13/08/2026
অপেক্ষার শেষ প্রহর
_____ মোঃ হেলাল উদ্দিন
দ্বিতীয় পর্ব...
সৌদি আরবের আল-খাৰ্জ এলাকার ধুধু মরুভূমি। আকাশে কোনো মেঘের চিহ্ন নেই, মাথার ওপর যেন এক প্রকাণ্ড আগুনের কুণ্ডলী জ্বলছে। দুপুরের কড়া রোদের তাপে বাতাস পর্যন্ত থরথর করে কাঁপছে। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত লালচে বালুর রাশি, যেখানে কোনো সবুজ গাছের পাতা নেই, পাখির ডাক নেই, একফোঁটা সুপেয় পানির জলাশয় নেই। রহমতের পরনে একটা মোটা কালচে জুব্বা, মাথায় রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে একটা সুতির গামছা শক্ত করে বাঁধা। তার পা দুটো বালুর উত্তাপে যেন সিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। সামনে বিশ পঁচিশটা উট আলসে ভঙ্গিতে হেঁটে চলেছে। রহমত কাঠের একটা প্রকাণ্ড পাত্রে উটগুলোর জন্য পানি ঢালতে ঢালতে নিজের মনেই বিড়বিড় করে উঠল, হে আল্লাহ... তুমি আমারে এ কোন দূর অজানায় আনলা? চারদিকে খালি বালু আর বালু। গাছের একটা ছায়াও তো কোথাও নাই।
কাজের তীব্র ক্লান্তিতে সে বালুর ওপর বসে পড়ল। বুকের কাছে রাখা পকেটটা খুলল সাবধানে। ভেজা হাতে পকেট থেকে বের করল সেই পরম যত্নে রাখা ছবিটা আয়েশার ছোট ছবি, আর তার সাথে এক টুকরো খবরের কাগজে মোড়ানো চরভাগা গ্রামের সামান্য শুকনো মাটি।
রহমত সেই মাটির টুকরোটা নাকের কাছে নিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। মাটির গন্ধ আর আয়েশার ছবির দিকে তাকিয়ে তার চোখের কোণ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল জল।
ও আয়েশা... রহমত ছবিতে হাত বুলাতে বুলাতে ফিসফিস করে বলল, তোরে একা ফেলে আমি এই বালুর সাগরে এসে বন্দি হইলাম রে! তুই কি এখন দুপুরে ভাত খাইছোস? শাশুড়ি মায়ের শরীরটা কেমন আছে? কালাম কি ঠিকমতো খেয়াল রাখছে তোদের?
আকাশের দিকে মুখ তুলে রহমত হাত জোর করল, ও আসমানের মালিক! আমার মা আর বউয়েরে ভালো রাইখো। তোমার রহমতেই তো এই অচেনা দেশে দিন কাটাচ্ছি।
রাত হলে মরুভূমির রূপ বদলে যায়। দিনের চড়া রোদ উধাও হয়ে নেমে আসে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা।
একচালা একটা পুরোনো টিনের ব্যারাকে রহমতের ছোট ঘর। কাঠের একটা খাট বা চকিতে শুয়ে রহমত হারিকেনের সলতেটা একটু বাড়িয়ে দিল। বালিশের পাশ থেকে একটা খাতা আর কলম বের করল সে। এটি তার গোপন ডায়েরি তার বিরহ ও অপেক্ষার এক নীরব সাক্ষী।
কলম হাতে নিয়ে রহমত লিখতে শুরু করল
