21/04/2026
ঢাকার এক পুরোনো গলিতে থাকত রাফি। ছোট্ট একটা ঘর, টিনের ছাদ, বৃষ্টি নামলেই টুপটাপ শব্দ—এই ছিল তার পৃথিবী। কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল বিশাল—সে একদিন নিজের দেশ Bangladesh-এর জন্য কিছু করবে।
রাফির বাবা ছিলেন রিকশাচালক। প্রতিদিন ভোরে বের হতেন, রাত করে ফিরতেন। মা বাসায় সেলাই করতেন। সংসার চলত কষ্টে, কিন্তু ভালোবাসায় কোনো ঘাটতি ছিল না। তবুও একটাই কথা প্রায়ই শুনতে হতো—
“আমাদের মতো মানুষের বড় স্বপ্ন দেখতে নেই।”
একদিন স্কুলে শিক্ষক Abdul Karim Sir ক্লাসে বললেন, “তোমরা জানো, এই দেশের ইতিহাস শুধু কষ্টের নয়, সাহসেরও? Bangladesh Liberation War-এর সময় সাধারণ মানুষই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল।”
এই কথাটা রাফির মনে গেঁথে গেল।
সেই দিন থেকেই সে বদলে গেল।
বাতি না থাকলে রাস্তার লাইটে দাঁড়িয়ে পড়ত, বই কিনতে না পারলে পুরোনো বই ধার নিত। বন্ধুরা খেলতে ডাকলে সে বলত, “একদিন খেলব, কিন্তু আজ না।”
অনেকে হাসত, কেউ বলত পাগল।
কিন্তু রাফি জানত—স্বপ্ন না দেখলে বাস্তবও বদলায় না।
এক রাতে প্রচণ্ড ঝড় উঠল। টিনের ছাদ উড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। ঘরের এক কোণে বসে মা বললেন, “রাফি, পড়াশোনা এত কষ্ট করে করছিস কেন?”
রাফি চুপ করে ছিল কিছুক্ষণ। তারপর ধীরে বলল,
“আমি চাই, একদিন তুমি আর বাবা যেন কষ্ট না পাও… আর এই দেশটার জন্য কিছু করতে চাই।”
মা কিছু বললেন না, শুধু চোখ মুছলেন।
বছর কেটে গেল।
অসংখ্য ব্যর্থতা, পরীক্ষায় খারাপ ফল, অর্থের অভাব—সবকিছু তাকে থামাতে পারেনি। সে বারবার পড়ে গিয়ে আবার উঠেছে।
একদিন সেই রাফিই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলো। পুরো এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ল। যারা একসময় বলত “পারবি না”, তারাই এখন বলছে “আমাদের ছেলেটা পেরেছে!”
কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে রাফি বুঝল—শুধু নিজের জন্য নয়, দেশের জন্য কাজ করতে হবে। সে গ্রামে গিয়ে ছোট ছোট শিশুদের পড়ানো শুরু করল। বলত,
“তোমরা গরিব না, তোমরা সম্ভাবনাময়।”
একদিন এক ছোট ছেলে তাকে জিজ্ঞেস করল, “ভাইয়া, আমি কি তোমার মতো হতে পারব?”
রাফি হেসে বলল,
“না… তুমি আমার চেয়েও বড় কিছু হবে।”
বছর কয়েক পর, রাফি একটি সামাজিক উদ্যোগ শুরু করল—যেখানে দরিদ্র শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে সেই উদ্যোগ বড় হতে লাগল।
একদিন এক অনুষ্ঠানে তাকে জিজ্ঞেস করা হলো,
“আপনার সাফল্যের রহস্য কী?”
রাফি একটু হেসে বলল,
“আমি কোনোদিন বড় কিছু করতে চাইনি। আমি শুধু ছোট ছোট হাল না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।”
তার গল্প শুনে অনেকেই চোখের জল লুকাতে পারেনি।
কারণ এই গল্প শুধু রাফির না—
এই গল্প সেই প্রতিটা মানুষের, যারা অন্ধকারেও আলো খোঁজে,
যারা কষ্টের মাঝেও স্বপ্ন দেখে,
আর যারা বিশ্বাস করে—
“আমি পারব, কারণ আমি হাল ছাড়িনি।”
তুমি হয়তো এখন কষ্টে আছো, হয়তো কেউ বিশ্বাস করছে না,
কিন্তু মনে রেখো—
এই Bangladesh-এর মাটিতে হাজারো রাফি জন্ম নেয়,
আর একদিন তারাই ইতিহাস লেখে।
তাই আজ একটা সিদ্ধান্ত নাও—
হাল ছাড়বে না।
কারণ তোমার গল্পও একদিন কারো জন্য অনুপ্রেরণা হবে।
আমিন
যুক্তরাজ্য