The Time Tribune

The Time Tribune 'দ্যা টাইম ট্রিবিউন' বাংলা বিভাগে স্বাগতম

ক্যুবেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য এনার্জি ড্রিংক নিষিদ্ধ, উত্তর আমেরিকায় প্রথম পদক্ষেপকানাডার Quebec প্রদেশে ১৬ বছরের কম...
06/12/2026

ক্যুবেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য এনার্জি ড্রিংক নিষিদ্ধ, উত্তর আমেরিকায় প্রথম পদক্ষেপ

কানাডার Quebec প্রদেশে ১৬ বছরের কম বয়সীদের কাছে ক্যাফেইনযুক্ত এনার্জি ড্রিংক বিক্রি নিষিদ্ধ করে নতুন আইন পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রাদেশিক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বিল-৯ পাস হয়, যা উত্তর আমেরিকায় এ ধরনের প্রথম আইন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নতুন আইন অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সী কেউ এনার্জি ড্রিংক কিনতে বা সংগ্রহ করতে পারবে না। আইনটি কার্যকর হবে আগামী ছয় মাসের মধ্যে। সরকার বলছে, এই সময়ের মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জনগণকে নতুন নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

বিলটি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ব্যাপক সমর্থন পায়। মোট ১০৩ জন সদস্য এর পক্ষে ভোট দেন। তবে Youri Chassin একমাত্র সদস্য হিসেবে বিলটির বিরোধিতা করেন। এছাড়া Maïté Blanchette Vézina এবং Sona Lakhoyan Olivier ভোটদান থেকে বিরত থাকেন।

ক্যুবেকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী Sonia Bélanger বলেন, এই আইন তরুণদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি “ভালো শুরু”। তিনি জানান, এর মাধ্যমে কিশোরদের মধ্যে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় গ্রহণ নিয়ে বড় পরিসরে আলোচনা শুরু হবে।

আইন অনুযায়ী:

* ১৬ বছরের নিচে কেউ আইন ভাঙলে ১০০ ডলার জরিমানা হতে পারে।
* প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য জরিমানা ৫০০ থেকে ১,৫০০ ডলার।
* ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য জরিমানা সর্বোচ্চ ৬২,৫০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
* পুনরায় একই অপরাধ করলে জরিমানা দ্বিগুণ হবে।

এই আইনটির নাম রাখা হয়েছে “জ্যাকারি মিরন আইন”। ২০২৪ সালে ১৫ বছর বয়সী Zachary Miron Red Bull পান করার পাশাপাশি এডিএইচডি ওষুধ গ্রহণের পর মারা যায়। তার মৃত্যুর পর এনার্জি ড্রিংকের ঝুঁকি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়।

যদিও আইনটি বেশিরভাগ সদস্য সমর্থন করেছেন, কিছু সদস্য শুরুতে দ্বিধায় ছিলেন। Pierre Dufour মনে করেছিলেন বয়সসীমা ১৪ বছর হওয়া উচিত। পরে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি বিলটির পক্ষে মত দেন।

তিনি বলেন, শুধু আইন করলেই হবে না—এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক প্রচারণাও জরুরি।

বর্তমানে ক্যুবেক সরকার সংসদীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করছে। আগামী অক্টোবরে প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন কিশোরদের হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, অনিদ্রা, উদ্বেগ এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই এই আইনকে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সুত্র: সিবিসি নিউজ।

06/11/2026
06/11/2026

কানাডায় শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তায় নতুন আইন পাস, ১৬ বছরের নিচের শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা

দ্য টাইম ট্রিবিউন ডেস্ক
কানাডা | ১০ জুন ২০২৬

কানাডা সরকার শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন একটি আইন পাস করেছে। “কানাডার সেফ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্ট” (Canada’s Safe Social Media Act) নামে পরিচিত এই আইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে এবং অনলাইন পরিবেশকে শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ করে তুলবে।

নতুন আইনের আওতায় ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সরকারের মতে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি তৈরি করছে।

সরকার বলছে, বর্তমানে অনেক শিশু ও কিশোর-কিশোরী উদ্বেগ (Anxiety), বিষণ্নতা (Depression), আত্মক্ষতি (Self-harm) এবং অনলাইন শোষণের (Exploitation) শিকার হচ্ছে। এ বাস্তবতায় শিশুদের সুরক্ষায় প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন হালনাগাদ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