আজ ৩০ দিন পার হলো। কাল রাতে স্বপ্নে দেখলাম, আয়েশা কামরাঙা গাছের তলে বসে আমার জন্য চালের পায়েস রান্না করছে। কালাম হাতে বই নিয়ে হাসতে হাসতে কলেজে যাচ্ছে। আর মা উঠানে বসে রোদে পিঠ দিয়ে সুতো কাটছে... আহা! কবে আমি আবার চরভাগায় ফিরব? কবে তোদের চোখের সামনে দেখব ?মরুভূমির ওপারে যখন রহমতের দিন কাটে চরম একাকীত্বে, তখন চরভাগা গ্রামেও সময় থেমে নেই। ছয়টি মাস কেটে গেছে রহমত বিদেশে যাওয়ার পর। অগ্রহায়ণ শেষে এখন পৌষের শীত চেপে বসেছে গ্রামে। বিকেলের রোদে আয়েশা উঠানে বসে একটা নকশী কাঁথা সেলাই করছিল। সুচ আর লাল নীল সুতোর প্রতিটি ফোঁড়ে যেন রহমতের স্মৃতি গাঁথা হচ্ছিল।
তবে আয়েশার চেহারায় এক অদ্ভুত পরিবর্তন এসেছে। তার গায়ের রং একটু ফ্যাকাশে, শরীরটা দুর্বল ও ক্লান্ত, কিন্তু তার পেটের গোল ভাবটা এখন স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। সে সন্তানসম্ভবা।
পাশে বসে খোদেজা বেগম ছাঁচে পান ছেঁচছিলেন। বউয়ের দুর্বল চেহারা দেখে তিনি কপালে হাত দিয়ে চিন্তিত মুখে বললেন, ও বউ, তুই দিন দিন এমন শুকাচ্ছিস কেন রে? দুপুরে তো দুই লোকমা ভাতও মুখে তুললি না। এভাবে না খেলে পেটের সন্তানটা পুষ্টি পাবে কীভাবে বল তো? আয়েশা কাঁথার ওপর থেকে চোখ তুলে শাশুড়ির দিকে তাকিয়ে এক চিলতে হাসি হাসল, কী করব বলুন মা? উনি কাছে নাই, একা একা কোনো কিছু খেতেই মন চায় না। গলা দিয়ে ভাত নামতে চায় না আমার।
ঠিক সেই মুহূর্তে সাইকেলের বেল বাজিয়ে ঘরে ঢুকল কালাম। হাতে তার কলেজের বই আর একটা খাতা। পরনে সাধারণ একটা জ্যাকেট।
ভাবি! ও ভাবি! কালাম উত্তেজিত গলায় বলল, কী রান্না করছ আজ? খুব খিদে পেয়েছে! আর শোনো, ভাইজান কি আজ কোনো ফোন করছিল?
আয়েশা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, না রে ভাই। বিদেশে ফোন করার তো কত খরচ! মাসে হয়তো একবার একটু কথা হয়। তাও নেটওয়ার্ক থাকে না বলে কেটে কেটে যায়। কী যে মরার বিদেশে গেছেন উনি!
হঠাৎ কালামের পকেটে থাকা পুরানো ছোট মোবাইল ফোনটা বাজতে শুরু করল। সুর শুনেই আয়েশার হাতের সুচ হাত থেকে পড়ে গেল। কালাম দ্রুত পকেট থেকে ফোন বের করে স্ক্রিনের দিকে তাকাল।
ভাইজান! ভাইজানের ফোন! কালাম চিৎকার করে উঠেই ফোনটা লাউডস্পিকারে দিয়ে দিল।
ওপাশ থেকে ভেসে এলো ঝিঁঝিঁ ধরা, সামান্য অস্পষ্ট রহমতের গলা, হ্যালো... কালাম? কালাম শুনতে পাচ্ছিস? মা কেমন আছে রে? আর... তোর ভাবি কই?
কালাম আনন্দের আতিশয্যে বলল, ভাইজান! আমরা সবাই ভালো আছি! মা পাশে বসা। আর ভাবি... ভাবি তোমাকে একটা খুব বড় খুশির খবর দেবে!
কালাম ফোনটা আয়েশার হাতে তুলে দিল। আয়েশার হাত থরথর করে কাঁপছে। সে ফোনটা কানের কাছে নিয়ে বুজে আসা গলায় বলল, হ্যালো... আপনে কেমন আছেন? ঠিকমতো খান তো?
