03/12/2026
হ্ঠাৎ বুকে ব্যথা! -গ্যাস/ অ্যাসিডিটি নাকি হার্ট এটাকের লক্ষণ?
হঠাৎ বুকের ব্যথা হলে আমরা অনেকেই ভাবি এটা হয়তো গ্যাস বা অ্যাসিডিটি। কিন্তু সব বুকের ব্যথা গ্যাস কিংবা এসিডটি নয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি হার্টের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, এমনকি হার্ট অ্যাটাকেরও লক্ষণ হতে পারে।
হার্টের কারণে যে বুকের ব্যথা হয়, তা সাধারণত বুকের মাঝখানে চাপ বা ভারী অনুভূতির মতো হয়।মনে হয় বুকের উপর ভারী কিছু বসে আছে বা কিছু চেপে ধরে আছে এই ব্যথা অনেক সময় ছড়িয়ে যেতে পারে বাম হাতে ,ঘাড়ে, চোয়ালে বা পিঠে। এর সাথে থাকতে পারে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম,মাথা, ঘোরা, বমি ভাব ,অস্বাভাবিক দুর্বল লাগা।অন্যদিকে গ্যাস বা অ্যাসিডিটির কারণে যে বুকের ব্যথা হয়, সেটি সাধারণত জ্বালাপোড়ার মতো হয়।
ঝাল বা তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার পরে এই ব্যথা বাড়তে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ঢেঁকুর উঠলে বা গ্যাসের ওষুদ খেলে ব্যথা কিছুটা কমে যায়। তবে শুধু এই লক্ষণ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় না যে এটি হার্টের সমস্যা নয়।
কিছু বুকের ব্যথা হয় মাংসপেশীর কারণে।
এই ব্যথা সাধারণত নির্দিষ্ট জায়গায় থাকে এবং চাপ দিলে বাড়ে।
আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মেয়েদের এবং ডায়াবটিস রোগীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ অনেক সময় একটু ভিন্ন হতে পারে।মেয়েদের সবসময় তীব্র বুকের ব্যথা নাও হতে পারে। শুধু অস্বাভাবিক ক্লান্তি,শ্বাসকষ্ট, বমি ভাব ,ঘাড় বা পিঠে ব্যথা, হালকা বুকের অস্বস্তি থাকাও অনেক সময় মেয়েদের হার্ট এটাকের লক্ষণ হতে পারে।এই কারণে অনেক সময় মেয়েরা এটিকে গ্যাস ভেবে ভুল করেন।
ডায়াবেটিস আছে এমন মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও একটু ভিন্ন হতে পারে।ডায়াবেটিসের কারণে অনেক সময় স্নায়ুর অনুভূতি কমে যায়। তাই কিছু ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক হলেও তীব্র বুকের ব্যথা নাও হতে পারে।শুধু শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, ঘাম, বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। এই কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের বুকের যেকোনো অস্বাভাবিক লক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া খুব জরুরি।
কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন-
যদি বুকের ব্যথা কয়েক মিনিটের বেশি থাকে, বারবার ফিরে আসে, অথবা সাথে শ্বাসকষ্ট, ঘাম, মাথা ঘোরা বা বমি ভাব থাকে তাহলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যান।
হার্টের সমস্যায় সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।