23/08/2026
ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটির ৫ম বার্ষিক চ্যারিটি ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর, রবিবার, রেডব্রিজ স্পোর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টে এবারও ২০০ জনের বেশি প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা। টুর্নামেন্ট থেকে সংগৃহীত অর্থ দৃষ্টি, শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধীসহ অন্যান্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।
শনিবার (২২ আগস্ট) পূর্ব লন্ডনের বারাকা ইটারি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট, প্রবীণ সাংবাদিক নবাব উদ্দিন স্বাগত বক্তব্য রাখেন। সাংবাদিক ও গল্পকার সায়েম চৌধুরী লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকসহ সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
এ সময় বক্তব্য রাখেন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রবীণ সাংবাদিক নাহাস পাশা, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও বাংলা পোস্ট সম্পাদক তারেক চৌধুরী, ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বারের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রফিক হায়দার, ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটির ট্রাস্টি বাবলুল হক, উপদেষ্টা মো. আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল, সাবেক কাউন্সিলর আতাউর রহমান, সাংবাদিক আহাদ চৌধুরী বাবু, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, টিভি সংবাদ পাঠক ডা. জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার, সাংবাদিক মাহবুব রহমান, রহমত আলী, মিসবা জামাল, মাহিদ চৌধুরী, হাবিবুর রহমানসহ অনেকে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং যুক্তরাজ্যের স্থানীয় কমিউনিটির সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে ২০২০ সালে ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন মানবিক, সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংগঠনটি দেশে-বিদেশে কাজ করে যাচ্ছে।
গত এক বছরে বাংলাদেশে সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর, সিলেট ও মৌলভীবাজারে পবিত্র রমজান উপলক্ষে শত শত পরিবারের মধ্যে ফুড প্যাক বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অসহায় মানুষকে সরাসরি আর্থিক সহায়তাসহ নানা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যেও বিভিন্ন দাতাসংস্থার অর্থায়নে যুবসমাজ ও কমিউনিটির উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীদের অগ্রগতি, শিল্প-সংস্কৃতি এবং সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইস্টহ্যান্ডস। এসব কার্যক্রমে ন্যাশনাল লটারি কমিউনিটি ফান্ড, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল, সিটি ব্রিজ ফাউন্ডেশন, গো-লন্ডন, বার্কলেস, ফয়েলস ফাউন্ডেশন, স্পোর্ট ইংল্যান্ড, গ্রাউন্ডওয়ার্ক ও বিবিসি চিলড্রেন ইন নিডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইস্টহ্যান্ডসের উদ্যোগে ৩০০ জনেরও বেশি স্থানীয় বাসিন্দাকে নিয়ে একটি ‘কার্বন রিডাকশন প্রজেক্ট’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনে পরিবেশ দূষণ কমানোর ব্যবহারিক পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা হয়। প্রকল্পটি পরিচালনা করেন কার্বন প্রজেক্ট লিড আহাদ চৌধুরী বাবু। প্রশিক্ষণ দেন ডা. জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার, আ.স.ম. মাসুম ও রুমানা রাখী। বর্তমানে পরিবেশ সচেতনতা বিষয়ক সেশন পরিচালনা করছেন সাংবাদিক সায়েম চৌধুরী।
এছাড়া লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতি শুক্রবার ‘বিবিসি চিলড্রেন ইন নিড আফটার স্কুল ক্লাব’ পরিচালিত হচ্ছে। রুপি আমিনের নেতৃত্বে একদল শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবক এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ‘লন্ডন স্পোর্টিফ’-এর সঙ্গে যৌথভাবে গত বছর ‘স্যাটারডে বয়েজ ইয়ুথ ফুটবল ক্লাব’ও পরিচালনা করা হয়।
ইস্টহ্যান্ডসের নিয়মিত কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নারীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, প্রবীণদের সুস্বাস্থ্য, শিশুদের বিনোদন এবং শিল্প-সংস্কৃতি বিষয়ক বিভিন্ন আয়োজন। ‘সত্যেন সেন পারফর্মিং স্কুল’-এর সহযোগিতায় শিল্প ও সাহিত্য বিষয়ক অনুষ্ঠানও পরিচালিত হচ্ছে। লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব ও আকিলা নূর ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে সামার ট্রিপসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের কথাও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।
