12/05/2026
দলীয় দাসত্ব থেকে মুক্ত হোক সাংবাদিকতাঃ-
গণতন্ত্রের একটি মৌলিক ভিত্তি হলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম। রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা, জনগণের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা এবং সত্য উদঘাটন করা—এসবই সাংবাদিকতার প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বাংলাদেশের একটি বড় অংশের গণমাধ্যম রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রেই সাংবাদিকতা পেশা পরিণত হয় দলীয় আনুগত্য প্রদর্শনের একটি মাধ্যম হিসেবে।
এটি শুধু ব্যক্তিগত দুর্বলতা নয়; বরং একটি কাঠামোগত সমস্যা। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য গণমাধ্যমকে ব্যবহার করতে চায়, আর অনেক সাংবাদিক নিরাপত্তা, সুবিধা বা ক্যারিয়ারের স্বার্থে সেই প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করেন। ফলে সত্যের পরিবর্তে প্রচারিত হয় পক্ষপাতদুষ্ট তথ্য, আর জনস্বার্থের বদলে গুরুত্ব পায় দলীয় স্বার্থ।
অন্যদিকে, বিশ্বের অনেক উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে আমরা ভিন্ন চিত্র দেখি। সেখানে ক্ষমতাধর রাজনীতিবিদরা সাংবাদিকদের কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হন, সংবাদ সম্মেলনে জবাব দিতে বাধ্য হন, এবং তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ গণমাধ্যমের কঠোর নজরদারির মধ্যে থাকে। এই জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, কারণ ক্ষমতা সেখানে প্রশ্নাতীত নয়।
বাংলাদেশে এই সংস্কৃতি এখনও গড়ে ওঠেনি । এখানে অনেক সময় দেখা যায়, ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করা তো দূরের কথা, বরং তাদের পক্ষেই অবস্থান নেয় কিছু গণমাধ্যম। এতে করে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয়।
গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে শুধু রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছা নয়, বরং গণমাধ্যমের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। সাংবাদিকতা যদি দলীয় দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে জনস্বার্থের পক্ষে দাঁড়াতে পারে, তবেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র তার কাঙ্ক্ষিত পথে এগোতে পারবে।
অতএব, প্রশ্নটা শুধু সাংবাদিকদের নয়—এটি পুরো রাষ্ট্র ও সমাজের। আমরা কি সত্যিই একটি জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চাই? যদি চাই, তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সততা নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।