13/08/2026
নীলফামারীর শান্ত সবুজ মাঠ আর তিস্তা নদীর তীরের মানুষরা একসময় শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করত। কিন্তু সেই শান্তি স্থায়ী হয়নি, প্রায় দুই দশক ধরে ভাঙচুরের শিকার হয় আওয়ামী লীগের ‘কসাই’ খ্যাত সংসদ সদস্য (এমপি) আসাদুজ্জামান নূরের সময়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৯৯৬ সাল থেকে জেলা রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেতা অসহিষ্ণু ও প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির মাধ্যমে পুরো এলাকাকে অস্থির করে তুলেছিলেন।
নীলফামারী-২ (সদর) আসনের এমপি হিসেবে ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তার সময়কালকে স্থানীয়রা বলেন, ‘ভয়ঙ্কর যুগ’। শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, সাধারণ মানুষও তখন রাতের আঁধারে নিজের বাড়িতে নিরাপদে ঘুমাতে পারত না। এমনকি কয়েকটি মসজিদে নামাজও বন্ধ হয়ে যায়।
২০০৬ সালে জেলা আওয়ামী লীগের ‘লগি-বৈঠা’ তাণ্ডব শুরু হয় জলঢাকার পূর্ব বালাগ্রামে। সেখানে সাদের হোসেন নামে এক জামায়াত কর্মীকে হত্যা করা হয়। এরপর শুরু হয় পুলিশি অভিযান। জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার হন, সাধারণ মানুষও নির্যাতনের শিকার হন। সাড়ে ১৫ বছরে জামায়াত নেতাকর্মীদের নামে ১৩২টি মামলা হয়, আসামি ৪০ হাজারের বেশি। বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা ৪৮টি, আসামি ৫ হাজারের বেশি। জেলা ও উপজেলা কার্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যায়, অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বরে নীলফামারীর সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিশাল গাড়িবহর নিয়ে মহড়া দেন তৎকালীন এমপি আসাদুজ্জামান নূর। বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের বাড়ি অতিক্রম করার সময় পরিকল্পিতভাতে করা হয় হামলা। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে শুরু হয় সংঘর্ষ।