12/06/2026
পিএমখালি তোতকখালীতে আব্দুল জলিল তালুকদারের কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগ, হামলা ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগে। মামলা করায় আবারও হত্যার হুমকি দিচ্ছেন মোহাম্মদ আলম গং।
কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালি ইউনিয়নের তোতকখালী এলাকায় কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, আদালতে মামলা দায়ের করার পর তাদের ওপর চাপ ও হুমকির মাত্রা আরও বেড়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল জলিল তালুকদার অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ২৮ জুলাই তারা বৈধভাবে জমি ক্রয় করে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন। প্রথমে ৫৫ শতক এবং পরে আরও ১০ শতক জমি তাদের নামে রেজিষ্ট্রেশন ও নামজারী করা হয়। এরপর থেকে তারা জমিটি ভোগদখলে থাকলেও স্থানীয় মোহাম্মদ আলম ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন সময়ে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করেন।
তাদের দাবি, জমিটির বর্তমান বাজার মূল্য কোটি টাকার বেশি। এ কারণে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে জমিটি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সার্ভেয়ার এনে দুই পক্ষের জমির সীমানা নির্ধারণ করা হয়। তবে পরে সেই নির্ধারিত সীমানা উপেক্ষা করে চিহ্নিত অংশ ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ২৭ জুন তাদের রান্নাঘর ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়। একই সঙ্গে সীমানা প্রাচীর ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা।
এছাড়া জমিতে কাজ করতে গেলে শাহনওয়াজ বেগমের স্বামী আব্দুল জলিলের ওপর হামলার অভিযোগ করা হয়েছে। তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হলে গুরুতর আহত অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, জমি দখল ও হামলার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করার পর থেকে অভিযুক্ত পক্ষ তাদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। মামলা প্রত্যাহার না করলে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা। এতে পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
শাহ নেওয়াজ বেগম বলেন, “আমরা বৈধভাবে জমি কিনেছি, সব কাগজপত্র আমাদের কাছে আছে। তারপরও বিভিন্নভাবে হয়রানি, হামলা ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এখন মামলা করায় আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জমির মালিকানা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।