11/12/2025
রিসার্চ গ্যাপ ও বের করার উপায়
Research Gap
রিসার্চ গ্যাপ নতুন গবেষণার ভিত্তি নির্ধারণ করে পূর্ববর্তী গবেষণার ফাঁককে নির্ধারণ করে। সহজভাবে, পূর্ববর্তী গবেষণার সাথে বিদ্যমান গবেষণার যে গ্যাপ রয়েছে তাকেই রিসার্চ গ্যাপ বলে।
সচারাচর Literature review এর মাধ্যমে রিসার্চ গ্যাপ বের করা হয়। রিসার্চ গ্যাপ একটি পেপারের প্রাণ কেননা এর উপর ভিত্তি করে রিসার্চ কোশ্চেন, অবজেক্টিভ ও হাইপোথিসিস ফরমোলেট করা হয়। তারপর রিসার্চ কোশ্চেন এর উপর ভিত্তি করে রিসার্চ মেথড সিলেকশন করে ডাটা কালেকশন করে কোশ্চেনগুলোর উত্তর ডিসকাশন সেকশনে পূর্ণতা পায়। তাই বুঝাই যায় যে রিসার্চ গ্যাপ পুরো একটি রিসার্চ পেপার লিখতে গাইড করে।
গাণিতিকভাবে রিসার্চ গ্যাপকে ব্যাখ্যা ধরুন A ∩ B. ধরুন A ও B দুটি গবেষণার লিটারেচার রিভিউ সেট। A কে পূর্ববর্তী গবেষণার লিটারেচার রিভিউ সেট হিসেবে ধরে এবং B কে বিদ্যমান গবেষণার লিটারেচার রিভিউ সেট হিসেবে ধরে তারপর ইন্টারসেকশন অপারেশনে A লিটারেচার রিভিউ সেটে যে উপাদান নেই সে উপাদানের উপস্থিতি A এর সাপেক্ষে B লিটারেচার রিভিউ সেটে বিদ্যমান থাকবে তা A এর সাপেক্ষে B এর রিসার্চ গ্যাপ।
ধরি, A={1,2,3,4}
B={3,4,1,2,6,7}
তাহলে, B-A={6,7}
এই 6, 7 পূর্ববর্তী কাজে মানে A তে এই উপাদানগুলো উপস্থিত ছিল না তাই {6,7} এ দুটি উপাদান A এর সাপেক্ষে B এর রিসার্চ গ্যাপ।
অসংখ্য রিসার্চ গ্যাপ এর ক্যাটাগরি রয়েছে।
১.Evidence Gap: এভিডেন্স গেপ বলতে বুঝায় আপনার বিদ্যমান গবেষণায় যথাযথ প্রায়োগিক ডাটার অভাব।
উদাহরণ : ধরুন শহরতলীতে এক যুদ্ধ বিমান বিদ্ধস্ত হয়েছে।
প্রশ্ন: কেন যুদ্ধবিমান বিদ্ধস্ত হল? মহড়া দেয়ার জন্য কি পর্যন্ত মিলিটারি বেস ছিল না? কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে? এসব তথ্য যদি খুঁজে পেতে একাডেমিয়া,রিসার্চ গেট বা গুগল স্কলার এ যথাযথ প্রাসঙ্গিক পেপার খুঁজে না পান তা Evidence gap হিসেবে চিহ্নিত করবেন।
Knowledge Gap : বলতে বুঝায় একটি রিসার্চ ফিল্ডের যে বিষয়ের উপর এখনো গবেষণা হয়নি।
উদাহরণ : ধরুন যে প্রিডেটরি জার্নাল কিভাবে আমাদের দেশীয় শিক্ষাব্যবস্থায় গবেষণা সংস্কৃতিকে কোয়ান্টিটির মানদণ্ডে ধরে রেখে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে। এ বিষয়ে তেমন গবেষণাপত্র একাডেমিয়া,রিসার্চ গেট,গুগল স্কলার, স্পিংগার সাইটে খুঁজে পাবেন না।
Theoretical gap: একটি ঘটনা বা বিষয়বস্তুকে ব্যাখ্যা করতে তত্ত্বের সীমাবদ্ধতাকে বুঝায়।
উদাহরণ:
