Directions

Agog Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Agog, Digital creator, london, London.

08/08/2026

আপনার লাইফের সবচেয়ে ভয়াবহ মুহূর্তটা কী জানেন?
আপনার বা আপনার মায়ের মৃত্যু না।
আপনার সন্তানের যখন কিডনি ফেইল করে অথবা তার যখন ক্যান্সার ধরা পড়ে - সেটা আপনার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ মুহূর্ত, অসহায় মূহুর্ত। কারণ লাশ শুধু নিজে মরে। রোগী সবাইকে নিয়ে মরে।

আপনি একজন সাধারণ বাঙলাদেশি হইলে, ফ্যামিলির কারও আকস্মিক রোগে এক নিমিষে রাস্তার ফকির হয়ে যাবেন। বাইকটা কি জমিটা কি রিকশাটা বিক্রি করে দিতে হবে। FDR ভাঙতে হবে। বাড়ি বিক্রি করে নিঃস্ব হইতে হবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের করিডোর হইলো পৃথিবীর বুকে একটা দোযখ। বাঙলাদেশে এর চাইতে কোন অশুভ স্থান হইতে পারে না। দুঃখের জন্য না, অসহায়ত্বের জন্য। এই দেশের মানুষ ঢামেকের করিডোরে দাঁড়ায়া যত চোখের পানি ফেলসে, যে হেল্পলেস, গডলেস ফিল করসে - আর কিছুতে সে এমন অসহায় ফিল করে নাই।

ঢাকা মেডিকেলের ডাক্তারেরা কসাই না। তারা সিড়ির কোনায় তোষক ফালায়া হইলেও আপনাকে চিকিৎসাটা দিতে চাইবে। বাঙলাদেশে আর যেভাবেই মরেন, আপনি বিনা চিকিৎসায় মরবেন না। রাষ্ট্র আপনাকে ফ্রিতে চিকিৎসা দিবে। আপনি মরবেন শুধু ইঞ্জেকশনের আর ওষুধের দাম দিতে গিয়ে।

আপনার সন্তান কি মায়ের ক্যান্সার হইলে টাকাটা কেমোথেরাপি, যাতায়াত বা ডাক্তারের ফিতে খরচ হয় না। মূলত ওষুধের দাম দিতে গিয়েই ফ্যামিলিগুলো সর্বসান্ত হয়। এই দেশের মানুষের সবচাইতে অসহায় মুহূর্তগুলার সাথে ওষুধ কোম্পানির একটা প্যারাডক্সিকাল সম্পর্ক আছে।

আপনি নিশ্চয়ই দেখেছেন এই শহরের মসজিদের বাইরে একজন বুড়ি মা হাতে ইনহেলার নিয়ে বসে থাকে? পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত শহরের বুড়ি মার আসলে ইনহেলার নিয়েই বসে থাকার কথা।

খাবার বা ঘর ভাড়া না। নিঃশ্বাস নিতে চাওয়ার প্রাইমাল আঁকুতি নিয়া সে আপনার কাছে হাত পাতে। ৩-৪-৫ দিন ভিক্ষা করার পর তার ৮০০ টাকা জমে। এই টাকাটা দিয়ে সে এক মাসের জন্য একটা ইনহেলার কিনে। এটা না থাকলে সে শ্বাস নিতে পারে না।

বাঙলাদেশে বেক্সিমকো, একমি, অ্যারিস্টোফার্মারা বছরে টোটাল ৯০ লক্ষ+ ইউনিট ইনহেলার বিক্রি করে। উৎপাদন থেকে শুরু করে খুচরা বাজারে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত পার-ইউনিট ইনহেলারে সে খরচ করে ৩৩০ টাকা। আর বিক্রি করে ৮০০ টাকা। মোট ৪৭০ টাকা লাভ।

এই লাভটা বেআইনী না। সরকারের সকল আইন মেনেই সে দ্বিগুণের বেশি প্রফিট করে। ইনহেলার বা সাপোসিটার আলু পটল বেগুন না যে আপনি দাম অনুমান করবেন, তাকে নায্য বা অনায্য ট্যাগ দিবেন।

হার্টের রিং বানাইতে আসলে কী টেকনোলজি লাগে আর কত খরচ হয় আমরা জানি না। সরকারও দাম নির্ধারণ করে না। আর সেই সুযোগটাই নেয় ব্যবসায়ীরা।

এগেইন, হার্টের রিং বা সাপোসিটার আলু পটল না যে আপনি এটাকে ফ্রি মার্কেট ইকোনমি মনে করবেন। এই ব্যবসায় ঢুকার ব্যারিয়ার অনেক হাই। আপনার হাজার হাজার কোটি টাকা লাগবে। আবার টাকা থাকলেই শুধু হবে না। টেকনিকাল ক্ষমতা থাকতে হবে। আপনার পলিটিকাল ক্ষমতা থাকতে হবে। সারা দেশে ওষুধ সাপ্লাই চেইন মেইন্টেইন করার মতো লাঠিয়াল বাহিনী থাকতে হবে, এজেন্ট থাকতে হবে, অনুগত ডাক্তার শ্রেণি থাকতে হবে।

ওষুধ ব্যবসায় ঢোকা এই দেশের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটা। আর এই কারণেই এটা ফ্রি মার্কেট ইকোনমি না। কম্পিটিশন নেই। সবাই মিলে যোগসাজেশ করে ৩৩০ টাকার ওষুধ ৭৫০ টাকায় বিক্রি করে। এই দৈত্যাকার লভ্যাংশের ভাগ সকলে পায়। ডাক্তারদের বিদেশ ট্রিপ, প্রতি সপ্তাহে তাদের গিফট, ডিনার সেট, ব্লেন্ডার, কফি মেকার, হাজার হাজার ড্রাগ রিপ্রেসেন্টিভের বেতন, মুদি দোকানের চাইতে অতি-লাভদায়ক জাঁকজমকপূর্ণ বেকারির মতো দেখতে কম্পাউন্ডার ব্যবসা - এই সব কিছুর খরচ আসে এই দৈত্যাকার প্রফিট মার্জিন থেকে। যেটা মূলত আপনার, আমার আর ঐ ভিক্ষুক বুড়ির পকেট থেকে যায়।

আর একটা সিঙ্গেল প্রশ্নের সম্মুখীনও হতে হয় না ওষুধ ব্যবসায়ীদের। গ্যাসের দাম বাড়লে আপনি তারেক রহমানের মাথা খাবেন, আলুর দাম বাড়লে খাতুনগঞ্জের পাইকারদের জরিমানা করবেন। কিন্তু ওষুধ মালিক সমিতি একটা গোপন মিটিং ডেকে, রাতারাতি ইসোমিপ্রাজলের দাম ২ টাকা বাড়ালে আপনার কিচ্ছু করার নেই। একটা মানববন্ধন পর্যন্ত না। কারণ সে যা করেছে সেটা বৈধ। আর সে যা করেছে তার টেকনিকাল নলেজ আপনার নাই।