ওপাশ থেকে রহমতের কণ্ঠ ভিজে উঠল, তোর গলা শুনেই আমার সব কষ্ট দূর হয়ে গেল রে আয়েশা! আমি ভালো আছি। তুই কেমন আছিস বল? শরীর ভালো তো?
আয়েশা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। চোখের জল গড়িয়ে পড়ল তার গালে। সে হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, আমি... আমি মা হতে যাচ্ছি... আপনার সন্তান আমার পেটে...
ফোন লাইনের ওপারে কয়েক সেকেন্ডের এক দীর্ঘ ও গভীর নিস্তব্ধতা। তারপরই ভেসে এলো রহমতের গলার এক আনন্দঘন চিৎকার।
কী বললি আয়েশা! সত্যি? আমি... আমি বাপ হচ্ছি?! আলহামদুলিল্লাহ! ইয়া আল্লাহ, তোমার দরবারে হাজার শুকরিয়া! রহমত ওপাশ থেকে কেঁদে ফেলল, আয়েশা, তুই একদম ভারি কাজ করবি না! একদম সাবধানে থাকবি। মা, ও মা! তুমি বউয়ের খেয়াল রাইখো। আমি কালই অতিরিক্ত কিছু টাকা পাঠামু। বউকে যেন প্রতিদিন দুধ আর ডিম খাওয়ানো হয়!
আয়েশা হাসতে হাসতে চোখের পানি মুছল, আপনে সত্যি খুশি হয়েছেন তো?
খুশি মানে? রহমত আনন্দে ব্যাকুল হয়ে বলল, আমার কলিজা ঠান্ডা হয়ে গেছে আয়েশা! শোন, ছেলে হোক কিংবা মেয়ে হোক সন্তানের নাম কিন্তু আমি দেশে ফিরে এসে নিজে রাখব! তুই খালি নিজের আর আমার সন্তানের খেয়াল রাখবি।
হঠাৎ নেটওয়ার্কের গোলযোগে ফোনটা কেটে গেল টুট টুট শব্দে। আয়েশা ফোনটা বুকে চেপে ধরে শাশুড়ির কোলে মাথা রেখে কেঁদে ফেলল।
খোদেজা বেগম বউয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে চোখের জল মুছে দিয়ে বললেন, দেখলি তো বউ? আল্লাহ মুখ তুলে চেয়েছেন। এবার তোকে নিজের শরীরের আরও বেশি যত্ন নিতে হবে।
কিন্তু আনন্দের খবরের সাথে সাথে বিপদের কালো ছায়াও কিন্তু চরভাগা গ্রাম থেকে দূর হয়নি। আয়েশাদের বাড়ির পেছনের বাঁশঝাড়ের আড়ালে দাঁড়িয়ে শমসের আহমেদ সব কথা শুনছিল। রহমতের বাবা হওয়ার খবর শুনে শমসেরের ফর্সা মুখটা রাগে ও হিংসায় কালচে হয়ে গেল। সে পানের কষ মাটিতে থু থু করে ফেলে দিয়ে বাঁশের বেড়ায় একটা সজোরে লাথি মারল।
পেট বাঁধাইছে! শমসের দাঁত কামড়ে মনে মনে গর্জে উঠল, রহমত তুই বিদেশে বসে ভাবছিস কত সুখে আছিস? দাঁড়া... তোর এই সুখ আমি বেশিদিন থাকতে দিমু না। তুই দেশে ফের, তোরে এমন শিক্ষা দিমু যে তোর বংশের সবাই মনে রাখবে!
মাস কাটতে লাগল। রহমতের প্রবাস জীবনের কঠিন লড়াই অব্যাহত রইল।
এক বছর পার হয়ে ঈদ এলো। ঈদের দিন চরভাগায় যখন আনন্দ, মরুভূমির মাঝে রহমত তখন একা একটা উটের পাশে হাঁটু মুড়ে বসে আছে। তার হাতে আয়েশার চিঠির সাথে পাঠানো একটা নতুন সুতির সবুজ পাঞ্জাবি।
রহমত পকেট থেকে ফোনের বাটন টিপে সদ্য পাওয়া তার ছেলের ছবিটার দিকে তাকাল। তার ছেলের নাম রাখা হয়েছে হামীম । গোলাকার মুখ, কুতকুতে চোখ ঠিক যেন ছোটবেলার রহমত!
