12/09/2025
"তিনি মানব জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান"
রসুলে করিম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবসময়ই বিশুদ্ধ ভাষায় কথা বলতেন। অসঙ্কোচ অনাড়ষ্ট, দ্ব্যর্থবোধক ও অর্থপূর্ণ কথা বলতেন। তাঁর দুর্লভ একটি বৈশিষ্ট ছিলো, তিনি আরবের সকল ভাষার জ্ঞান লাভ করেছিলেন। এ কারণেই তিনি যে কোনো গোত্রের সাথে সেই গোত্রের ভাষা এবং পরিভাষায় কথা বলতে পারতেন। বেদুঈনদের ভাষার মতো শহরের নাগরিক জীবনের বিশুদ্ধ ভাষাও ছিলো তাঁর আয়ত্বাধীন। উপরন্তু ছিলো তাঁর ওপর ওহীভিত্তিক আল্লাহর সাহায্য।
সহিষ্ণুতা, ধৈর্য ও ক্ষমাশীলতার গুণবৈশিষ্ট তাঁর মধ্যে পুরোপুরিই বিদ্যমান ছিলো। এর সবই ছিলো আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে পাওয়া। দুনিয়ার সকল ধৈর্য্যশীল ও সহিষ্ণু মানুষের মধ্যে কোনো না কোনো ত্রুটি দেখা যায়, কিন্তু নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ছিলেন সম্পূর্ণ এর ব্যতিক্রম। তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট এমন উন্নত ও সুন্দর ছিলো যে, তাঁর বিরুদ্ধে শত্রুদের উদ্যোগ আয়োজন তৎপরতা সবসময়ই ব্যর্থ হয়ে যেতো।
হযরত আয়েশা রা. বলেন, প্রিয়নবীকে দু'টি কার্জের মধ্যে একটি বেছে নিতে বলা হলে তিনি সব সময় সহজ কাজটিই বেছে নিতেন। পাপের সাথে সম্পৃক্ত কাজ থেকে তিনি দূরে থাকতেন। তিনি কখনো নিজের জন্যে কারো কাছ থেকে কোনো প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি, তবে আল্লাহ তায়ালার সম্মান ক্ষুণ্ণ করা হলে তিনি শুধু আল্লাহর জন্যেই প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন।
তাঁর দানশীলতা ও দয়াশীলতা পরিমাপ করা ছিলো অসম্ভব। দারিদ্রের আশঙ্কা থেকে মুক্ত হয়ে তিনি দান খয়রাত করতেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ছিলেন সবার চেয়ে বেশী দানশীল। রমযান মাসে তাঁর সাথে হযরত জিবরাঈল আ. এর সাক্ষাতের সময় তাঁর দানশীলতা অধিক বেড়ে যেতো। রমযান মাসের প্রতি রাতে হযরত জিবরাঈল আ. তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁকে কোরআন তেলাওয়াত করে শোনাতেন। তিনি ছিলেন কল্যাণ ও দানশীলতায় পরিপূর্ণ। হযরত জাবের রা. বলেন, কখনোই এমন হয়নি যে, কেউ তাঁর কাছে কিছু চেয়েছে অথচ তিনি তা প্রদানে অসম্মতি জানিয়েছেন।
(১ম পর্ব)
(পবিত্র রবিউল আউয়াল উপলক্ষে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে ইনশাআল্লাহ)
আল কোরআন একাডেমী লন্ডনের প্রকাশিত সিরাতুন্নবী এ্যালবাম থেকে
গ্রন্থনায় হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