Ishwarer kotha o gaan

Ishwarer kotha o gaan ঠাকুর মা স্বামীজীর অমূল্য বাণী ও কথা শুনতে পেজটিকে ফলো করবেন

১৯০২ সালে সিস্টার নিবেদিতার স্কুলে ভর্তি হই। স্কুল তখন ১৭ বোসপাড়া লেনে। সিস্টারের স্কুলে স্বামীজী প্রায়ই আসতেন, কিন্তু আ...
06/09/2026

১৯০২ সালে সিস্টার নিবেদিতার স্কুলে ভর্তি হই। স্কুল তখন ১৭ বোসপাড়া লেনে। সিস্টারের স্কুলে স্বামীজী প্রায়ই আসতেন, কিন্তু আমরা তখন খুবই ছোট', তাই বেশি কিছু মনে নেই। শুধু খুব লম্বা-চওড়া চেহারা আর বড় বড় চোখ-দুটি বেশ মনে আছে। ঐবছর বোধহয় ঠাকুরের তিথিপূজার দিন সিস্টার আমাদের দশ-বারজন ছোট মেয়েকে নিয়ে নৌকায় করে বেলুড় মঠে গিয়েছিলেন। আমরা সব্বাই স্বামীজীকে প্রণাম করি-এসব কথা খুবই অস্পষ্ট মনে আছে। তখন স্কুলে সন্ধ্যার পর শরৎ মহারাজ এসে মেয়েদের কাছে গীতাপাঠ করতেন। শরৎ মহারাজের মুখে তখন লম্বা দাড়ি। পুরস্ত্রীদের দালানে চিকের আড়ালে বসবার ব্যবস্থা ছিল। আমরা ছোটরা উঠানে বসতুম, সিস্টার আমাদের কাছে বসতেন। সবাইকে ঘোড়ার গাড়ি করে সিস্টার নিয়ে আসতেন। সিঁড়ির গায়ে ছোট জায়গাটিতে শরৎ মহারাজ বসে পাঠ করতেন। আমরা তো ঘুমিয়ে পড়তুম, সিস্টার কোলে করে আবার বাড়ি পৌঁছে দিয়ে যেতেন।

যোগীন-মা, গোলাপ-মাকেও প্রায়ই স্কুলে দেখতে পেতুম। তাঁরা প্রায় রোজই বলরাম-মন্দিরে আসতেন আর ফেরার পথে সিস্টারকে দেখে যেতেন। সিস্টার সাষ্টাঙ্গে তাঁদের প্রণাম করতেন, তাঁরাও চিবুক ধরে সিস্টারকে আদর করতেন আর জিজ্ঞেস করতেন : "নিবেদিতা, তুমি কেমন আছ?”

একদিন সিস্টার আমাদের ক'জনকে নিয়ে শ্রীশ্রীমার কাছে গেলেন, সেই প্রথম মাকে দেখি। তিনি তখন বাগবাজার স্ট্রীটের ভাড়াবাড়িতে। আমরা প্রণাম করে বাইরে দাঁড়াই, সিস্টার মার কাছে বসে কথা কইতে লাগলেন। তারপর প্রসাদ নিয়ে ফিরে আসা।

১৯০৯ সালে মা উদ্বোধন-বাড়িতে আসেন, তখন সিস্টার একদিন মাকে স্কুলে নিয়ে এসেছিলেন। সেদিন সিস্টারকে কী আনন্দিতই না দেখেছিলুম! ছোট বালিকাটির মতো চারদিকে ছুটোছুটি করে স্কুলবাড়ি সাজিয়েছিলেন।

তখন মাঝে মাঝে আমাদের মার কাছে নিয়ে যেতেন। আমরা তখন কিছুই জানতুম না বা বুঝতুম না। তবু সিস্টারের সঙ্গে ঘোরা, মার কাছে যাওয়া এসব খুব ভাল লাগত।

স্কুলের ওপর ভীষণ টান হয়েছিল। স্কুল ছেড়ে বাড়ি যেতে ইচ্ছে করত না। বড় হবার সঙ্গে সঙ্গে টান যেন বাড়তে লাগল। যখন সুধীরা-দি এলেন তখন আমরা একটু ওপরের ক্লাসে। তিনি আমাদের খুব ভালবাসতেন। আমাদেরও তাঁর ওপর অদ্ভুত ভালবাসা পড়েছিল।

সকলের মধ্যে ধর্মভাব জাগিয়ে দেবার চেষ্টাটা সুধীরা-দির খুব ছিল। আমার বাড়ির নাম ছিল পারুল। সুধীরা-দি নাম বদলে 'সরলা' রাখলেন। মাঝে মাঝে সুধীরা-দি আমাকে শ্রীশ্রীমার কাছে নিয়ে যেতেন।

সেই বছর পুজোর ছুটিতে ১৯১১ সালের ১৩ অক্টোবর সিস্টার নিবেদিতা মারা যান। সুধীরা-দির ভীষণ লেগেছিল। তিনি খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেন।

পূজনীয় স্বামী প্রজ্ঞানন্দ তখন উদ্বোধনে। একদিন আমাকে বললেন: "শ্রীশ্রীমাকে একদিন দেখে এসো।” তিনিই সব ব্যবস্থা করে দিলেন। ডাক্তার দুর্গাপদবাবুর স্ত্রী মাকে দেখতে যাবেন, তাঁকে বলে দিলেন তিনি যেন যাবার পথে তাঁদের গাড়িতে আমাকে তুলে নিয়ে যান। আমি তাঁদের সঙ্গে উদ্বোধনে গেলুম। কিন্তু সেদিন মার বলরাম-মন্দিরে নিমন্ত্রণ ছিল। তিনি যখন ফিরলেন তখনই আবার আমরা বাড়ি ফিরব, তাই কথাবার্তা কিছুই হলো না। মা-ও দুঃখ করে বলতে লাগলেন: “তাই তো মা, তুমি এলে আর বসে দুটি কথা কইতে পেলুম না।” খুব সস্নেহ আশীর্বাদ করলেন।

সেবার বেলুড় মঠে পুজোয় পূজনীয় বাবুরাম মহারাজ মাকে নিয়ে গিয়েছিলেন। সুধীরা-দি পুজোর পর পুরী যাবেন ঠিক করলেন। পুজোর ক'দিন মার সঙ্গে মঠে ছিলেন, একাদশীর দিন ফিরে এসে ত্রয়োদশীর দিন পুরী রওনা হন।

স্বামী প্রজ্ঞানন্দ একদিন এসে বললেন: “মহাষ্টমীর দিন বেলুড় মঠে গিয়ে মাকে একবার নিশ্চয়ই প্রণাম করে এসো।” আমার ভাগ্য মন্দ। মনে মনে ঠিক করেছিলাম ঝিয়ের সঙ্গে যাব, কিন্তু তার সেদিন ভীষণ হাঁপানি হয়েছে। যাওয়া না হতে হাপুস নয়নে কাঁদছি-সেইদিনটি কেবল কেঁদেই কাটিয়েছিলুম। মহাষ্টমীর দিন মাকে দর্শন করতে পেলুম না! মনে বড্ড লেগেছিল। রাত্রে কিন্তু খুব সুন্দর স্বপ্ন দেখলাম, যেন মঠে গিয়েছি আর মাকে প্রণাম করছি।