কানাডা সরকারের মতে, এই নতুন আইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এআই প্ল্যাটফর্মগুলোকে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর দায়বদ্ধতার আওতায় আনবে এবং ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট ও কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমাদের শিশুদের নিরাপদ রাখতে হলে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনকেও আধুনিক ও কার্যকর করতে হবে।”

06/09/2026

ফাইজ তাইয়েব আহমেদ এর লেখা:

পুশইন সমস্যা মোকাবেলায় ভারত-বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড ডিজি পর্যায়ের মিটিং পর্যন্ত অপেক্ষা করা দেরি হয়ে যেতে পারে

দ্রুত ডিপ্লোম্যাটিক এক্সচেঞ্জ দরকার। জাতিসংঘের শরনার্থী সংস্থা UNHCR এর সহায়তার জন্যও প্রস্তুতি নিতে হবে।
পুশইন সমস্যা মোকাবেলায় ভারত-বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড ডিজি পর্যায়ের মিটিং পর্যন্ত অপেক্ষা করা দেরি হয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে মানবিক বিপর্যয় তৈরি করে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলার ঝুঁকি আছে।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার 'চিকেন-নেক' এলাকা সহ মোট ৫৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে, ইতিমধ্যেই ১০০ কিলোমিটারের জন্য জমি বরাদ্দ হয়েছে। সীমান্তে কোনও দেশ বেড়া দিতেই পারে, তবে আধুনিক বিশ্বে সীমান্তে বেড়া জাতিগত অসভ্যতা অর্থাৎ সিভিলাইজেশন হীনতাকেই নির্দেশ করে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ৪৮০০ জনকে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে পুশব্যাক করার দাবী করেছেন এবং আরও ৮৩৬ জন অপেক্ষমাণ বলে জানিয়েছেন। (রেফারেন্স কমেন্টে) যাদের নাম ভারতের নাগরিকপঞ্জিতে (NRC) বা ভোটার তালিকায় নাই, তাদের ধরে ধরে সরাসরি ভারতীয় বিএসএফ'কে দিয়ে পুশ-ইন করানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোনও ক্যাম্পে রাখার বা কাগজপত্র রিভিউ কিংবা বহু স্তরে যাচাই-বাছাইয়ের কোনও ব্যবস্থা নাই। অর্থাৎ ভারত ক্রমাগত টার্গেটেড পুশ-ইন করছে এবং পুশ-ইনের নতুন নতুন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

শুভেন্দু যে ৪৮০০ জনকে পুশ-ইনের দাবি করেছেন, সেটা মামুলি নয়। বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড এই সংখ্যাটা রিকগ্নাইজ করে? কোন কোন পয়েন্ট দিয়ে এত অধিক সংখ্যক মানুষকে পুশ ইন করানো হল? এই মানুষগুলো এখন কোথায় আছেন? বাংলাদেশের বিজিবি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমূহকে এসব মানুষের ডেটাবেজ করতে হবে। এমনকি এসব মানুষকে হিউম্যানিটেরিয়ান এইডের কভারেজ দিতে কিংবা কোনও সোশ্যাল সেফটি নেটে আনতে চাইলেও ডেটাবেজ লাগবে।

ক্রমাগত পুশ-ইনে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে। গত কয়েকদিনে ৩০ জন মানুষ দেশহীন হয়ে নো-ম্যান্স-ল্যান্ডে মানবিক পরিস্থিতিতে আছেন। বাংলাদেশ এখানে একটা কঠিন পতিস্থিতিতে পড়েছে, মানবিকতা দেখাতে গেলে, ভারত পুশ-ইন বাড়িয়ে দিবে।

ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ ১৯৪৭ এর দেশ ভাগ এবং মাস হিউম্যান মাইগ্রেশনের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে। ফলে মানুষ এপড় থেকে ওপাড়ে গিয়েছেন, এই বাস্তবতা ভুলে গেলে চলবে না। একদিকে গরিব মানুষ শ্রমের জন্য সীমান্ত পার হয়েছে, নিরাপত্তা ও ধর্মের জন্য পারাপার হতে হয়েছে, পরিবার ও আত্মীয়তার জন্য বর্ডার বদল করেছে এবং চাকরির জন্যও মানুষ সীমান্ত এপার/ওপার করেছে। এসব ফয়সালা শেষ হয়ে যায়নি।