১৯৯৪ সালে জাফরুল্লাহ চৌধুরীরা ৭৫০টা ওষুধকে অত্যাবশকীয় ঘোষণা করে দাম নির্ধারণ করে দেন। কিন্তু তালিকা টিকতে পারে নাই। ওষুধ সমিতির চাপে সেটা নেমে আসে ১১৭তে।

সেই ১১৭ কে বাইপাস করার জন্যও আয়োজনের শেষ নেই। যেমন নাপার দাম সরকার নির্ধারণ করেছে ১.২০ টাকা। বেক্সিমকো তখন ৫০০ মি.গ্রা. নাপার মধ্যে ৬৫ মি.গ্রা. ক্যাফেইন দিলো। মানে চা-কফির ক্যাফেইন আরকি। দিয়ে বললো, আজ থেকে এর নাম Napa Extra। দাম ২.৫০ টাকা। দ্বিগুণের বেশি লাভ।

সরকার ১১৭ তালিকায় রিবোফ্লাভিনের দাম ঠিক করলো ৩০ পয়সা। স্কয়ার তখন রিবোফ্লাভিনের মধ্যে থায়ামিন দিলো। দাম করলো ১.৭৫ পয়সা। ডাকাতির লেভেল চিন্তা কইরেন শুধু। ২০-৪০% না, বাড়াইলে এরা এক লাফে ৪০০-৫০০% করে দাম বাড়ায়।

এরা ১ লিটার পানির মধ্যে গ্লুকোজ আর খাবার লবণ দিয়ে স্যালাইন বানায়। হসপিটালে গেলে আপনার পানি শূন্যতা থাকুক আর নাই থাকুক এরা সবচেয়ে আগে ৭০০ টাকার একটা স্যালাইন ঝুলায়। যেটা ম্যানুফ্যাকচারে তাদের খরচ ২৫ টাকা। তার মধ্যে ২২ টাকায় স্যালাইনের প্লাস্টিকের খরচ। পানি ৩ টাকা। পানিতে অল্প একটু পটাসিয়াম যোগ করে নাম চেঞ্জ করে দাম বাড়িয়ে ৭০০ টাকা। অত্যাবশকীয় আইন থেকে দায়মুক্তি।

এভাবে অত্যাবশকীয় ওষুধের তালিকা অকার্যকর হতে থাকলো। তাছাড়া ৩২ বছর আগের অ্যান্টি বায়োটিক আর ওষুধ এখন আর কেউ খায় না, কেউ বানায় না। ২০২০ সাল নাগাদ ৪০% ওষুধ বাতিল হয়ে গেলো।

৩২ বছর আগের রোগগুলো ছিল ডায়রিয়া, কলেরা, পোলিও, ম্যালেরিয়া। এখন ঢাকার জনপ্রিয় রোগ হলো ব্রেস্ট ক্যান্সার, জরায়ুমুখের ক্যান্সার, যক্ষ্মা, স্ক্যাবিস, হৃদরোগ, হাপানী, চর্মরোগ, হাইপার টেনশন।

নতুন স্বাভাবিক হয়ে ওঠা এই রোগগুলোকে প্রতিহত করতে, নতুন দিনের অ্যান্টিবায়োটিকগুলোকে জায়গা দিতে, ট্রাম্প সরকার ক্ষমতায় আসার পর সারা বিশ্বে এইডসের ফ্রি ওষুধ বন্ধ করার অসহায়ত্ব কমাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১১৭ থেকে বাড়িয়ে তালিকাটা ২৯৫তে নিয়ে গেলো।

তালিকাটা কার্যকর হলে মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা বুড়িমার ইনহেলারের দাম ৮০০ থেকে নেমে যেতো ৪০০ টাকায়। তখন সে মাত্র ২ দিন ভিক্ষা করেই স্বাস নিতে পারতো।

কিন্তু ওষুধ কোম্পানির জন্য এটা একটা নাইটমেয়ার। তার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ওষুধগুলোর প্রফিট আপনি এক প্রজ্ঞাপনে ৮০-৯০% কমিয়ে দিচ্ছেন। ওরা লাগলে সরকারকে মারবে বা নিজেরা মরে যাবে তাও এই ৮ই জানুয়ারি করা এই প্রজ্ঞাপন সহ্য করবে না।
২২ জানুয়ারি ওরা হাইকোর্টে গিয়ে মামলা করে দিলো। আমার ইনটুইশন বলছে বিচারপতিকেও যা খাওয়ানো দরকার খাওয়ালো। আমার ইনটুইশন বলছে বিএনপিকে নির্বাচনের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসে কয়েকশত কোটি টাকা ডোনেশন দিলো।

ফলাফল হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ জনগুরুত্বপূর্ণ এই সংস্কার বাতিল করে দিলো। না দিয়ে উপায়ও বিএনপির কাছে নেই। তারা ওষুধ মালিক সমিতির সাথে বেয়াদবি করার মতো রাজনৈতিক পজিশনে নেই। আপনারা নিশ্চিত থাকেন প্রতিবাদ করে লাভ হবে না। ওরা আপনার মায়ের আর সন্তানের লাশ খুবলে খাবেই। এটাই ওদের পেশা। ওদের রুটি-রুজি।
এটা তো গেলো ওষুধের দাম। ইন্টেরিম হার্টের রিং এর দাম কমিয়েছিল। এখন শক্ত লবি চলছে রিং এর দাম বাড়ানো নিয়ে। হয়তো শীঘ্রই সেটাও বাড়বে।

30/07/2026

রিয়াদ শহর আলোয় ঝলমল করছে। আকাশচুম্বী কাঁচের ইমারত, বিলাসবহুল মার্সিডিজ আর রোলস রয়েসের আনাগোনা, আর রাজপ্রাসাদগুলোর চোখ-ধাঁধানো জাঁকজমক দেখে কে বলবে, এই শহরের মাটির নিচেই লুকিয়ে আছে এক প্রাচীন, অভিশপ্ত ভবিষ্যদ্বাণী! এই শহরের নিয়ন আলোর নিচে যখন রাজকীয় ভোজসভা চলে, তখন সেখান থেকে কয়েকশো মাইল দূরে ইয়েমেনের শিশুরা অনাহারে ধুঁকে ধুঁকে মরে। সিরিয়া বা শামের আকাশে বোমারু বিমানের গর্জনে ধসে পড়ে হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতা।

কিন্তু রিয়াদ শান্ত। রিয়াদ সুরক্ষিত। পশ্চিমা পরাশক্তির অদৃশ্য ছাতায় ঢাকা এই নজদের মাটি আজ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্যনিয়ন্তা। কিন্তু এই জাঁকজমকের আড়ালে, ক্ষমতার এই দাম্ভিক মঞ্চের পেছনে লুকিয়ে আছে এমন এক সত্য, যা ১৪০০ বছর আগে উচ্চারিত হয়েছিল। সেই সত্য আজ যখন ভূ-রাজনীতির আতশকাঁচ দিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়, তখন যেকোনো বিবেকবান মানুষের মেরুদণ্ড বেয়ে এক শীতল স্রোত নেমে যায়।

সময়টা আজ থেকে প্রায় চৌদ্দ শতাব্দীরও বেশি আগের। মদিনার এক শান্ত প্রাঙ্গণ। সাহাবীরা গোল হয়ে বসে আছেন তাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চারপাশে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) হঠাৎ দুই হাত তুলে পরম করুণাময়ের দরবারে দোয়া করতে শুরু করলেন...