পুজোর পরই কিন্তু আশাতীত আনন্দের সুযোগ এসে গেল। শ্রীমা কাশীতে গেছেন আর সুধীরা-দির তখনো ছুটি ছিল, উনি আমাকে নিয়ে কাশী গেলেন; সঙ্গে নরেশ-দি, প্রফুল্ল-মাসীমা আর বাণী ছিল। শ্রীমা লক্ষ্মী দত্তের বাড়িতে ছিলেন। আমরা রামাপুরার কাছে একটা বাড়িতে। সকাল-বিকাল মার কাছে যাওয়া হতো। কালীপুজোর সময় মা কাশী ছিলেন, আমরা জগদ্ধাত্রী-পুজোর পর গিয়েছিলুম। ওরা সব ঘুরে ঘুরে বেড়াত, আমি বেশিরভাগ সময় মার কাছে থাকতাম। ওর মধ্যে মার জন্মতিথি পড়েছিল। পৌষের শেষে আমরা কলকাতা ফিরলুম।

জয় মা জয় জয় মা ♥️♥️🙏🙏🌹🌹
শ্রী শ্রী মায়ের চরণ প্রান্তে
প্রবাজিকা ভারতীপ্রাণা 🙏🙏 ( প্রথম পর্ব )

আসুন আমরা জেনে নেই, কে ছিলেন এই প্রবাজিকা ভারতীপ্রাণা।

'শ্রীশ্রীমায়ের কথা'র দ্বিতীয় ভাগে এবং স্বামী চেতনানন্দ সঙ্কলিত 'মাতৃদর্শন'-এ প্রব্রাজিকা ভারতীপ্রাণার দুটি মাতৃস্মৃতি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই দুটি স্মৃতিকথা যথাক্রমে শ্রীমতী সরলাবালা দেবী এবং শ্রীভারতী (সরলা দেবী) লিখিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রব্রাজিকা ভারতীপ্রাণার পূর্বাশ্রমের নাম ছিল পারুল। সিস্টার নিবেদিতার সহকারিণী সুধীরা বসু তাঁর নাম বদলে রেখেছিলেন 'সরলা'। স্বামী সারদানন্দ তাঁকে গৈরিক দান করে নাম দিয়েছিলেন 'শ্রীভারতী'।

পরবর্তী কালে সরলা দেবী সারদা মঠের প্রথম অধ্যক্ষা হন এবং বেলুড় মঠের তদানীন্তন অধ্যক্ষ স্বামী শঙ্করানন্দ তাঁকে যথারীতি বিরজা হোম পূর্বক সন্ন্যাসব্রতে দীক্ষিত করেন। সন্ন্যাসের পর তাঁর নাম হয় প্রব্রাজিকা ভারতীপ্রাণা। পূর্ব-উল্লিখিত দুটি স্মৃতি-নিবন্ধ ছাড়া সারদা মঠ প্রকাশিত ও প্রব্রাজিকা নির্ভয়প্রাণা সম্পাদিত 'ভারতীপ্রাণা স্মৃতিকথা' গ্রন্থে (১ম সং, ১৯৮৮) তাঁর একটি 'আত্মস্মৃতি' সঙ্কলিত হয়েছে। সেখানে শ্রীশ্রীমায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি যা বলেছেন তাতে পূর্ব-প্রকাশিত স্মৃতি-নিবন্ধ দুটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি এমন কিছু উপাদান রয়েছে। এখানে সেই অতিরিক্ত অংশগুলি উক্ত গ্রন্থ থেকে সঙ্কলন করে উপস্থাপন করা হলো। সম্পাদক

শ্রীশ্রীমা খুব সহজ একটি উদাহরণের মাধ্যমে গভীর কথা বলেছেন। একই গুরু অনেক শিষ্যকে মন্ত্র দেন, কিন্তু প্রত্যেকের ভিতরের প্র...
06/09/2026

শ্রীশ্রীমা খুব সহজ একটি উদাহরণের মাধ্যমে গভীর কথা বলেছেন। একই গুরু অনেক শিষ্যকে মন্ত্র দেন, কিন্তু প্রত্যেকের ভিতরের প্রস্তুতি, মন ও সাধনার গভীরতা একরকম নয়। তাই একই মন্ত্র পেলেও প্রত্যেকের আধ্যাত্মিক বিকাশ একইভাবে হয় না।

যেমন একই বৃষ্টি পড়লেও ভিন্ন ভিন্ন পাত্রে তার ধারণক্ষমতা এক নয়, তেমনি ঈশ্বরের কৃপা ও গুরুর মন্ত্র সবার জন্য হলেও তার প্রকাশ নির্ভর করে নিজের ‘আধার’-এর উপর।

তাই অন্যের সঙ্গে নিজের সাধনার তুলনা না করে নিজের মনকে শুদ্ধ ও প্রস্তুত করাই আমাদের কাজ। যত বেশি আন্তরিকতা, ভক্তি ও সাধনা বাড়বে, ততই অন্তরের সেই আলো প্রকাশিত হবে।

আজ আমাদেরও শুধু এই প্রার্থনা হোক—গুরুর দেওয়া মন্ত্রে অটুট বিশ্বাস রেখে আমাদের মনকে এমন পবিত্র আধার করে তুলতে পারি, যেখানে তাঁর কৃপা পূর্ণভাবে বিকশিত হয়।

জয় মা জয় জয় মা ❤️🙏🌹
সংগৃহীত 🙏🙏

একবার জয়রামবাটীতে ম্যালেরিয়ায় ভুগে ভুগে শরীর অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় স্বামী সারদানন্দজীর ব্যবস্থানুযায়ী কিছুদিন দর্শনাদি বন...
06/09/2026

একবার জয়রামবাটীতে ম্যালেরিয়ায় ভুগে ভুগে শরীর অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় স্বামী সারদানন্দজীর ব্যবস্থানুযায়ী কিছুদিন দর্শনাদি বন্ধ আছে। এমন সময় বরিশাল থেকে এক দীক্ষার্থী এসে উপস্থিত হলেন। এ অবস্থাতে কর্তব্য নির্ধারণের জন্য বাহিরে যে জোর বিতণ্ডা চলছিল, তা শুনতে পেয়ে অসুস্থা মা আলুথালুভাবে দরজার পাশে এসে সেবককে বললেন, "কেন তুমি আসা বন্ধ করছ?” সেবক বললেন, "শরৎ মহারাজ নিষেধ করেছেন।” মা বললেন, "শরৎ কী বলবে? আমাদের ঐজন্যই আসা। আমি ওকে দীক্ষা দেব।” ভক্তটির পরদিন দীক্ষা হয়ে গেল।
এমন ছিল আত্মাহুতি দানে মায়ের স্বধর্মনিষ্ঠা। যে শরৎকে এমন সমীহ-স্নেহ করতেন তাঁর ওজর-আপত্তিকেও একেবারে নস্যাৎ করে দিলেন! সর্বদা তন্ময় হয়ে আছেন অগ্নিমুখী আত্মা। কে রুখবে এ দুর্বার আত্মদানের অভীপ্সা?

