Itinéraire

CHT24 সত্যের খোঁজে অপ্রতিরোধ্য

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক ইউনিয়নের মাসালং এলাকায় পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেব...
17/09/2026

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক ইউনিয়নের মাসালং এলাকায় পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা, ওষুধ ও চশমা বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দুর্গম পাহাড়ি জনপদে চিকিৎসাসেবার সীমিত সুযোগ এবং যোগাযোগের নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগে একসঙ্গে চিকিৎসা পেয়েছেন শতাধিক মানুষ। একই সঙ্গে চোখের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে এমন ১৫ জন রোগীকে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সেনাজোনের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামের লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত সাজেক ইউনিয়নের মাসালং মিলনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। সেনাবাহিনীর সাজেক জোনের সহায়তায় এবং চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশন ও লায়ন্স ক্লাব চিটাগাং ফিনিক্সের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত
হয়।
সাজেক ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ও আশপাশের দুর্গম পাড়া থেকে পাহাড়ি ও বাঙালি নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চিকিৎসা নিতে আসা শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪১ জনকে বিনামূল্যে চশমা দেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী যাদের চোখে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে ১৫ জনকে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সেনাজোনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামের লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের চোখের অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

চিকিৎসা কার্যক্রমে সাজেক জোনের রেজিমেন্টাল মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন মো. হাবিবুল্লাহ হাবিব এবং চট্টগ্রাম লায়ন্স হাসপাতাল থেকে আসা চক্ষু বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। দুর্গম এলাকা থেকে আসা রোগীদের চোখের বিভিন্ন সমস্যা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ ও ওষুধ দেওয়া হয়।
সাজেকের দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সেনাজোনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর আগে ভুয়াছড়ি, মাসালং ১৪ কিলো, গঙ্গারাম বাজার, বাঘাইহাট, মুশফিক, সাজেক পর্যটন এলাকা ও ক্ষেত্রপুরসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার মাসালং এলাকায় বিশেষভাবে চক্ষু চিকিৎসার আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় বাস্তবতায় এ ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রমের গুরুত্ব আরও বেশি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অনেক বাসিন্দার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো শুধু অর্থের বিষয় নয়, যোগাযোগ ব্যবস্থাও বড় একটি বাধা। ফলে চোখের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যায় আক্রান্ত অনেক মানুষ দীর্ঘদিন চিকিৎসার বাইরে থেকে যান। এ অবস্থায় চিকিৎসকদের প্রত্যন্ত এলাকায় নিয়ে গিয়ে বিনামূল্যে পরীক্ষা, ওষুধ ও চশমা দেওয়ার পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের শহরে নেওয়ার ব্যবস্থা কার্যত একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রমে রূপ নিয়েছে।
তবে এ মানবিক কার্যক্রম ঘিরে কর্মসূচির আগেই পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ ইউপিডিএফ কর্তৃক বাধা ও মানুষকে হুমকি দেয়ার অভিযোগও সামনে এসেছিল। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ১৭ সেপ্টেম্বর মাসালংয়ে অনুষ্ঠেয় বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা কর্মসূচিতে ইউপিডিএফের প্রসীত গ্রুপের বাধার অভিযোগ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগ নিয়ে বিভ্রান্তি বা নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগকে ব্যাহত করতে পারে।
এর মধ্যেই নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা অনুষ্ঠিত হওয়া এবং সেখানে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর মানুষের অংশগ্রহণকে দুর্গম এলাকার স্বাস্থ্যসেবায় এমন উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার দিকটি সামনে এনেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নিয়মিত বিনামূল্যের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়েও খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনী ও জেলা সদর হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে ৮৬১ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর মানুষ চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন।
সাজেকেও চিকিৎসাসেবার এ ধারাবাহিকতা স্থানীয় মানুষের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ দুর্গম পাহাড়ি জনপদে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে, ততই জটিল রোগ শনাক্ত ও সময়মতো চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে। বিশেষ করে বিনামূল্যে চশমা বিতরণ এবং অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেওয়ার উদ্যোগকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সহায়তার অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাজেক জোনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত পাহাড়ি-বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় এর ইতিবাচক প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রাঙামাটির লংগদুতে পার্বত্য এলাকার বেকার তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত বিনামূল্য...
16/09/2026

