30/12/2022
আজ গণমিছিল বিএনপির
বাঁধ ভাঙবে জনতার ঢেউ
———
আমিরুল ইসলাম কাগজী
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এবং অবৈধ সরকারের পদত্যাগ দাবিসহ ১০ দফা আদায়ের লক্ষে শুক্রবার ঢাকায় বিএনপির গণমিছিল। বিকেল তিনটায় দলের কেন্দ্রিয় কার্যালয় নয়াপল্টন থেকে মিছিল শুরু হবে। গণমিছিলকে গণমানুষের উৎসবে রূপ দিতে ছাত্রদল, যুবদল, মহিলাদল, কৃষকদল, শ্রমিকদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ নানা শ্রেণি-পেশার নেতাকর্মীরা যোগ দেবেন এই কর্মসুচিতে।
ঢাকার এই গণমিছিল কর্মসু্চির প্রধান সমন্বয়কারী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলছিলেন, মিছিল যাতে শান্তিপূর্ণ হয়, বর্ণাঢ্য হয়, সুশৃঙ্খল হয় সে ব্যাপারে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রতিনিয়ত টেলিফোনে, স্কাইপে নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। তিনি জানেন, এই গণমিছিল যাতে শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন হতে না পারে সেজন্য আওয়ামীলীগের পেটোয়া বাহিনি তৎপর থাকবে। ইতোপূর্বে ১০ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশ বানচাল করার জন্য নানা নাটক সাজিয়েছিল তারা। শত উস্কানির মুখেও সেই মহাসমাবেশ সফল হয়েছিল তারেক রহমানের দক্ষ -প্রাজ্ঞ দিকনির্দেশনায়।
তারও আগে সাবেক তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে ঢাকা-রাঙামাটি লংমার্চ, ১৯৯৯ সালে ঢাকা-দিনাজপুর লংমার্চ এবং তারও আগে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকার নয়াবাজার টু গাবতলী গণমিছিল রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তন এনে দিয়েছিলো।
কিন্তু এই শান্তিপূর্ণ গণমিছিল কিংবা লংমার্চ খুবই অপছন্দ আওয়ামীলীগের। তারা সবকিছুর মধ্যে জঙ্গীবাদের ভুত দেখতে পায়। তারা এমন রাজনৈতিক কর্মসুচির গায়ে জঙ্গীবাদের তকমা লাগাতে মরিয়া। তাইতো আজকের গণমিছিলের সময় ঢাকার রাজপথে সোচ্চার থাকবে যুবলীগ,এমনটাই ঘোষণা দিয়েছে দলটির চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যুবলীগ যত দিন মাঠে আছি, আপনারা (বিএনপি) জনগণকে টাচ করে দেখান। আমরা আপনাদের দাঁতভাঙা জবাব দেব।’
একই ভাষ্য সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খানেরও। তিনিও বলেছেন, ‘ জুমার নামাজ আদায়ের পর রাজধানীর রাজপথ থাকবে যুবলীগের দখলে। এই রাজপথে জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক বিএনপি-জামায়াতকে নামতে দেব না। আমরা দেখেছি, তাদের সমাবেশ মানেই হচ্ছে সন্ত্রাস। তাদের সমাবেশ মানেই হচ্ছে জঙ্গি হামলা। তাদের সমাবেশ মানে হচ্ছে গ্রেনেড হামলা।’
যুবলীগের এটা কোনো কথার কথা নয়। তারা এটা কাজে প্রমাণ করে দেখায়। এর আগে তারা বলেছিল ১০ ডিসেম্বর ঢাকার মোড়ে মোড়ে যুবলীগ পাহারা দেবে। তারা ১০ ডিসেম্বর রাজপথে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়েছিলো। কিন্তু বিএনপির মহাসমাবেশ পণ্ড করতে পারে নাই। কারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আওয়ামীলীগের সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছিল। তারও আগে সরকার পুলিশ দিয়ে বিএনপির ৯টি বিভাগীয় সমাবেশ পণ্ড করার প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু সরকার যত বাধা দিয়েছে জনগণ ততই পাহাড় ঠেলে প্রতিটি সমাবেশ একদিনের পরিবর্তে তিনদিনের উৎসবে রূপ দিয়েছে।
গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গণসমাবেশ থেকে অবৈধ সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাস্তবায়ন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, দেশনায়ক তারেক রহমানের বীরের বেশে দেশে ফিরিয়ে আনা, নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ, সীমাহীন দুর্নীতি-লুটপাটের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার লক্ষে ২৪ ডিসেম্বর দেশের ৬৪ জেলায় গণমিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই দিন আওয়ামীলীগের জাতীয় সম্মেলন থাকায় ঢাকায় বিএনপির গণমিছিল স্থগিত রাখা হয়। সেই গণমিছিল আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিএনপি সেদিন আওয়ামীলীগের জাতীয় সম্মেলনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে গণমিছিল স্থগিত করে রাজনৈতিক শিষ্টাচার দেখালো। আর আজ যুবলীগ লাঠিসোঁটা নিয়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়ে একটি ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করলো।
সর্বশেষ ঢাকার মহাসমাবেশ ঠেকাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারি শিমুল বিশ্বাস, যুবদল সভাপতি সুলতান সালাহ উদ্দীন টুকুসহ দুই হাজারের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দলের এমন শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করেও বিএনপির আন্দোলন সংগ্রাম দমন করা যায় নাই, ভবিষ্যতেও যাবে না বলে মত প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।