Hujaifa Khan

Hujaifa Khan
Chairman of — WORLD ONE UMMAH FOUNDATION.

27/12/2022

কাজ হোক চিরন্তনতার সোপান

জীবনে‌ ভালো থাকার জন্য কাউকে জুলুম করে, কার‌ও‌ হক‌ নষ্ট করে‌ পয়সার মালিক‌ হ‌ওয়ার‌ চাইতে সবাই কে‌ ভালোবেসে,সবার‌ ভালোবাসা নিয়ে জীবন টা‌ কাটিয়ে দেওয়া, অন্তহীন কে‌ অন্য‌ আর‌ বস্ত্রহীনকে‌ বস্ত্র‌ দেওয়া, জ্ঞানের মাধ্যমে পৃথিবীর মানুষ উপকৃত হবে এমন কিছু করা কত‌ই‌ না উত্তম।

এ‌ নশ্বর‌ জীবনে আমাদের যা‌ কিছু অর্জন, হোক তা সম্পদ,জ্ঞান‌ খ্যাতি‌ বা‌‌ প্রভাব‌;তা‌ যদি‌ মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করা যায়,তা-ই হবে‌ শত বর্শ‌ পরেও‌ মানুষের মনের মুকুরে‌ বেঁচে থাকার উপলক্ষ।

মৃত্যুর পর মানুষের মনে‌ থাকার ‌চেয়ে বড়‌ কোন অর্জন‌ কি আর হতে পারে?

তো‌ বলছিলাম জীবন ছোট আর‌ মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। ভালো কাজের সুযোগ অগুনিত‌ , কিন্তু সময় কম।এখন‌ যদি‌ অবহেলা করি,যে‌ কাজগুলো করলে মানুষ মৃত্যুর‌ পরেও‌ তাদের হৃদয়ে স্থান করে দিত তা‌ যদি‌ না করি‌, নিশ্চিতভাবে মৃত্যুর পর শুধু আফসোস‌ই‌ থেকে যাবে। তখন সৎকর্মের ইচ্ছা ষোল আনা থাকলেও সামর্থ‌্য থাকবে না একবিন্দু।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার যাবতীয়‌ আমল‌ বন্ধ‌ হয়ে যায়।তবে তিনটি আমল‌ বন্ধ‌ হয়‌ না।১.সাদাকায়ে‌ জারিয়া (তেমন: মসজিদ, মাদ্রাসা, বাড়ি,রাস্তা, বাঁধ নির্মাণ , সুপেয় পানির ব্যবস্থা, হাসপাতাল স্থাপন,বৃক্ষ রোপন ইত্যাদি।)
২.এমন‌‌ ইলম (জ্ঞান) যার‌‌ দ্বারা মানুষ‌ উপকৃত হয়।
৩.সুসন্তান‌, যে তার জন্য দোয়া করে।এর‌ সুযোগ‌ও‌ যদি‌ করতে‌ হয়‌ তা‌র‌ সূচনা করতে‌ হবে‌ বেঁচে থাকতেই।

তাই‌ আসুন, মানুষকে‌ ভালোবাসি, অসহায়দের প্রতি‌ সাহায্যের হাতটা বাড়িয়ে দেই। জীবন যে‌ দুই দিনের , সেই অল্প‌ সময়টাকে‌ ‌মানুষের‌ কজে‌ লাগাই।
এতে ক্ষণকালের ভোগবিলাস হয়তো কম হবে। কিন্তু তার প্রতিদান পাওয়া যাবে পরবর্তী অনন্ত জীবনে, যেখান থেকে আর ফেরা যাবে না কখনো। অনন্ত পরকালে বিশ্বাসী যারা,এতে তাদের দ্বিমত হওয়ার কোন উপায় নেই।
যে উদ্দেশ্য নিয়ে আল্লাহ আমাদেরকে এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন আমরা কি তার মর্যাদা দিতে পারছি?
মনে রাখতে হবে আমাদের সবারই ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী চলা, সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে ভালো কাজ করা উচিত। ‌
এর মাধ্যমে কিন্তু আমরা নিজেদের পরকালকে গুছানোর পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের‌ও উপকার করে যাচ্ছি।
আর নিজের ভালো কাজের মাধ্যমে যদি মানুষের উপকার করে যেতে পারি তা হলেই স্থান করে নিতে পারব তাদের মনের মনিকোঠায়। রয়ে‌ যাব স্মৃতির ভান্ডারে। মানুষ মনে রাখবে যুগ যুগ।