শুধুমাত্র এমন ঘটনা ঘটেনি যে, বাংলাদেশ থেকে গরিব মানুষ দলে দলে ভারত গেছে, বরং আনিসুজ্জামান, সৈয়দ শামসুল হকদের মত মানুষও বড় বড় চাকরির জন্য বাংলাদেশে এসেছেন, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী সিএসপি ক্যাডাররাও এসেছেন এদেশে। ভারতে সংখ্যালঘু হিসেবে না থেকে পাকিস্তান নামক স্বপ্নের নিরাপদ মুসলিম রাষ্ট্রে থাকার জন্য অনেকে ভারত থেকে এদেশে এসেছেন। এখনো বাংলাদেশ থেকে অনেকেই ওপাড়ে সম্পদ বিনিয়োগ করেন। যদি ধরতেই হয়, সব বুঝপড়াই হতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে,গরিব মানুষকে ধরে সরাসরি বর্ডার গার্ডের মাধ্যমে ভিন্ন দেশে পুশ করা আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও মানবাধিকার আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

কোন বাংলাদেশী যদি অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করে থাকেন, তাহলে তার ডেটা প্রথমে দিল্লি বা কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ দুতাবাসকে অবহিত করতে হবে। তারপর যাচাইবাছাই করে পদক্ষেপ নেয়ার পালা। মীমাংসা কিংবা সমাধান না হলে UNHCR-এ বিষয়টি উত্থাপন বা রেফার করতে হবে। দরকারে ডিপ্লোম্যাটিক এক্সচেঞ্জ এন্ড এসকালেশন। কোনও নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে ভারত সরকার সহায় সম্বলহীন গরীব মানুষকে নো-ম্যানস-ল্যান্ডে ঠেলে দিচ্ছে! এই মানুষগুলা কোথায় খাবে, কোথায় ঘুমাবে কোন কিছুই বিবেচনায় নিচ্ছে না কথিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারত।

এমতাবস্থায় বাংলাদেশ সরকার অতিদ্রুত জাতিসংঘের শরনার্থী সংস্থা UNHCR কে বিষয়টি অবহিত করতে পারে, সহায়তা কিংবা হস্তক্ষেপ কামনাও করতে পারে। কেননা, NRC অথবা ভোটার তালিকায় নাম না থাকা পুশ-ইন টার্গেটে থাকা মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

আলবার্টা স্বাধীন হলে কানাডার নাগরিকত্ব থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তাকানাডার আলবার্টা প্রদেশে আগামী ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠি...
06/04/2026

আলবার্টা স্বাধীন হলে কানাডার নাগরিকত্ব থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা

কানাডার আলবার্টা প্রদেশে আগামী ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটকে ঘিরে বিচ্ছিন্নতার প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রদেশটি কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে কি না, সে বিষয়ে ভোট হলেও স্বাধীন আলবার্টার বাসিন্দারা কানাডার নাগরিকত্ব ধরে রাখতে পারবেন কি না—এ নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক।

আলবার্টার কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী দাবি করছে, স্বাধীনতা অর্জনের পরও বাসিন্দারা কানাডিয়ান পাসপোর্ট ও নাগরিকত্ব বজায় রাখতে পারবেন। তবে সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক জেরার্ড কেনেডি বলেন, “তাত্ত্বিকভাবে একটি স্বাধীন ‘রিপাবলিক অব আলবার্টা’ গঠিত হলে, কানাডার সম্মতি ছাড়া সেখানে বসবাসকারী নাগরিকদের কানাডার নাগরিকত্ব পাওয়ার কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার থাকবে না।”

অন্যদিকে, অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক এবং ন্যাশনাল জার্নাল অব কনস্টিটিউশনাল ল–এর সম্পাদক এরল মেন্ডেস বলেন, নাগরিকত্বের বিষয়টি অনেকেই যতটা সহজভাবে উপস্থাপন করছেন, বাস্তবে তা ততটা সহজ নয়।

তিনি বলেন, “গণভোটের বিতর্কে এই বিষয়টি অত্যন্ত বিতর্কিত হয়ে উঠবে। বিচ্ছিন্নতার পক্ষে থাকা পক্ষগুলো সাংবিধানিক বাস্তবতা ভুলভাবে উপস্থাপন করতে পারে।”

বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দাবি:
আলবার্টার অন্যতম প্রধান বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন Alberta Prosperity Project তাদের ওয়েবসাইটে দাবি করেছে, “একবার কানাডিয়ান নাগরিক হলে সবসময়ই কানাডিয়ান নাগরিক থাকবেন।”

