— সেই পরম ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করে।

যতক্ষণ না মুসলিম সমাজ এই 'সভ্যতাগত আত্মবিশ্বাস' পুনরুদ্ধার করতে পারছে, ততক্ষণ মাটির নিচের তেল দিয়ে সাময়িক বিলাসিতা আর আকাশচুম্বী অট্টালিকা হয়তো তৈরি করা যাবে, কিন্তু দিনশেষে সেই মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙা সম্ভব হবে না।

বাজার আমাদের শাসন করবে, নাকি আমাদের নৈতিকতা বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করবে?— সিদ্ধান্ত আমাদের।

"Capitalism এর stagnation এবং আমাদের সমাজব্যবস্থা"পুঁজিবাদ বা capitalism আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী অর্থনৈতিক ব্যব...
13/05/2026

"Capitalism এর stagnation এবং আমাদের সমাজব্যবস্থা"
পুঁজিবাদ বা capitalism আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী অর্থনৈতিক ব্যবস্থাগুলোর একটি। এটি প্রযুক্তি, শিল্প ও ভোগবাদের বিস্তার ঘটিয়েছে— কিন্তু একইসাথে বৈষম্য, ভোগবাদ, সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা এবং নৈতিক সংকটও তৈরি করেছে। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এর সমালোচনা করা যায়, তবে বিষয়টি ভারসাম্যপূর্ণভাবে বোঝা জরুরি। কারণ ইসলাম কোনো নিরেট “রাষ্ট্রীয় সমাজতন্ত্র”ও সমর্থন করে না, আবার সীমাহীন পুঁজিবাদকেও গ্রহণ করে না। ইসলাম এমন একটি অর্থনৈতিক ন্যায়বোধ প্রতিষ্ঠা করতে চায় যেখানে সম্পদ থাকবে, ব্যবসা থাকবে, কিন্তু মানুষের উপর সম্পদের আধিপত্য থাকবে না।
শিল্পবিপ্লবের পর পশ্চিমা বিশ্বে capitalism এমনভাবে বিস্তার লাভ করে যে পৃথিবীর অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি— প্রায় সবকিছুই এর প্রভাবে গঠিত হতে শুরু করে। এর মূল দর্শন হলো ব্যক্তিস্বাধীনতা, মুনাফা এবং মুক্তবাজার। শুনতে আকর্ষণীয় হলেও বাস্তবে এটি ধীরে ধীরে মানুষের পরিচয়কে “ভোক্তা” এবং সমাজকে “বাজারে” রূপান্তর করেছে।
জার্মান দার্শনিক ও অর্থনীতিবিদ Karl Marx capitalism-কে ব্যাখ্যা করেছিলেন এমন এক ব্যবস্থারূপে যেখানে শ্রমিক ধীরে ধীরে নিজের শ্রম, সত্তা ও মানবিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যদিও ইসলামের সাথে Marx-এর বহু বিষয়ে মৌলিক দ্বন্দ্ব আছে, তবু capitalism-এর বৈষম্য নিয়ে তাঁর সমালোচনার কিছু অংশ আজও আলোচিত। মুসলিম চিন্তাবিদ Sayyid Abul Ala Maududi বলেছিলেন— পশ্চিমা পুঁজিবাদ মানুষকে এমন এক সভ্যতার দিকে ঠেলে দিয়েছে যেখানে অর্থনৈতিক লাভই নৈতিকতার মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে। Sayyid Qutb আধুনিক বস্তুবাদী সভ্যতার সমালোচনা করে দেখিয়েছিলেন কিভাবে আধ্যাত্মিক শূন্যতা মানুষের আত্মপরিচয়কে ধ্বংস করে দেয়।
Capitalism-এর সবচেয়ে বড় সমালোচনা হলো— এটি সম্পদকে অল্প কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত করে। আজ পৃথিবীর বড় বড় কর্পোরেশন অনেক দেশের সরকারের চেয়েও বেশি ক্ষমতাবান। কয়েকটি কোম্পানি প্রযুক্তি, তথ্য, খাদ্য, ওষুধ, এমনকি মানুষের মনোযোগ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ধনী আরও ধনী হয়, আর দরিদ্র মানুষ বেঁচে থাকার জন্য শ্রম বিক্রি করতেই থাকে।
ইসলামে সম্পদের মালিকানা নিষিদ্ধ নয়। বরং ব্যবসাকে সম্মান দেওয়া হয়েছে। মহানবী (সা.) নিজেও ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু ইসলাম সম্পদকে “সামাজিক আমানত” হিসেবেও দেখে। চতুর্দশ শতাব্দীর সমাজবিজ্ঞানী Ibn Khaldun তাঁর বিশ্লেষণে দেখিয়েছিলেন যে সভ্যতার ভারসাম্য নষ্ট হলে রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই কুরআনে সম্পদ যেন শুধু ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়— এই নীতি উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ ইসলাম সম্পদের প্রবাহ চায়, একচেটিয়া জমাট বাঁধা নয়।
আধুনিক capitalism-এর কেন্দ্রীয় শক্তি হলো interest-based finance বা সুদভিত্তিক অর্থনীতি। ব্যাংকিং, ঋণ, আন্তর্জাতিক অর্থনীতি— প্রায় সবকিছুই এর উপর দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু ইসলামে রিবা (সুদ) কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কারণ সুদ এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে ধনী ব্যক্তি ঝুঁকি ছাড়াই লাভ করে, আর দুর্বল মানুষ ঋণের চাপে আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। ইরাকের ইসলামী অর্থনীতিবিদ Muhammad Baqir al-Sadr লিখেছিলেন যে সুদভিত্তিক অর্থনীতি সমাজে “অন্যায্য সম্পদ স্থানান্তর” তৈরি করে— যেখানে উৎপাদনের চেয়ে ঋণ ও মুনাফা বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