27/12/2022

অবদান ও অমরত্তের মিল বন্ধন ।

মাঝে মাঝে নিজেকে প্রশ্ন‌ করি‌ - আচ্ছা! আমরা কি‌ আমাদের ১০০বছর‌ আগের প্রজন্ম সম্পর্কে জানি?
আমাদের দাদার দাদা নানার ‌নানা‌ বা‌ অন্য‌ কোনো পূর্বপুরুষের কথা কি আমরা মনে রেখেছি? তাদের নামটাই বা আমরা কতজন বলতে পরবো?মাত্র‌ দুই কি‌ তিন‌ পুরুষের ব্যবধানে‌ নামটা‌ পর্যন্ত‌ হারিয়ে যায়,পরিচয়‌ তো‌ পরে।নেহাত‌ই যুগশ্রেষ্ঠ‌ পুরুষ বা‌ নারী না হলে‌, সবাই হারিয়ে যায়,কালের‌ অন্তরালে। তাহলে ১০০বছর‌ পর‌ ওই সময়ের‌ প্রজন্ম‌ কেনই‌ বা‌ আমাদের মনে রাখবে!এ ভাবনা কষ্টকর হলেও এটাই বাস্তবতা।
তাহলে পৃথিবীতে এসে এত‌ কিছু অর্জন করে আমাদের কি‌ লাভ হলো?

আসলে এ পৃথিবীতে নিজের বলে কিছু নেই। জীবনের যা‌ কিছু অর্জন তার কিছুই কিন্তু মৃত্যুর পর সঙ্গে নিয়ে যাওয়া যাবে না। একমাত্র আকুতি, যদি‌ বেঁচে থাকা যায় কার‌ও‌ স্মৃতি‌ হয়ে,কিন্ত‌ এ ভাগ্য‌ই‌ বা‌ কজনের হয়। শূন্য থেকে এসে আবার শূন্যে মিলিয়ে যাওয়া‌- মানব জন্মের বোধহয় সবচেয়ে বড় আক্ষেপ।

আসলে আমরা কিসের পেছনে ছুটে চলেছি?
একেবারে শৈশব থেকে যে‌ প্রচন্ড‌ দৌড় ,এর গন্তব্য কোথায়?

আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভালো ফলাফলের জন্য,কর্মে‌ সাফল্য আর পদোন্নতির জন্য,অর্থ-যশ-খ্যাতি-ক্ষমতার‌ জন্য ছুটে চলি।স্বাস্থ‌্য রক্ষার জন্য‌ও কত‌ প্রানান্ত‌ চেষ্টা করি, তাতে কি শেষ রক্ষা হয়? একসময়‌ কিন্তু দেহটাই শেষ হয়ে যায়।

এ ছুটে চলার মাঝে‌ "বারবার কার‌ও পানে‌ ফিরে চাহিবার‌ নাই যে‌ সময়, নাই নাই"।

অথচ‌ 'কাল‌‌ স্রোতে ‌ভেসে যায়‌ জীবন যৌবন ধন-মান'।
আর‌ শেষ‌কালে‌ মনে হয় 'তুমি কার,কে তোমার,কী রেখে যাই,কী নিয়ে যাই,কার‌ স্মৃতিতে‌ ঠাঁই পাই। দৌড়‌ই যার‌ একমাত্র‌ কর্ম, গন্তব্যেই‌ তার‌ সমাপ্তি।

অনাগত কাল‌ কেন‌ তবে আমায়‌ মনে রাখবে?
জীবনের অমোঘ সত্য মৃত্যু। মৃত্যুর স্বাদ‌ গ্ৰহণ‌ করতেই‌ হবে।পাড়ি‌ জমাতে হবে পরপারে,তাঁকে ফাঁকি দিয়ে মানুষের মনোজগতে বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন ভালো কাজ। মানুষের জন্য কাজ,করে মানুষের তরে জীবন উৎসর্গ করে , মানুষের প্রয়োজনে‌ নিজের সময়-সম্পদ-সামর্থ‌ ঢেলে‌ দিয়েই‌ মানুষের স্মৃতিতে স্থান‌ করে‌ নেওয়া সম্ভব।

