29/07/2026
মৌলভীবাজারের গর্ব সাবেক সচিব ও কবি এ. এইচ. মোফাজ্জল করিমকে ঘিরে রাষ্ট্রপতি পদে নতুন আলোচনা।
নিজস্ব প্রতিবেদন| মৌলভীবাজার :
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বেড়কুঁড়ী গ্রামের কৃতি সন্তান, সাবেক সচিব, সাবেক হাইকমিশনার ও বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিক এ. এইচ. মোফাজ্জল করিমকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ—রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চাওয়ার জোরালো প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন, কূটনীতি, সাহিত্য ও জনসেবায় অসামান্য অবদান রাখা এই প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে ঘিরে জেলাজুড়ে এবং জাতীয় পর্যায়ে শুরু হয়েছে ইতিবাচক আলোচনা।
প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে সততা, দক্ষতা ও প্রজ্ঞার অনন্য স্বাক্ষর রেখেছেন এ. এইচ. মোফাজ্জল করিম। ১৯৪১ সালে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জন্মগ্রহণ করা এই গুণী ব্যক্তিত্ব ১৯৬৩ সালে সরকারি মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের (সিএসপি) কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশে প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলোতে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে কূটনৈতিক ও নীতি-নির্ধারণী ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
প্রশাসনের কঠিন দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি সাহিত্যজগতেও মৌলভীবাজারের এই সন্তান সমানভাবে ভাস্বর। দেশের অন্যতম প্রধান কবি ও সাহিত্যিক হিসেবে সমাদৃত এ. এইচ. মোফাজ্জল করিমের ঝুলিতে রয়েছে 'অবচেতনে রাজাধিরাজ', 'একটি সার্টিফিকেট চাই', 'মুমূর্ষু বিকেল', 'আট কুঠুরি নয় দরজা'র মতো বহু জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ। তাঁর চার খণ্ডে প্রকাশিত আত্মজীবনীকে বর্তমান সমাজ ও প্রশাসনের এক অমূল্য দলিল বলে গণ্য করা হয়। সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য তিনি অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৭) ও কেমুসাস সাহিত্য পুরস্কার (২০১৬)-সহ একাধিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
প্রশাসন, কূটনীতি ও সাহিত্য চর্চায় সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতার কারণে মৌলভীবাজারের মানুষসহ সারা দেশের সচেতন ও বুদ্ধিজীবী মহল তাঁকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে আগ্রহী। স্থানীয়দের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের সর্বোচ্চ পদে এমন একজন প্রাজ্ঞ, অভিজ্ঞ ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রচিন্তকের উপস্থিতি মৌলভীবাজারবাসীর জন্য চরম গর্বের বিষয় হবে।
তবে এই প্রত্যাশা সর্বমহলে আলোচিত হলেও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা কিংবা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সংবিধান ও রাজনীতির চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়—এখন সেটিই দেখার বিষয়।