রাঙামাটির লংগদুতে পার্বত্য এলাকার বেকার তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত বিনামূল্যের কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে ৪৮ জন প্রশিক্ষণার্থীর হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের পথ তৈরি করতে সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
বুধবার জোন সদরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়নের অধীন লংগদু জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর মোর্শেদ। এ সময় জোনের জেডএসও মেজর মো. শাহীনূর আল সাকিব উপস্থিত ছিলেন।
লংগদু জোন সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য এলাকার তরুণ-তরুণীদের কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দিতে গত ২৩ আগস্ট বিনামূল্যে এ কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সূচনা করা হয়। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কম্পিউটার, মোবাইল রিপেয়ারিং, মেকানিক্যাল ও রিপেয়ারিং এবং প্রাথমিক চিকিৎসার মতো ব্যবহারিক ও কর্মসংস্থানমুখী বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ফলে প্রশিক্ষণার্থীরা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বাস্তব জীবনে কাজে লাগানো যায় এমন বিভিন্ন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, একটি অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তোলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গা থেকে লংগদু জোনের এ উদ্যোগকে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার একটি কার্যকর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়ার পাশাপাশি তারা নিজেদের পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। দুর্গম এলাকার তরুণদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর এমন উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলে উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মিজোরাম থেকে দুই বছর পর ফিরলেন বম সম্প্রদায়ের ১৮ জনদীর্ঘ দুই বছর পর ভারতের মিজোরাম থেকে বান্দরবানের থানচি উপজেলার নিজ পা...
14/09/2026

মিজোরাম থেকে দুই বছর পর ফিরলেন বম সম্প্রদায়ের ১৮ জন

দীর্ঘ দুই বছর পর ভারতের মিজোরাম থেকে বান্দরবানের থানচি উপজেলার নিজ পাড়ায় ফিরেছেন বম সম্প্রদায়ের তিন পরিবারের ১৮ সদস্য। গতকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাঁদের নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হয়। দেশে ফিরে পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।
দুই বছর পর স্বদেশের মাটিতে ফিরে আসা তিন পরিবারের মধ্যে দুটির বাড়ি থানচি সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শেরকর পাড়ায়। এ দুই পরিবারের সদস্য ১৫ জন। অপর পরিবারের তিন সদস্যের বাড়ি একই ওয়ার্ডের প্রাতা পাড়ায়। ফিরে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে শিশু ও কিশোরও রয়েছে।

তিন পরিবারের প্রধান হলেন ভানরৌখম বম (২৭), রুয়াতখুপ বম (৪৬) ও লালচম বম (৫৫)।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২২-২৩ সাল থেকে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘাতকে কেন্দ্র করে থানচি ও আশপাশের এলাকায় অস্থিরতা তৈরি হয়। পরে ২০২৪ সালে রুমা ও থানচিতে ব্যাংক ডাকাতির ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে এসব পরিবারের সদস্যরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মিজোরামে আশ্রয় নেন।

দীর্ঘদিন মিজোরামে অবস্থান করলেও নিজ গ্রাম ও স্বজনদের কথা তাঁদের মনে পড়ত বলে জানিয়েছেন ফিরে আসা পরিবারের সদস্যরা। দেশে ফেরার সুযোগ পেয়ে তাঁরা স্বস্তি প্রকাশ করেন।

ভানরৌখম বম বলেন, মাতৃভূমি ছেড়ে অন্য দেশে থাকলে কখনোই নিজের বাড়ির মতো মনে হয় না। এত দিন পর নিজের গ্রামে ফিরতে পেরে তিনি আনন্দিত। নিজের মাটি ও মানুষের কাছে ফিরে আসাটিই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ বলে জানান তিনি।

রুয়াতখুপ বম বলেন, বাড়িঘর, আত্মীয়স্বজন ও নিজের পাড়ার কথা সব সময় মনে পড়ত। মিজোরামে থাকলেও মন পড়ে থাকত স্বদেশে। অনেক দিন পর নিজের জায়গায় ফিরতে পেরে ভালো লাগছে বলে জানান তিনি।

লালচম বম বলেন, স্বদেশ ও মাতৃভূমি ছেড়ে থাকা খুব কষ্টের ছিল। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে এত বছর পার করেছেন। এখন নিজ পাড়ায় ফিরে পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকতে চান তিনি।

পরিবারগুলোর সদস্যদের ভাষ্য, চলতি বছর বম সোশাল কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মিজোরামে অবস্থানরত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁদের বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নিরাপদে দেশে ফেরার বিষয়ে জানানো হয়। বম সমাজের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে আস্থা তৈরি হলে তাঁরা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

গত ১২ সেপ্টেম্বর মিজোরাম থেকে হরিণা ও রাঙামাটি হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তাঁরা। পরদিন ১৩ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রাঙামাটি থেকে তাঁদের বাকলাইপাড়া সাব-জোন ক্যাম্পে নেওয়া হয়। সেখানে সেনাসদস্যরা তাঁদের স্বাগত জানান। পরে তাঁদের নিজ নিজ পাড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

বাকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন সাফকাত মুবাররাত চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ দুই বছর পর পরিবারগুলো স্বদেশে ফিরে স্বস্তি পেয়েছে। শিশুদের হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়ার মুহূর্তটি ছিল সবচেয়ে আবেগঘন। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর শিশুরা যেন নতুন করে নিজেদের দেশকে আবিষ্কার করেছে।

দেশে ফেরার পর তিন পরিবারকে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। ক্যাপ্টেন সাফকাত মুবাররাত চৌধুরী প্রতিটি পরিবারকে নগদ ১৫ হাজার টাকা, ৫০ কেজি চাল, ১০ কেজি ডাল, ৫ লিটার তেল, ৫ কেজি পেঁয়াজ, ৫ কেজি আলু ও ৫ কেজি লবণ দেন।

এ ছাড়া প্রতিটি পরিবারকে একটি করে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, বালতি, মগ, পাতিল, প্লেট ও গ্লাসসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়। এ সময় তিনি পরিবারের শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন।

তিন পরিবারের দেশে ফেরার সময় শেরকর পাড়ার কারবারি তুমথন বম ও প্রাতা পাড়ার কারবারি পার্কেল বম উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে এখন নিজ পাড়ায় স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপন করতে চান পরিবারগুলোর সদস্যরা। স্থানীয়রা তাঁদের প্রত্যাবর্তনকে শেকড়ের টান এবং স্বদেশে শান্তিতে বসবাসের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

পাহাড়ি-বাঙালি মধ্যকার বিরোধ তথা ভূমি সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ জরুরি।পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যা সমাধানের জ...
10/09/2026

পাহাড়ি-বাঙালি মধ্যকার বিরোধ তথা ভূমি সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ জরুরি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যা সমাধানের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রথমত, সরকারি ভূমি বন্দোবস্ত কার্যক্রমকে সুনির্দিষ্ট করে আরো কার্যকর করা উচিত। দ্বিতীয়ত, ভূমি কমিশনের কার্যক্রমে বাঙালি জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং সরকারী ও প্রথাগত আইনের মধ্যে সেতুবন্ধন করার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধির অংশ প্রথাগত যেসব বিতর্কিত আইন রয়েছে তা বাতিল করা দরকার। তৃতীয়ত, ভূমির সঠিক পরিমাপ ও জরিপের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।
তাছাড়া, পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি ব্যবস্থাপনায় সঠিক নীতি গ্রহণ ও প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সরকারী ভূমি সীমানা নির্ধারণের জন্য একটি আধুনিক ও প্রযুক্তি-ভিত্তিক সার্ভে ব্যবস্থা গঠন করতে হবে, যাতে ভূমির সঠিক পরিমাপ ও মালিকানা নিশ্চিত করা যায়। এতে, প্রথাগত আইন এবং আধুনিক রাষ্ট্রীয় আইনের মধ্যে একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে, যা সকল সম্প্রদায়ের জন্য ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি মালিকানা ও সার্ভে সংক্রান্ত সমস্যাগুলি দেশের সামগ্রিক আইনগত পরিসরে এক জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান। ভূমি মালিকানা, সার্ভে, ও দখল সংক্রান্ত এসব সমস্যার সমাধান requires একটি স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সার্বজনীন আইনগত কাঠামো, যা সরকারের এবং উপজাতীয় সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যগত চাহিদাগুলোর মধ্যে ভারসাম্য স্থাপন করবে। তবে একচেটিয়া প্রথাগত আইনকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় আইনকে অকার্যকর করা যাবে না। আইন সংস্কার, ভূমি কমিশনের কার্যকরী পরিসর এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে একে কার্যকরভাবে সমাধান করা সম্ভব।

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি স্থানীয় যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে...
09/09/2026

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি স্থানীয় যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে রাঙামাটির রাজস্থলীতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কাপ্তাই জোনের উদ্যোগে এবং জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজমুল কাদির শুভ-এর নির্দেশনায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজস্থলী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে স্থানীয় ক্রীড়ামোদী ও খেলোয়াড়দের মধ্যে এসব ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে রাজস্থলী সাব জোন কমান্ডার মেজর হাফিজ আহম্মদ সৈকত ও রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউছুপ হাসান খেলোয়াড়দের হাতে ফুটবল জার্সিসহ বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন।
ক্রীড়া সামগ্রী পেয়ে স্থানীয় খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সংশ্লিষ্টরা বলেন, প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের নিয়মিত ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে রাজস্থলী সাব জোন কমান্ডার মেজর হাফিজ আহম্মদ সৈকত বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্থানীয় যুবসমাজকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করা এবং তাদের সুস্থ ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে একটি সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলায় এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য এলাকার মানুষের কল্যাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন ও প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এ সময় রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউছুপ হাসান, রাজস্থলী থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদ হোসেন, ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা, গাইন্দ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পুচিংমং মারমাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সেনাবাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পাহাড়ি জনপদে খেলাধুলার অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় রাজস্থলীর স্থানীয় খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে এবং এখানকার প্রতিভাবান তরুণ-তরুণীরা ভবিষ্যতে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবে।

“বেকারত্বকে জয় করার স্বপ্ন” পাহাড়ে তরুণদের দক্ষ করে তুলছে সেনাবাহিনীপাহাড়ের দুর্গম জনপদে বেকারত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ক...
08/09/2026

“বেকারত্বকে জয় করার স্বপ্ন” পাহাড়ে তরুণদের দক্ষ করে তুলছে সেনাবাহিনী

পাহাড়ের দুর্গম জনপদে বেকারত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তরুণদের কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে আত্মকর্মসংস্থানের পথে এগিয়ে নিতে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শুধু নিরাপত্তা নয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতেও সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এরই ধারাবাহিকতায় রাঙ্গামাটি রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জুরাছড়ি জোন সদর (২ বীর)-এর উদ্যোগে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দুই সপ্তাহব্যাপী মেশিন মেরামত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণ চলবে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এতে জুরাছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মোট ২২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিয়েছেন।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মেশিন ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মৌলিক কার্যপ্রণালি, সাধারণ ত্রুটি শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবহারিক মেরামত কৌশল সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রশিক্ষণ শেষে তারা শুধু নিজের প্রয়োজনেই যন্ত্রপাতি মেরামত করতে পারবেন না, স্থানীয় পর্যায়ে মেশিন মেরামতের সেবা দিয়ে আয় করারও সুযোগ পাবেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড়ি অঞ্চলের অনেক তরুণ-তরুণীর শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা ও বিভিন্ন বাস্তবতায় অনেকের পক্ষেই দূরবর্তী শহরে গিয়ে চাকরি বা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে হাতে-কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

বিশেষ করে মেশিন ও যন্ত্রপাতি মেরামতের মতো ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একজন বেকার যুবক চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেই ছোট পরিসরে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিতে পারেন। একই সঙ্গে এলাকায় এ ধরনের সেবার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ‘দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী জীবন’ গড়ার পথে একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি জনগোষ্ঠীকে দীর্ঘমেয়াদে সক্ষম করে তোলা হলে এর সুফল ব্যক্তি ছাড়িয়ে পরিবার ও পুরো স্থানীয় অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

রাঙ্গামাটি রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জুরাছড়ি জোন সদর (২ বীর)-এর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্যও হচ্ছে অংশগ্রহণকারীদের বাস্তবমুখী কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে ভবিষ্যতে নিজস্ব কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম করে তোলা।

