28/05/2026
উপরতলা থেকে এক বাংলাদেশী রুমের দরজায় এসে চিৎকার করে বললেন, ‘এক বাংলাদেশী ভাইয়ের অবস্থা খারাপ, তাড়াতাড়ি আসেন।
সকাল ৮টায় হার্ট অ্যাটাক করেছেন তিনি । ফ্রান্সে এসেছিলেন কাজের সন্ধানে। কিন্তু তার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। সাবলেট উঠেছিলেন আরেক বাংলাদেশীর বাসায়।
দ্রুত ওপরে চলে গেলেন ওই বাংলাদেশী। গিয়ে দেখেন ওই দেশী ভাইয়ের জ্ঞান নেই। তার বুকে প্রচন্ড জোরে বারবার চাপ (সিপিআর) দেওয়া হচ্ছে। মনে হচ্ছিল তার বুকের হাড়গোড় সব এক্ষুনি ভেঙে যাবে।
কী করবে বুঝে উঠতে পারছিলো না। হতভম্ব হয়ে গেলো। তার শরীর কাঁপছিল, বমি বমি লাগছিল। আরেক ভাই ইমারজেন্সিতে ফোন করলেন। বিস্তারিত শোনার পর ফোনের ওপাশ থেকে বললো, আপনারা সিপিআর দিতে থাকেন, বন্ধ করবেন না। তিনি লাইনে রইলেন, সেকেন্ডে সেকেন্ডে বলছিলেন — সিপিআর, সিপিআর, সিপিআর।
ফোনে কথোপকথন চলতে চলতেই অ্যাম্বুলেন্স চলে এলো। সঙ্গে সঙ্গে ওই রুমের মধ্যে চিকিৎসা শুরু হল। তারা আরও ৩টি অ্যাম্বুলেন্স ১টি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি নিয়ে এলেন। ঘরের ভেতর ডাক্তার-নার্সসহ প্রায় ২০ জন! এরই মধ্যে পুলিশের দুটি গাড়ি চলে এলো! পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের ৭টি গাড়ি বাসার সামনে। পুলিশ বাসার সামনে রাস্তা বন্ধ করে দিলো।
রোগীর অবস্থা খারাপ। উপরের তলায় ওঠার সিড়ি বেশ ছোট। রোগীকে নামানো কষ্টকর। তারা হেলিকপ্টার কল করলেন। হেলিকপ্টার চলে এলো। উপরের জানালা খুলে হেলিকপ্টারে করে রুগী কে বের করে নিয়ে যাওয়া হলো হাসপাতালে। হেলিকপ্টার যখন তাকে নিয়ে যাচ্ছে, চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পড়ছিলো। আর সবাই তাকাচ্ছে আর ভাবছিলো এই জাতির কাছে একটা জীবনের কত মূল্য! হেলিকপ্টারের দিকে তাকিয়ে স্যালুট দিলো সবাই আর বললো, ‘সেলুট ফ্রান্স, স্যালুট!’
তাদের চেষ্টা বা সেবা শুধু তাদের নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য নয়, বরং সেটা সবার জন্য, সমান।
রুগী এই দেশের নাগরিক না, বৈধ কাগজও নেই, তারপরও তারা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গেল।
কিন্তু আমরা বাংলাদেশের নাগরিক, আমাদের দেশ আমাদের জন্য কতটুকু করে?
(লেখাটি সংগ্রহীত )