12/01/2025
দুই বন্ধু রাসেল আর পাভেল আসলো রকিবের বাসায়। আজকে এমনিতেই খুব গরম পড়েছে। রাসেল রকিবকে বললো, দোস্ত গলা একদম শুকিয়ে গেছে, ঠাণ্ডা পানি দে তো। রকিব ফ্রিজ খুলে দেখে বোতলে অল্প একটু ঠাণ্ডা পানিই অবশিষ্ট আছে। ২টি গ্লাসে অর্ধেক অর্ধেক ঠাণ্ডা পানি এনে রাসেল আর পাভেলকে খেতে দিলো।
আধা গ্লাস পানি দেখে রাসেলের মেজাজ বিগড়ে গেল। রকিবকে গালি দিয়ে বললো, এতদিন পর তোর বাসায় আসলাম, আর তুই কিনা মাত্র আধা গ্লাস পানি দিলি? এক গ্লাস পানিও খাওয়াতে পারলি না? অপরদিকে পাভেল আধা গ্লাস ঠাণ্ডা পানি খেয়ে নিল বেশ তাড়াতাড়ি। যেই গরম পড়েছে, আধা গ্লাস ঠাণ্ডা পানিও যেন তার শরীর জুড়িয়ে দিল। রকিবকে ধন্যবাদ দিয়ে বললো জান বাঁচালি দোস্ত। এইটুকু ঠাণ্ডা পানি খেয়ে যেন জানে পানি আসলো।
একটি গ্লাসে অর্ধেক পানি আছে। কেউ এটাকে দেখবে যে অর্ধেক গ্লাস ভর্তি পানি আছে, আর কেউ দেখে যে অর্ধেক গ্লাস পানি অপূর্ণ আছে। আমাদের জীবনে এবং আশেপাশে এরকম ঘটনা অহরহ ঘটে। এই দৃষ্টিভঙ্গির কিন্তু নাম আছে। যারা অর্ধেক গ্লাস পূর্ণ দেখে, তাদেরকে আমরা আশাবাদী মানুষ বলতে পারি। আর যারা অর্ধেক খালি দেখে, তাদের নিরাশাবাদী।
নিরাশাবাদী মানুষেরা সবসময় কি পেলাম না তাই নিয়ে হাহাকার করে। চোখের সামনে কি পেয়েছে তা দিয়ে বেশিরভাগ সময় কৃতজ্ঞ হয় না। অপরদিকে আশাবাদী মানুষেরা যা পেয়েছে তা নিয়ে খুশী হয়, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তাই বলে বেশি কিছু পাওয়ার চেষ্টা যে করে না তা কিন্তু নয়। তবে হাহাকার ব্যাপারটা থাকে না তাদের মধ্যে।
আপনার আশেপাশের মানুষগুলোকে, বা কাছের মানুষদের যদি ভালো করে লক্ষ্য করেন, তাহলে আপনি খুব সহজেই বুঝে যাবেন তাঁরা কি আশাবাদী নাকি নিরাশাবাদী। নিরাশাবাদী মানুষরা বেশিরভাব সময় মানুষিকভাবে অখুশি হন, কারণ কোন কিছুই তাদের খুব একটা সন্তুষ্ট করতে পারে না।
ভালোবাসার সম্পর্কে অনেকসময় দেখবেন কেউ কেউ একটি সাধারণ ফুল বা কমদামী উপহার পেয়েও খুব খুশী হয়ে যায়। আবার অনেককে দামি উপহার দিয়ে সন্তুষ্ট করা যায় না। তাঁরা বলে যে এই উপহারের থেকে অন্য উপহার দিলে আরও বেশি ভালো হত। এরকম আপনি নিজের জীবনে বা পরিচিত কারো জীবনে একটু লক্ষ্য করলেই দেখতে পারবেন।
ধরুন স্বামী-স্ত্রী বিয়ের পর হানিমুনে যাবে। হাতে টাকা কম থাকায় কক্সবাজারে হানিমুন প্ল্যান করেছে। কোন কোন দম্পতি খুব আনন্দের সাথে কক্সবাজার উপভোগ করবে। আবার কেউ কেউ আফসোস করবে কক্সবাজারে হানিমুনই কপালে ছিল! সবাই এখন ব্যাংকক, বালিতে হানিমুনে যায়। এগুলো হল এক প্রকার নিরাশাবাদী মানুষিকতা। আপনার সামনে যা আছে, তা উপভোগ না করে আফসোস করা যে আরও ভালো কিছু পেলাম না কেন। আশাবাদী মানসিকতার মানুষ বর্তমানের ট্যুরটি উপভোগ করতো, এবং পরবর্তীতে ব্যাংকক বা বালিতে ট্যুরের জন্য প্রস্তুতি নিত।