আজকের বিশ্বে অনেক উন্নয়নশীল দেশ আন্তর্জাতিক ঋণব্যবস্থার কারণে অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে আছে। এই নির্ভরতা শুধু অর্থনৈতিক নয়; সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রভাবও তৈরি করে। Capitalism শুধু অর্থনীতি নয়, একটি সংস্কৃতিও তৈরি করে— consumerism বা ভোগবাদ। মানুষকে শেখানো হয়: তুমি কী কিনো, সেটাই তোমার পরিচয়; বেশি ভোগ মানেই সফলতা; ফ্যাশন, ব্র্যান্ড, ট্রেন্ড— এগুলিই মর্যাদার মাপকাঠি। ফলে পরিবার, আধ্যাত্মিকতা, সমাজবোধ— এগুলো দুর্বল হতে থাকে।
ফরাসি সমাজতাত্ত্বিক ও দার্শনিক Jean Baudrillard বলেছিলেন, আধুনিক সমাজে মানুষ বাস্তব প্রয়োজনের জন্য নয়, “প্রতীকি মর্যাদা” অর্জনের জন্য ভোগ করে। জার্মান দার্শনিক Erich Fromm দেখিয়েছিলেন কিভাবে আধুনিক ভোগবাদ মানুষকে “having”-এর দাসে পরিণত করে, যেখানে “being” বা মানবিক সত্তা হারিয়ে যায়। ইসলাম এখানে এক ভিন্ন দর্শন দেয়— অপচয় নয়, মধ্যপন্থা; হালাল উপার্জন; সামাজিক দায়িত্ব; অন্তরের প্রশান্তি। কুরআনে অপচয়কারীদের “শয়তানের ভাই” বলা হয়েছে— কারণ সীমাহীন ভোগ মানুষের আত্মাকে অস্থির করে তোলে।
বিশ্ব রাজনীতিতে “petrodollar system” বলতে বোঝানো হয় এমন এক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামো যেখানে তেলবাণিজ্য মূলত মার্কিন ডলারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ডলারকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। অনেক মুসলিম দেশ প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও অর্থনৈতিকভাবে পশ্চিমা আর্থিক কাঠামোর উপর নির্ভরশীল। এর সাথে secular রাজনৈতিক মডেল যুক্ত হয়ে বহু জায়গায় ধর্মকে ব্যক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে। Malek Bennabi বলেছিলেন, মুসলিম বিশ্বের বড় সংকট হলো “civilizational stagnation”— যেখানে মানুষ নিজের চিন্তা ও সভ্যতার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলে।
বাংলার ঐতিহ্যে ছিল পারিবারিক বন্ধন, মিতব্যয়িতা, স্থানীয় অর্থনীতি, নৈতিক ব্যবসা এবং সামাজিক সহমর্মিতা। কিন্তু আধুনিক ভোগবাদী সংস্কৃতি ধীরে ধীরে মানুষকে “individual success”-এর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এখন অনেক ক্ষেত্রে পরিবার অপেক্ষা ক্যারিয়ার বড়, নৈতিকতা অপেক্ষা লাভ বড়, সমাজ অপেক্ষা ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে আত্মিক শূন্যতা বাড়ছে।
ইসলাম কোনো কাল্পনিক ইউটোপিয়া দেয় না; বরং নীতিভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো দেয়। সুদমুক্ত অর্থনীতি, যাকাতের মাধ্যমে সম্পদের পুনর্বণ্টন, সদকা ও ওয়াকফ, নৈতিক ব্যবসা, প্রতারণা নিষিদ্ধকরণ, শ্রমিকের অধিকার এবং সম্পদের সামাজিক দায়বদ্ধতা— এগুলো ইসলামী অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইসলামী সভ্যতার স্বর্ণযুগে বহু ওয়াকফ প্রতিষ্ঠান শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
ইসলাম ব্যক্তিগত সম্পদ ও ব্যবসা নিষিদ্ধ করে না। বরং ইসলাম চায় বাজার থাকবে, কিন্তু বাজার মানুষের উপর শাসন করবে না; সম্পদ থাকবে, কিন্তু সম্পদ নৈতিকতাকে গ্রাস করবে না। ইসলামী দৃষ্টিতে সমস্যাটি শুধু ব্যবসা নয়, বরং সীমাহীন মুনাফাকেন্দ্রিক মানসিকতা।
একটি সুস্থ মুসলিম সমাজ গঠনের জন্য প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষা, সুদমুক্ত আর্থিক বিকল্প, স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করা, অপচয় ও অন্ধ ভোগবাদ কমানো, যাকাত ও সামাজিক কল্যাণব্যবস্থা কার্যকর করা এবং ইসলামি নৈতিকতা ও আধুনিক জ্ঞানের সমন্বয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আত্মপরিচয় পুনরুদ্ধার। মুসলিম সমাজ যদি নিজের সভ্যতাগত আত্মবিশ্বাস হারায়, তাহলে শুধু অর্থনীতি নয়, সংস্কৃতি ও চিন্তাও অন্যের অনুকরণে গড়ে উঠবে।
ইসলাম মানুষকে দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হতে বলে না; বরং দুনিয়ার মাঝে ন্যায়, ভারসাম্য ও আল্লাহভীতি নিয়ে চলতে শেখায়। সেই ভারসাম্য হারিয়ে গেলে capitalism মানুষের হাতে থাকা একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বদলে মানুষের উপর আধিপত্যকারী এক সভ্যতাগত শক্তিতে পরিণত হয়।