রহমত ফোনের স্ক্রিনে ছেলের ছবিতে পরম মমতায় চুমু খেল।
আমার বাজান রে... রহমত কাঁদতে কাঁদতে বলল, তোর বাপে মরুভূমিতে উট চড়ায়, রোদ মাথায় নিয়ে খেটে মরে। কিন্তু কথা দিচ্ছি সোনা, তোকে আমি কোনোদিন অভাব বুঝতে দিমু না। তোকে বড় স্কুলে পড়ামু, মস্ত বড় মানুষ বানামু... সময় তার নিজস্ব গতিতে চলতে থাকে। দেখতে দেখতে প্রবাসের দীর্ঘ তিনটি বছর পেরিয়ে গেল।
তিন বছর পর, একদিন মরুভূমিতে হঠাৎ এক কালবৈশাখী তুফান উঠল। ধুলা আর বালুর ঝড়ে চারদিক অন্ধকার হয়ে গেল। উটগুলো ভয়ে এদিক ওদিক ছোটাছুটি শুরু করল। রহমত একাই বিশাল সেই উটগুলোকে সামলাতে গিয়ে এক প্রকাণ্ড পাথরের ওপর আছড়ে পড়ল।
তার ডান পাটা পাথরের কোণায় লেগে মারাত্মকভাবে কেটে গেল। হাড় পর্যন্ত যেন কেঁপে উঠল ব্যথায়। সে রাতে ব্যারাকের ঠান্ডা ঘরে রহমত প্রচণ্ড জ্বরে কাতরাতে লাগল। ঘরের কোণে কোনো ডাক্তার নেই, ব্যান্ডেজ বাঁধার কেউ নেই। পানির ঘটিটা একটু দূরে রাখা, কিন্তু ওঠার মতো শক্তিও রহমতের গায়ে নেই।
জ্বরের ঘোরে রহমত ভুল বকতে শুরু করল, মা... ও মা... একটু পানি দাও... আয়েশা! আমার বাজানরে দেখে রাইখো... আমার পা টা যে ছিঁড়ে যাচ্ছে রে আয়েশা...
পরদিন সকালে অন্য এক বাংলাদেশী প্রবাসী এসে রহমতকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিল। সাত দিন শয্যাশায়ী থাকার পর রহমত আবার উঠে দাঁড়াল, আবার সেই মরুভূমির রোদে পা বাড়াল। কারণ, সে জানে তার ঘরে সন্তান বড় হচ্ছে, মায়ের ওষুধ দরকার, আর ভাই কালামের কলেজের পড়ার খরচ চালাতে হবে।
চারটি বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর রহমতের কাজের চুক্তি শেষ হতে চলল। সে যা বেতন পেত, তার সিংহভাগই দেশে পাঠিয়ে দিত।
প্রতি রাতে হারিকেনের আলোয় রহমত তার পুরোনো ডায়েরিতে হিসাব কষত
ঘরের নতুন চালের টিন কেনার টাকা হয়েছে... কালামের বিএ পরীক্ষার ফি পাঠানো শেষ... আয়েশার জন্য একটা সোনার নাকফুল আর লাল শাড়ি কেনার টাকা জমেছে... আর হামীমের জন্য একটা লাল রঙের খেলনা গাড়ি। আর মাত্র একটি বছর! মাত্র ১২টা মাস অপেক্ষা। তারপরই আমি আমার সোনার বাংলায় ফিরে যামু।
ডায়েরির শেষ পাতায় সে লিখল:
আজ হামীম নাকি নিজের পায়ে হাঁটতে শিখেছে! কালাম ফোনে বলল। আফসোস, আমি নিজের চোখে বাপের প্রথম হাঁটা দেখতে পারলাম না... এটাই আমার কপাল।
অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দীর্ঘ পাঁচটি বছরের কঠিন প্রবাস জীবনের ইতি ঘটল।
