09/09/2026
এইটা বাধনের উপরে হামলা করা মনিরুলের বাড়ি। লোকজন গেসিলো আজকে। এইটারে বাড়ি না বইল্যা ছাপড়া বলাই ভালো। মা আর বোন ঘরে তালা দিয়া পলাইসে। সে নিজে আদম বেপারীর হাত ধইর্যা কোনরকমে লিবিয়া হইয়া ইতালি পৌঁছাইসে, লেখাপড়া নাই, জানা গেসে কাগজপত্রও নাই।
আওয়ামী লীগ তারে না দিসে সচ্ছলতা, না দিসে দেশে একটা জীবিকা। তারপরও গুন্ডামিটা সে-ই করতেসে। ইতালি হয়তো তারে ডিপোর্ট করব, বাংলাদেশ সরকার ফিরায়া আনার চেষ্টা করতেসে, রক্ষা পাওয়ার রাস্তা তার নাই।
কিন্তু তার এই ডেস্পারেশনটা কীসের?
কাগজ নাই মানে বৈধ কাজ নাই, বৈধ কাজ নাই মানে হাতে টাকা নাই। এই অবস্থায় কেউ আইস্যা যদি বলে মিছিলে থাকলে দিব, হামলায় থাকলে দিব, তার জায়গায় আপনি দাঁড়াইলে আপনিও যাইতেন।
তবে টাকার চাইতে দামি জিনিসটা পরিচয়। দেশে সে কেউ না, ইতালিতে সে পুলিশ দেখলে হাওয়া হওয়া একটা লোক। দলের সাথে ভিড়লে একটা পদ জোটে, নেতার ফোন আসে, ছবিতে মুখ থাকে। জীবনে প্রথমবার কেউ তার নাম ধইর্যা ডাকে।
আগের দিন সজীব ওয়াজেদের সাথে ছবি তুলসে। এর চাইতে বড় কোন মানুষের কাছে সে জীবনে যাইতে পারে নাই। আওয়ামী লীগের আদর্শ কী জিগাইলে সে ফেইল করব, এইটা নিশ্চিত। কিন্তু ছবিটা তার ফোনে আছে। ওইটাই তার মোটিভেশন।
আর ফিরার রাস্তা তার বহু আগেই বন্ধ। আদম বেপারীর টাকা জোগাড় করতে ঘরের জিনিস বেচা হইসে, ধার হইসে, সেই ধার আজও শোধ হয় নাই। খালি হাতে দেশে ফিরা তার জন্য সামাজিক মৃত্যু। যার ফিরার রাস্তা বন্ধ, সে-ই সবচেয়ে সস্তা লোক।
তার উপরে একটা আশ্বাস আছে, বিপদে পড়লে দল দেখব, উকিল দিব, কাগজ করায়া দিব, হয়তো আশ্বাস পাইসে কাজ দিবো। এই আশ্বাসের কোন ভিত্তি আছে কিনা সে জানে না। যার পিছনে কিছু নাই সে এইটুকুই আঁকড়ায়া ধরে।
তার গরিব হওয়াটা আজাইড়া তথ্য না। ওইটাই তার যোগ্যতা।
যার ইতালিতে কাগজ আছে, চাকরি আছে, বউ আছে, বাচ্চা স্কুলে যায়, সে ক্যামেরার সামনে গিয়া কারো উপরে ঝাঁপায়া পড়ব না। ডিপোর্টের ঝুঁকি সে নিবে ক্যান। ঝুঁকিটা নেওয়ার লোক খুঁজতে গেলে ঠিক মনিরুলের মতো লোকই লাগে। যার হারানোর কিছু নাই, তারে কেনা সবচেয়ে সোজা। আওয়ামী লীগ তারে কিছু দেয় নাই বইল্যাই আজকে সে এই ডার্টি কাজে লাগতেসে। বেচারা এইটাও বুঝে নাই, দেশে চাঁদাবাজি গুন্ডামি আর ইউরোপে সংঘবদ্ধ হামলা এক জিনিস না।
ভিডিওতে যার মুখ আছে সে ডিপোর্ট হইব, জেল খাটব, দেশে ফিরা মামলার ঘানি টানব। পরিবার আদম বেপারীর কর্জ শোধ করতে গিয়া এই ছাপড়াটাও হয়তো বেইচ্যা দিব। কিন্তু যে টাকাটা দিসে তার মুখ কোন ভিডিওতে নাই, নাম কোন এজাহারে উঠব না। সে লন্ডনে, কলকাতায়, দুবাইয়ে বইস্যা পরের মনিরুল খুঁজতেসে। খুঁজলে পাওয়া যায়, ব্যর্থ আত্মপরিচয়হীন দরিদ্র মানুষের অভাব বাংলাদেশে কোনদিন হয় নাই।
দরিদ্র মানুষগুলা এইভাবেই কিছু দুর্বৃত্তের জ্বালানি হয়। জ্বালানি পুইড়্যা শেষ হয়, আগুনটা যে জ্বালাইসে সে আগুনের পাশেই হাত সেঁকে। প্যাথেটিক।