ধরুন, আত্মার প্রকৃতি বুঝার জন্য কোয়ান্টাম ফিজিক্সের কোন তত্ত্ব তা ব্যাখ্যা করতে পারবে না কারণ ম্যাটাফিজিক্যাল ফ্যাক্টের ব্যাখ্যা কখনো প্রাগমেটিক থিওরেটিক্যাল ফ্রেম দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। স্বয়ং স্টিফেন হকিং এর সীমাবদ্ধতা।
Methodological Gap: পূর্ববর্তী গবেষণার রিসার্চ মেথডে বিদ্যমান ত্রুটি সনাক্তকরণকে Methodological Gap বলা হয়।
উদাহরণ:
ধরুন, পূর্ববর্তী গবেষক এন্ডোক্রিনোলজির একটি সেগমেন্ট হরমোন যেমন এন্ডোজেন ও টেস্টস্টেরন এর উপর রিসার্চ করার জন্য টার্গেট গ্রুপের পিপল সিলেকশনে True Design Strategy এর বদলে Quasi Design Strategy সিলেক্ট করেছেন। ফলশ্রুতিতে যথাযথ cause-and-effect সম্পর্ক বের করতে পারেননি। এ সীমাবদ্ধতা সনাক্তকরণকে Methodological Gap বলা হয়।
Population gap: কোন স্পেসিফিক গ্রুপের উপর পর্যাপ্ত গবেষণার অভাবকে বুঝায়।
উদাহরণ :
ব্রাজিলের কায়াপো ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী যাদের জীবনযাত্রা,ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত বিষয় নিয়ে তেমন গবেষণা হয় না।
প্রশ্ন:
তারা কেন আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ভার্চুয়াল রিলেশনশিপ (গ্লোবাল ভিলেজ) থেকে দূরে?
এ প্রশ্ন উত্তর দিচ্ছে এই স্পেসিফিক গ্রুপের উপর এরকম গবেষণা হয়নি। এমন পেপার রিসার্চ পেপার সার্চ টুলসগুলোতে যদি না পান ধরে নিবেন এ জনগোষ্ঠীর উপর গবেষকগণ এখনো ফোকাস করেননি যা পপুলেশন গ্যাপ হিসেবে চিহ্নিত।
Application gap:
যে নতুন তত্ত্ব বা ধারণার এখনো প্রায়োগিক প্রয়োগ হয়নি তাকে Application gap বলে।
ধরুন,প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পলিটিকাল কৌশল, ডমিনেন্সকে লিটারেরি টেক্সট এর কোনো চরিত্রের সাথে তুলনা যেমন শেখ হাসিনার সাথে ম্যাকবেথের রাজনৈতিক কৌশল, দমন পীড়নের তুলনা।
যাইহোক, লিটারেচার রিভিউ করে রিসার্চ গ্যাপ বের করা ক্লান্তিকর।তাই ডেফিনেশনগুলো ভালোভাবে বুঝলে ও প্রশ্নের মাধ্যমে আপনি সহজে রিসার্চ গ্যাপ বের করতে পারবেন।
উল্লেখ্য একটি পেপারের লিটারেচার রিভিউ সেকশন এ রিসার্চ গ্যাপ উল্লেখ থাকে সাধারণত।
কনক্লুশন সেকশনের recommendation for further research term মূলত রিসার্চ গ্যাপকে নির্দেশ করে।
বিবলিওগ্রাফি সেকশন খেয়াল করুন
তাছাড়া অতি সহজে রিসার্চ গ্যাপ বের করার টুলস যেমন ResearchRabbit, Citmaps, CiteSpace, Vosviewer ব্যবহার করে রিসার্চ গ্যাপ বের করতে পারবেন।
© দ্বীন সাঈদীন