"হে আল্লাহ! আমাদের শামে (সিরিয়া ও তৎসংলগ্ন অঞ্চল) বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদের ইয়েমেনে বরকত দান করুন।"

উপস্থিত সাহাবীদের মধ্যে যারা নজদ বা বর্তমান রিয়াদ ও এর আশপাশের এলাকার মানুষ ছিলেন, তারা উৎসুক হয়ে বলে উঠলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের নজদেও বরকতের দোয়া করুন।"

কিন্তু নবী করীম (সা.) তাদের কথায় কোনো সাড়া দিলেন না। তিনি পুনরায় একই দোয়া করল...

"হে আল্লাহ! আমাদের শামে বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদের ইয়েমেনে বরকত দান করুন।"

নজদবাসীরা আবারও মিনতি করে বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের নজদেও?"

তখন তৃতীয় বা চতুর্থবারে নবী করীম (সা.) এমন এক কথা বললেন, যা আজকের দিনের ভূ-রাজনীতির সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে ভয়ংকর সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বললেন...

"সেখানে (নজদে) ভূমিকম্প ও ফিতনা (বিপর্যয়) হবে এবং সেখান থেকেই শয়তানের শিং উদিত হবে।" (সহীহ বুখারী- ৭০৯৪, সহীহ মুসলিম)

১৪০০ বছর আগের এই কথাটি আজ আর কেবল ধর্মীয় গ্রন্থের পাতায় বন্দি নেই। আজকের মধ্যপ্রাচ্যের দিকে তাকালে, নজদের বর্তমান অধিপতিদের কার্যকলাপ দেখলে, এই 'শয়তানের শিং' আর 'ফিতনা' যেন আক্ষরিক অর্থেই বাস্তব রূপ নিয়ে আমাদের চোখের সামনে জ্বলজ্বল করছে।

নজদ কী? ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক বিচারে ‘নজদ’ হলো বর্তমান সৌদি আরবের মধ্যবর্তী উচ্চভূমি, যার মূল কেন্দ্র হলো বর্তমান রাজধানী রিয়াদ ও এর আশপাশের এলাকা।

এই নজদ থেকেই বিংশ শতাব্দীর শুরুতে উঠে এসেছিলেন বর্তমান সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা...আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদ। তিনি কোনো সাধারণ পথ ধরে ক্ষমতায় আসেননি। তার উত্থানের পেছনে লুকিয়ে আছে এক রক্তক্ষয়ী ইতিহাস এবং পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ বা তৎকালীন 'নাসারা'দের সাথে এক ভয়ংকর, গোপন আঁতাত।

যখন অটোমান বা উসমানীয় সাম্রাজ্য পুরো মুসলিম বিশ্বকে এক ছাতার নিচে ধরে রাখার শেষ চেষ্টা করছিল, তখন এই নজদের শাসকরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সাথে হাত মেলায়। ব্রিটিশ গুপ্তচর 'লরেন্স অফ অ্যারাবিয়া'-র মদদে এবং ব্রিটিশ পাউন্ড ও অস্ত্রের সাহায্যে তারা অটোমানদের পিঠে ছুরি মারে। তারা মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক অটোমানদের পতন ঘটিয়ে আরবের বুকে নিজেদের রাজত্ব কায়েম করে।

এরপর আসে ১৯৪৫ সাল। সুয়েজ খালের গ্রেট বিটার লেকে নোঙর করে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ 'ইউএসএস কুইন্সি'-তে অনুষ্ঠিত হয় এক ঐতিহাসিক ও অন্ধকার বৈঠক। একদিকে নজদ থেকে উঠে আসা সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদ, আর অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট।

সেখানে স্বাক্ষরিত হয় সেই অলিখিত চুক্তি..."তোমরা আমাদের তেলের নিশ্চয়তা দেবে, আর আমরা তোমাদের গদির নিরাপত্তা দেব।"

সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত, নজদ বা রিয়াদ পরিচালিত হয় এই চুক্তির ভিত্তিতেই। তারা নিজেদের গদি বাঁচাতে, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পশ্চিমা পরাশক্তি বা নাসারাদের স্বার্থরক্ষার সবচেয়ে বড় হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। আজ পুরো সৌদি আরব পরিচালিত হয় ওই নজদ বা রিয়াদ থেকেই, আর রিয়াদ পরিচালিত হয় ওয়াশিংটনের ইশারায়।

ভূ-রাজনৈতিক এই ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি একটি অদ্ভুত, চাঞ্চল্যকর এবং রূপক চিত্র আজ বিশ্লেষকদের ভাবিয়ে তুলেছে।

হাদিসে বলা হয়েছিল, "নজদ থেকে শয়তানের শিং উদিত হবে।" অনেকে এই 'শিং'-কে রূপক অর্থে ফিতনা বা দুর্যোগ হিসেবে দেখেন। কিন্তু আপনি যদি ইন্টারনেটে যান, গুগলে গিয়ে "1st Saudi Leader" বা প্রথম দিকের সৌদি শাসকদের ছবি লিখে সার্চ দেন, তবে আপনার চোখের সামনে এমন এক চিত্র ফুটে উঠবে, যা আপনার শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত নামিয়ে দেবে।

প্রথম দিকের নজদি বা সৌদি শাসকদের মাথায় থাকা ঐতিহ্যবাহী পাগড়ি বা টুপি (ইকাল)-এর দিকে খেয়াল করুন। তাদের ইকাল বা পাগড়ি বাঁধার ধরনটা ছিল একেবারেই অন্যরকম। পাগড়ির ওপরের দিকে দুটি অংশ এমনভাবে প্যাঁচিয়ে উঁচিয়ে রাখা হতো, যার ডিজাইন দেখতে হুবহু দুটি শিং-এর মতোই লাগে!