সংগঠনটির অন্যতম জনপ্রিয় কার্যক্রম ‘উইমেনস ব্যাডমিন্টন’ ও ‘ইউথ বয়েজ ব্যাডমিন্টন’। প্রতি শনিবার লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমিতে এসব সেশন অনুষ্ঠিত হয়। শেলিনা, সোহান খান ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক এ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নিরাপদ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন স্পোর্টস হল ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ায় স্কুলের প্রিন্সিপাল আশিক আলীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
গত জুলাই মাসে নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে প্রায় ৭০টি মোবাইল ফোন বিনামূল্যে বিতরণ করেছে ইস্টহ্যান্ডস। সুবিধাভোগী নির্বাচন করেন আহাদ চৌধুরী বাবু, এ কে এম আবু তাহের চৌধুরী ও সায়েম চৌধুরী।
এছাড়া টাওয়ার হ্যামলেটসের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর মধ্যে ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, সোফা, কুকারসহ প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে ‘বিবিসি চিলড্রেন ইন নিড ইমার্জেন্সি এসেনশিয়ালস প্রজেক্ট’-এর আওতায়। প্রকল্পটির দায়িত্বে রয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর ও ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটির অ্যাম্বাসেডর রেবেকা সুলতানা।
ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে গত বছর ৫ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ
ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটির বার্ষিক ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট সংগঠনটির অন্যতম প্রধান অর্থ সংগ্রহের আয়োজন। গত বছর ২২০ জনেরও বেশি খেলোয়াড় এতে অংশ নেন এবং টুর্নামেন্টের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার পাউন্ড তহবিল সংগ্রহ করা হয়।
এ আয়োজন সফল করতে সহযোগিতার জন্য ব্যাডমিন্টন প্রজেক্ট ইন-চার্জ সাবেক কাউন্সিলর আতা রহমান, ট্রাস্টি বাবলুল হক, উপদেষ্টা জাহেদী ক্যারল, হাবিব রহমান, ফকরুল ইসলাম, মাহিদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
এবারের টুর্নামেন্ট থেকে সংগৃহীত অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য স্থায়ী সেন্টার গড়ার স্বপ্ন
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটি অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন মূলধারার ফান্ডিং সংস্থার আস্থা অর্জন করেছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য একটি স্থায়ী প্রজেক্ট বা সেন্টার গড়ে তোলা সংগঠনটির দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন। সেখানে শিশুদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা, থেরাপি ও সঠিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
এর পাশাপাশি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক একটি বড় ‘হেরিটেজ প্রজেক্ট’ নিয়েও কাজ চলছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে।
স্পন্সরদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
এবারের টুর্নামেন্টে সহযোগিতার জন্য স্পন্সরদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। স্পন্সরদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাম্পলের আব্দুল হালিম, কারপ্ল্যানেটের তফজ্জুল মিয়া, হ্যালো পয়সা, বাংলা টাউন ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারির রফিক হায়দার, সেন্সমেডিকেলের আব্দুল জাহাঙ্গীর, ইয়াম ইয়াম থাই রেস্টুরেন্টের আতিক চৌধুরী, ইয়াকি ইয়া জাপানিজ রেস্টুরেন্টের কামরুল হুদা আজাদ, ট্রাভেললিঙ্কের সামি ছানাউল্লাহ, বি এ এক্সচেঞ্জের শের মাহমুদ ও আব্দুর রহিম, মাহি অ্যান্ড কো-এর আবু তাহের এমবিই, দ্য মিটারি রেস্টুরেন্টের মো. দেলোয়ার হোসেন, কিংডম সলিসিটরের ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী এবং বারাকা ইটারি রেস্টুরেন্টের ইসলাম উদ্দিন।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিক, কমিউনিটি সংগঠন, ব্যবসায়ী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ধারাবাহিক সহযোগিতা ও সমর্থন ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটির কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করেছে। এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটি ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির গৌরবের প্রতীক হয়ে দেশে-বিদেশে অসহায় ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে।