28/05/2026
এই মুহূর্তের একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এবং নিন্দনীয় খবর ।
নারী সুরক্ষা এবং মানবাধিকার নিয়ে যখন প্রতিনিয়ত চারিদিকে আওয়াজ উঠছে, ঠিক তখনই খাস কলকাতার বুকে এক গৃহপরিচারিকার ওপর নির্মম, অমানুষিক এবং মধ্যযুগীয় অত্যাচারের অভিযোগ উঠল এক পরিচিত সিরিয়াল অভিনেতার বিরুদ্ধে। পয়সা, গ্ল্যামার এবং সামাজিক প্রতিপত্তির অহংকারে এক অসহায় মহিলার ওপর যে বর্বরতা চালানো হয়েছে, তা শুনে শিউরে উঠছে সভ্য সমাজ।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৭শে মে, ২০২৬ তারিখে, বিকেল আনুমানিক ৩টের সময়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার টালিগঞ্জ, ধাড়াপাড়া জোড়াপুকুর সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা, সিরিয়াল অভিনেতা সম্রাট মুখার্জীর বাড়িতে। স্থানীয় সূত্রে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, ওই বাড়িতে বিগত এক মাস ধরে পরিচারিকার কাজ করছিলেন এক অসহায় মহিলা। অভিযোগ, ওনাদের বাড়িতে যখনি কোনো জিনিসপত্র হারিয়ে যেত, তখনি সন্দেহের তির যেত ওই মহিলার দিকে। নিজেদের জিনিস নিজেরা কোথায় রাখতেন তা খুঁজে না পেয়ে, বারবার উল্টোপাল্টা কথা শোনানো হতো ওই গৃহপরিচারিকাকে। কিন্তু পেটের দায়ে এবং সংসার বাঁচানোর তাগিদে সমস্ত অপমান মুখ বুজে সহ্য করে সেখানে কাজ করে যাচ্ছিলেন তিনি।
কিন্তু গত ২৭শে মে সমস্ত অত্যাচারের সীমা অতিক্রম করে যায়। জানা গেছে, সেদিন বিকেলে ওনাদের একটি আংটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সারা বাড়ি খোঁজাখুঁজি করার পর এবং পুলিশে খবর দেওয়ার পরও আংটি না মেলায়, সমস্ত আক্রোশ গিয়ে পড়ে ওই পরিচারিকার ওপর। অভিযোগ, চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ওই মহিলাকে একটি ঘরের ভেতর আটকে রাখে অভিনেতা সম্রাট মুখার্জী। এরপর জোরপূর্বক ওনার পরিধেয় বস্ত্র খুলিয়ে এবং ওনার ব্যক্তিগত ব্যাগ তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশিতে কোনো কিছুই উদ্ধার না হওয়ায়, অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, অভিনেতা সম্রাট মুখার্জী বাড়ির দারোয়ানকে ডেকে অ্যাসিড এবং লাঠি নিয়ে আসার নির্দেশ দেয়। দারোয়ান লাঠি এনে দিলে, সেই লাঠি দিয়ে ওই অসহায় মহিলার ওপর নির্মমভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে অভিযুক্ত অভিনেতা। লাঠির উপর্যুপরি এবং নৃশংস আঘাতে ওই মহিলার মাথা ফেটে যায়। পরবর্তীতে ওনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মাথায় ৫টি সেলাই দিতে হয়।
এখানেই শেষ হয়নি এই নারকীয় নির্যাতন। রক্তাক্ত অবস্থায় ওনাকে মেঝেতে ফেলে দিয়ে কানে, মাথায় বুট দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা হয় এবং বুকে, পিঠে, পেটে যত্রতত্র লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ। দেওয়ালে ওনার কপাল সজোরে ঠুকে দেওয়া হয়, যার ফলে কপাল ফুলে রক্ত জমে যায়। নিজেকে বাঁচানোর জন্য ওই মহিলা যখন হাত দিয়ে লাঠিটি ধরার চেষ্টা করেন, তখন লাঠির প্রচণ্ড আঘাতে ওনার হাতের আঙুলগুলোতেও গুরুতর চোট লাগে এবং রক্ত জমাট বেঁধে যায়।
এই অমানুষিক এবং নারকীয় তান্ডব চালানোর পর, মুখ ও শরীর ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় বিকেল ৫টা নাগাদ ওনাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। অত্যন্ত যন্ত্রণাকাতর অবস্থায় ওই মহিলা একটি দোকান থেকে আইসক্রিম কিনে ফোলা জায়গায় চেপে ধরে কোনোমতে বাড়ি ফেরেন।
এই চরম নৃশংস ঘটনার পর, রাতেই নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে হরিদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং গ্রেফতারির দাবিতে সরব হয়েছে সাধারণ মানুষ। টাকার জোরে বা প্রভাব খাটিয়ে এই ধরণের হিংস্র অপরাধী যাতে পার না পেয়ে যায়, তার জন্য পুলিশি তদন্তের ওপর কড়া নজর রাখছে সাধারণ মানুষ। আজ একজনের ওপর হওয়া এই অন্যায় যদি মুখ বুজে মেনে নেওয়া হয়, তবে আগামী দিনে আরও বহু অসহায় নারীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।
Worker