এটি কি কেবলই একটি কাকতালীয় বিষয়? নাকি ১৪০০ বছর আগে দেওয়া সেই সতর্কবার্তার এক আক্ষরিক, চাক্ষুষ প্রতিফলন? যারা ধর্মের মোড়কে ক্ষমতা দখল করেছিল, তাদের নিজেদের অজান্তেই তাদের মাথার মুকুট কি সেই 'শয়তানের শিং'-এর রূপ ধারণ করেছিল? এই প্রশ্নটি আজ আধুনিক গবেষকদের ভাবিয়ে তুলেছে।

আজকের মধ্যপ্রাচ্যের দিকে তাকান। হিসাবটা মেলাতে খুব একটা কষ্ট হবে না।

নবী করীম (সা.) দোয়া করেছিলেন শাম (বর্তমান সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও লেবানন অঞ্চল) এবং ইয়েমেনের জন্য। আজ সেই শাম এবং ইয়েমেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়ের শিকার।

ফিলিস্তিনের গাজায় যখন হাজার হাজার শিশু বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হচ্ছে, লেবাননে যখন ফসফরাস বোমা পড়ছে, তখন রিয়াদ বা নজদের শাসকরা কী করছেন? তারা কি সেই মজলুমদের পাশে দাঁড়িয়েছেন? না। তারা ব্যস্ত 'ভিশন ২০৩০' নিয়ে, তারা ব্যস্ত মরুভূমির বুকে বিলাসবহুল 'নিওম' সিটি বানাতে, তারা ব্যস্ত পশ্চিমা তারকাদের এনে কনসার্ট করতে।

ইয়েমেনে, যে দেশের জন্য স্বয়ং রাসূল (সা.) বরকতের দোয়া করেছিলেন, সেই ইয়েমেনের ওপর গত এক দশক ধরে বোমাবর্ষণ করেছে কারা? এই নজদের শাসকরাই! পশ্চিমাদের অস্ত্র কিনে তারা ইয়েমেনের নিরীহ শিশুদের ওপর বোমা ফেলেছে। শামে যখন রক্তের বন্যা বইছে, তখন নজদ থেকে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার গোপন দরকষাকষি চলছে।

হাদিসের সেই 'ফিতনা' বা দুর্যোগ আজ আর কোনো তত্ত্বকথায় সীমাবদ্ধ নেই। নজদের মাটি থেকে আজ এমন সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা পুরো মুসলিম বিশ্বকে বিভক্তি, যুদ্ধ আর ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা নাসারাদের সাথে হাত মিলিয়ে নিজেদের গদি ঠিক রাখছে, আর অন্যদিকে ফিলিস্তিন বা ইয়েমেনের মতো বরকতময় ভূমিগুলোকে পরিণত করছে জ্বলন্ত শ্মশানে।

রাত গড়িয়ে ভোর হচ্ছে। রিয়াদের আল-ইয়ামামাহ রাজপ্রাসাদের সুউচ্চ জানালা দিয়ে মরুভূমির ভোরের আলো এসে পড়ছে।

প্রাসাদের ভেতরের একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত, নিশ্ছিদ্র কক্ষে বসে আছেন নজদের বর্তমান শাসকরা। তাদের সামনে রাখা আছে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথে করা গোপন চুক্তির ফাইলগুলো। তারা হয়তো ভাবছেন, তাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার, তাদের তেল, আর তাদের পশ্চিমা মিত্ররা তাদের চিরকাল এই সিংহাসনে টিকিয়ে রাখবে।

কিন্তু তারা জানে না, ইতিহাসের পাতায় কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়।

বাইরে তখন মরুভূমির বাতাস বইছে। এই বাতাস হয়তো ১৪০০ বছর আগের মদিনার সেই শান্ত বিকেলের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। যে ফিতনার কথা বলা হয়েছিল, তা আজ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করেছে। শয়তানের শিং হয়তো আজ আর পাগড়িতে নেই, তা আজ লুকিয়ে আছে তাদের প্রতিটি চুক্তিতে, প্রতিটি বোমায়, প্রতিটি নীরবতায়।

বিশ্ব রাজনীতির দাবার বোর্ডে আজ এক অদ্ভুত খেলা চলছে। একদিকে রক্তে ভেজা শাম আর ইয়েমেন, অন্যদিকে অহংকারে মত্ত নজদ আর তাদের পশ্চিমা মিত্ররা।

কিন্তু এই রাজনৈতিক থ্রিলারের শেষ পাতাটা এখনো লেখা হয়নি। যখন শামের মাটি থেকে শেষ প্রতিরোধটুকু জেগে উঠবে, যখন ইয়েমেনের ক্ষুধার্ত শিশুরা আকাশের দিকে হাত তুলবে, তখন কি নজদের এই কাঁচের তৈরি রাজপ্রাসাদগুলো টিকতে পারবে? নাকি হাদিসের সেই ভূমিকম্প কেবল মাটি কাঁপাবে না, কাঁপিয়ে দেবে তাদের সিংহাসনের ভিতকেও?

পৃথিবী আজ খাদের একেবারে কিনারায় দাঁড়িয়ে টলমল করছে।

ফিতনার এই মেঘ একদিন বৃষ্টি হয়ে ঝরবে, আর সেই বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যাবে সমস্ত দম্ভ আর অহংকার।

নজদের এই বিলাসবহুল প্রাসাদগুলোতে হয়তো আজ অট্টহাসি বাজছে, কিন্তু ইতিহাসের অমোঘ বিচার শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই!

মহাপ্রলয় আসন্ন!

17/07/2026

গতবছর আমেরিকায় মোদিজি মোদিজি বলে গলা ফাটানো আওয়ামী বংশদ্ভূত কিছু ছ্যাচড়া....

গাইবান্ধায় রামমূর্তি নির্মাণ করতে চাওয়া হরিদাস গ্রেফতার হয়েছে মানি লন্ডারিং মামলায়। মানি লন্ডারিং মানে টাকা পাচার। সত্যি...
17/07/2026

গাইবান্ধায় রামমূর্তি নির্মাণ করতে চাওয়া হরিদাস গ্রেফতার হয়েছে মানি লন্ডারিং মামলায়।
মানি লন্ডারিং মানে টাকা পাচার।
সত্যিই বলতে, বাংলাদেশের টাকা পাচার করার যে কয়টি সিন্ডিকেট আছে,
তার মধ্যে হিন্দু সিন্ডিকেট অন্যতম।
যেহেতু বাংলাদেশের ৩ দিকে ভারত,
তাই বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার হতে ভারত গুরুত্বপূর্ণ রূট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আর হিন্দুদের অভিন্ন দেশ যেহেতু ভারত,
তাই বাংলাদেশের হিন্দুরাই টাকা পাচার সিন্ডিকেটগুলো নিয়ন্ত্রণ করে,
এর মাধ্যমে তারা খুব কম সময়ে প্রচুর অবৈধ অর্থ কামাই করে।
এই সিন্ডিকেটে কোন হিন্দু এক নয়,
তার বউ, বাচ্চা, ভাই, বোন, বন্ধু, বান্ধবী, আত্মীয় স্বজন সব এক সাথে থাকে।

যেমন- বাংলাদেশে টাকা পাচারের অন্যতম হোতা হিসেবে আমরা এস আমলকে চিনি।
কিন্তু এস আলমের পাচার সিন্ডিকেটটা নিয়ন্ত্রণ করতো কিন্তু পিকে হালদার নামক এক হিন্দু। যে কি না, ব্যাংক সহ ৭টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলো। সে একটি বিরাট হিন্দু সিন্ডিকেটের দ্বারা টাকা পাচার কার্যক্রম পরিচালনা করতো। প্রমাণ পাওয়া পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। তার সহযোগী ছিলো- লীলাবতী হালদার (মা), প্রীতিশ কুমার হালদার (ভাই), পূর্ণিমা রানী হালদার (আত্মীয়), সুস্মিতা সাহা (স্ত্রী), অবন্তিকা বড়াল (গার্ল ফ্রেন্ড), সহযোগী - অনিন্দিতা মৃধা, শঙ্খ বেপারী, সুকুমার মৃধা,উত্তম কুমার মিস্ত্রি, অমিতাভ অধিকারী (চাচাতো ভাই), জীব সোম, সুব্রত দাস , অনঙ্গ মোহন রায়, স্বপন কুমার মিস্ত্রি, রতন কুমার বিশ্বাস, শিব প্রসাদ ব্যানার্জি, উজ্জ্বল কুমার নন্দী (বন্ধু),বাসুদেব ব্যানার্জি, ও পাপিয়া ব্যানার্জি, তপন দে, মানিক লাল সমাদ্দার। তাকে উপর থেকে সহযোগীতা করতো বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্ণর এস কে সুর চৌধুরী।