স্থানীয় জনগণের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আর্থ-সামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পাহাড়ের দুর্গম জনপদে যখন কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত, তখন বেকার তরুণদের হাতে কাজ শেখানোর এমন উদ্যোগ তাদের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে পারে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা, দক্ষতা থেকে কর্মসংস্থান; আর কর্মসংস্থান থেকেই স্বাবলম্বী পাহাড় গড়ার এই প্রয়াস নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

বিলাইছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে মিডওয়াইফ নার্সিং প্রশিক্ষণ শুরুরাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিলাইছড়ি জ...
08/09/2026

বিলাইছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে মিডওয়াইফ নার্সিং প্রশিক্ষণ শুরু

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিলাইছড়ি জোনের উদ্যোগে মিডওয়াইফ নার্সিং প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।স্থানীয়ভাবে স্বাস্থ্যসেবা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ নারী স্বাস্থ্যকর্মী তৈরির লক্ষ্যে বিলাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ‍্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে।

প্রশিক্ষণে মোট ২১ জন মহিলা প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করছেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন পাহাড়ি নৃ-গোষ্ঠী এবং ৫ জন বাঙালি প্রশিক্ষণার্থী রয়েছেন।প্রশিক্ষণার্থীদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবায় তাঁদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভবিষ্যতেও স্থানীয় জনগণের কল্যাণে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে জানান বিলাইছড়ি জোন।

পানছড়িতে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে ৩৫ নারীকে প্রশিক্ষণ দিলো সেনাবাহিনীগর্ভকালীন স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা, নিরাপদ প্রসব, নবজাতক...
08/09/2026

পানছড়িতে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে ৩৫ নারীকে প্রশিক্ষণ দিলো সেনাবাহিনী

গর্ভকালীন স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা, নিরাপদ প্রসব, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্য এবং প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ২১ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পানছড়ি আর্মি ক্যাম্পে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, খাগড়াছড়ির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলবে।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রশিক্ষক হিসেবে রয়েছেন আরএমও ক্যাপ্টেন তানজিম ইসলাম অর্নব উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করেন। এছাড়া পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করবেন।

প্রশিক্ষণে গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা, নিরাপদ প্রসবের প্রস্তুতি, প্রসব-পরবর্তী পরিচর্যা, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, বিভিন্ন রোগের প্রাথমিক লক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

এ সময় পানছড়ি সাব-জোন কমান্ডার ক্যাপ্টেন আশিকুজ্জামান, নিসাচিং মারমা ও কর্পোরাল নুরুল ইসলাম (মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট) ৩৫ জন প্রশিক্ষণার্থী উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি গর্ভবতী মা ও শিশুদের যথাযথ পরিচর্যা, নিরাপদ প্রসব এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষ করে তোলাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

বিদেশে বসে পলাতক আসামি মাইকেল চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি বিনষ্ট করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ...
07/09/2026

বিদেশে বসে পলাতক আসামি মাইকেল চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি বিনষ্ট করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, গুম, অপহরণ, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মতো ২১টিরও বেশি গুরুতর মামলা রয়েছে এবং বিভিন্ন আদালতে তাঁর সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছে। ২০০৭ সালে লংগদুতে জেলেদের মারধর এবং ২০১৮ সালে নানিয়ারচর ও বাঘাইছড়িতে একাধিক হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত এই ব্যক্তি মূলত ভারতের গোপন আশ্রয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করে পাহাড়ের নিরীহ মানুষের নামে চাঁদা তোলাই নিজের মূল লক্ষ্য বানিয়েছেন। অন্যদিকে পার্বত্য অঞ্চলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না, বরং বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পেইন ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। সেনাবাহিনী মোবাইল সার্ভিসিং ও মোটর যান মেরামতের মতো প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পাহাড়ি যুবসমাজের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও সড়ক যোগাযোগের অভূতপূর্ব উন্নয়নের ফলে পাহাড়ি যুবসমাজের ওপর সন্ত্রাসীদের নির্ভরতা কমে যাচ্ছে। তাই, নিজেদের অবৈধ চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য রক্ষা এবং পাহাড়িদের মূলধারার উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রাখতেই UPDF ও মাইকেল চাকমা এই অপপ্রচারে লিপ্ত। প্রতিষ্ঠা থেকে UPDF পাহাড়ে রক্তপাত ও চাঁদাবাজি ছাড়া কোনো কল্যাণমূলক কাজ করতে পারেনি, যা আজ পাহাড়ের জুম্ম ও বাঙালি জনগোষ্ঠী বুঝতে পেরেছে। পলাতক আসামির কোনো ভিডিও বার্তা বা বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার সেনাবাহিনীর জনকল্যাণমূলক কাজ ও দেশপ্রেমকে ম্লান করতে পারবে না।

সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে কর্মমুখী হচ্ছে পাহাড়ের যুবসমাজপাহাড়ের দুর্গম জনপদে অনেক তরুণের হাতে ছিল কাজের আগ্রহ, কিন্তু প্রয়ো...
06/09/2026

সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে কর্মমুখী হচ্ছে পাহাড়ের যুবসমাজ

পাহাড়ের দুর্গম জনপদে অনেক তরুণের হাতে ছিল কাজের আগ্রহ, কিন্তু প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব। অনেক নারীও সংসারের গণ্ডি পেরিয়ে আয় করতে চাইলেও প্রশিক্ষণ বা কাজের সুযোগ ছিল সীমিত। জীবিকার এমন বাস্তবতায় কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তাঁদের সামনে খুলে দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার।

পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান এবং গুইমারা রিজিয়নের বিভিন্ন সেনা জোনের উদ্যোগে চলমান কর্মমুখী ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন পাহাড়ি ও বাঙালি তরুণ-তরুণীরা। চিকিৎসাসেবা থেকে মোবাইল ফোন মেরামত, কম্পিউটার, ইলেকট্রিশিয়ান, যানবাহন মেরামত, ড্রাইভিং, সেলাই, কৃষি প্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং—বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে তাঁদের।

আগস্ট থেকে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে চলমান এসব কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়; বরং প্রশিক্ষণ শেষে একজন তরুণ বা নারী যেন অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারেন, পরিবারে ভূমিকা রাখতে পারেন এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারেন।

খাগড়াছড়ি রিজিয়নে চিকিৎসা, প্রযুক্তি ও মেকানিক্যাল খাতে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গত ২ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত প্রথম ধাপে ২৩ জনকে মিডওয়াইফারি ও নার্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ধাপে ২৩ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও ৩৪ জন এই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

একই সময়ে মোবাইল ফোন মেরামত বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ১০৮ জন। কম্পিউটার, যন্ত্রপাতি মেরামত ও ইলেকট্রিশিয়ান প্রশিক্ষণেও অংশ নিচ্ছেন আরও ৭৩ জন পাহাড়ি ও বাঙালি তরুণ-তরুণী।

একটি মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে তার ত্রুটি শনাক্ত করা, কম্পিউটারে কাজ শেখা কিংবা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি মেরামতের দক্ষতা হয়তো বাইরে থেকে ছোট মনে হতে পারে। কিন্তু দুর্গম পাহাড়ি এলাকার একজন তরুণের জন্য এসব দক্ষতা হতে পারে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রথম সিঁড়ি।

রাঙামাটি রিজিয়নেও একইভাবে কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে মোট ৯৫ জন তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫ জন পাহাড়ি তরুণীকে মিডওয়াইফারি ও নার্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দর্জি কাজ, কম্পিউটার, যানবাহন মেরামত ও মোবাইল ফোন মেরামত বিষয়ে আরও প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পাহাড়ের নারীদের জন্য এসব প্রশিক্ষণের গুরুত্ব আরও বেশি। দুর্গম এলাকার অনেক নারী পারিবারিক ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে ঘরের বাইরে নিয়মিত কাজের সুযোগ পান না। তাঁদের জন্য নার্সিং, মিডওয়াইফারি ও সেলাইয়ের মতো প্রশিক্ষণ ঘরে বসে কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বান্দরবান রিজিয়নে সেপ্টেম্বরজুড়ে এসি ও ফ্রিজ মেরামত, সেলাই, যানবাহন চালনা ও কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে। অক্টোবর মাসে মোবাইল ফোন মেরামত এবং ডিসেম্বর মাসে তরুণদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা খাতেও নারীদের দক্ষ করে তুলতে সেখানে দুই ধাপে মিডওয়াইফারি ও নার্সিং প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ২ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ১৯ জন পাহাড়ি নারী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। পরবর্তী ধাপে আরও ৪০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

গুইমারা রিজিয়নেও স্বাস্থ্যসেবা ও কারিগরি দক্ষতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিন ধাপে মোট ৪৯ জন পাহাড়ি ও বাঙালি তরুণ-তরুণীকে মিডওয়াইফারি ও নার্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন মেরামত ও যানবাহন মেকানিক প্রশিক্ষণেও অংশ নিচ্ছেন আরও ৪০ জন।

এসব প্রশিক্ষণের সবচেয়ে বড় দিক হলো—শুধু সনদ অর্জন নয়, বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর মতো দক্ষতা তৈরি করা।

একজন প্রশিক্ষিত মোবাইল টেকনিশিয়ান স্থানীয় বাজারে ছোট একটি দোকান দিতে পারেন। একজন গাড়ির মেকানিক নিজেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন। একজন প্রশিক্ষিত নারী সেলাইয়ের কাজ করে পরিবারের আয় বাড়াতে পারেন। আবার ফ্রিল্যান্সিং শেখা একজন তরুণ ঘরে বসেই অনলাইনে কাজের সুযোগ খুঁজে নিতে পারেন। অর্থাৎ প্রশিক্ষণ এখানে শুধু একটি কোর্স নয়; অনেকের কাছে এটি হয়ে উঠছে জীবিকা পরিবর্তনের সম্ভাব্য হাতিয়ার।

শুধু কর্মদক্ষতা নয়, সামাজিক বন্ধন তৈরিতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং ‘সম্প্রীতি কাপ’ ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে পাহাড়ি ও বাঙালি তরুণদের একই মাঠে নিয়ে আসা হচ্ছে।

একটি ফুটবল ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলের জার্সি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু খেলা শেষে পরিচয়টা হয়ে ওঠে সতীর্থ কিংবা বন্ধু। এমন আয়োজন তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও আস্থা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করছে।

পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিভাবান ফুটবলারদের জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তৈরি হচ্ছে নতুন সুযোগ। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময়ে পার্বত্য অঞ্চলে এসে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের যাচাই-বাছাই করছেন। এতে প্রত্যন্ত এলাকার সম্ভাবনাময় তরুণদের জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার পথ তৈরি হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হলে অবকাঠামো, যোগাযোগ কিংবা পর্যটনের মতো বড় বিষয়গুলো সামনে আসে। কিন্তু উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ মানুষ। চলমান প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলো সেই মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়টিকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

একজন তরুণ যখন কাজ শেখেন, তখন তাঁর হাতে শুধু একটি পেশা আসে না; বাড়ে আত্মবিশ্বাসও। একজন নারী যখন নিজের দক্ষতায় আয় করার সুযোগ পান, তখন তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও বাড়ে। আর একজন যুবক যখন বেকারত্বের পরিবর্তে একটি পেশাকে জীবনের পথ হিসেবে বেছে নিতে পারেন, তখন তার প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারে।

এই জায়গা থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান কারিগরি প্রশিক্ষণকে শুধু একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবন বদলের সম্ভাবনা, আত্মমর্যাদা ফিরে পাওয়ার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার প্রত্যাশা।

পাহাড়ের তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলা, নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা এবং পাহাড়ি-বাঙালি তরুণদের পারস্পরিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমে এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান, সামাজিক সম্প্রীতি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দুর্গম পাহাড়ে সুযোগ সবসময় হাতের কাছে আসে না। তাই যখন কোনো প্রশিক্ষণকেন্দ্রে একজন তরুণ প্রথমবারের মতো মোবাইল ফোন মেরামত শেখেন, কোনো নারী নার্সিংয়ের প্রশিক্ষণ নেন কিংবা কোনো যুবক কম্পিউটারে বসে ফ্রিল্যান্সিংয়ের সম্ভাবনা খুঁজে পান, তখন সেটি নিছক প্রশিক্ষণের ঘটনা থাকে না। সেটি হয়ে ওঠে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সম্ভাব্য সূচনা।

Adresse

Chittagong Hill Tracts
Democratic Republic Of The

Site Web

Notifications

Soyez le premier à savoir et laissez-nous vous envoyer un courriel lorsque CHT24 publie des nouvelles et des promotions. Votre adresse e-mail ne sera pas utilisée à d'autres fins, et vous pouvez vous désabonner à tout moment.

Raccourcis

Partager