সভ্যতার দ্বিচারিতা:​আপনার নিউজফিড আজ উজ্জ্বল। নাসা (NASA)-র আর্টেমিস-২ নভোযানের অত্যাশ্চর্য সব ছবি, মহাকাশচারীদের হাসি আ...
10/05/2026

সভ্যতার দ্বিচারিতা:

​আপনার নিউজফিড আজ উজ্জ্বল। নাসা (NASA)-র আর্টেমিস-২ নভোযানের অত্যাশ্চর্য সব ছবি, মহাকাশচারীদের হাসি আর চাঁদের কক্ষপথের নীলিমায় ছেয়ে আছে আপনার চারপাশ। পৃথিবী থেকে হাজার মাইল দূরের এক মহাজাগতিক সাফল্য দেখে আমরা বিস্ময়ে বিমূঢ় হই। চারদিকে হাততালি—প্রযুক্তির কী জয়গান! আমেরিকা কতটা অজেয়, কতটা মহান!

​কিন্তু এই আলোকোজ্জ্বল মহাকাশযাত্রার ঠিক উল্টো পিঠে এক গভীর অন্ধকার ঢাকা পড়ে আছে। যে হাতগুলো আজ চাঁদের সীমানা স্পর্শ করার স্বপ্ন দেখাচ্ছে, সেই একই হাত পৃথিবীর এক কোণে এক আস্ত জাতিকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার নীল নকশা সই করছে।

​সভ্যতার এই তথাকথিত রূপকাররা আপনাকে নাসার গল্প শোনাবে, আপনাকে নক্ষত্রের স্বপ্ন দেখাবে। তারা চাইবে আপনি যেন এই মহাজাগতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তাদের মানবিকতার জয়গান গান। কিন্তু তারা আপনাকে বলবে না যে, এই একই প্রশাসনের শীর্ষনেতা প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে একটি জনপদকে ধ্বংস করার বাসনা ব্যক্ত করেন। তারা আপনাকে দেখতে দেবে না সেই কুৎসিত চেহারাটা, যা হাজারো শিশুর কান্নার ওপর দাঁড়িয়ে চাঁদে যাওয়ার সিঁড়ি বানায়।

​এই ধ্বংসযজ্ঞে তিনি একা নন। একটি রাষ্ট্রের কোটি কোটি নাগরিকের মৌন সম্মতি আর তাদের দেওয়া ট্যাক্সের ডলারেই এই দ্বিচারিতার জ্বালানি জোগানো হয়। একদিকে যখন কোটি কোটি ডলার খরচ হচ্ছে মহাকাশ জয়ের নেশায়, অন্যদিকে সেই একই বাজেটে কেনা বোমায় চুরমার হচ্ছে এক একটি বসতবাড়ি।

আমি তাদের মহাকাশ জয়কে অবশ্যই সাধুবাদ জানাই। কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না তারাই সকল অনিষ্টের মূল।

✍️মূল : @আরিফ আজাদ

​"The Mark" কেবল কিছু তথ্যের সংকলন নয়; এটি সেই নোংরা এবং অন্ধকার সত্যের ব্যবচ্ছেদ যা তারা সুকৌশলে আধুনিক প্রচারণার আড়ালে ঢেকে রাখে। সত্য কেবল আকাশে নেই, সত্য আছে সেই শোষিতের দীর্ঘশ্বাসেও।

​আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে আমরা আমাদের এই অনবদ্য যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু হবে। মহান আল্লাহ অবশ্যই পরম দয়ালু ও করুণাময়।
​আল্লাহ হাফেজ।

The Anatomy of Mystery II The Mark

Address

Chittagong
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Mark posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to The Mark:

Shortcuts

Share