এরপর ৬৭৮ কোটি টাকা মানি লন্ডারিং এ যার নাম আসে, চুয়াডাঙ্গা বাসিন্দা দিলীপ আগরওয়ালা যে নিজেকে হীরা ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেয়। তার প্রতিষ্ঠানের নাম ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড। তার মানি লন্ডারিং কার্যক্রমের সাথে জড়িত তার স্ত্রী সবিতা আগরওয়ালা, পুত্র যশ আগরওয়ালা ও কন্যা আচল আগরওয়ালা।

এরপর যদি বলি, বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচারের বড় সিন্ডিকেট হচ্ছে পুরান ঢাকার তাতীবাজারের হিন্দু স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা, যারা স্বর্ণ চোরাচালানের মাধ্যমে টাকা পাচার করে। এ সম্পর্কে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন পত্রিকায় ছাপা হয়, সেখানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির প্রতিবেদন উঠে আসে। এ সম্পর্কে দৈনিক বণিক বার্তায় ২রা অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিলো, যার শিরোনাম ছিলো “স্বর্ণ চোরাচালানের আন্তর্জাতিক রুট হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ, মধ্যপ্রাচ্যের ভাঙারি স্বর্ণ তাঁতীবাজার হয়ে পাচার হচ্ছে ভারতে”। সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে আন্তর্জতিক স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের অন্যতম একজন হিসেবে কাজ করে মনীন্দ্র নাথ বিশ্বাস। সে তাঁতীবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী। শুধু মনীন্দ্র নাথ বিশ্বাসই নয়, তার মতো অন্তত দুই ডজন কারবারি দেশ থেকে অবৈধ পথে ভারতে স্বর্ণ পাচার করছে। আরেক স্বর্ণ ব্যবসায়ী শ্যাম ঘোষ। তাঁতীবাজারের আরেকজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী তাপস মালাকার। সেও নিয়মিত দেশ থেকে ভারতে স্বর্ণ পাচার করে। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে উঠে আসে তাপস মালাকার ও তার স্ত্রী মন্টি মালাকারের স্বর্ণ চোরাচালানের বিস্তারিত।

হিন্দুদের এ চক্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের উর্ধ্বতন হিন্দু কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এনবিআর, কাস্টমসসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হিন্দু সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এ সিন্ডিকেট খুব কম পরিশ্রমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়। এর নামে বেনামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চালায়। দেখা যায়, এদের অধিকাংশ প্রথম জীবনে নিম্ন শ্রেণীর কোন কর্মে জড়িত ছিলো। কিন্তু অর্থ পাচারের সাথে যুক্ত হয়ে কয়েক বছরের মধ্যে এরা হাজার হাজার কোটি টাকা মালিক মনে যায়। এদের প্রত্যেকের শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারতে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ আছে। ফলে ভারতে এদেরকে ভিআইপি মর্যাদা দেয়া হয়। এছাড়া বাংলাদেশে উগ্রহিন্দুত্ববাদের বিস্তারে এরা বড় ফান্ডিং করে।

ছবিতে ৬৭৮ কোটি টাকা মানি লন্ডারিং এ জড়িত ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক চুয়াডাঙ্গা বাসিন্দা দিলীপ আগরওয়ালা।

ইসকন যে রথযাত্রা করছে, সেটা যত না ধর্মীয় তার থেকে বেশি সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক।তাদের চয়েজ করা রাস্তাটা দেখুন- সরকারী অফ...
17/07/2026

ইসকন যে রথযাত্রা করছে, সেটা যত না ধর্মীয় তার থেকে বেশি সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক।
তাদের চয়েজ করা রাস্তাটা দেখুন- সরকারী অফিস আদালত খোলার দিনে এমনতেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে প্রচণ্ড ভীড় ও যানজট থাকবে। সেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দিয়ে তারা রথযাত্রার উদ্যোগ নিয়েছে।
অথচ ওয়ারি-নারিন্দার ভেতর দিয়ে তারা খুব সহজেই ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে স্বামীবাগের ইস্কন মন্দিরে আসতে পারতো। কিন্তু তাদের কাছে জ-কালী মন্দিরের সামনে দিয়ে যাওয়ার থেকে বায়তুল মোকাররমের সামনে দিয়ে যাওয়াটা অনেকটা সাম্প্রদায়িক শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতে হিন্দুরা মুসলমানদের উপর নির্যাতন করছে, মসজিদ ভাঙ্গছে,
বাংলাদেশের হিন্দুরা তার সমর্থক, শুধু সমর্থক বললে ‍ভুল তারা ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ভাঙ্গার প্রকাশ্য ঘোষণাও দিচ্ছে,
এমন একটি সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক পরিস্থিতিতে ইসকনকে রথযাত্রা করতে দেয়া কখনই ঠিক নয়। আমি বলবো- রথযাত্রা বা্ কয়েকদিন পর উল্টো রথযাত্রা দুটোই বন্ধ হোক।

সত্যিই বলতে, ইউরোপ আমেরিকাকে তারা এত ভালো বলে,
কিন্তু সেখানে তারা অনেক দেশে রথযাত্রা করতে পারে না।
যেখানে পারে, সেখানে তারিখ ঠিক রাখতে পারে না। ছুটির দিন করতে হয়।
আর রাস্তাও কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে দেয়।
তাহলে বাংলাদেশে তারা কেন ইচ্ছামত করার সুযোগ পাবে ?
ভারতের কী তারা মুসলমানদের সেই সুযোগ দেয় ??
যদি না দেয়, তবে তারা বাংলাদেশে কেন সুযোগ পাবে ??

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দুনিয়ায় কিছু কিছু খবর আসে মৃদু হাওয়ার মতো, আর কিছু খবর আসে দশ মাত্রার প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের মতো...
11/07/2026

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দুনিয়ায় কিছু কিছু খবর আসে মৃদু হাওয়ার মতো, আর কিছু খবর আসে দশ মাত্রার প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের মতো।

লন্ডন রয়টার্সের হেডকোয়ার্টারে যখন রাতের শিফটের সাংবাদিকরা কফিতে চুমুক দিচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ করেই তাদের ডেস্কে এসে পৌঁছাল এক 'মেগা এক্সক্লুসিভ' সাক্ষাৎকার।

সাক্ষাৎকারটি দিয়েছেন এমন একজন নারী, যিনি একসময় একটি আস্ত দেশের দণ্ডমুণ্ডের কর্ত্রী ছিলেন, কিন্তু আজ তিনি এক পলাতক, দেশছাড়া এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডের সাজার মুখে থাকা দাগি আসামি। তিনি বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

খবরটি কী?

শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের দিকে তিনি এবং তার দলের শীর্ষ নেতারা ভারত থেকে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা করছেন!

একটি স্বাধীন দেশে যখন তার রাজনৈতিক দল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ, যখন দেশের প্রতিটি ধূলিকণা তার বিচার চাইছে, যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার জন্য ফাঁসির দড়ি বা মৃত্যুদণ্ডের সাজা অপেক্ষা করছে...ঠিক তখন তিনি বলছেন তিনি দেশে ফিরে আসবেন! এবং এসে আত্মসমর্পণ করবেন!

রাজনীতির সাধারণ ব্যাকরণ বলে, কোনো স্বৈরাচারী শাসক নিজের ইচ্ছায় কখনো ফাঁসির মঞ্চে ফিরে আসে না। মুসোলিনি থেকে শুরু করে রাজা পাকশে...ইতিহাস সাক্ষী, স্বৈরাচারীরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পালাতে চায়, বাঁচতে চায়।

তাহলে শেখ হাসিনা কেন বলছেন তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন?

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলের মতে, এটি মোটেও কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি হলো সাউথ ব্লকের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে লেখা একটি নিখুঁত, সুপরিকল্পিত এবং মাস্টারমাইন্ড 'স্ক্রিপ্ট' বা চিত্রনাট্য!

দিল্লি খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে, ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে তাদের আধিপত্য তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ভারতের কোনো চোখরাঙানিকে পাত্তাই দিচ্ছে না। ভারত চেষ্টা করেছে বর্ডারে পুশ-ইন করে, পানি আটকে, মিডিয়াতে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে ঢাকাকে চাপে ফেলতে। কিন্তু ঢাকা প্রতিটি চালেই ভারতকে উল্টো চেকমেট করে দিয়েছে।

দিল্লির এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তারা বুঝতে পারছে, তাদের সেই পুরোনো 'সেবাদাসী' বা আজ্ঞাবহ পুতুলকে যদি কোনোভাবে আবার বাংলাদেশের সিস্টেমের ভেতরে ঢোকানো না যায়, তবে এই অঞ্চলে ভারতের দাদাগিরি চিরতরে খতম হয়ে যাবে।

আর এই সেবাদাসীকে পুনরায় 'রিস্টোর' বা পুনর্বহাল করার জন্যই তৈরি হয়েছে এই ডিসেম্বরের আত্মসমর্পণের স্ক্রিপ্ট!

তাদের পরিকল্পনা হলো...একটি 'ট্রোজান হর্স' বা কাঠের ঘোড়ার মতো শেখ হাসিনাকে দেশে পাঠানো। ভারত জানে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে সাথে সাথে গ্রেপ্তার করা হবে এবং ট্রাইব্যুনালে তোলা হবে। আর ঠিক এটাই ভারতের আসল উদ্দেশ্য!

ভারত চায়, শেখ হাসিনা দেশে গিয়ে গ্রেপ্তার হোন। এর ফলে আন্তর্জাতিক মিডিয়া, মানবাধিকার সংস্থা এবং পশ্চিমা বিশ্বের কিছু ভারতপন্থী লবিস্টকে কাজে লাগিয়ে তারা একটি নতুন প্রোপাগান্ডা শুরু করবে। তারা বলবে..."দেখুন, বাংলাদেশে কোনো আইনের শাসন নেই, একজন বয়স্ক সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বানানো হচ্ছে!"

তারা একটি আইনি সার্কাস বা গোলকধাঁধা তৈরি করতে চায়। তারা চায় দেশের ভেতরে থাকা তাদের স্লিপার সেল, বাতিল হওয়া আমলা এবং বিচারব্যবস্থার ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু দালালকে দিয়ে একটি কৃত্রিম অস্থিতিশীলতা বা ক্যাওস তৈরি করতে। ভারত ভাবে, শেখ হাসিনা যদি দেশের ভেতরে থাকেন (তা সে কারাগারেই হোক), তবে তার অনুসারীরা অন্তত একটি কেন্দ্রবিন্দু পাবে এবং দেশের ভেতরে লাগাতার দাঙ্গা বা নাশকতা সৃষ্টির একটি কারণ খুঁজে পাবে।
এটি হলো একটি দেশকে ভেতর থেকে জ্বালিয়ে দেওয়ার এক পৈশাচিক ভূ-রাজনৈতিক ছক।

তবে এই থ্রিলারের মুদ্রার আরেকটি পিঠও আছে। অনেকেই মনে করছেন, এই রয়টার্সের সাক্ষাৎকারটি হয়তো কোনো মাস্টারপ্ল্যান নয়, এটি স্রেফ একটি চরম মাত্রার 'চাপাবাজি' বা রাজনৈতিক ভাঁওতাবাজি!

কেন এই চাপাবাজি?

শেখ হাসিনা এবং তার দলের শীর্ষ নেতারা ভারতে বসে খুব ভালো করেই বুঝতে পারছেন যে, দেশের ভেতরে থাকা তাদের দলের অবশিষ্ট কর্মী এবং সুবিধাভোগীরা চরম হতাশায় ভুগছে। তারা দলত্যাগ করছে, লুকিয়ে বেড়াচ্ছে এবং অনেকেই ভাবছে..."নেত্রী তো পালিয়েছে, আমাদের আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই।"

এই হতাশাগ্রস্ত, মৃতপ্রায় কর্মী বাহিনীকে কিছুটা অক্সিজেন দেওয়ার জন্য, তাদের চাঙ্গা রাখার জন্যই হয়তো এই 'ডিসেম্বরে আসছি' মার্কা সস্তা চাপাবাজির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তারা বোঝাতে চাইছে..."তোমরা হাল ছেড়ো না, আমি ডিসেম্বরেই ফিরে আসছি, সব ঠিক হয়ে যাবে!"

এটি হলো রাজনীতিতে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এক মরিয়া এবং করুণ চেষ্টা। একটি নিষিদ্ধ দলের নেত্রী, যার পায়ের তলায় এক ইঞ্চিও মাটি নেই, সে বিদেশের মাটিতে বসে খবরের কাগজে সাক্ষাৎকার দিয়ে নিজের রাজনৈতিক ভূতকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।

বাংলাদেশের মাটি আজ প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রস্তুত। ওই চৌদ্দশো শহীদের মায়েরা প্রস্তুত। যদি শেখ হাসিনা সত্যি সত্যিই ভারতের স্ক্রিপ্ট পড়ে দেশে ফিরে আসার দুঃসাহস দেখান, তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক গোলকধাঁধায় পার পাবেন না; তিনি সোজা গিয়ে উঠবেন সেই গিলোটিনের মঞ্চে, যা তার জন্যই তৈরি করা হয়েছে।

শীতের কুয়াশা যখন বাংলার আকাশকে ঢেকে দেবে, তখন কি সত্যি সত্যিই কোনো ভারতীয় বিমানে চেপে এই পলাতক স্বৈরাচারী বাংলার মাটিতে পা রাখবেন?