জয় মা জয় জয় মা ❤️❤️🙏🙏🌹🌹

মা বলেছিলেন: "সেবাশ্রমে থাকবে, আর খুব ইচ্ছে হলে বাইরে মাধুকরী করে খেতে পার।" কিন্তু তপস্যার প্রবল প্রেরণায় আমি ঠিক করলাম...
05/09/2026

মা বলেছিলেন: "সেবাশ্রমে থাকবে, আর খুব ইচ্ছে হলে বাইরে মাধুকরী করে খেতে পার।" কিন্তু তপস্যার প্রবল প্রেরণায় আমি ঠিক করলাম-যে-কটা দিন তপস্যা করব, বাইরেই থাকব। সেবাশ্রমে থাকলে বাসস্থানের নিশ্চিন্ততায় তপস্যার ক্ষতি হবে। সুতরাং বাইরে থাকব এবং ভিক্ষা করেই খাব। গঙ্গার কাছে একটা পুরনো বাগানবাড়িতে জায়গাও পেলাম এবং সত্যি সত্যিই কেবল ভিক্ষার ওপর নির্ভর করে ধ্যান-জপ-তপস্যায় দিন কাটাতে লাগলাম। যেখানে থাকতাম সে-জায়গাটা মোটেই স্বাস্থ্যকর ছিল না। নানারকম পোকামাকড় ও মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হতে হতো। বুঝলাম, কেন মা সেবাশ্রমে থাকতে এবং "খুব ইচ্ছে হলে" মাধুকরী করে খেতে পারি বলেছিলেন। উত্তর ভারতের মাধুকরীর ডাল-রুটি আমার সহ্য হলো না। শীঘ্রই খুব দুর্বল বোধ করতে লাগলাম। মনে হলো, মনের উৎসাহ যেন কমে আসছে। মনে উদ্দীপনা আনার জন্য পূজ্যপাদ লাটু মহারাজের (স্বামী অদ্ভুতানন্দ) কাছে গেলাম। তিনি তখন সেখানে গঙ্গার কাছে একটা ঘাটে থাকতেন। আমাকে দেখে তিনি পরম স্নেহে বললেনঃ "সূয্যি, তোমার কি হয়েছে? এত দুর্বল দেখাচ্ছে? আমার মনে হচ্ছে, ভিক্ষা তোমার সহ্য হচ্ছে না। ঠিক আছে। এই দু-টাকা তুমি রাখ-মাস্টারমশাই আমাকে প্রতিমাসে পাঠান দুধ খাবার জন্য। এই টাকা দুটো নাও। এ দিয়ে আজ থেকে প্রতিদিন একটু দুধ খাবে।” কিন্তু তিনি নিজেই তো অত্যন্ত কৃচ্ছুতা করে থাকতেন। খুব খারাপ লাগছিল তাঁর কাছ থেকে টাকা নিতে। কিন্তু আবার মায়ের কথা মনে পড়ল- "ইচ্ছে করে কঠোরতা করবে না"। কাজেই নিতে বাধ্য হলাম। চোখে জল এসে গেল তাঁর ভালবাসা দেখে।

আমার শরীর সারল না। আরও খারাপ হলো। আমাশা দেখা দিল। ভিক্ষা করে খাওয়ার জন্য আমাশা বেড়েই চলল। একদিন অবস্থা খুব খারাপ হলো। সেই বাগানবাড়িতে একা একা পড়ে আছি, পেটে কিছুই দিতে পারিনি বারবার পায়খানা হচ্ছে। হঠাৎ শব্দ পেলাম, কারা যেন এসেছে। আমার ঘরের মধ্যে ঢুকলেন বাগানবাড়ির মালিক। তিনি একজন মহিলা। কয়েক বছর পরে সেদিনই এসেছেন বাগানবাড়িটা দেখতে। আমাকে সে-অবস্থাতে দেখেই তিনি সব বুঝে ফেললেন। হয়তো বাড়ির দেখাশোনা করে যে-লোকটি, তার কাছ থেকেও আমার কথা কিছু শুনেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি আমার জন্য ভাল ঘরের ব্যবস্থা করতে বললেন। আর বললেন-ভাত, তরকারি, দুধ প্রভৃতি যেমন পথ্য আমার দরকার, সেরকম ব্যবস্থা করতে। এবারও আমি বারণ করতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু মায়ের কথা মনে করে সব মেনে নিতে হলো। মনে হলো, মা-ই যেন নিজে ওঁর মাধ্যমে এসে আমার আহার ও বাসস্থানের সব ব্যবস্থা করে দিয়ে গেলেন।

কয়েক দিনের মধ্যেই আমি সুস্থ হয়ে উঠলাম। ততদিনে বুঝতে পেরেছি, তপস্যা করবার বদলে আমি এখন অন্যের সেবা নিচ্ছি। মায়ের নির্দেশ স্মরণ করে সেবাশ্রমে গিয়ে উঠলাম। এইভাবে মাস ছয়-সাত কেটে গেল। আমার সামান্য জিনিসপত্র যা ছিল গুটিয়ে নিয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই মঠে ফিরে এলাম। বাবার মতো উৎকণ্ঠা নিয়ে মহারাজ আমার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। আমি তাঁর পায়ে গিয়ে পড়লাম। মঠ ছেড়ে তপস্যা করার বাসনার সেই ইতি।

মঠে ফিরে এসে আবার মহারাজের সেবায় নিযুক্ত হলাম। মহাপুরুষ মহারাজ, বাবুরাম মহারাজও আমার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তাঁদের সে যে কী স্নেহ তা বলে বোঝানো যাবে না! মা তখন দেশে। আমার সব খবর দিয়ে মঠ থেকে মাকে চিঠি দিলাম। তপস্যার সাধ মিটেছে এবং মঠে সুস্থ দেহে ফিরেছি জেনে খুশি হয়ে মা আশীর্বাদী পত্র দিয়েছিলেন। তাতে লিখেছিলেন: “তপস্যা তো খুব করে এলে বাবা, এবার প্রাণ ঢেলে রাখালের সেবায় লেগে যাও। রাখালের সেবা করলেই তোমার সব হবে। তার চেয়ে বড় তপস্যা আর কিছু নেই জানবে।” সেবার দেশ থেকে মা ফিরলে উদ্বোধন-এ গিয়ে মায়ের চরণ দর্শন করে আসি। মা খুব আশীর্বাদ করেছিলেন। সেবার দুর্গাপূজায় মা মঠে এসেছিলেন এবং পূজার কয়দিন মঠেই ছিলেন। পূজার সময় খুব ঝড়বৃষ্টি হয়েছিল, কিন্তু "জ্যান্ত দুর্গা"র উপস্থিতিতে পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছিল।

একবার আমার কালীঘাটে গিয়ে মা-কালীকে দর্শন করার ইচ্ছা হয়েছিল। বাবুরাম মহারাজকে সেকথা বলতে বললেন: "উদ্বোধন-এ মায়ের সঙ্গে দেখা করে যা, তিনিই সাক্ষাৎ মা-কালী। সেখান হয়ে তবে কালীঘাটে যাবি।” বাগবাজারে মায়ের বাড়ী গিয়ে মাকে প্রণাম করে বাবুরাম মহারাজের কথাটি মাকে বললাম। শুনে মা অল্প একটু হাসলেন। মায়ের সেই হাসির মধ্যে আমি যে কী দেখলাম তা এখনো চোখে ভাসে। সে যে কী দিব্য রূপ তা বুঝিয়ে বলতে পারব না! তারপর মা বললেন: “বাবুরাম ঠিকই বলেছে বাবা।"*