সংগঠনটি আরও বলছে, “আইন পরিবর্তন না হলে স্বাধীন আলবার্টার নাগরিকরাও সম্ভবত কানাডিয়ান নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট ধরে রাখতে পারবেন। পাশাপাশি তারা আলবার্টার নিজস্ব নাগরিকত্ব ও পাসপোর্টও পাবেন। অর্থাৎ তাদের সুযোগ-সুবিধা কমবে না, বরং বাড়বে।”

তবে অধ্যাপক কেনেডির মতে, বাস্তবিক দিক থেকে কানাডার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক থাকা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে। কারণ কানাডার নাগরিকত্ব নীতিমালা তুলনামূলকভাবে উদার।

বর্তমানে কানাডার নাগরিকত্ব মূলত তিন উপায়ে অর্জন করা যায়—কানাডায় জন্মগ্রহণ, স্বাভাবিকীকরণের (naturalization) মাধ্যমে এবং বংশসূত্রে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কানাডার:
তবে কেনেডি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন বা সাংবিধানিক আইনের কোথাও কানাডাকে বাধ্য করা হয়নি যে স্বাধীন আলবার্টার নাগরিকদের কানাডার নাগরিকত্ব দিতে হবে।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ আলবার্টাবাসী কানাডার অংশ হিসেবেই থাকতে চান। তবে কোনো প্রদেশের বিচ্ছিন্ন হওয়ার আইনি কাঠামো ১৯৯৫ সালের কুইবেক গণভোট এবং ১৯৯৮ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর নির্ধারিত হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ২০০০ সালে পাস হওয়া Clarity Act অনুযায়ী, যদি কোনো প্রদেশে বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নে “স্পষ্ট প্রশ্ন” এবং “স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা”র ভিত্তিতে ভোট হয়, তবে সেই প্রদেশ কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার শর্তাবলি নিয়ে আলোচনায় যেতে পারে। এসব আলোচনার মধ্যে নাগরিকত্বের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

গত মাসে প্রধানমন্ত্রী Mark Carney জানান, অক্টোবরের আলবার্টা গণভোটে যে প্রশ্ন রাখা হচ্ছে, তার ক্ষেত্রে Clarity Act প্রযোজ্য হবে না, কারণ এটি সরাসরি বিচ্ছিন্নতা নিয়ে নয়, বরং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরেকটি গণভোট আয়োজন করা হবে কি না, সেই প্রশ্ন।

তবে ভবিষ্যতে যদি বিচ্ছিন্নতা নিয়ে বাধ্যতামূলক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, সেক্ষেত্রে Clarity Act কার্যকর হবে।

আইনটিতে স্বাধীন হওয়া কোনো প্রদেশের বাসিন্দারা কানাডিয়ান নাগরিকত্ব ধরে রাখতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা না থাকলেও এর ভূমিকায় উল্লেখ রয়েছে যে বিচ্ছিন্নতা “কানাডিয়ান নাগরিকদের নাগরিকত্ব এবং কানাডার পূর্ণ সদস্য হিসেবে ভোগ করা অন্যান্য অধিকারের অবসান ঘটাতে পারে।”

ফলে আলবার্টা স্বাধীন হলে নাগরিকত্বের প্রশ্নে কী হবে, তার চূড়ান্ত উত্তর নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আলোচনা এবং কানাডা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।
সুত্র: সিবিসি নিউজ।

06/03/2026

সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর: পার্থক্য, দায়বদ্ধতা ও পেশাগত মানদণ্ড

ডিজিটাল যুগে ফেসবুক, ইউটিউব ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে তথ্য প্রকাশের সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। বর্তমানে যে কেউ একটি মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে নিজের মতামত, অভিজ্ঞতা বা তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি করে লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। এই বাস্তবতায় অনেক সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সাংবাদিককে একই কাতারে ফেলা হয়। কিন্তু বাস্তবে এ দুটি পরিচয়ের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর মূলত নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে নিজের পছন্দ ও দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী কনটেন্ট তৈরি করেন। তিনি ভ্রমণ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, বিনোদন, সামাজিক বিষয় বা সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে কাজ করতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট প্রকাশের ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো সম্পাদকীয় তদারকি বা প্রাতিষ্ঠানিক যাচাই-বাছাইয়ের বাধ্যবাধকতা থাকে না। ফলে একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর নিজের বিবেচনা অনুযায়ী বিষয় নির্বাচন ও উপস্থাপন করতে পারেন।

