17/04/2026
যেকারণে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হককে 'মগজ' বলে ডাকেন শিক্ষামন্ত্রী?
বুধবার কয়েক ঘন্টার ঝটিকা সফরে সিলেটে এসেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। সকালে সিলেটে এসে একটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি।
এতে সিলেটের শিক্ষা খাতসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন মিলন। বিএনপির আগের মেয়াদে নিজের প্রতিমন্ত্রী থাকার কথাও স্মরণ করেন মিলন। স্মৃতিচারণ করেন সেইসময়কার অর্থমন্ত্রী প্রয়াত এম. সাইফুর রহমানেকে। প্রবাসীকল্যান মন্ত্রী আরিফুল হকের প্রসঙ্গও আসে শিক্ষা ন্ত্রীর বক্তব্যে। একটি ঘটনার পর থেকে আরিফুল হককে ‘মগজ’ বলে ডাকেন বলেও জানান মিলন।
বুধবার সকালে সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস অডিটরিয়ামে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ড, অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবসহ শিক্ষা সংশ্লিস্টরেদর সাথে মিবিনিময় সভা করেন শিক্ষামন্ত্রী। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রবাসীকল্যান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, জনাব সাইফুর রহমান এই বিভাগ গড়ার কারিগর ছিলেন। আমি শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি তাকে। আরিফুল হক চৌধুরী তখন ছিলেন পৌরসভার (আদতে সিটি করপোরেশনের) কাউন্সিলর। তিনি (আরিফ) আমাকে বলেছিলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি চলাতে হয় তা্হলে উনার (সাইফুর রহমানের) কথা শুনতে হবে’। আমি প্রথমে উনার কথা বুঝতে পারিনি। আপনারা তো সকলেই জানেন, সাইফুর রহমানের খুব ঘনিষ্ট লোক ছিলেন উনি (আরিফুল হক)।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উনি বললেন, ‘আপনি আমার কথা শুনেন, মন্ত্রণালয় ভালোভাবে চলবে। আপনি আপনার চিফ ইঞ্জিনিয়ার পাঠিয়ে দিবেন’। আমি পাঠিয়ে দিলাম। তারপর তিনি চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কি কি করলেন জানি না। কিছুদিন পর একদিন আমাকে ফোন দিয়ে বললো, ‘আপনি সাইফুর রহমানের সাথে কাল সকালের ফ্লাইটে সিলেটে চলে আসবেন’।
আরিফের কথামতো সিলেট চলে আসেন জানিয়ে এহসানুল হক মিলন বলেন, সার্কিট হাউসে আমরা উঠলাম। এরপর সাড়ে ১০ টার দিকে আরিফ এসে বলল, ‘এবার উঠেন’। আমরা দুজন সাইফুর রহমানের রুমে গেলাম। তিনি তখন বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। লুঙ্গি পড়া।
‘‘আরিফ বললেন, ‘স্যার, মিলন ভাই একটু এমসি কলেজে যাবেন। আপনি যদি একটু উনার সঙ্গে যেতেন। আপনার পুরনো কলেজটি একটু দেখতেন। আপনারও ভালো লাগবে’।’’
সাইফুর রহমান তখন একটু অসুস্থ ছিলেন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তবু উনি আমার সঙ্গে যেতে রাজী হলেন। যাওয়ার পর উনার নামে উদ্বোধন করা হলো প্রশাসনিক ভবন। সেইসময়ের ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে। সাইফুর রহমান ওখানে গিয়ে বললেন, ‘আমি তিনবার অর্থমন্ত্রী হয়ে গেলাম। কিন্তু কেউ আমাকে আমার কলেজে কখনো নিয়ে আসেনি। যেখানে আমার স্মৃতি’।
‘এরপর তিনি হলগুলো ঘুরে দেখলেন। উনার চোখ অনেকটা অশ্রুসিক্ত হয়ে গেলো।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তারপর একে একে অনেকগুলো, এমন কিছু নাই, সিলেটে করি নি। দূররে সামাদ অডিটরিয়াম থেকে শুরু করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, অনেকগুলো, আপনারা সব জানেন। একে একে আমরা ভিত্তিপ্রস্থর করতে লাগলাম’।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এরপর সাইফুর রহমান সাহেব আমাকে বললেন, ‘এই তোমার কোথায় কোন টাকা আটকে আছে বলো। এগুলো ছেড়ে দেই’। এরপর থেকে আমার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চাকা ঘুরতে শুরু করলো। টাকার আর কোন অভাব থাকলো না। এবার বুঝতে পেরেছেন তো চালাকিটা। সেই থেকে তাকে (আরিফুল হককে) আমি মগজ বলে ডাকি।