জয় মা জয় জয় মা ♥️♥️🙏🙏🌹🌹

শ্রী শ্রী মায়ের কথা।
স্বামী নির্মাণানন্দ 🙏🙏( তৃতীয় ও শেষ পর্ব )

মাস পাঁচ-ছয় পর ছোট্ট একটা ঝুলি নিয়ে একদিন শেষরাত্রে গঙ্গাস্নান করে কাশীর উদ্দেশে মঠ থেকে বেরলাম। একগাছা লাঠি এক হাতে, আর...
05/09/2026

মাস পাঁচ-ছয় পর ছোট্ট একটা ঝুলি নিয়ে একদিন শেষরাত্রে গঙ্গাস্নান করে কাশীর উদ্দেশে মঠ থেকে বেরলাম। একগাছা লাঠি এক হাতে, আরেক হাতে একটা কমণ্ডলু। তখন ব্রহ্মচারী, তাই সাদা কাপড়। একটা কাপড়কে কেটে অর্ধেক পরেছি, অর্ধেক গায়ে দিয়েছি। একা একা গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড ধরে হাঁটতে শুরু করলাম। ভাদ্র মাস, হাঁটতে হাঁটতে বুঝলাম পায়ে হেঁটে যাওয়া মায়ের ইচ্ছা নয়। পথে খুব অসুস্থ ও দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম। দু-দিন প্রায় কিছুই পেটে পড়েনি। মাঝে মাঝে মায়ের প্রতি অভিমান হচ্ছে। তৃতীয় দিন সকালে পথে একটা বড় আমগাছের তলায় ক্লান্ত হয়ে শুয়ে আছি। মনে মনে বলছি, মা তুমি আশীর্বাদ করলে, তার ফল কি এই? খানিক বাদে ঐ গাছের তলায় একটা মোটরগাড়ি এসে দাঁড়াল। সেই গাড়ি থেকে একটা পরিবার নামলেন। তাঁরা ঐ গাছের ছাওয়ায় বসে খাওয়া-দাওয়া করবেন। আমি শুয়েই আছি। কে কি তা দেখার মতো মন বা ইচ্ছাও নেই। হঠাৎ এক পরিচিত পুরুষকণ্ঠের আওয়াজ: "সূয্যি মহারাজ না? কি ব্যাপার, এখানে?" তাকিয়ে দেখি মঠের এক পরিচিত ভক্ত। কাশী যাচ্ছি শুনে বললেনঃ "চলুন আমাদের গাড়িতে। আমরা মধুপুর যাব। যতখানি সম্ভব এগিয়ে দেব।” আমি বললাম: "ধন্যবাদ, কিন্তু আমি যে পদব্রজে যাব সঙ্কল্প করেছি।” তখন ভদ্রলোক তাঁদের সঙ্গে আনা খাবার থেকে আমাকে পরটা, ফল, মিষ্টি দিয়ে আগে খাওয়ালেন। কমণ্ডলুতে জল ভরে দিলেন। খেলাম, কিন্তু তাঁদের অনেক অনুরোধেও গাড়িতে উঠলাম না বা পয়সা নিলাম না। কিছুক্ষণ পর খাওয়া-দাওয়া করে ওঁরা চলে গেলেন। আবার আমার যাত্রা শুরু হলো। হাঁটছি তো হাঁটছি। খালি পায়ে হাঁটার জন্য পায়ে ফোস্কা পড়ে গিয়েছে, গায়ে ব্যথা। দিনে কষ্ট হয় বলে রাত্রেই বেশি হাঁটি। এভাবে আরও তিনটে দিন গেল। এই তিনদিন কয়েকটা পেয়ারা ছাড়া পেটে আর কিছু পড়েনি। মনে হলো ঐ ভদ্রলোকরা তাঁদের সঙ্গে গাড়িতে করে আমাকে এগিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি তা শুনিনি। মা আমাকে বলেছিলেন: "ইচ্ছা করে অনর্থক কঠোরতা করবে না।" ভক্তটির কথা না শুনে মায়ের কথার অবাধ্য হয়েছি, তাই বোধহয় এই কষ্ট। ভিক্ষে চাইতে গেলে লোকের উপহাসের পাত্র হয়েছি। সাদা কাপড়ে ব্রহ্মচারীর পোশাকও হয়তো ভিক্ষা না পাওয়ার একটা কারণ। যাইহোক প্রতিদিন মাইল বিশেক করে হাঁটতাম। এভাবে যাত্রার সপ্তম দিন সন্ধ্যায় বাংলা-বিহার বর্ডারে একটা গ্রামে গিয়ে পৌঁছালাম। জায়গাটা হাজারিবাগ জেলার একটি গ্রাম।

গ্রামটির নাম বীরপুর (?)। খোঁজাখুঁজির পর একটা শিবমন্দিরের সন্ধান পেলাম। সেখানেই রাতের মতো আশ্রয় নিলাম। প্রচণ্ড মশা। বুঝলাম, রাত্রে সেখানে থাকা অসম্ভব হবে। বসে বসে মশা তাড়াচ্ছি। আবার মায়ের আশীর্বাদের খেলা দেখলাম। প্রায় রাত্রি নটার সময়ে মন্দিরের পূজারী এলেন। আমাকে খুঁটিয়ে দেখলেন। বয়সে যুবক। আমাকে কয়েকটি প্রশ্ন করলেন। তারপর পূজায় বসলেন। পূজা শেষ হলে আমাকে বললেন: "মেরে সাথ ঘরমে চলিয়ে। য়হাঁ রাতমে ভাল্ ঔর জানোয়ার ভি আতা হ্যায়।” আমি "না” বলতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু মায়ের কথা মনে পড়ল-"ইচ্ছে করে কঠোরতা করবে না”। কাজেই বিনা বাক্যব্যয়ে তাঁর সঙ্গ নিলাম। পূজারীর সঙ্গে তাঁদের বাড়িতে গেলাম। বেশ সম্পন্ন পরিবার। পূজারীর বিধবা বৃদ্ধা মা আমাকে দেখে খুব খুশি হলেন। জপ-আহ্নিক করার জন্য তাঁদের ঠাকুরঘরে আমাকে বৃদ্ধা নিয়ে গেলেন। ঠাকুরঘরে গিয়ে আমি তো চমকে উঠলাম। দেখি, দেবদেবীদের মধ্যে শ্রীরামকৃষ্ণের ছবিও রয়েছে। অভিভূত হয়ে গেলাম। চোখে জল এসে গেছে নিজের অজান্তেই। বাংলা-বিহার সীমান্তে এই অজ পাড়াগাঁয়ে কিভাবে তিনি এলেন? মনে যে কী আনন্দ আর বিশ্বাস এল তা কি বলব।

বৃদ্ধার স্নেহে যত্নে তিনরাত্রি ওখানে আটকে থাকলাম। খিচুড়ি, মালপোয়া, কত কি নিজের হাতে বানিয়ে তিনি খাওয়ালেন আমাকে। পায়ের ফোস্কায় মলম লাগালেন। পায়ের মুচকে যাওয়া ব্যথায় চুন-হলুদ দিলেন। তিনদিন পরে মনে হলো, আমি বেশ সুস্থ হয়েছি। এবার আবার হাঁটা শুরু করতে পারি। কিন্তু সেই বৃদ্ধা বললেন: "না বাবা, তুমি এখনো দুর্বল। একা এতটা পথ হেঁটে কাশীতে গিয়ে তুমি আর তপস্যা করতে পারবে না। এই তোমার ট্রেনের টিকিট। তুমি ট্রেনে যাবে।” মায়ের কথা মনে পড়ল, কাজেই এবারও "না" বলতে পারলাম না। তাঁরা আমাকে কাছাকাছি একটা স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে তুলে দিলেন।