অন্যদিকে সাংবাদিকতা একটি পেশাগত ও নীতিনির্ভর কার্যক্রম। একজন সাংবাদিকের প্রধান দায়িত্ব হলো তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, বিশ্লেষণ এবং জনস্বার্থে তা প্রকাশ করা। সাংবাদিক ব্যক্তিগত মতামত বা অনুমানের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করতে পারেন না। কোনো তথ্য প্রকাশের আগে তাকে একাধিক উৎস থেকে তথ্য যাচাই করতে হয় এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকীয় নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। কারণ একটি সংবাদ ভুল হলে তা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সমাজের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো জবাবদিহিতা। একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর নিজের প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত কনটেন্টের জন্য নৈতিকভাবে দায়বদ্ধ হলেও অনেক ক্ষেত্রে তার ওপর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ থাকে না। কিন্তু একজন সাংবাদিক সংবাদমাধ্যম, সম্পাদকীয় বোর্ড, পেশাগত নীতিমালা এবং প্রচলিত আইন—সব কিছুর কাছে জবাবদিহি করেন। তিনি চাইলেই মনগড়া বা অযাচাইকৃত তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে পারেন না।

এ কারণে শুধুমাত্র ফেসবুক পেজ বা ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করলেই কেউ সাংবাদিক হয়ে যান না। সাংবাদিকতার মূল পরিচয় নির্ধারিত হয় তথ্য যাচাই, পেশাগত নীতি, জনস্বার্থে কাজ এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার মাধ্যমে। একইভাবে একজন সাংবাদিক ইউটিউব বা ফেসবুকে কনটেন্ট প্রকাশ করতে পারেন, কিন্তু তার কাজের ভিত্তি থাকে সাংবাদিকতার নীতিমালা ও তথ্যের সত্যতা।

সুতরাং, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং সাংবাদিক উভয়েই তথ্য প্রচার করতে পারেন, তবে তাদের দায়িত্ব, পদ্ধতি ও জবাবদিহিতার কাঠামো এক নয়। যে কেউ কনটেন্ট নির্মাতা হতে পারেন, কিন্তু সাংবাদিক হতে হলে পেশাগত মানদণ্ড, নৈতিকতা এবং তথ্য যাচাইয়ের কঠোর প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

শাখাওয়াত মুকুল
সাংবাদিক ও লেখক।

06/03/2026

Patc Safari

06/03/2026

Safari Parc,
242, Rang, Roxham Rd,
Saint-Bernard-de-Lacolle, Quebec J0L 1V0, Canada.

05/19/2026

হাম টিকা বিতর্কে ‘অসত্য তথ্য’ ছড়ানোর অভিযোগ, প্রশ্ন ইউনিসেফের ভূমিকায়ও

ডেস্ক রিপোর্ট:
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিটের সাংবাদিক আজাদুল ইসলাম আদনানের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে হাম টিকা, ইউনিসেফ এবং টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক।

পোস্টে তিনি দাবি করেন, জাতীয় নির্বাচনের দুই দিন আগে, ১০ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে ইউনিসেফের সতর্কবার্তাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে বড় আকারে সংবাদ প্রচার করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সময় থেকেই বিষয়টির উদ্দেশ্য ও প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।

আজাদুল ইসলাম আদনান লিখেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়া পর্যালোচনায় দেখা যায় আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কিনলে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশ মূলত ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করে, যদিও সংস্থাটি সরাসরি টিকা উৎপাদন করে না; মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে।

তার দাবি, আন্তর্জাতিক দরপত্র চালু হলে ইউনিসেফের ব্যবসায়িক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। এ কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ঠেকাতে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউনিসেফের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) বারবার জানিয়েছে দেশে হামের টিকার কোনো সংকট ছিল না। তাদের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেও প্রায় দুই কোটি ডোজ টিকা মজুত ছিল, যা বর্তমানে চলমান ক্যাম্পেইনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি টকশো ও আলোচনায় হাম পরিস্থিতি, টিকা সংগ্রহ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ওই সাংবাদিক। তার ভাষ্য, কিছু আলোচক জনস্বাস্থ্য সংকটকে রাজনৈতিক বিতর্কের অংশে পরিণত করেছেন।

এছাড়া আলোচনাগুলোতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, অভিজ্ঞ চিকিৎসক বা টিকা বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। বরং রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে বলে মন্তব্য করা হয় পোস্টে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকার, ইউনিসেফ কিংবা আলোচনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Address

Montreal, QC

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Time Tribune posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share