নাকি ডিসেম্বরের সেই কুয়াশায় মিলিয়ে যাবে তার এই ফাঁকা চাপাবাজি?

সাসপেন্স এখন তুঙ্গে! যদি এটি ভারতের কোনো পরিকল্পিত স্ক্রিপ্ট হয়, তবে ভারত তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুলটি করতে যাচ্ছে। কারণ তারা বুঝতে পারছে না, এই নতুন বাংলাদেশের মগজে আর কোনো দাসত্বের সফটওয়্যার নেই। তারা যদি তাদের সেবাদাসীকে আবার এই দেশে রিস্টোর বা পুনর্বহাল করার দুঃস্বপ্ন দেখে, তবে সেই স্বপ্ন এই দেশের মাটিতেই চিরতরে কবর দেওয়া হবে।

"মাহাদি হাসান"

10/07/2026

কাদের পিছনে দৌড়াচ্ছ মুজিবসৈনিক?

শেখ পরিবারের পারিবারিক বিষয়গুলো বা ইতিহাস বিগত ১৬ বছর অনেকটা লুকিয়ে রাখা হতো।

শেখ হাসিনার দুই সন্তান। সজিব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। জয়ের বউ ছিল আমেরিকান ক্রিস্টিন ওভারমায়ার, কয়েকবছর আগে ডিভোর্স হয়েছে তাদের।

আর সায়মা ওয়াজেদ পুতুল পূর্বে বিয়ে করেন অভিজিৎ সাহা নামের এক ভারতীয় নাগরিককে। তাদের কন্যা সন্তানের নাম সেমন্তী কদুভাত। এরপর পুতুল বিয়ে করেন বাংলাদেশ ও কানাডার নাগরিক মাশরুরকে, যিনি রাজাকার মোশাররফের ছেলে। এই সংসারে সম্ভবত চার সন্তান রয়েছে। তবে কয়েকবছর আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়েছে।

পুতুলের ভারতীয় স্বামীর সংস্পর্শে জন্ম নেওয়া মেয়ে সেমন্তী কদুভাত বিয়ে করেছে নিখিল জর্জ কদুভাতকে। তিনি ভারতীয় আমেরিকান।

হাসিনার ছোট বোন রেহানার মেয়ে টিউলিপ ব্রিটিশ নাগরিক, বিয়ে করছে ক্রিস্টিয়ান উইলিয়াম সেন্ট জন পার্সিকে (ক্রিস পার্সি)। শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিও যথারীতি পাশ্চাত্যেই বিয়ে করেছে। তার স্ত্রীর নাম পেপি কিভিনিয়ামি। যিনি ফিনল্যান্ডের নাগরিক।

পুরো পরিবার সংকর জাতের। একটাও খাঁটি বাংলাদেশী না।

সোর্স: গুগল ও বিভিন্ন নিউজ।

পোস্ট কৃতজ্ঞতা- তানভীর খান

10/07/2026

***ঘড়িওয়ালার শেষ সময়***

আমার নানার একটা পকেটঘড়ি ছিল।

রূপার ঘড়ি। গোল। ভারী। ঢাকনা খুললেই ভেতরে নীল রঙের দুটো কাঁটা। ঘড়িটা কোনোদিন ঠিক সময় দিত না। কখনো পাঁচ মিনিট এগিয়ে, কখনো সাত মিনিট পিছিয়ে।

তবু নানা প্রতিদিন সকালে ঘড়িটাতে দম দিতেন।

একদিন বললাম,

"নানা, সময়ই যদি ঠিক না দেখায়, এত যত্ন করেন কেন?"

নানা ঘড়িটা কানের কাছে ধরে টিকটিক শব্দ শুনলেন।

তারপর বললেন,

"সব ঘড়ির কাজ সময় বলা না। কিছু ঘড়ির কাজ মানুষকে মনে করিয়ে দেওয়া, সময় চলতেছে।"

তখন কথাটা বুঝিনি।

এখন বুঝি।

কারণ এখন আমার বয়স চল্লিশ।

আর আমি পেশায় ঘড়ি মেরামত করি।

---

ঢাকার বাংলাবাজারের পেছনের একটা সরু গলিতে আমার দোকান।

দোকানের নাম "সময় ঘর"।

নামটা আমার দেওয়া না।

বাবার দেওয়া।

তিনি বলতেন,

"ঘড়ি মেরামত করি ঠিকই, আসলে মানুষ সময় নিয়ে আসে।"

বাবা মারা যাওয়ার পর সাইনবোর্ড বদলাইনি।

পুরোনো কাঠের বোর্ডে এখনো লেখা আছে,

"এখানে সময়েরও চিকিৎসা করা হয়।"

এই লেখাটা পড়ে অনেকেই হাসে।

আমি হাসি না।

---

সেদিন দুপুরে দোকানে একজন বৃদ্ধ এলেন।

এত বৃদ্ধ মানুষ আমি কম দেখেছি।

মাথাভর্তি সাদা চুল।

ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি।

হাতে কালো কাপড়ে মোড়ানো একটা বাক্স।

বসে বললেন,

"আপনি কি ভাঙা সময় জোড়া লাগান?"

আমি ভেবেছিলাম, মানুষটা মজা করছেন।

হেসে বললাম,

"ঘড়ি জোড়া লাগাই। সময় লাগানোর ক্ষমতা এখনো হয় নাই।"

বৃদ্ধ মাথা নাড়লেন।

"একদিন হইবো।"

তারপর বাক্সটা খুললেন।

ভেতরে একটা টেবিলঘড়ি।

ঘড়িটার কাঁটা নেই।

সংখ্যা নেই।

শুধু সাদা ডায়াল।

মাঝখানে একফোঁটা কালো দাগ।

আমি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখলাম।

"এটা কোন দেশের?"

বৃদ্ধ বললেন,

"দেশের না।"

"মানে?"

"সব জিনিসের দেশ থাকে না।"

---

ঘড়িটার পেছনে কোনো কোম্পানির নাম নেই।

সিরিয়াল নম্বর নেই।

কিছুই নেই।

আমি জিজ্ঞেস করলাম,

"সমস্যা কী?"

বৃদ্ধ খুব শান্ত গলায় বললেন,

"এটা মাঝে মাঝে থেমে যায়।"

"তাহলে তো ঠিক করা যাবে।"

তিনি আমার দিকে তাকালেন।

"যখন থামে... তখন শুধু ঘড়ি থামে না।"

আমি হেসে ফেললাম।

মানুষটা হাসলেন না।

তিনি শুধু দোকানের দেয়ালে ঝোলানো সব ঘড়ির দিকে তাকিয়ে রইলেন।

অদ্ভুত ব্যাপার ঘটল তখনই।

আমার দোকানে মোট সতেরোটা ঘড়ি।

সবগুলো আলাদা আলাদা শব্দে টিকটিক করে।

হঠাৎ...