বৃদ্ধা এবং তাঁর ছেলের কাছে তাঁদের ঠাকুরঘরের ছবিটির ইতিহাস শুনেছিলাম। ছেলেটি একবার কাশী বেড়াতে যান। সেখানে একটা হোমিওপ্যাথি ওষুধের দোকানে ক্যালেন্ডারে ঠাকুরের ছবিটা দেখে চেয়ে নিয়ে আসেন। মনে হয় এম. (মহেশ) ভট্টাচার্যের দোকান থেকে। দোকানেই জিজ্ঞাসা করে জেনেছিলেন ছবিটি শ্রীরামকৃষ্ণের: "রামকিসেন (রামকৃষ্ণ)-কোঈ বাঙ্গালী অবতার হোঙ্গে”। মা ও ছেলে দুজনেই বললেন: "লেকিন এ ফোটো ঘরমে লে আনেকে বাদ সব কুছ অচ্ছা চল রহা হ্যায় (কিন্তু এই ফোটোটি ঘরে আনার পর থেকে সংসারে সবকিছু ভালভাবে চলছে)।” ফোটোটি তিনি কেন দোকান থেকে চেয়েছিলেন জিজ্ঞাসা করায় তাঁর ছেলে বললেন: "রামকৃষ্ণের চোখদুটিতে যেন একটা যাদু আছে। এই চোখদুটি আমাকে বড় টানছিল। তাই ক্যালেন্ডারটি চেয়েছিলাম। পরে ফ্রেমে বাঁধিয়ে নিই।"

যাইহোক, ট্রেনে কাশী পৌঁছালাম। বৃদ্ধা এবং তাঁর ছেলে আমাকে আরও কয়েকটা দিন ওঁদের বাড়িতে রাখতে চেয়েছিলেন। শেষে অনেক করে বলে ওঁদের রাজি করিয়েছিলাম এবং চারদিনের দিন ওঁদের একান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিদায় নিলাম। কাশী পৌঁছানো পর্যন্ত

আর কোন অসুবিধা হয়নি। দেখলাম মঠ থেকে বেরুনোর পর মা আমার সঙ্গে সঙ্গেই ছিলেন।

জয় মা জয় জয় মা ♥️♥️🙏🙏🌹🌹
শ্রী শ্রী মায়ের কথা।
স্বামী নির্বানানন্দ 🙏🙏(দ্বিতীয় পর্ব )

I got over 13,000 reactions on my posts last week! Thanks everyone for your support! 🎉 সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ, ও ভালোব...
05/09/2026

I got over 13,000 reactions on my posts last week! Thanks everyone for your support! 🎉 সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ, ও ভালোবাসা জানালাম ❤️❤️❤️। জয় ঠাকুর মা স্বামীজীর জয় ❤️🙏🌹

১৯১২ সালে কাশী সেবাশ্রমে ব্রহ্মচারী হিসাবে আমি যোগদান করি। তখন মহারাজ (স্বামী ব্রহ্মানন্দ), মহাপুরুষ মহারাজ (স্বামী শিবা...
03/09/2026

১৯১২ সালে কাশী সেবাশ্রমে ব্রহ্মচারী হিসাবে আমি যোগদান করি। তখন মহারাজ (স্বামী ব্রহ্মানন্দ), মহাপুরুষ মহারাজ (স্বামী শিবানন্দ), হরি মহারাজ (স্বামী তুরীয়ানন্দ), মাস্টার মশাই (শ্রীম) ওখানে রয়েছেন। শ্রীশ্রীমাও তখন ওখানে ছিলেন- 'লক্ষ্মীনিবাসে'। সেই সময়ে মাকে একদিন পালকি করে সেবাশ্রমে নিয়ে আসা হলো। সঙ্গে স্বামী শান্তানন্দ ও চারুবাবু (পরে স্বামী শুভানন্দ) ছিলেন। মা একটা চেয়ারে বসলেন। একজন ভক্ত জিজ্ঞাসা করলেন: "মা, কেমন দেখলেন?” মা বললেন: "দেখলুম ঠাকুরই বিরাজ করছেন। রোগীদের সাক্ষাৎ নারায়ণজ্ঞানে সেবা করে ছেলেরা তাঁরই সেবা করছে।” মা একথা বলার পর আমাদের ভিতর আরও প্রেরণা এল। সেবাশ্রমে তখন সাধু-ব্রহ্মচারীর সংখ্যা কম। ইন্ডোর-এর রোগীদের সেবার ভার আমার ওপর দেওয়া হয়েছিল। নারায়ণজ্ঞানে সেবা বাস্তব ক্ষেত্রে বড় কঠিন। বছর দুয়েক সেবাশ্রমে ছিলাম। খুব চেষ্টা করেছিলাম নারায়ণজ্ঞানে রোগীদের সেবা করতে। শ্রীশ্রীমায়ের কথার জোর, মহারাজের উৎসাহ, হরি মহারাজের প্রেরণা-এইসবের জন্যই তা করতে পেরেছিলাম।

কাশীতে, বাগবাজারে এবং বেলুড় মঠে মহারাজ শ্রীশ্রীমাকে প্রণাম করছেন-এই দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য আমার বহুবার হয়েছে। দেখতাম মহারাজ মায়ের সামনে গেলে কেমন যেন হয়ে যেতেন-ভাবে বিহ্বল। স্থির হয়ে দাঁড়াতে পারতেন না, পা টলত, শরীর থরথর করে কাঁপত। কোনরকমে প্রণাম করেই উঠে আসতেন। অনেক সময় কাশীতে এবং মায়ের বাড়ীতে প্রণাম করার জন্য ওপরে উঠতেই পারতেন না, নিচে থেকেই দাঁড়িয়ে যুক্তকর মাথায় তুলে উদ্দেশে প্রণাম জানাতেন। বাবুরাম মহারাজ, মহাপুরুষ মহারাজ প্রমুখকেও মাকে প্রণাম করতে দেখেছি। তাঁদেরও প্রায় ঐরকমই অবস্থা, তবে অতটা নয়।

ব্রহ্মচর্যের পর (১৯১৪ খ্রীঃ) শ্রীশ্রীমায়ের আশীর্বাদ নিতে

উদ্বোধন-এ গিয়েছি। তখন মায়ের ঘরের সামনে এখনকার মতো বড় বারান্দা ছিল না। সিঁড়ি দিয়ে উঠে কেবল একফালি চওড়া বারান্দা। নিচের উঠোনটি তখন বড় ছিল। মাকে প্রণাম করতে তিনি একটু ভজন শোনাতে বললেন। নিচের উঠোনে শতরঞ্চি পেতে বেশ কয়েকটি ভজন গাইলাম। মা খুশি হয়ে প্রসাদ পাঠিয়ে দিলেন। মঠে ফেরার সময়ে মাকে প্রণাম করতে গেলে মা মাথায় হাত দিয়ে খুব আশীর্বাদ করলেন।