সৌদি মালিকের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রকাণ্ড অফিসে দাঁড়িয়ে আছে রহমত। তার পরনে পরিষ্কার জামা, চুল দাড়ি সুন্দর করে ছাঁটা।
আরবি মালিক রহমতের কাঁধে হাত রেখে আন্তরিকভাবে বলল, রহমত, তোমার পাঁচ বছরের কাজের সততায় আমি খুব খুশি। এই নাও তোমার শেষ হিসাবের রিয়াল, আর সাথে আমার পক্ষ থেকে বোনাসের কিছু রিয়াল। দেশে যাও, তোমার পরিবারকে সময় দাও।
রহমত দুই হাত তুলে মালিকের জন্য খোদার দরবারে দোয়া করল, কফিল সাহেব, আপনি আমার বাবার মতো খেয়াল রেখেছেন। আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন।
ব্যারাকে ফিরে রহমত তার বড় দুটো ট্রাভেল লাগেজ গুছাতে বসল।
সেই লাগেজে রয়েছে আয়েশার জন্য সেই বহু কাঙ্ক্ষিত লাল টকটকে সুতির শাড়ি, সোনার কানের দুল ও নাকফুল, ছেলে হামীমের জন্য একটা চাবি দেওয়া লাল প্লাস্টিকের খেলনা গাড়ি, বৃদ্ধা মায়ের জন্য নতুন চশমা আর থানের কাপড়, ছোট ভাই কালামের জন্য একটা হাতঘড়ি, আর মাতব্বরের জন্য খাঁটি আরবের আতর। সবকিছুর ওপরে, পরম মমতায় রহমত আবার সেই আয়েশার ছবি আর দেশের মাটির টুকরোটা রেখে জিপার টেনে দিল।
ছবিটার দিকে তাকিয়ে রহমত একগাল হেসে বলল, আয়েশা রে... আর আর মাত্র ২ দিন! তোর আর আমার দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষার শেষ প্রহর চলে এসেছে। দেশে ফিরে তোর হাতের চালের পায়েস খামু, পোলাডারে বুকে জড়িয়ে ধরমু। আর কোনোদিন তোদের ছেড়ে এই বিদেশের মাটিতে আসমু না...
এদিকে চরভাগা গ্রামে আয়েশা তখন নতুন উদ্যোমে বাড়ি সাজাতে ব্যস্ত। চার বছরের ছোট হামীম রঙিন জামা পরে উঠানময় দৌড়াদৌড়ি করছে। আয়েশা হামীমকে ডেকে পরম মমতায় কোলে তুলে নিল, হামীম! বাজান রে, আস্তে দৌড়াও। পড়ে গেলে যে ব্যথা পাবে! জানো, কাল তোমার বাবা আসতেছে!
ছোট হামীম নিষ্পাপ চোখে মায়ের দিকে তাকাল, মা, বাপে কেডা? বাপে আমার জন্য কী আনবে?
আয়েশার বুকটা এক অজানা আনন্দে মোচড় দিয়ে উঠল। সে হামীমের কপালে একটা চুমু খেয়ে বলল, তোর বাপে হলো আমার জান, তোর বাপে তোর জন্য দুনিয়ার সব আনন্দ নিয়ে আসতেছে সোনা... ।
চলবে...
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত মোঃ হেলাল উদ্দিন +৮৮০১৪০৬৪২৭৫৩৪// ০১৩০১৩০৪৪৩৬ সহস্রাইল, বোয়ালমারী, ফরিদপুর। শেয়ার করুন নামসহ | কমার্শিয়াল ব্যবহারে অনুমতি নিন | গল্পের কোনো অংশ পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা বিকৃত করে প্রকাশ করা যাবে না। জীবিত বা মৃত কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে এই গল্পের কোন মিল থাকলে তা নিতান্তই কাকতালীয়।