আসলে‌ বাস্তবতা হচ্ছে এ‌ জীবনটা আমাদের কল্পনার চেয়েও ছোট ।এই স্বল্প‌ সময়‌ বিলাস ব্যসনে‌ পার‌ করে দেওয়া যায় ঠিক। কিন্তু তার চেয়ে হাজার গুণ উত্তম‌ হবে‌ পরার্থে‌ পরিচালিত করা।

একবার ভাবুন আপনার চলে‌ যাওয়ার ১০০বছর‌ পর‌ও‌ মানুষ আপনাকে মনে রাখছে, দুহাত তুলে আপনার পরপারের সুন্দর জীবনের জন্য দোয়া করছে,এর‌ চেয়ে বড় অর্জন‌ আর‌ কী‌ হতে পারে?
কবির‌ ভাষায়,'পরের‌ কারণে স্বার্থ দিয়া বলি এ জীবন মন‌ সকলি‌ দাও,
তার মতো সুখ‌ কোথাও কি‌ আছে আপনার কথা ভূলিয়া‌ যাও‌,।
কিন্তু আমরা কি তা করছি?

মানুষ‌‌ তো সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। আল্লাহয়ালা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই কিন্তু মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।
যেন‌ তারা‌‌ সৃষ্টার‌ আরাধনা এবং অন্যের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে। তেমন আচরণ‌ কি‌ আমরা করছি?
আমরা কি নিজের সময়,শ্রম,জ্ঞান মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করছি?

বরং এর‌ বিপরীত।আমরা‌ যা‌ ব‌লি‌ আর‌ আমরা‌ যা‌ করি‌, দুয়ের‌ মধ্যে থেকে যায়‌ বিস্তর‌ ফারাক।
আজ‌ আমরা সমান্য‌ কারণে মানুষের প্রতি বিরাগভাজন হ‌ই, মানুষকে ঠকাই,অন্যের‌ হক‌ নষ্ট‌ করি, পরস্পরে হিংসা- বিদ্বেষ, লোভ-লালসা,অহংকার এখন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। মানবিক মূল্যবোধ, মায়া- মমতা, মানবতা, পরার্থপরতা আজ ভুলণ্ঠিত।

আমরা পাশবিক নির্যাতনের কথা বলি। আসলে পশুরা কি‌ ততটাই পাশবিক?
মানুষের অমানবিক কর্যাবলিতে মনুষ্যত্ব কি‌ সমাজে আছে?
মানুষের কল্পনার বাইরে মানুষের দ্বারাই অস্বাভাবিকের‌ চেয়েও‌ অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেই‌ চলেছে। পাশবিকতার‌ কাছে মানবতা‌ আজ‌ ধরাশায়ী।
অথচ ক্ষণস্থায়ী‌ এই জীবনে অহংকার কি;বা পাশবিকতা কোনটাই শোভা পায় না।

কারণ‌ এ পৃথিবীতে যা‌ কিছু আছে তা আমার নয়।
কোন কিছু কি‌ আমি সঙ্গে নিয়ে যেতে‌ পারব?আমি‌ শূন্য হাতে এসেছি আর‌ শূন্য হাতেই‌ ফিরে যেতে হবে।

নতুন জগতে২১২২সালে‌ কবরে‌ শুয়ে‌ হয়তো আমরা সবাই এ‌বাস্তবতা‌ উপলব্ধি করতে পারব। সত্যি দুনিয়াটা‌ কত‌ই‌ না‌ তুচ্ছ ছিল,একে‌ ঘিরে দেখা‌‌ স্বপ্নগুলো‌ কত‌ই‌ না নগণ্য‌ ছিল।

এ‌‌ স্বল্প‌ সময়ে নিজেরা‌‌ নিজেদের মাঝে লাভ আর‌ লোভের জন্য প্রতিজোগিতা‌ না‌ করে যদি‌ দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করি, নিজের জ্ঞান জনকল্যাণে‌ ব্যবহার‌ করি,ভোগ‌ বিলাসে‌ মত্ত না হয়ে নিজের প্রয়জনীয়‌ সামান্য যা‌ কিছু প্রয়োজন তাতে‌ সন্তষ্ট হয়ে বাকিটা সমাজের মাঝে বিলিয়ে দিই‌ তবেই মানুষ আমাদের মনে রাখবে।

Address

Cairo

Telephone

+201507461138

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hujaifa Khan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share