১৯১৫ সালের মার্চ-এপ্রিল হবে। আমি তখন মহারাজের সেবায় বেলুড় মঠে রয়েছি। দেখতাম, আমার বয়সী অনেক সাধু-ব্রহ্মচারী মহারাজের অনুমতি নিয়ে তপস্যায় যেতেন। হিমালয় বা অন্য কোথাও বছর খানেকের জন্য তপস্যা করে আসতেন। আমিও একদিন মহারাজের কাছে গিয়ে তপস্যার অনুমতি চাইলাম। তিনি তৎক্ষণাৎ বললেন: "তুই তাহলে এখানে কী করছিস? এই যে সেবা করছিস, এ তপস্যার চেয়ে ঢের বেশি হচ্ছে। তোর আর কোথাও যাবার প্রয়োজন নেই।” কিন্তু তা সত্ত্বেও আমি যখন বারবার পীড়াপীড়ি করতে লাগলাম, তখন তিনি আমায় মহাপুরুষ মহারাজের কাছ থেকে অনুমতি নিতে বললেন। মহাপুরুষ মহারাজ আমার কথা শুনেই বললেন: "তুই কি পাগল হয়েছিস? আর কোথায় যাবি তপস্যা করতে? এই যে মহারাজের সেবা করছিস, এতেই সব জানবি।” আমি তবুও জোর করতে লাগলাম। তখন তিনি বললেন: "আচ্ছা, বাবুরাম মহারাজের (স্বামী প্রেমানন্দ) কাছে যা। তিনি অনুমতি দিলে তবেই যাবি।” বাবুরাম মহারাজের কাছে গেলাম। আমার নিবেদন শুনে তিনিও একই উত্তর দিলেন। তবে আরও জোরের সঙ্গে। বললেন: “তুই কি সত্যি সত্যিই পাগল হলি, সুয্যি? দেখছিস
না, ঠাকুর রয়েছেন মহারাজের ভিতরে? আর কোথাও গেলে কি তুই ভগবানের মানসপুত্রের সাক্ষাৎ সান্নিধ্য পাবি?” কিন্তু আমি তবুও জেদাজেদি করতে থাকলে তিনি বললেন: "ঠিক আছে। উদ্বোধন-এ মা আছেন। মা যদি অনুমতি দেন, যাবি। প্রথমে কালীঘাটে গিয়ে মা-কালীকে পুজো দিবি। তারপর মায়ের কাছে যাবি আশীর্বাদের জন্য। জানবি, কালীঘাটে যিনি আছেন আর বাগবাজারে (উদ্বোধন-এ) যিনি আছেন, তাঁরা এক।"

কালীঘাট-মন্দিরে প্রণাম করে উদ্বোধন-এ পৌঁছালাম। দেখলাম, মায়ের দর্শনার্থীদের সারিতে আমিই শেষ ব্যক্তি। দূর থেকে দেখছি, মা মুখের ওপর ঘোমটা টেনে বসে আছেন আর যে-ই প্রণাম করছে তাকেই আশীর্বাদ করছেন। অবশেষে আমার পালা এল। অন্য সব ভক্ত তখন চলে গেছে। পায়ে মাথা দিয়ে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করে যখন উঠে দাঁড়ালাম তখন দেখি মা ঘোমটা সম্পূর্ণ খুলে ফেলেছেন। খুব হেসে আমাকে বললেন: "এই মিষ্টিটা নাও বাবা, খাও।" নিজের হাতে আমায় মিষ্টিপ্রসাদ দিলেন। মাকে মঠের সব খবর দিলাম। শেষকালে আমার প্রার্থনার কথা জানালাম। সব শুনে মা বললেন: "বাইরে গিয়ে কঠোরতা করা ঠাকুর পছন্দ করতেন না, বাবা। তাছাড়া মঠ ছেড়ে, রাখালকে ছেড়ে তুমি কোথায় তপস্যা করতে যাবে? রাখালের সেবা করছ-তাতেই কি সব হচ্ছে না?" কিন্তু আমি বাচ্চাছেলের মতো তাঁর অনুমতি আর আশীর্বাদের জন্য আবদার করতে লাগলাম। আমাকে নাছোড় দেখে শেষে মা বললেন: "আচ্ছা, তুমি তপস্যায় যেতে পার-কাশীতে যেতে পার। তবে আমাকে একটা কথা দিতে হবে। ইচ্ছে করে অনর্থক কঠোরতা করবে না। যদি পথে অযাচিতভাবে কোন সাহায্য পাও তা নেবে। কাশীতে তপস্যা করার সময়েও যদি তোমাকে কেউ কিছু দেয়, তাও নেবে। সেবাশ্রমে থাকবে, আর খুব ইচ্ছে হলে বাইরে মাধুকরী করে খেতে পার। কাশীবাসও হবে, আর তপস্যাও হবে।” আমি মাকে কথা দিলাম। তবে তাঁর অনুমতি চাইলাম পদব্রজে কাশী যাওয়ার।

মা অনুমতি দিলেন, তবে পায়ে হেঁটে যাওয়ার কথাটা যে তাঁর মনঃপূত হয়নি তাও বুঝলাম। তারপর মাকে প্রণাম করে তাঁর অজস্র আশীর্বাদ নিয়ে খুশিমনে মঠে ফিরলাম। মহারাজ, মহাপুরুষ মহারাজ, বাবুরাম মহারাজকে সব বললাম।

শ্রী শ্রী মায়ের কথা।
স্বামী নির্বাণানন্দ 🙏🙏👍 ( প্রথম পর্ব )

একদিন শ্রীশ্রীমা আমাদের দীক্ষা দান করলেন। জন্ম-জন্মান্তরের পুণ্য সৌভাগ্যে ধন্য হলাম আমরা। দীক্ষার পর প্রসাদ পেয়ে মাকে প...
03/09/2026

একদিন শ্রীশ্রীমা আমাদের দীক্ষা দান করলেন। জন্ম-জন্মান্তরের পুণ্য সৌভাগ্যে ধন্য হলাম আমরা। দীক্ষার পর প্রসাদ পেয়ে মাকে প্রণাম করে সর্বাঙ্গে যেন জগজ্জননীর পদধূলির পূণ্য রেণু মেখে বাড়িতে ফিরে এলাম আমরা। তারপর থেকে উদ্বোধনে আমরা দুজনেই যাতায়াত শুরু করলাম এবং মায়ের স্নেহ-সান্নিধ্যের অমৃতসুধায় সিঞ্চিত হতে লাগলাম। মাকে প্রণাম করে স্বামী নিচের ঘরে স্বামী সারদানন্দের কাছে বসে থাকতেন। তিনি ধর্মতলার একটা স্কুলে শিক্ষকতা করতেন, কিন্তু সঙ্গীত সম্পর্কে তাঁর ছিল বিশেষ আগ্রহ।