এক সেকেন্ডের জন্য...

সব শব্দ বন্ধ হয়ে গেল।

পুরো দোকান নিস্তব্ধ।

ঠিক এক সেকেন্ড।

তারপর আবার সব একসাথে চলতে শুরু করল।

আমি চমকে উঠে চারদিকে তাকালাম।

বৃদ্ধ ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন।

বললেন,

"দেখলেন?"

"এটা... এটা কীভাবে হলো?"

তিনি বাক্সটা আমার দিকে ঠেলে দিলেন।

"সাত দিন রাখেন। যদি পারেন, ঠিক কইরা দিও।"

"আর যদি না পারি?"

বৃদ্ধ দরজার কাছে গিয়ে থামলেন।

পেছনে না তাকিয়েই বললেন,

"তাহলে অষ্টম দিনের সকালটা আপনি দেখতে পারবেন না।"

বাইরে তখন আছরের আজান শুরু হয়েছে।

আমি দরজায় এসে তাকালাম।

গলি ফাঁকা।

লোকটা কোথাও নেই।

এত অল্প সময়ে একজন মানুষ অদৃশ্য হয়ে যায় কীভাবে?

সেদিন প্রথমবার আমার মনে হলো—

নানা হয়তো ভুল বলেননি।

কিছু ঘড়ি সত্যিই সময় দেখায় না।

সময়ের চেয়েও পুরোনো কোনো কিছুর হিসাব রাখে।

10/07/2026

আমাদের গ্রামের নাম চরবাগান।

গ্রামটা ছোট। এমন ছোট যে, কার বাড়িতে নতুন হাঁস এসেছে, সেটাও বিকেলের মধ্যে সবাই জেনে যায়।

আমার দাদার একটা অভ্যাস ছিল।

প্রতিদিন ফজরের নামাজ পড়ে এসে বাড়ির সামনে কাঁঠালগাছটার নিচে বসতেন। তারপর এক কাপ লাল চা খেতেন।

আমি ছোটবেলায় পাশে বসতাম।

দাদা বলতেন, "চা খেতে খেতে সূর্য ওঠা দেখতে হয়। তাড়াহুড়ো করে সূর্য ওঠে না।"

আমি তখন কথার মানে বুঝতাম না।

একদিন জিজ্ঞেস করলাম,

"দাদা, তুমি প্রতিদিন রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকো কেন?"

দাদা একটু হেসে বললেন,

"মানুষ দেখি।"

আমি বললাম,

"এই রাস্তায় তো কেউ আসে না।"

তিনি মাথা নেড়ে বললেন,

"আজ আসে না। কাল আসতে পারে।"

অনেক বছর কেটে গেছে।

দাদা বুড়ো হলেন।

হাঁটতে কষ্ট হতো।

তবু ভোরবেলা কাঁঠালগাছের নিচে বসা বন্ধ করেননি।

একদিন বাবা আমাকে আলাদা করে ডেকে বললেন,

"তোর দাদা আসলে মানুষ দেখে না।"

"তাহলে?"

"তোর বড় চাচার জন্য বসে থাকে।"

আমি অবাক হলাম।

বড় চাচা নাকি মুক্তিযুদ্ধের সময় বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন।

তারপর আর ফেরেননি।

কেউ বলেছে মারা গেছেন।

কেউ বলেছে বন্দি হয়েছিলেন।

কেউ নিশ্চিত কিছু বলতে পারেনি।

আমি সেদিন দাদাকে কিছু জিজ্ঞেস করিনি।

শুধু ভোরে উঠে তার পাশে গিয়ে বসেছিলাম।

তিনি বললেন,

"আজ কুয়াশা বেশি।"

আমি বললাম,

"হ্যাঁ।"

তারপর আর কোনো কথা হয়নি।

কিছু কিছু মানুষের সঙ্গে নীরব হয়ে বসে থাকাটাও কথা বলা।

গত শীতে দাদা চলে গেলেন।

কবর দেওয়ার পর সবাই বাড়ি ফিরে এল।

পরদিন ভোরে ঘুম ভাঙতেই জানালা খুললাম।

অদ্ভুত একটা অভ্যাস হয়ে গেছে।

মনে হলো, কাঁঠালগাছের নিচে কেউ বসে আছে।

বের হয়ে দেখি, কেউ নেই।

শুধু দাদার পুরোনো কাঠের মোড়াটা পড়ে আছে।

সেদিন প্রথম বুঝলাম,

অপেক্ষা কখনো কখনো মানুষের জন্য হয় না।

অপেক্ষা একসময় নিজেই মানুষের অভ্যাস হয়ে যায়।

তারপর সেই অভ্যাসই মানুষটার চেয়ে বেশি দিন বেঁচে থাকে।

10/07/2026

বিকেলের চা আমি কখনো একা খাই না।

কেন খাই না, সেটা আমিও জানি না।

আমার স্ত্রী নীলা বেঁচে থাকতে বলত, "চায়েরও নাকি সঙ্গী লাগে?"

আমি বলতাম, "চা একা খেলে স্বাদ কমে যায়।"

নীলা হেসে ফেলত। তার হাসি খুব সুন্দর ছিল। সুন্দর জিনিস বেশি দিন থাকে না।

তিন বছর হলো নীলা নেই।

তবু বিকেল হলেই আমি দুই কাপ চা বানাই।

এক কাপ আমার।

আরেক কাপ নীলার।

পাশের ফ্ল্যাটের সাত বছরের ছেলে রিয়াদ মাঝে মাঝে এসে বসে। খুব কৌতূহলী ছেলে।

একদিন জিজ্ঞেস করল,

"আংকেল, এই কাপটা কার?"

আমি বললাম,

"একজন অতিথির।"

সে চারদিকে তাকিয়ে বলল,

"অতিথি কোথায়?"

আমি জানালার বাইরে তাকিয়ে বললাম,

"আসতে একটু দেরি হচ্ছে।"

রিয়াদ ব্যাপারটা বিশ্বাস করল কি না বুঝলাম না। তবে এরপর থেকে বিকেলে এলে সে খালি কাপটার দিকেও একবার তাকায়।

আজ বিকেলে বৃষ্টি হচ্ছিল।

রিয়াদ এলো না।

আমি একাই বারান্দায় বসে আছি।

দুই কাপ চা থেকে ধোঁয়া উঠছে।

হঠাৎ মনে হলো, এত বছর ধরে আমি একটা ভুল করে আসছি।

খালি কাপের চা কখনো ঠান্ডা হয় না।

আমি উঠে কাপটা হাতে নিলাম।

এক চুমুক খেলাম।

চায়ের স্বাদ ঠিক আগের মতোই।

শুধু বুঝলাম, এতদিন আমি নীলার জন্য চা বানাইনি।

নিজেকে বোঝানোর জন্য বানিয়েছি যে, কিছু মানুষ চলে গেলেও তাদের জন্য ঘরে একটা জায়গা ফাঁকা রাখা যায়।

সেই ফাঁকা জায়গাটারও এক ধরনের সংসার আছে।

Address

London
London

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Agog posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share