আপনি কি আশাবাদী নাকি নিরাশাবাদী তা আপনি বুঝতে পারবেন খুব সহজেই। ধরুন আপনিসহ কয়েকজন একটি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ করলেন এবং ইন্টার্নশিপ শেষে একজনের চাকরি হওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু ইন্টার্নশিপ শেষে দেখা গেল আপনি চাকরি পেলেন না, চাকরি পেল আপনাদের টিমের আরেকজন। তখন আপনার মনে চিন্তা আসতে পারে যে বিগত ৬ মাস ধরে কষ্ট করে ইন্টার্নশিপ করলাম, কিন্তু ধুর! চাকরিই হল না। কিন্তু আপনি আশাবাদী হলে আপনি অন্যভাবে ভাবতে পারেন যে, এই ইন্টার্নশিপ থেকে আপনি যা শিখলেন, তা আপনাকে অন্য চাকরি পেতে অভিজ্ঞতা হিসেবে কাজ করবে, এবং একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করায় ইতিমধ্যেই আপনার অভিজ্ঞতা হয়ে গেল, যা আপনার পরবর্তী চাকরিতে কাজে লাগবে।
চাকরির ইন্টারভিউ দেয়ার ক্ষেত্রেও একটি চাকরি আপনার না হলে আপনি আশাবাদী হতে পারেন এই ভেবে যে ইন্টারভিউ প্রসেস সম্পর্কে আপনার একটি ধারণা অর্জন হল, এবং এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আপনি পরবর্তী ইন্টারভিউতে ভালো করতে পারবেন। যেখানে, নিরাশাবাদীরা ভাববে যে কষ্ট করে ইন্টারভিউ দিলাম কিন্তু চাকরিটাই হল না।
আবার অনেক স্ত্রীরা দেখা যায় স্বামীর বন্ধু বা কলিগদের প্রমোশন বা উন্নতি দেখলে সেগুলো নিয়ে হিংসা করেন এবং স্বামীর সাথে ঝগড়া করেন। এক্ষেত্রে আশাবাদী স্ত্রীরা স্বামীকে উল্টো মোটিভেট করতে পারেন এভাবে যে অমুক বন্ধু বা কলিগ যেহুতু প্রমোশন পেয়েছে, তুমি চেষ্টা করলে আরও ভালো করতে পারবে।
আশাবাদী মানুষরা কিন্তু দিন শেষে অনেক মানুষিক শান্তিতে থাকেন, এবং তাঁরা অযথা আফসোস করেন না বলে দিন শেষে তাঁরা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন আরও সহজে। নিরাশাবাদী মানুষরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আফসোস করতে করতে তাদের আসল লক্ষ্যে স্থির থাকতে পারেন না। তাই তাদের জীবন হয় আফসোস এবং হতাশাপূর্ণ।
তাই এখন থেকে যেকোনো ক্ষেত্রেই নিজেকে প্রশ্ন করে দেখতে পারেন যে আমি কি এই বিষয়ে আশাবাদী নাকি নিরাশাবাদী আচরণ করলাম। দিনশেষে পরিবর্তন শুধু আপনার নিজের মধ্যে থেকেই আসতে পারে।
তো আপনার কি মনে হয়, মানুষ হিসেবে আপনি কি আশাবাদী? নাকি নিরাশাবাদী?