স্বামী সারদানন্দ গম্ভীরাত্মা মহাপুরুষ, কিন্তু তিনি সঙ্গীত নিয়ে গভীর আলোচনা করতেন আমার স্বামীর সঙ্গে। গান্ধার এবং খাম্বাজ নিয়ে দুজনের আলোচনা চলত। কখনো বা আলোচনা হতো একতাল এবং চৌতালের
মাত্রাগত সাদৃশ্য এবং চালের ফারাক নিয়ে। মহারাজ যেন মুহূর্তে এক তরুণের সমবয়স্ক হয়ে যেতেন এবং তরুণ শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনায় মশগুল হয়ে যেতেন। আবার তার ফাঁকে ফাঁকেই চলত ঠাকুর-স্বামীজীর কথা। এদিকে ওপরে আমি থাকতাম মায়ের কাছে। মায়ের খুঁটিনাটি সেবার সুযোগ পেলে ধন্য হয়ে যেতাম আমি।

একবার মায়ের জন্মতিথির দিন কিছু টাটকা কলমি শাক আর একটি নরুনপাড় ধুতি নিয়ে উদ্বোধনের উদ্দেশ্যে ঘোড়ার গাড়িতে করে রওনা হলাম আমরা। ছেলেদের সঙ্গে স্বামী মাকে প্রণাম করে নিচে চলে গেলেন। আমি প্রণাম করার সময় কলমি শাকের পুঁটলি
এবং ধুতিটি মায়ের পায়ের কাছে রাখলাম। মনে বড় ইচ্ছা, মা যদি আজ ধুতিটি পরেন।
মা জিজ্ঞাসা করলেন : "পুঁটলিতে কি এনেছ ?"
আমি খুব সঙ্কোচের সঙ্গে বললাম :"একটু কলমি শাক।"
শুনে মা আহ্লাদে আটখানা।
অন্তর্যামিণী বললেন : "তোমার কাপড়টি আজ পরব।"
শুনে চোখের জল ধরে রাখতে পারলাম না। মায়ের কত সন্তান, কত ভক্ত তাঁর জন্মতিথিতে কত মূল্যবান কাপড়ই না এনেছিলেন। কিন্তু মা দয়া করে গরিব শিক্ষকের স্ত্রীর দেওয়া সেই সাধারণ কাপড়টি সেদিন পড়েছিলেন। সেদিন প্রসাদ পাওয়ার সময় দেখলাম মা খুব আনন্দ করে আমাদের আনা কলমি শাক খাচ্ছেন।

কত কথা মনে পড়ছে এবং কত ঘটনা। আবার স্মৃতি অনেক ক্ষেত্রে ঝাপসাও হয়ে এসেছে। মায়ের দেহ চিতাগ্নিতে দেওয়ার আগে বেলুড়মঠে শায়িত ছিল ভক্তদের প্রণামের জন্য। আমার এবং আমার স্বামীর কাছে তখন জগৎ অন্ধকার। স্বামীকে বললাম : "মা চলে গেলেন, তাঁর কোন চিহ্নই তো আমাদের কাছে থাকল না।"

স্বামী তখন গঙ্গা থেকে একটু মাটি এনে মায়ের চরণে ছুঁইয়ে আমার হাতে দিলেন। মায়ের পদস্পর্শপূত সেই মহার্ঘ মৃত্তিকা আমাদের বাড়িতে একটি কৌটায় আজও সংরক্ষিত রয়েছে।

মায়ের ভক্ত পাঁচুদাসী মুখোপাধ্যায় 🙏🙏

জয় মা জয় জয় মা ♥️♥️🙏🙏🌹🌹

মথুরানাথের মৃত্যুর কয়েক মাস পরে শ্রীসারদাদেবী তাঁহার স্বামী শ্রীরামকৃষ্ণের সেবার জন্য দক্ষিণেশ্বরে শুভাগমন করেন। ছয় বৎসর...
03/09/2026

মথুরানাথের মৃত্যুর কয়েক মাস পরে শ্রীসারদাদেবী তাঁহার স্বামী শ্রীরামকৃষ্ণের সেবার জন্য দক্ষিণেশ্বরে শুভাগমন করেন। ছয় বৎসরের বালিকা বয়সে তাঁহার বিবাহ হইয়াছিল। বিবাহের প্রায় আট বৎসর পরে, প্রকৃতপক্ষে, তাঁহার প্রথম স্বামী সন্দর্শন ঘটে। সাত বৎসর সাধনার পর শ্রীরামকৃষ্ণ জন্মভূমি কামারপুকুরে আগমন করিলে, তাঁহার অনুমতি গ্রহণ পূর্ব্বক শ্রীসারদাদেবীকে তথায় আনয়ন করা হয়। এত দিন তিনি শুনিতেছিলেন যে, তাঁহার স্বামী দক্ষিণেশ্বরে দেবালয়ে উন্মাদ অবস্তায় রহিয়াছেন। কামারপুকুরে আসিয়া তিনি স্বামীর নিকট কি ভাবে গৃহীত হইয়াছিলেন, এবং শ্রীরামকৃষ্ণের এ সময় লোকাচার পরিত্যাগ ও ভগবৎ চিন্তায় ভাবাবেশ প্রত্যক্ষ করিয়া তাঁহার মনোভাব কিরূপ হইয়াছিল তাহা সবিশে জানা যায় না। ইহারও পর প্রায় চারি বৎসর কাটিয়া গিয়াছে। তিনি এখন অষ্টাদশ বর্ষে পদার্পণ করিয়াছেন। কিন্তু তাঁহার স্বামী এ পর্য্যন্ত তাঁহার কোন সংবাদ গ্রহণ করেন নাই। অবশ্য, স্বামীর প্রতি স্ত্রীরও কর্তব্য আছে। স্বামীর যেরূপ অবস্থাই হউক সাধ্বী স্ত্রীর কঠোর কর্তব্য পালন বিষয়ে শাস্ত্র ও লোকচার উভয়েরই তাঁহার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। শ্রীসারদাদেবী, সহধর্মিণীর কর্তব্য পালন করিবার জন্য ১২৭৮ সালের ফাল্গুন মাসে স্বামীর নিকট উপস্থিত হইলেন। শুনা যায়, গঙ্গাস্নান উপলক্ষে পিতার সমভিব্যাহারে এবং জয়রামবাটী গ্রাম ও তদঞ্চলের অনেক স্ত্রীপুরুষদিগের সহিত দলবদ্ধ হইয়া বৈদ্যবাটীতে আসিতেছিলেন। কিন্তু বহুদূর পথ চলার কষ্টে তিনি প্রবল জ্বরে পীড়িতা হইয়া কোন চটিতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। কিঞ্চিন্মাত্র সুস্থ বোধ করিলে, ঐ স্থান হইতে পিতার সহিত তিনি অসুস্থ শরীরে দক্ষিণেশ্বরে আগমন করেন। দুঃসহ ক্লেশ কি করিয়া নিরবে সহ্য করিতে হয়, শ্রীসারদাদেবীব জীবনে তাহা চিরদিন দেখা গিয়াছে। শ্রীসারদাদেবীর দক্ষিণেশ্বরে অবস্থিতি হইতে, শ্রীধামকৃষ্ণ জীবনে এক অভিনব পরিচ্ছেদ উন্মুক্ত হইল। শুদ্ধসত্ব ভক্তের সঙ্গ ও লোকশিক্ষার নিমিত্ত শ্রীরামকৃষ্ণ 'মার' কাছে আদিষ্ট। তাঁহার প্রথম ভক্ত ও শিষ্যা তাঁহার পত্নী শ্রীসারদাদেবী!

