09/12/2025
“ফেসবুকে জনগণের কণ্ঠ: প্রথম আলোর জরিপকে চ্যালেঞ্জ” হা হা রিয়েক্ট এর বিপুল জয়‼️
ঢাকা, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫: বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিমেকারস কনসাল্টিং লিমিটেড পরিচালিত এবং প্রথম আলো প্রচারিত একটি সাম্প্রতিক জনমত জরিপকে ঘিরে বাংলাদেশে নাগরিক সমাজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জরিপটিতে দাবি করা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বাধিক আসন পাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া, অনেক উত্তরদাতা মনে করেন, বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নতি হবে।
প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে ৯ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, পোস্টটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার রিয়েকশন এসেছে, যার মধ্যে প্রায় ৮৯ হাজার “হা হা” রিয়েকশন ছিল, যা জরিপটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ব্যাপক সংশয় প্রকাশ করে।
এ ছাড়া, পোস্টটিতে প্রায় ৩০ হাজার মন্তব্য করা হয়েছে, যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবহারকারী ক্ষমতাসীন দল ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। অনেকে এই রিপোর্টকে “বানোয়াট,” “বিভ্রান্তিকর,” “একপাক্ষিক” এবং “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে মন্তব্য করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু ব্যবহারকারী প্রথম আলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পত্রিকাটির ওপর জনআস্থা কমে গেছে। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন হলুদ সাংবাদিকতার উদাহরণ, যা সমাজে রাজনৈতিক বিভাজন ও উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, এই জরিপের ফলাফল দেশের সাধারণ মানুষের ধারণা এবং অন্যান্য জরিপের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিভিন্ন হিসাবে দাবি করা হচ্ছে, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় দেখতে চান, যা প্রথম আলোর প্রতিবেদনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
একই দিনে, People’s Perception নামের একটি ফেসবুকভিত্তিক জরিপ সংস্থা “নির্বাচন হলে কোন দল জয়ী হবে” — এমন একটি জরিপ চালায়, যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট দেন।
এই দুই জরিপের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য প্রথম আলো প্রকাশিত জরিপের পদ্ধতি, নির্ভরযোগ্যতা এবং উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। বহু নাগরিক, সমাজকর্মী ও বিশ্লেষক প্রথম আলোর এই প্রতিবেদন প্রকাশের সিদ্ধান্তের নিন্দা করেছেন এবং এটিকে “মিথ্যা,” “কারসাজিমূলক” ও “রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে অভিহিত করেছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যেখানে সচেতন নাগরিকরা স্বচ্ছ, সৎ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচালিত জনমত জরিপ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।