27/02/2026
জায়নামাজের ধারের সেই ছোট্ট মেহমান
নামাজের জন্য জায়নামাজ বিছিয়ে বসলেই বিড়ালটা এসে ঠিক সামনে বা কোণায় গুটিসুটি মেরে বসে পড়ে। অনেকে হয়তো বিরক্ত হন, তাড়িয়ে দেন। কিন্তু আমি ওর দিকে তাকিয়ে ভাবি আমাদের ধর্মটা কতটা সুন্দর আর মমতাময়!
আমরা যখন নিজেদের খুব পবিত্র মনে করি, তখন এই অবলা প্রাণীটিকে আমাদের নবী (সা.) ‘অপবিত্র’ বলেননি। বরং তিনি বলেছেন, "বিড়াল অপবিত্র নয়; এরা তো তোমাদের আশেপাশে বিচরণকারী।" (আবু দাউদ)
ইসলামে বিড়ালকে এতই পবিত্র ধরা হয়েছে যে, বিড়ালের মুখ দেওয়া পানি দিয়েও অজু করা জায়েজ। যে ধর্মে একটি প্রাণীকে এত সম্মান আর অধিকার দেওয়া হয়েছে, সেই ধর্ম আসলে আমাদের কী শেখায়?
শেখায় দয়া।
ওরা কথা বলতে পারে না, নিজেদের কষ্টের কথা কাউকে বোঝাতে পারে না। কিন্তু যখন আমরা ওদের একটু খাবার দিই, একটু নিরাপদ আশ্রয় দিই সেটা আর শুধু 'শখ' থাকে না, সেটা হয়ে যায় ‘সাদাকাহ’ বা দান।
হয়তো রোজ হাশরের দিন, যখন আমাদের নিজেদের আমলনামায় দেখানোর মতো ভারী কিছুই থাকবে না তখন এই অবলা প্রাণীটার প্রতি দেখানো সামান্য মায়াটুকুই আমাদের নাজাতের উসিলা হয়ে যেতে পারে।
তাই ঘরের ওই ছোট্ট প্রাণীটাকে শুধু একটা পোষ্য ভাববেন না। হয়তো ও আপনার ঘরে আসা আল্লাহর এক নীরব রহমত, যা আপনার জন্য জান্নাতের কোনো একটা দরজা খুলে দেওয়ার অপেক্ষা করছে। 🌸✨