শ্রীরামকৃষ্ণ নিজ সহধর্মিণী শ্রীসারদাদেবীকে সবিশেষ যত্ন ও সমাদর পূর্ব্বক গ্রহণ করিয়া নহবতে আপনার জননীর নিকট নিভৃতে থাকিবার ব্যবস্থা করিলেন। শ্রীসারদাদেবীও প্রীত মনে স্বামী ও শ্বাশুড়ীর সেবায় নিযুক্তা হইলেন। অল্পদিনের মধ্যেই তিনি বুঝিতে পারিলেন যে, শ্রীরামকৃষ্ণের এখন পাঁচ বৎসরের বালকের স্বভাব হইয়াছে, সদানন্দমুর্ত্তি সরল বালক অনুক্ষণ মার নামে মাতোয়ারা ও ভাব সমাধিতে মগ্ন হইয়া থাকেন। সে প্রেমমূর্তি দর্শন করিলে, মহাপাষণ্ড নাস্তিক ও পাপাচারীয় মনও দ্রবীভূত হয়। শ্রীসারদাদেবী স্বামীকে যে পরম আরাধ্য দেবতা ভিন্ন অন্য কোন দৃষ্টিতে দেখিতে পারিলেন না, ইহা সহজেই বোধ হইতে পারে।

শ্রীরামকৃষ্ণ, পত্নী শ্রীসারদাদেবীকে কি ভাবে স্বীয় সন্নিধানে রাখিয়াছিলেন, তাহা তাঁহার ষোড়শী পূজায় প্রকাশ পাইয়াছে। জীবাশক্ষার জন্য, নিজ জীবনে সেই মহাপূজা অনুষ্ঠান করিয়া দেখাইয়াছেন যে, "যে মেয়েমানুষের কাছে থেকে এত সাবধান হতে হয়, ভগবান দর্শনের পর বোধ হবে সেই মেয়েমানুষ সাক্ষাৎ ভগবতী! তখন তাঁকে মাতৃজ্ঞানে পূজা কর্ব্বে! আর তত ভয় নাই!"

শ্রীসারদাদেবীর দক্ষিণেশ্ববে আসিবার তিন মাসের মধ্যেই, শ্রীরামকৃষ্ণ সোপচারে ও বিহিত বিধানে মোড়শী পূজা করিয়াছিলেন। জ্যৈষ্ঠ মাসের ফলহারিণী শ্যামাপূজার রাত্রে তাঁহার গৃহে পূজার আয়োজন হইয়াছিল। ষোড়শাক্ষর মন্ত্রে জগদম্বার পূজা করিতে হয় বলিয়া, ইহাকে যোড়শী পূজা বলে। শ্রীবিদ্যা ও ষোড়শী পূজায় ভগবতীর কোন মহামায়াকে সর্ব্ব সৌন্দর্য্যময়ী, ত্রিপুরাসুন্দরী ইঁহারই নামান্তর। রূপ ভয়ঙ্করা মূর্তি কল্পনা নাই। সর্ব্বকল্যানদায়িনী রূপে ধ্যান করিবার বিধান। মহাবিদ্যা ষোড়শী দেবীর ধ্যান করিতে হয়।

জয় মা জয় জয় ঠাকুর ♥️♥️🙏🙏🌹🌹

শ্রীমায়ের বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করতেন শ্রী শ্রী ঠাকুর। এরকমই দুটি ঘটনার কথা।গঙ্গার তীরে পানিহাটিতে প্রতিবার জৈষ্ঠ শুক্লা ...
03/09/2026

শ্রীমায়ের বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করতেন শ্রী শ্রী ঠাকুর। এরকমই দুটি ঘটনার কথা।

গঙ্গার তীরে পানিহাটিতে প্রতিবার জৈষ্ঠ শুক্লা ত্রয়োদশীতে 'চিড়ার মহোৎসব' হয়। সেখানে সারাদিন সেদিন আনন্দের মেলা-হরিসংকীর্তন লেগেই থাকে। শ্রী শ্রী ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব এই উৎসবে যেতে ভালবাসতেন, একাধিকবার সেখানে গেছেন। একবার এই উৎসবের দিনে সকালবেলা ঠাকুর পানিহাটি যাবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন; কয়েকজন স্ত্রীভক্ত-ও তাঁর সঙ্গে যাবেন বলে ঠিক করেছেন। তাঁরা যাচ্ছেন জেনে শ্রীমা ঠাকুরের কাছে জনৈক স্ত্রীভক্তের দ্বারা জিজ্ঞেস করে পাঠালেন, তিনিও যাবেন কিনা। ঠাকুর বললেন: 'তোমরা তো যাচ্ছ; যদি ওর ইচ্ছা হয় তো চলুক।'

মা বুঝলেন, ঠাকুর মন খুলে অনুমতি দিচ্ছেন না। তাঁর যদি সত্যিই ইচ্ছে হত, তাহলে তিনি বলতেন: 'হ্যাঁ, যাবে বৈকি'। কাজেই তিনি যাবার সংকল্প ত্যাগ করলেন, বললেন: অত ভিড়ে তাঁর অসুবিধে হবে। রাতে উৎসবক্ষেত্র থেকে ফিরে এসে ঠাকুর বলেছিলেন: 'অত ভিড়-তার উপর ভাবসমাধির জন্য আমাকে সকলে লক্ষ্য করছিল-ও সঙ্গে না গিয়ে ভালই করেছে। ওকে সঙ্গে দেখলে লোকে বলত, "হংস-হংসী এসেছে!” ও খুব বুদ্ধিমতী।'

ঐদিনই মায়ের বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করে তিনি আরেকটি ঘটনার উল্লেখ করেছিলেন। একবার মাড়োয়ারী ভক্ত লছমীনারায়ণ শ্রীরামকৃষ্ণের সেবার জন্য দশ হাজার টাকা দিতে চাইলেন। সন্ন্যাসী তিনি, এককথায় সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করলেন। কিন্তু শ্রীমাকে পরীক্ষা করতে ইচ্ছে হল তাঁর। মাকে বললেন: 'ওগো, এই টাকা দিতে চায়। আমি নিতে পারব না বলায় তোমার নামে দিতে চাইছে। তুমি ওটা নাও না কেন? কি বল?' শ্রীমা সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলেন: 'তা কেমন করে হবে? টাকা নেওয়া হবে না। আমি নিলে ও টাকা তোমারই নেওয়া হবে; কারণ আমি রাখলে তোমার সেবা ও অন্যান্য প্রয়োজনে খরচ না করে থাকতে পারব না; ফলে ওটা তোমারই নেওয়া হবে। তোমাকে লোকে শ্রদ্ধা-ভক্তি করে, তোমার ত্যাগের জন্য; কাজেই টাকা কিছুতেই নেওয়া হবে না।' শ্রীরামকৃষ্ণ খুব খুশি হলেন।

আমি মা সকলের মা

জয় ঠাকুর জয় জয় মা ♥️♥️🙏🙏🌹🌹

Adresse

Basirhat
Democratic Republic Of The
743412

Notifications

Soyez le premier à savoir et laissez-nous vous envoyer un courriel lorsque Ishwarer kotha o gaan publie des nouvelles et des promotions. Votre adresse e-mail ne sera pas utilisée à d'autres fins, et vous pouvez vous désabonner à tout moment.

Contacter L'entreprise

Envoyer un message à Ishwarer kotha o gaan:

Raccourcis

Partager