03/06/2026
আমরা দুজন একসাথে বড় হচ্ছি, একসাথে লড়াই করে আগাচ্ছি। আমাদের জীবন এলোমেলো না তবে খুব বেশি গুছানো ও না। মা আর মাহুর একার জীবন।
এবার ঈদ এর একটা ঘটনা থেকে আমি এখনও বের হতে পারিনা। আমি আর মাহতাব সারাদিন একসাথে থাকি, অনেক সময় আমি ঘরের কাজ করি ও ওর মতো খেলে। ঈদ এর আগের দিন লাফাতে লাফাতে জানালার উপর একটা বাড়ি খেয়েছে। চিৎকার দিয়ে উঠেছে, নরমালি ও পরে গেলে আমি বলি স্ট্রং বয় তারপর হাত ধরে উঠাই আর ও চুপ হয়ে যায় । তো সেদিন আমি ভেবেছি এমনই কিছু, কিন্তু ও কাঁদতেই আছে আর থুতনির একদম নিচে ভিতরে আমাকে দেখানোর চেষ্টা করছে । আমি বুকে জড়ায় ধরে কান্না থামানোর চেষ্টা করছি, একটু পর ই দেখলাম অনেক রক্ত!! এত্ত রক্ত ওর শার্ট ভিজে গেছে, হাত দিয়ে ওই জায়গায় ধরছে হাত ও মাখায় যাচ্ছে। আমি কি করব? থুতনির ভিতরের দিকে ছিলো তাই আমার খেয়াল করতে ৫ মিনিট সময় লেগেছে। আমি এত নারভাস হয়ে গেলাম তাও মন শক্ত রেখে জলদি করে রক্ত ক্লিন করে ব্যাণ্ডেজ করার চেষ্টা করছি। কোনোভাবেই রক্ত থামছে না (সেলাই পর্যায় কেটেছে) । যাই হউক দিলাম এমার্জেন্সি নাম্বার এ ফোন এম্বুলেন্স আসলো এসে সব কিছু ঠিকঠাক করে ওই জায়গায় গ্লু দিয়ে ব্যাণ্ডেজ করে গেল(দুপুর ২ টার ঘটনা)
তারপর ও ঘুমিয়ে গেল।
উঠল ৬ টায়, আমি ওকে খাওয়ায়, ওর সাথে খেলে আমি ভাবলাম আজকে ও যেভাবে যা চায় তাই হবে। ওকে সাধারণত ফোন দেইনা, ওইদিন ওকে ফোন দিয়ে আমি আবার কাজ করছিলাম, হঠাৎ আবার চিৎকার তখন প্রায় রাত ৯ টা। আমি দৌড় দিয়ে দেখলাম আবার রক্ত! এত রক্ত ! শার্ট আবার ভিজে গেছে ওর হাত মাখানো। সেলাই পর্যায় ছিলো তাই হয়তো রক্ত গ্লু তে থামছিল না। আবার দিলাম অ্যাম্বুলেন্স এ ফোন ওরা এসে রাতের ১০:৩০ টা পর্যন্ত ওকে ব্যাণ্ডেজ করে সব কিছু দেখে দিয়ে গেল আর বলল একটু পর পর দেখতে। সারারাত আমি ওকেই দেখলাম পরদিন ঈদ ছিলো কিন্তু এই প্রথম কোনও আনন্দতো নেই। বিষাদ মন আমার! ভাবছি আমরা এত একা কেন ? এরকম কেন হলো! আমার আব্বু আম্মু ওর আব্বু সবাই ফোন এ অনেক কথা বলেছে শান্তনা দিয়েছে, আমার আম্মু অনেক রাত পর্যন্ত আমার সাথে চ্যাটিং করছিল শান্তনা দিতে, বলছিল মনকে শক্ত করতে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে মনে হয় দেশের জীবন কত সুন্দর কত মানুষ ছিলো আমাদের আগলায় রাখার। এখন অবশ্য একা বাঁচার সাহস তো ভীষণ হয়েছে আমাদের। কিন্তু জীবন কোথায় যেন গিয়ে ঠেকছে তা আমরা দুইজনই হয়তো বুঝতে পারছি না। তবে কে কতটুকু আমাদের গুরত্ব দিচ্ছে কেয়ার করছে তা আমরা টের পাচ্ছি। জীবন যেখানে যেমন চলে আমরাও সেখানে তেমনই শিখি। 🌸