13/07/2026
UK Service Supplier Visa: বাস্তবতা জানুন, প্রতারণা থেকে নিজেকে বাঁচান
গত কিছুদিন ধরে বাংলাদেশে UK Service Supplier Visa নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন, ফোন কল, এমনকি কিছু এজেন্ট ও তথাকথিত ইমিগ্রেশন সলিসিটর এমনভাবে এই ভিসার প্রচার করছেন, যেন এটি একটি নতুন “সহজ” ওয়ার্ক ভিসা। অনেককে বলা হচ্ছে, “স্পনসর আছে”, “ফাইল ওপেন করুন”, “নিশ্চিত ভিসা হবে”, “দ্রুত UK যেতে পারবেন”।
আপনি যদি এমন কোনো কথা শুনে থাকেন, তাহলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই জেনে নিন।
প্রথমেই বুঝতে হবে, Service Supplier Visa কোনো সাধারণ চাকরির ভিসা নয়। এটি Global Business Mobility রুটের একটি ভিসা, যা মূলত বিদেশে কর্মরত বা বিদেশভিত্তিক স্বনিযুক্ত (self-employed) পেশাজীবীদের জন্য, যারা যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির (International Trade Agreement) আওতায় নির্দিষ্ট একটি সেবা প্রদান করতে যান।
এই ভিসার জন্য সাধারণভাবে যা যা প্রয়োজন:
• আপনি বিদেশে অবস্থিত একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হতে হবে, অথবা বিদেশভিত্তিক self-employed professional হতে হবে।
• যুক্তরাজ্যের একটি Home Office অনুমোদিত Sponsor থেকে Certificate of Sponsorship (CoS) থাকতে হবে।
• আপনার কাজটি যুক্তরাজ্যের একটি বৈধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় থাকতে হবে। সব ধরনের চাকরি বা ব্যবসা এই ক্যাটাগরিতে পড়ে না।
• সাধারণভাবে, বিদেশে আপনার বর্তমান প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ১২ মাস কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। Self-employed হলে সংশ্লিষ্ট খাতে অন্তত ১২ মাসের পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
• অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ডিগ্রি, পেশাগত যোগ্যতা অথবা অভিজ্ঞতার প্রমাণও দিতে হয়, যা পেশাভেদে ভিন্ন হতে পারে।
আরেকটি বিষয় অনেকেই বলেন না…
এই ভিসা Permanent Residence (Settlement/Indefinite Leave to Remain) পাওয়ার সরাসরি পথ নয়। এছাড়া এই ভিসায় সাধারণভাবে অন্য চাকরি করা যায় না, এবং ভিসায় উল্লেখিত স্পনসরের জন্য নির্ধারিত কাজই করতে হয়।
তাহলে প্রতারণা কোথায় হচ্ছে?
অনেক মানুষকে বলা হচ্ছে,
“এই ভিসা সবার জন্য।”
“স্পনসর আমরা ব্যবস্থা করে দেব।”
“যোগ্যতা না থাকলেও সমস্যা নেই।”
“শুধু টাকা দিন, বাকিটা আমরা দেখব।”
বাস্তবে, কোনো এজেন্ট বা সলিসিটর আপনাকে ভিসার গ্যারান্টি দিতে পারে না। যুক্তরাজ্যের ভিসার সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র UK Visas and Immigration (UKVI) নির্ধারিত আইন, যোগ্যতা এবং জমা দেওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে নিয়ে থাকে।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক মানুষ জীবনের সঞ্চয় খরচ করে পরে জানতে পারেন যে তারা শুরু থেকেই এই ভিসার জন্য যোগ্য ছিলেন না।
তাই অনুরোধ থাকবে,
কোনো টাকা দেওয়ার আগে প্রশ্ন করুন।
আপনার পেশা কি এই ভিসার আওতায় পড়ে?
আপনার কাজ কি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায়?
আপনার Sponsor কি Home Office-approved?
আপনার কাছে কি বৈধ Certificate of Sponsorship থাকবে?
যদি এসব প্রশ্নের পরিষ্কার ও প্রমাণভিত্তিক উত্তর না পান, তাহলে সতর্ক থাকুন।
সবসময় যুক্তরাজ্য সরকারের অফিসিয়াল গাইডলাইন পড়ুন এবং তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন। একটি ভুল সিদ্ধান্ত আপনার কষ্টার্জিত অর্থ, সময় এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সবকিছুর ক্ষতি করতে পারে।
সচেতন হোন, অন্যদেরও সচেতন করুন। একটি শেয়ার হয়তো আরেকটি পরিবারকে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।
#সচেতনহোন
#ভিসাপ্রতারণাথেকেসাবধান
#সঠিকতথ্যজানুন
#প্রতারকদেরথেকেসাবধান