19/09/2026
দশ বছরের কামরুন্নাহার কলি। পাবনার এক কৃষক পরিবারের মেয়ে। বাবার সাথে হাটে গিয়েছিল, বাজার করে বাড়ি ফিরে বাজারের ব্যাগটা মায়ের হাতে দিয়ে বাড়ির পাশে গিয়েছিল খেলতে। এরপর আর ফেরেনি। সাত-সাতটা দিন বাবা-মা মেয়েকে খুঁ’’জে বেড়িয়েছেন। থানায় গিয়েছেন, প্রশাসনের কাছে ঘুরেছেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেছেন—সবই করেছেন এই আশায় যে মেয়েটা বেঁ’’চে ফিরবে। কিন্তু সাত দিন পর যা পেলেন, তা জীবিত মেয়ে না। বাড়ির পেছনের ডোবা থেকে পাওয়া গেল ব’স্তা’’য় ভ’’রা একটা লা’’’শ—নিজেরই মেয়ের।
মেয়ের বাবা কামাল প্রামানিক নিজেই বলেছেন কষ্টের কথাগুলো: "প্রশাসনের কাছে আমি পাঁচ দিন ঘুরেছি, কেউ আমাকে সময় দেয় নাই। কোনো গুরুত্বই দেয় নাই। পুলিশ মাঠে নেমে খোঁজ না করে শুধু আমার বাসায় এসে একটু ঘুরে চলে যেত।" শেষমেশ যখন এলাকার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করল, প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করল, ঠিক তার পরের রাতেই থানায় মা’ম’’লা নেওয়া হলো। আর তার পরদিন সকালেই মিলল মেয়ের লা’’শ।
গরিব মানুষের ছেলেমেয়ে হারালে থানা-পুলিশ যেন কাজ করতে চায় না, ঘুরায়, সময় দেয় না। অথচ এই একই মেয়েটা যদি কোনো বড়লোক বা ক্ষমতাবান পরিবারের সন্তান হতো, তাহলে হয়তো নিখোঁজ হওয়ার প্রথম দিনই গোটা থানা মাঠে নেমে পড়তো, প্রতিদিন খবর আসতো, বড় বড় অফিসাররা এসে দেখে যেতেন। কিন্তু একজন সাধারণ কৃষকের মেয়ের বেলায় লাগলো সাত দিন, লাগলো রাস্তায় নেমে মানববন্ধন-বিক্ষোভ করা—তারপর গিয়ে একটু নড়াচড়া হলো প্রশাসনের।
পুলিশ সুপার অবশ্য বলছেন, তারা নাকি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই কাজ করছিলেন। কিন্তু বাবার কথার সাথে এই কথা মেলে না। এই ফারাকটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তোলে—সত্যিই কি সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, নাকি চাপে পড়ে তবেই নড়েছে প্রশাসন?
নি’হ’’ত কামরুন্নাহার কলি পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কলুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা কামাল প্রামানিকের মেয়ে। সে স্থানীয় আল-ফালাহ স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।
#পাবনা